Tuesday, June 10, 2014

সিঙ্গুর-সারদা প্রসঙ্গে রুডি-কল্যাণ ঝামেলা লোকসভায়

সিঙ্গুর-সারদা প্রসঙ্গে রুডি-কল্যাণ ঝামেলা লোকসভায়

15TH_CITY_PARLIAME_1144100f
এই সময়, নয়াদিল্লি: সিঙ্গুর থেকে সারদা৷ আর তা থেকেই হই-হট্টগোল!

লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের সময় সিঙ্গুর থেকে সারদা পর্যন্ত রাজ্যের অনেক প্রসঙ্গই উঠল৷ রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কে কিন্ত্ত রাজ্যের প্রসঙ্গ খুব একটা ওঠার কথা নয়৷ বিজেপি সাংসদ রাজীব প্রতাপ রুডি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন বার বার নানা প্রশ্ন তুলছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুলতান আহমেদ৷ চলছিল টিপ্পনি কাটাও৷ সেই সূত্র ধরেই ঢুকে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ৷ আর কল্যাণ যখন বলছেন, তখন সারদা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন আন্দামানের বিজেপি সাংসদ বিষ্ণুপদ রায়৷ দু'তরফের টিপ্পনি ও বাধার ফলে এতটাই হট্টগোল হচ্ছিল যে, স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে একাধিকবার শান্ত থাকার আবেদন জানাতে হয়৷

এ দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে বিতর্কের সূচনা করেন রুডি৷ রুডি যখন গুজরাটের প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন কল্যাণরা কিছু মন্তব্য করেন৷ রুডিও পাল্টা বলেন, সিঙ্গুর থেকে সরে কেন গুজরাটে কারখানা করল টাটারা? টাটারা চলে যাওয়ায় সারা দুনিয়ায় কী বার্তা গিয়েছে? আপনারা নিজের লোকেদের রুটি-রোজগার দিতে পারেন না, আর এখানে চিত্‍কার করছেন৷ এর পর রুডি যখন 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও'-এর প্রসঙ্গ তুলেছেন, কল্যাণরা তখন বলছেন, ও সব পশ্চিমবঙ্গে অনেক আগে হয়ে গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করে দিয়েছেন৷ রুডি তখন বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাটা কী, তা তো আমরা জানি!'

সারদা প্রসঙ্গ আসে কল্যাণ যখন বলছেন, তখন৷ কল্যাণ সে সময় বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন৷ কল্যাণের বক্তব্য ছিল, জনস্বার্থ মামলা এলে অন্য সব মামলা ছেড়ে তার বিচার হয়৷ বিচারপতিরা কেন ঠিক করবেন, ভোট কবে হবে? তখন আন্দামানের সাংসদ বিষ্ণুপদ রায় প্রশ্ন ছুড়ে দেন, 'সারদার কী হবে?' বলতেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠেন কল্যাণ৷ তিনি দুই প্রখ্যাত শিল্পপতির নাম করে বলেন, তাঁরা কত টাকা দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে৷ তার পর অন্তত বার সাতেক বলেন, 'আপনার স্ত্রী সারদার এজেন্ট ছিলেন৷ আপনি তো ভোটের আগে আমাদের প্রার্থী হওয়ার জন্য এসেছিলেন৷' সাধারণত, কোনও সাংসদ বা তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের কথা বলা হয় না, হলেও তা সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ যায়৷ রুডি অবশ্য মেজাজ না-হারিয়ে বলেছেন, 'যেখান থেকে আমার এই বন্ধুরা জিতে এসেছেন, সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী আমার দিদির মতো৷ আজ সন্ধ্যায় এঁদের বকুনি খেতে হবে৷ কারণ, এঁরা রাজীব প্রতাপ রুডিকে ভাষণ দিতে বাধা দিয়েছেন!'
পাল্টায় মোদী সরকারের প্রতি দলের মনোভাব স্পষ্ট করে কল্যাণ বলেন, 'আমরা দেখব, আপনারা কী কাজ করছেন৷ ভালো কাজ করলে সহযোগিতা করব৷ যদি দেখি, দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, গরিবদের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, কোনও দল বা ধর্মীয় সংগঠনের কর্মসূচি রূপায়ণ করছেন, তা হলে সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধিতা করব৷'

No comments:

Post a Comment