নীল-সাদা বাড়ি হলে ১ বছরের সম্পত্তিকর ছাড়
তাপস প্রামাণিক
বাড়ির রং নীল-সাদা করে ফেললেই এক বছরের সম্পত্তিকর মকুব৷
রাজস্থানের জয়পুরে যেমন গোলাপির ছড়াছড়ি, কলকাতাও তেমন ছেয়ে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের নীল-সাদা রঙে৷ তেমনই স্বপ্ন পুরসভার কর্তাদের৷
সোমবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেপূরণের জন্য এই অভিনব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কলকাতা পুর এলাকায় বসবাসকারী যে কোনও গৃহস্থ বাড়ির মালিক এই সুবিধা পাবেন৷ নতুন ও পুরোনো যে কোনও বাড়ির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য৷ যাঁরা ইতিমধ্যেই সম্পত্তিকর মিটিয়ে দিয়েছেন, তাঁদেরও দুশ্চিন্তার কিছু নেই৷ বাড়িতে নীল-সাদা রং করলে তাঁরাও এক বছরের সম্পত্তিকরের টাকা ফেরত পাবেন৷ অথবা সম-পরিমাণ টাকা পরের বছরের সম্পত্তিকরের সঙ্গে 'অ্যাডজাস্ট' করে দেওয়া হবে৷ তবে বাণিজ্যিক ভবনের মালিকরা এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন না৷ পুর অফিসারদের একটি অংশ অবশ্য মনে করছেন, বাড়ি রং করার যা খরচ তাতে পুরোনো বাড়ির মালিকরা এতে খুব একটা উত্সাহ দেখাবেন না৷ কারণ, এক বছরের সম্পত্তিকরের থেকে রং করার খরচ বেশি৷ হাজার বর্গফুটের তিন তলা বাড়ির বাইরের দেওয়ালে নিতান্ত কম দামি রং করতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ৷ তবে নতুন বাড়ি এবং ফ্ল্যাটের মালিকরা এতে অনেকটাই উপকৃত হবেন৷
পুরকর্তাদের ব্যাখ্যা, কলকাতাকে নয়নাভিরাম করে তুলতে সরকার নীল-সাদা রং বেছে নিয়েছে৷ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'সম্পত্তিকর ছা.ড দেওয়ার জন্য পুর আইন সংশোধন করতে হবে৷ এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানাব৷ বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীরও সম্মতি রয়েছে৷'
আগামী বছরেই রয়েছে কলকাতা পুরভোট৷ তার ঠিক আগে পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ বিরোধীদের অভিযোগ, নীল-সাদা রঙের আড়ালে ভোটের আগে ঘুরপথে কর ছাড়ের ব্যবস্থা করে দিল তৃণমূলের পুরসভা৷
বাম পুরদলের নেত্রী রূপা বাগচির মন্তব্য, 'টাকার অভাবে ঠিকমতো নাগরিক পরিষেবা দিতে পারছে না পুরসভা৷ অথচন মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে সম্পত্তিকর ছাড় দিয়ে দাতাকর্ণ হতে চাইছে তারা৷ আসলে লোকসভা ভোটে কলকাতায় দলের হাল খারাপ দেখে তৃণমূলকে এসব করতে হচ্ছে৷ যদিও আইনত এটা করা যায় না৷'
সম্পত্তিকর ছাড়ের সিদ্ধান্তে পুরসভার আধিকারিকরাও যারপরনাই বিস্মিত৷ অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের এক শীর্ষকর্তা বলেন, বকেয়া সম্পত্তিকর আদায়ে দু'বছর আগে 'ওয়েভার স্কিম' বা করছাড় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল৷ সেই সময় কর ছাড় দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন৷ তা সত্ত্বেও ফের একই রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরকর্তারা৷ তাঁর কথায়, 'এক দিকে সম্পত্তিকর আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অফিসারদের উপর চাপ দিচ্ছেন কর্তারা, অন্য দিকে আবার নীল-সাদা রঙের বিনিময়ে সম্পত্তিকর ছাড়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে৷ এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়৷'
অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতা পুর এলাকায় মোট ৬ লক্ষ ১৫ হাজার করদাতা আছেন৷ তাঁদের কাছ থেকে বছরে গড়ে আদায় হয় ৬০০-৬৫০ কোটি টাকা৷ বকেয়া বাদ দিলে প্রতি বছর সম্পত্তিকর বাবদ গড়ে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা রোজগার হয় পুরসভার৷ নীল-সাদা রঙের কোপে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে৷
কলকাতায় নীল-সাদা রঙের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়৷ রাজ্য পালাবদলের পরই কলকাতাকে লন্ডনের মতো ঝাঁ-চকচকে করে তোলার সংকল্প করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার অঙ্গ হিসাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সেতু, ওভারব্রিজ, রাস্তার রেলিং ও পার্কের দেওয়ালে নীল-সাদা রং করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা বলে কথা! তাই কালক্ষেপ করেনি কলকাতার তৃণমূল পুরবোর্ডের কর্তারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে বাস্তব রূপ দিতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়ে পুরসভা৷ কেএমডিএ, কেআইটি, এইচআইটি, পূর্ত সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথার যাতে নড়চড় না হয়, তার জন্য পুর কমিশনারের অফিস থেকে সার্কুলার জারি করা হয়৷ সেই মতো গত দু'বছর ধরেই শহরকে নীল-সাদা রঙে রাঙানোর কাজ চলছে৷ কলকাতা শহরের প্রায় সমস্ত সরকারি ভবন, সেতু, ওভারব্রিজ, পার্ক, ডিভাইডার এবং ফুটপাথের রেলিংয়ে নীল-সাদা রং লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে৷ কোথাও একাধিকবার রঙের প্রলেপ পড়ে গিয়েছে৷ কিন্ত্ত এতেই শেষ নয়৷ এ বার বেসরকারি বাড়ির মালিকদেরও নীল-সাদা রং করতে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে৷
বাড়ির রং নীল-সাদা করে ফেললেই এক বছরের সম্পত্তিকর মকুব৷
রাজস্থানের জয়পুরে যেমন গোলাপির ছড়াছড়ি, কলকাতাও তেমন ছেয়ে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের নীল-সাদা রঙে৷ তেমনই স্বপ্ন পুরসভার কর্তাদের৷
সোমবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেপূরণের জন্য এই অভিনব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কলকাতা পুর এলাকায় বসবাসকারী যে কোনও গৃহস্থ বাড়ির মালিক এই সুবিধা পাবেন৷ নতুন ও পুরোনো যে কোনও বাড়ির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য৷ যাঁরা ইতিমধ্যেই সম্পত্তিকর মিটিয়ে দিয়েছেন, তাঁদেরও দুশ্চিন্তার কিছু নেই৷ বাড়িতে নীল-সাদা রং করলে তাঁরাও এক বছরের সম্পত্তিকরের টাকা ফেরত পাবেন৷ অথবা সম-পরিমাণ টাকা পরের বছরের সম্পত্তিকরের সঙ্গে 'অ্যাডজাস্ট' করে দেওয়া হবে৷ তবে বাণিজ্যিক ভবনের মালিকরা এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন না৷ পুর অফিসারদের একটি অংশ অবশ্য মনে করছেন, বাড়ি রং করার যা খরচ তাতে পুরোনো বাড়ির মালিকরা এতে খুব একটা উত্সাহ দেখাবেন না৷ কারণ, এক বছরের সম্পত্তিকরের থেকে রং করার খরচ বেশি৷ হাজার বর্গফুটের তিন তলা বাড়ির বাইরের দেওয়ালে নিতান্ত কম দামি রং করতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ৷ তবে নতুন বাড়ি এবং ফ্ল্যাটের মালিকরা এতে অনেকটাই উপকৃত হবেন৷
পুরকর্তাদের ব্যাখ্যা, কলকাতাকে নয়নাভিরাম করে তুলতে সরকার নীল-সাদা রং বেছে নিয়েছে৷ মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'সম্পত্তিকর ছা.ড দেওয়ার জন্য পুর আইন সংশোধন করতে হবে৷ এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানাব৷ বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীরও সম্মতি রয়েছে৷'
আগামী বছরেই রয়েছে কলকাতা পুরভোট৷ তার ঠিক আগে পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে৷ বিরোধীদের অভিযোগ, নীল-সাদা রঙের আড়ালে ভোটের আগে ঘুরপথে কর ছাড়ের ব্যবস্থা করে দিল তৃণমূলের পুরসভা৷
বাম পুরদলের নেত্রী রূপা বাগচির মন্তব্য, 'টাকার অভাবে ঠিকমতো নাগরিক পরিষেবা দিতে পারছে না পুরসভা৷ অথচন মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে সম্পত্তিকর ছাড় দিয়ে দাতাকর্ণ হতে চাইছে তারা৷ আসলে লোকসভা ভোটে কলকাতায় দলের হাল খারাপ দেখে তৃণমূলকে এসব করতে হচ্ছে৷ যদিও আইনত এটা করা যায় না৷'
সম্পত্তিকর ছাড়ের সিদ্ধান্তে পুরসভার আধিকারিকরাও যারপরনাই বিস্মিত৷ অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের এক শীর্ষকর্তা বলেন, বকেয়া সম্পত্তিকর আদায়ে দু'বছর আগে 'ওয়েভার স্কিম' বা করছাড় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছিল৷ সেই সময় কর ছাড় দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল এম কে নারায়ণন৷ তা সত্ত্বেও ফের একই রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরকর্তারা৷ তাঁর কথায়, 'এক দিকে সম্পত্তিকর আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য অফিসারদের উপর চাপ দিচ্ছেন কর্তারা, অন্য দিকে আবার নীল-সাদা রঙের বিনিময়ে সম্পত্তিকর ছাড়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে৷ এটা দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়৷'
অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতা পুর এলাকায় মোট ৬ লক্ষ ১৫ হাজার করদাতা আছেন৷ তাঁদের কাছ থেকে বছরে গড়ে আদায় হয় ৬০০-৬৫০ কোটি টাকা৷ বকেয়া বাদ দিলে প্রতি বছর সম্পত্তিকর বাবদ গড়ে ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা রোজগার হয় পুরসভার৷ নীল-সাদা রঙের কোপে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে৷
কলকাতায় নীল-সাদা রঙের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়৷ রাজ্য পালাবদলের পরই কলকাতাকে লন্ডনের মতো ঝাঁ-চকচকে করে তোলার সংকল্প করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার অঙ্গ হিসাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সেতু, ওভারব্রিজ, রাস্তার রেলিং ও পার্কের দেওয়ালে নীল-সাদা রং করার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা বলে কথা! তাই কালক্ষেপ করেনি কলকাতার তৃণমূল পুরবোর্ডের কর্তারা৷ মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে বাস্তব রূপ দিতে আদাজল খেয়ে নেমে পড়ে পুরসভা৷ কেএমডিএ, কেআইটি, এইচআইটি, পূর্ত সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরও এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথার যাতে নড়চড় না হয়, তার জন্য পুর কমিশনারের অফিস থেকে সার্কুলার জারি করা হয়৷ সেই মতো গত দু'বছর ধরেই শহরকে নীল-সাদা রঙে রাঙানোর কাজ চলছে৷ কলকাতা শহরের প্রায় সমস্ত সরকারি ভবন, সেতু, ওভারব্রিজ, পার্ক, ডিভাইডার এবং ফুটপাথের রেলিংয়ে নীল-সাদা রং লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে৷ কোথাও একাধিকবার রঙের প্রলেপ পড়ে গিয়েছে৷ কিন্ত্ত এতেই শেষ নয়৷ এ বার বেসরকারি বাড়ির মালিকদেরও নীল-সাদা রং করতে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/1-year-property-tax-will-be-free-if-house-painted-in-blue-and-white/articleshow/36311568.cms
No comments:
Post a Comment