Tuesday, June 10, 2014

মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে সোনা চোরাচালান

মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে সোনা চোরাচালান

বিশেষ প্রতিনিধি
মানি এক্সচেঞ্জের আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসা এখন জমজমাট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে চোরাচালান সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে। 

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে মঙ্গলবার সকালে প্রায় ৩৭ লাখ টাকার সোনাসহ সাইফুল ইসলাম নামক একজনকে আটক করেছে বিমান বন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

সাইফুল ইসলাম সকাল ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসেন। ফ্লাইট থেকে নেমে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে তিনি বের হন। এসময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় বিমান বন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিমান বন্দরের বহিরাঙ্গনের ১ নম্বর ক্যানোপি এলাকায় তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৮৪৮ গ্রাম ওজনের ৩টি সোনার বার ও একটি চেইন উদ্ধার করে। পরে আটক সাইফুল ইসলামকে বিমান বন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

অন্যদিকে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালানের এক সিন্ডিকেটের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা হলেন একেএম শামসুদ্দিন ও মোঃ কামরুল হাসান। সোমবার রাতে তাদের গ্রেফতারের পর শামসুদ্দিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মুল্যের ৮০ পিস স্বর্ণের বার (যার ওজন আনুমানিক ৯.৩০ কেজি) উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতরা মানি এক্সচেঞ্জ এর আড়ালে স্বর্ণ চোরাচালানের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ করতেন। এদিকে গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত গ্রেফতারকৃত শামসুদ্দিন ও কামরুলের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে রাজধানীর পল্টন থানাধীন ফকিরাপুলের ১২৯ নম্বর ডিআইটি এক্সটেশন রোডের 'আমিন মানি এক্সচেঞ্জে' অভিযান চালিয়ে শামসুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার তথ্যের ভিত্তিতে ৪৮/এবি পুরানা পল্টনের 'সিটি মানি এক্সচেঞ্জ' কামরুলকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৮০ পিস স্বর্ণের বার (যার ওজন আনুমানিক ৯.৩০ কেজি) উদ্ধার করা হয়। 

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২ জুন স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের মূল হোতা লিটনসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের অনেকের নাম উঠে আসে। শামসুদ্দিন ও কামরুল তাদের মধ্যে অন্যতম। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তির পল্টনের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment