অভিযোগে কী ব্যবস্থা, পুলিশ জানাতে বাধ্য অভিযোগকারীকে
হিমাদ্রি সরকার
বছরখানেক আগের ঘটনা৷ জোর করে জমি আদায়ের জন্য কলকাতা পুলিশের দুই এসআই তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বাগুইআটির এক আইনজীবী৷ অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অফিসার-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা রুজু করে বাগুইআটি থানা৷ কিন্ত্ত আদালতে চার্জশিট পেশের সময় দুই অফিসারকেই রেহাই দেওয়া হয়৷ অথচ, তা অভিযোগকারিণীকে জানানো হয়নি৷ পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খবর নিয়ে বিষয়টি জেনে আদালতের দ্বারস্থ হন৷
এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়৷ থানায় অভিযোগ জানানোর পর অনেক সময়েই অভিযোগকারী জানতে পারেন না তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নিল পুলিশ৷ এটা যে তাঁর অধিকারের মধ্যে পড়ে, সে ধারণাটাই নেই অনেক অভিযোগকারীর৷ ওসি বা তদন্তকারী অফিসারও তাঁদের দায় এড়িয়ে যান৷
আদালতের গুঁতোয় পুলিশের এই প্রবণতা দূর করতে রাজ্য পুলিশের ডিজি জিএমপি রেড্ডি সবক'টি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, বাধ্যতামূলক ভাবে নির্দিষ্ট ফর্মে তা অভিযোগকারীকে জানাতে হবে৷ অন্যথায় তা সংশ্লিষ্ট অফিসারের 'দোষ' হিসেবে বিবেচিত হবে৷ ঘটনা হল, পুলিশ অফিসারদের প্রশিক্ষণের সময় যে 'কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিওর'-এর পাঠ দেওয়া হয়, সেখানেই সুস্পষ্ট ভাবে রয়েছে এই নির্দেশ৷ কিন্ত্ত ডিজি মেনে নিচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না৷
এ তো গেল এফআইআর নেওয়ার পরের ব্যবস্থা৷ পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছে, এমন অভিযোগও ভূরি ভূরি৷ এই সমস্যার সমাধান কোন পথে, তা অবশ্য এখনও অজানা৷ শুধু তা-ই নয়, ডিজির এই নির্দেশের পর নিচুতলার পুলিশ মহলে আদৌ হুঁশ ফিরবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশকর্তারাই৷
বধূ নির্যাতন এবং টাকা আদায়ের জন্য ভয় দেখানোর অভিযোগে বছরতিনেক আগে টিটাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ফিরদৌস জাহান৷ কিন্ত্ত পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল, তিন বছর পরেও তা জানানো হয়নি অভিযোগকারিণীকে৷ পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ফিরদৌস৷ পুলিশ আদালতে জানায়, তারা চার্জশিট দিয়েছে৷ কিন্ত্ত অভিযোগকারিণীকে তা জানানো হয়নি৷ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে আদালতে প্রচুর মামলা হচ্ছে৷ তাই ডিজি এবং পুলিশ কমিশনারদের এ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে বলেন বিচারপতি৷ তার পরই নতুন করে নির্দেশিকা জারি করেন ডিজি ও পুলিশ কমিশনাররা৷
কিন্ত্ত আইনে থাকলেও কেন তা মানেন না আইনরক্ষকরা? অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসাররা বলছেন, সিআরপিসি-র ২৭৩ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী, আদালতে মামলার চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়ার সময় অভিযোগকারীকে তা জানানো বাধ্যতামূলক৷ চুরি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণের মতো ধর্তব্যযোগ্য কোনও মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার তিন মাসের মধ্যেই সাধারণত চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা৷ অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না, চার্জশিট দেওয়া তো পরের কথা৷ ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা জানালে পুলিশের গাফিলতিই প্রকাশ্যে চলে আসবে, সে আশঙ্কায় তা চেপে যান থানার ওসি বা তদন্তকারী অফিসার৷
বিশিষ্ট আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'এটা শুধু গাফিলতি নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ৷ অনেক সময় দেখা যায়, অভিযুক্তের সঙ্গে গোপন আঁতাঁত থাকে তদন্তকারী অফিসারের৷ তাই গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, লঘু ধারায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ৷ অভিযোগকারী তা জানতে পারলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন, এই ভয়েও অনেক অফিসার আইন মানেন না৷'
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/after-fir-what-steps-police-has-taken-they-should-inform-the-victim/articleshow/36161103.cms
হিমাদ্রি সরকার
বছরখানেক আগের ঘটনা৷ জোর করে জমি আদায়ের জন্য কলকাতা পুলিশের দুই এসআই তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বাগুইআটির এক আইনজীবী৷ অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অফিসার-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা রুজু করে বাগুইআটি থানা৷ কিন্ত্ত আদালতে চার্জশিট পেশের সময় দুই অফিসারকেই রেহাই দেওয়া হয়৷ অথচ, তা অভিযোগকারিণীকে জানানো হয়নি৷ পরে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খবর নিয়ে বিষয়টি জেনে আদালতের দ্বারস্থ হন৷
এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়৷ থানায় অভিযোগ জানানোর পর অনেক সময়েই অভিযোগকারী জানতে পারেন না তাঁর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নিল পুলিশ৷ এটা যে তাঁর অধিকারের মধ্যে পড়ে, সে ধারণাটাই নেই অনেক অভিযোগকারীর৷ ওসি বা তদন্তকারী অফিসারও তাঁদের দায় এড়িয়ে যান৷
আদালতের গুঁতোয় পুলিশের এই প্রবণতা দূর করতে রাজ্য পুলিশের ডিজি জিএমপি রেড্ডি সবক'টি থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, বাধ্যতামূলক ভাবে নির্দিষ্ট ফর্মে তা অভিযোগকারীকে জানাতে হবে৷ অন্যথায় তা সংশ্লিষ্ট অফিসারের 'দোষ' হিসেবে বিবেচিত হবে৷ ঘটনা হল, পুলিশ অফিসারদের প্রশিক্ষণের সময় যে 'কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিওর'-এর পাঠ দেওয়া হয়, সেখানেই সুস্পষ্ট ভাবে রয়েছে এই নির্দেশ৷ কিন্ত্ত ডিজি মেনে নিচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না৷
এ তো গেল এফআইআর নেওয়ার পরের ব্যবস্থা৷ পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছে, এমন অভিযোগও ভূরি ভূরি৷ এই সমস্যার সমাধান কোন পথে, তা অবশ্য এখনও অজানা৷ শুধু তা-ই নয়, ডিজির এই নির্দেশের পর নিচুতলার পুলিশ মহলে আদৌ হুঁশ ফিরবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশকর্তারাই৷
বধূ নির্যাতন এবং টাকা আদায়ের জন্য ভয় দেখানোর অভিযোগে বছরতিনেক আগে টিটাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ফিরদৌস জাহান৷ কিন্ত্ত পুলিশ কী ব্যবস্থা নিল, তিন বছর পরেও তা জানানো হয়নি অভিযোগকারিণীকে৷ পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ফিরদৌস৷ পুলিশ আদালতে জানায়, তারা চার্জশিট দিয়েছে৷ কিন্ত্ত অভিযোগকারিণীকে তা জানানো হয়নি৷ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে আদালতে প্রচুর মামলা হচ্ছে৷ তাই ডিজি এবং পুলিশ কমিশনারদের এ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে বলেন বিচারপতি৷ তার পরই নতুন করে নির্দেশিকা জারি করেন ডিজি ও পুলিশ কমিশনাররা৷
কিন্ত্ত আইনে থাকলেও কেন তা মানেন না আইনরক্ষকরা? অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসাররা বলছেন, সিআরপিসি-র ২৭৩ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী, আদালতে মামলার চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়ার সময় অভিযোগকারীকে তা জানানো বাধ্যতামূলক৷ চুরি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণের মতো ধর্তব্যযোগ্য কোনও মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার তিন মাসের মধ্যেই সাধারণত চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা৷ অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না, চার্জশিট দেওয়া তো পরের কথা৷ ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা জানালে পুলিশের গাফিলতিই প্রকাশ্যে চলে আসবে, সে আশঙ্কায় তা চেপে যান থানার ওসি বা তদন্তকারী অফিসার৷
বিশিষ্ট আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'এটা শুধু গাফিলতি নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ৷ অনেক সময় দেখা যায়, অভিযুক্তের সঙ্গে গোপন আঁতাঁত থাকে তদন্তকারী অফিসারের৷ তাই গুরুতর অভিযোগ উঠলেও, লঘু ধারায় চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ৷ অভিযোগকারী তা জানতে পারলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন, এই ভয়েও অনেক অফিসার আইন মানেন না৷'
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/after-fir-what-steps-police-has-taken-they-should-inform-the-victim/articleshow/36161103.cms
No comments:
Post a Comment