দু'বছর আগের আবেগ মুছে শুধুই বিশৃঙ্খলা
রূপক বসু
ময়দানে রেড রোডের উল্টোদিকে যেখানে মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি, তার ঠিক পাশেই কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাব৷ যেখানে সামনে সকাল দশটা থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে নদিয়ার যুবক সোমেন হালদার৷
আশপাশ দিয়ে যিনিই যাচ্ছেন, তাঁর কাছেই আকুল আব্দার, 'দাদা, একটা পাস হবে?' মঙ্গলবারের বারবেলায় ময়দানের বিখ্যাত বটতলাতেও বিনে পয়সার টিকিটের দর উঠছিল, পাঁচশো টাকা৷ সেখানেও হামলে পড়তে দেখা গেল জনা কুড়ি যুবককে! আর একটু এগোতেই ইডেনের ২ নম্বর গেটে ঢোকার গেট বন্ধ৷ তখন ঘড়ির কাঁটা বেলা একটা ছোঁয়নি৷ সেখানেই পুলিশ কর্তাদের হুমকি, 'আর ঢোকা যাবে না৷' অতঃপর ব্যারিকেডের সামনে জনতার হামলে পড়া এবং পুলিশের লাঠিচার্জ৷
ফ্ল্যাশব্যাকে দু'বছর পিছিয়ে যেতে হবে ২০১২ সালের ২৮ মে৷ হাসফাঁস করা গরমে ইডেনের বাইরের ছবিটার খুব একটা তফাত্ চোখে পড়েনি৷ ইডেনের ভিতরের ছবিগুলোও প্রাথমিক ভাবে একই৷ টেলিউড (টেলিভিশন ও টলিউডের মিশেলে এই নামই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে) শিল্পীদের নাচা-গানা৷ রাজ্য সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের ভিড়৷ সিএবি কর্তাদের হুড়োহুড়ি৷ সবই এক৷ এ দিন তার সঙ্গে যোগ হল নিদারুণ প্রতীক্ষা৷ ইডেনের বাইরেই কানে এসেছিল, 'তাড়াতাড়ি চল, শাহরুখ এসে যাবে৷' বাজিগরের সেই 'ফ্লপ শো' দেখার পর বিকেলে রেড রোডের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেকের মুখেই শুনলাম, 'আগেরবারের সেলিব্রেশনটা ঢের ভালো ছিল৷'
আসলে দু'বছর আগে কাপের সঙ্গে ঢুকেছিলেন শাহরুখ আর কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর৷ সঙ্গে পুরো টিম৷ আর এ বার প্রথমে টিম বাসে ইডেনে ঢোকার সময় মহার্ঘ্য কাপটাই হোটেলে ফেলে আসেন নাইটরা৷ তড়িঘড়ি তা নিয়ে আসা হয়৷ সে বার ইডেনে এসেই সাইট স্ক্রিনের স্ট্যান্ডের মাথায় উঠে পড়েছিলেন শাহরুখ৷ জুহি চাওলার সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন 'ধিতাং ধিতাং বোলে...'-র সুরে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন জাতীয় সঙ্গীতে৷ এ সব দেখেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে মেতেছিল ইডেনের হাজার যাটেক দর্শক৷
আর এ দিন সবটাই যেন 'করতে হয় করা৷' গ্যলারিকে এসআরকে-র প্রণাম, মাঠ ঘোরা, এ সবের মধ্যে কোনও প্রাণ ছিল না৷ গতবার শাহরুখের ছন্দে ছন্দে গ্যলারি নেচেছিল৷ কোমর দুলিয়েছিলেন ক্রিকেটাররাও৷ এ বার কেকেআর মালিক মাঠ প্রদক্ষিণ শুরু হওয়ার আগেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই দেশে বা নিজের শহরে ফেরার ফ্লাইট ধরার তাড়ায় ভোঁ ভাঁ৷ কেকেআরের 'রবিনহুড' উত্থাপ্পা অবশ্য শেষ পর্যন্ত ছিলেন৷ ভরা গ্যালারি দেখে স্টেজের সামনে দাঁড়িয়েই বলছিলেন, 'কলকাতার মানুষের কাছ থেকে এ রকমই একটা সেলিব্রেশন আশা করছিলাম৷'
গোটা অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের নাম-গন্ধ নেই৷ আগেরবার তা-ও একটা রোড শো ছিল! যেমন হয়ে থাকে ইউরোপে৷ ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ইপিএল বা রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর আগুয়েরো, রোনাল্দোদের দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে৷ কেকেআরের উত্সবে সে সবের বালাই নেই৷ ইডেনে ঢুকতে পারলে আপনি উত্সবে আছেন, না হলে নেই! একটা জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থাও ছিল না৷ পুরো অনুষ্ঠানে গম্ভীরের কোনও বক্তব্যও নেই৷ সাধারণ জনতা জানতেও পারলেন না, টানা ন'টা ম্যাচ জিতে কী ভাবে অসাধ্য সাধন করল কেকেআর? গত বারও ছিল না৷ কিন্ত্ত ইউসুফকে 'দর্দে ডিস্কো' বা মনবিন্দর বিসলাকে 'ইশক কামিনা'-র সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল৷ এ দিন সে সবেরও বালাই নেই৷ ফাইনালে উইনিং স্ট্রোক নেওয়া পীযূষ চাওলা অবশ্য কলকাতার এই আবেগেই বেশ গদগদ৷ ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে গ্যলারির দিকে তাকিয়ে তাঁর গলা থেকে বেরিয়ে এল, '২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতার সংবর্ধনার পর এত মানুষকে এক সঙ্গে এমন উত্সবে মাততে দেখিনি৷' পীযূষ আনন্দে ভাসতে পারেন, কিন্ত্ত কলকাতার মন ভরল না৷ এ সব অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়ে মাইক হাতে আসর জমিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং৷ রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে নেতাজী ইন্ডোরের স্টেজে তাঁর কথাতেই ফুটবলে জাগলিং করে মাতিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ এ দিন মমতার হাতে মাইক উঠেছে, শুধুই নিয়মরক্ষার খাতিরে৷ শুধু বললেন, 'পরের বার এ ধরনের অনুষ্ঠান করলে, ব্রিগেডে করব৷'
মাঠের মাঝখানে এমন জায়গায় কেক কাটা আর ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেওয়া হল, তা অগোচরেই থেকে গেল অর্ধেক গ্যালারির৷ মাঠের যাতে ক্ষতি না হয়, ক্লাব হাউসের সামনের তাই তৈরি হয়েছিল স্টেজ৷ কিন্ত্ত মাঠে দাপিয়ে ঘুরে বেড়ালেন প্রচুর মানুষ৷ আজ ইডেনে আবার অম্বর রায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল৷ বিকেলে সিএবির কোষাধ্যক্ষবিশ্বরূপ দে-র সাফাই, 'এক দিনের নোটিশে অনুষ্ঠান করাটা যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল, মাঠটাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসাও তেমন চ্যালেঞ্জ৷' প্রথমবার আইপিএল জেতার পরও হাতে যে অনেক সময় ছিল, এমন নয়৷ সে বার অনেক বিশৃঙ্খলার মধ্যে তবু আবেগটুকু ছিল৷ আর ছিল শাহরুখের অফুরন্ত প্রাণশক্তির বিচ্ছুরণ৷ আর এ দিন শাহরুখ যখন মাঠ ঘুরছেন, গ্যালারির দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রসেনজিত্৷ সে দিকে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই৷ সবাই শাহরুখকে দেখতে ব্যস্ত৷ সবার 'দিল মাঙ্গে মোর৷' কিন্ত্ত সেই মন ভেঙে ইডেন ম্যাটনি-তে নাইট শো যেন শুধুই নিয়মরক্ষার জন্য!
ময়দানে রেড রোডের উল্টোদিকে যেখানে মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি, তার ঠিক পাশেই কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাব৷ যেখানে সামনে সকাল দশটা থেকে ঠায় দাঁড়িয়ে নদিয়ার যুবক সোমেন হালদার৷
আশপাশ দিয়ে যিনিই যাচ্ছেন, তাঁর কাছেই আকুল আব্দার, 'দাদা, একটা পাস হবে?' মঙ্গলবারের বারবেলায় ময়দানের বিখ্যাত বটতলাতেও বিনে পয়সার টিকিটের দর উঠছিল, পাঁচশো টাকা৷ সেখানেও হামলে পড়তে দেখা গেল জনা কুড়ি যুবককে! আর একটু এগোতেই ইডেনের ২ নম্বর গেটে ঢোকার গেট বন্ধ৷ তখন ঘড়ির কাঁটা বেলা একটা ছোঁয়নি৷ সেখানেই পুলিশ কর্তাদের হুমকি, 'আর ঢোকা যাবে না৷' অতঃপর ব্যারিকেডের সামনে জনতার হামলে পড়া এবং পুলিশের লাঠিচার্জ৷
ফ্ল্যাশব্যাকে দু'বছর পিছিয়ে যেতে হবে ২০১২ সালের ২৮ মে৷ হাসফাঁস করা গরমে ইডেনের বাইরের ছবিটার খুব একটা তফাত্ চোখে পড়েনি৷ ইডেনের ভিতরের ছবিগুলোও প্রাথমিক ভাবে একই৷ টেলিউড (টেলিভিশন ও টলিউডের মিশেলে এই নামই শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর মুখে) শিল্পীদের নাচা-গানা৷ রাজ্য সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রীদের ভিড়৷ সিএবি কর্তাদের হুড়োহুড়ি৷ সবই এক৷ এ দিন তার সঙ্গে যোগ হল নিদারুণ প্রতীক্ষা৷ ইডেনের বাইরেই কানে এসেছিল, 'তাড়াতাড়ি চল, শাহরুখ এসে যাবে৷' বাজিগরের সেই 'ফ্লপ শো' দেখার পর বিকেলে রেড রোডের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেকের মুখেই শুনলাম, 'আগেরবারের সেলিব্রেশনটা ঢের ভালো ছিল৷'
আসলে দু'বছর আগে কাপের সঙ্গে ঢুকেছিলেন শাহরুখ আর কেকেআর অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর৷ সঙ্গে পুরো টিম৷ আর এ বার প্রথমে টিম বাসে ইডেনে ঢোকার সময় মহার্ঘ্য কাপটাই হোটেলে ফেলে আসেন নাইটরা৷ তড়িঘড়ি তা নিয়ে আসা হয়৷ সে বার ইডেনে এসেই সাইট স্ক্রিনের স্ট্যান্ডের মাথায় উঠে পড়েছিলেন শাহরুখ৷ জুহি চাওলার সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন 'ধিতাং ধিতাং বোলে...'-র সুরে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গলা মিলিয়েছিলেন জাতীয় সঙ্গীতে৷ এ সব দেখেই স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে মেতেছিল ইডেনের হাজার যাটেক দর্শক৷
আর এ দিন সবটাই যেন 'করতে হয় করা৷' গ্যলারিকে এসআরকে-র প্রণাম, মাঠ ঘোরা, এ সবের মধ্যে কোনও প্রাণ ছিল না৷ গতবার শাহরুখের ছন্দে ছন্দে গ্যলারি নেচেছিল৷ কোমর দুলিয়েছিলেন ক্রিকেটাররাও৷ এ বার কেকেআর মালিক মাঠ প্রদক্ষিণ শুরু হওয়ার আগেই তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই দেশে বা নিজের শহরে ফেরার ফ্লাইট ধরার তাড়ায় ভোঁ ভাঁ৷ কেকেআরের 'রবিনহুড' উত্থাপ্পা অবশ্য শেষ পর্যন্ত ছিলেন৷ ভরা গ্যালারি দেখে স্টেজের সামনে দাঁড়িয়েই বলছিলেন, 'কলকাতার মানুষের কাছ থেকে এ রকমই একটা সেলিব্রেশন আশা করছিলাম৷'
গোটা অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের নাম-গন্ধ নেই৷ আগেরবার তা-ও একটা রোড শো ছিল! যেমন হয়ে থাকে ইউরোপে৷ ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ইপিএল বা রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর আগুয়েরো, রোনাল্দোদের দেখতে রাস্তায় মানুষের ঢল নামে৷ কেকেআরের উত্সবে সে সবের বালাই নেই৷ ইডেনে ঢুকতে পারলে আপনি উত্সবে আছেন, না হলে নেই! একটা জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থাও ছিল না৷ পুরো অনুষ্ঠানে গম্ভীরের কোনও বক্তব্যও নেই৷ সাধারণ জনতা জানতেও পারলেন না, টানা ন'টা ম্যাচ জিতে কী ভাবে অসাধ্য সাধন করল কেকেআর? গত বারও ছিল না৷ কিন্ত্ত ইউসুফকে 'দর্দে ডিস্কো' বা মনবিন্দর বিসলাকে 'ইশক কামিনা'-র সঙ্গে নাচতে দেখা গিয়েছিল৷ এ দিন সে সবেরও বালাই নেই৷ ফাইনালে উইনিং স্ট্রোক নেওয়া পীযূষ চাওলা অবশ্য কলকাতার এই আবেগেই বেশ গদগদ৷ ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে গ্যলারির দিকে তাকিয়ে তাঁর গলা থেকে বেরিয়ে এল, '২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতার সংবর্ধনার পর এত মানুষকে এক সঙ্গে এমন উত্সবে মাততে দেখিনি৷' পীযূষ আনন্দে ভাসতে পারেন, কিন্ত্ত কলকাতার মন ভরল না৷ এ সব অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়ে মাইক হাতে আসর জমিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং৷ রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠানে নেতাজী ইন্ডোরের স্টেজে তাঁর কথাতেই ফুটবলে জাগলিং করে মাতিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ এ দিন মমতার হাতে মাইক উঠেছে, শুধুই নিয়মরক্ষার খাতিরে৷ শুধু বললেন, 'পরের বার এ ধরনের অনুষ্ঠান করলে, ব্রিগেডে করব৷'
মাঠের মাঝখানে এমন জায়গায় কেক কাটা আর ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দেওয়া হল, তা অগোচরেই থেকে গেল অর্ধেক গ্যালারির৷ মাঠের যাতে ক্ষতি না হয়, ক্লাব হাউসের সামনের তাই তৈরি হয়েছিল স্টেজ৷ কিন্ত্ত মাঠে দাপিয়ে ঘুরে বেড়ালেন প্রচুর মানুষ৷ আজ ইডেনে আবার অম্বর রায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল৷ বিকেলে সিএবির কোষাধ্যক্ষবিশ্বরূপ দে-র সাফাই, 'এক দিনের নোটিশে অনুষ্ঠান করাটা যেমন চ্যালেঞ্জ ছিল, মাঠটাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসাও তেমন চ্যালেঞ্জ৷' প্রথমবার আইপিএল জেতার পরও হাতে যে অনেক সময় ছিল, এমন নয়৷ সে বার অনেক বিশৃঙ্খলার মধ্যে তবু আবেগটুকু ছিল৷ আর ছিল শাহরুখের অফুরন্ত প্রাণশক্তির বিচ্ছুরণ৷ আর এ দিন শাহরুখ যখন মাঠ ঘুরছেন, গ্যালারির দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রসেনজিত্৷ সে দিকে কারও ভ্রুক্ষেপ নেই৷ সবাই শাহরুখকে দেখতে ব্যস্ত৷ সবার 'দিল মাঙ্গে মোর৷' কিন্ত্ত সেই মন ভেঙে ইডেন ম্যাটনি-তে নাইট শো যেন শুধুই নিয়মরক্ষার জন্য!
http://eisamay.indiatimes.com/sports/cricket/eden-only-saw-chaos/articleshow/36034697.cms?
No comments:
Post a Comment