Sunday, June 1, 2014

সীমান্ত এখনও থমথমে

সীমান্ত এখনও থমথমে
কূটনৈতিক রিপোর্টার
প্রকাশ : ০২ জুন, ২০১৪

সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় একজন বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার পরও বাংলাদেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তে থমথমে অবস্থা বিরাজ করার মধ্যেই সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত নিরাপত্তা সংলাপ আয়োজনের আগ্রহ নতুন করে ব্যক্ত করছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আগামী ১৮ জুন ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করার চেষ্টা করবে ঢাকা।
সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমার সেনা প্রত্যাহার না করায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। রোববার নতুন করে কোনো সংঘর্ষ না ঘটলেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও চলতি মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠকের কর্মসূচি বাতিল করেনি বাংলাদেশ। বরং ঢাকার পক্ষ থেকে এসব বৈঠককে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আলোচনা করার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগামী ৫ জুন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী পুলিশ তথা বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৯ থেকে ১৪ জুন মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার সফর করবে। আগামী ১৮ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের বান্দরবানের কাছে মিয়ানমার সীমান্তে ২৮ মে দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি সদস্য নায়েক মিজানুর রহমান নিহত হন। তারপর থেকে সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে উভয় পক্ষ। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর নিহত বিজিবি সদস্য মিজানের লাশ ফেরত দিয়েছে বিজিপি। ঘটনার চার দিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশ এখনও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চায়।
তিনি রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি আশাবাদী। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার সবকিছুই করছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী বলেন, দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে সব কর্মকাণ্ড চালু রাখা হবে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে সীমান্তে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা মনে করেছিল, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন আরএসও জঙ্গিরা কাজ করছে। এই মনে করে তারা গুলি ছোড়ে। এমন ভুল বোঝাবুঝি যাতে না ঘটে সেই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেনাবাহিনীও প্রত্যাহার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, সীমান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই বাংলাদেশ নিয়মিত নিরাপত্তা সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই সময়ে মিয়ানমার প্রস্তাবে রাজি ছিল বলে জানিয়ে সচিব বলেন, আগামী ১৮ জুনের সচিব পর্যায়ে বৈঠকে এ ব্যাপারে চুক্তি সই করতে চায় বাংলাদেশ।
আরএসও জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে মিয়ানমারের কাছে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। সবশেষ এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আগে এ রকম ছিল না। সম্প্রতি এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে যেমনটা যোগাযোগ করা যায় মিয়ানমারের সঙ্গে সেই যোগাযোগটা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- See more at: http://www.jugantor.com/first-page/2014/06/02/106664#sthash.a9q5guui.dpuf

No comments:

Post a Comment