বিদেশী জঙ্গির সন্ধানে পুলিশ
সৈয়দ আতিক
প্রকাশ : ১১ জুন, ২০১৪
আত্মগোপনে থাকা বিদেশী জঙ্গিদের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। এদের গ্রেফতারে প্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি নতুন পদ্ধতি ও কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলতে বিদেশী জঙ্গিরা দেশীদের সঙ্গে নিয়ে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এ খবর পাওয়ার পর থেকে পুলিশ কঠোর অভিযানে নেমেছে।
ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, তেহরিক-ই-তালেবানের (টিপিপি) ১০ থেকে ১৫ জন জঙ্গি বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছে। এরা বাংলাদেশে নাশকতা চালানোর জন্য কয়েক মাস আগে প্রবেশ করেছে। ২১ জানুয়ারি তেহরিক-ই-তালেবান অব পাকিস্তানের তিন জঙ্গি মেহমুদ, উসমান এবং ফকরুল হাসান গ্রেফতার হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। টিমের অন্য সদস্যদের ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। র্যাবের একটি সূত্র জানায়, র্যাবের গোয়েন্দারা ছাড়াও ব্যাটালিয়নের একাধিক টিম কিছু পুরনো জঙ্গিকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি দমন আমাদের মূল কাজের একটি। আর আগের চেয়ে র্যাব জঙ্গিদের ধরতে আরও কৌশলী ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা বা দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে জঙ্গিরা নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে। এ উদ্দেশ্যে দুটি গ্র“প সক্রিয়। দুই গ্র“পেই আছে দেশী এবং বিদেশী জঙ্গি। এরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্রেনওয়াশের মাধ্যমেও টেনে আনছে এ পথে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের ত্রিশাল অপারেশনের পর সরকার উগ্রপন্থীদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। জঙ্গি দমনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব রকম কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও এ প্রক্রিয়ার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গিরাও এখন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তাই অভিযানের আগে গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে দেশে একটি গোষ্ঠী নাশকতার চেষ্টা করছে। আর তাদের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্রের তথ্য মিলেছে।
এদিকে সম্প্রতি জঙ্গি দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু এর কার্যক্রম এখনও সেভাবে চালু হয়নি। ওই বৈঠকে আরও ৯টি উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নাম চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে ৪টি সংগঠন দেশে নানাভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দমনে পুলিশ ও র্যাবকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। জানা গেছে, অভিযানের পাশাপাশি গণসচেতনতাও সৃষ্টি করা হচ্ছে।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাতছড়ির গহিন বনে অস্ত্র উদ্ধারের পর একটি রাজনৈতিক দল এবং দুটি জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতাকে খোঁজা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সময় দেশে নাশকতার ছক তৈরি করলেও এদের অনেকেই ধরা পড়েনি। তাছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ২১ জানুয়ারি পাকিস্তানি তেহরিক-ই-তালেবানের তিন জঙ্গি ধরা পড়ার পর আরও কয়েকজনের আত্মগোপনের বিষয়ে তারা স্বীকারোক্তি দেন। এদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করছে ডিবি পুলিশ। পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেনসহ আরবভিত্তিক দেশগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান সাঈদ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মোঃ সানাউল্লাহ, মুফতি ল্যাংড়া সালাম, মুফতি আবদুল হাকিম, ইয়েমেন ফেরত মাইনুদ্দীন শরীফ, তেহজীব করিম, রেজওয়ান শরীফ, সাবেক শিবির নেতা রানাসহ উল্লেখযোগ্য উগ্রপন্থী কয়েকজন নেতাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল জঙ্গিবাদ কার্যক্রম নজরদারি করা এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ৪ জুন সর্বশেষ এই কমিটির বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সরকার। এরপরই নতুন করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে নির্দেশনা প্রদান করা হলেও জঙ্গি দমনে বড় ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা এবং র্যাব সম্প্রতি আলোচনা ও সমালোচনায় উঠে আসায় পুলিশ কঠোর অভিযানে নামছে জঙ্গি দমনে। আবার র্যাবের চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানও আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ ও র্যাব তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা দেখাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠছে।
- See more at: http://www.jugantor.com/first-page/2014/06/11/110297#sthash.Os31OqAf.dpufডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, তেহরিক-ই-তালেবানের (টিপিপি) ১০ থেকে ১৫ জন জঙ্গি বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছে। এরা বাংলাদেশে নাশকতা চালানোর জন্য কয়েক মাস আগে প্রবেশ করেছে। ২১ জানুয়ারি তেহরিক-ই-তালেবান অব পাকিস্তানের তিন জঙ্গি মেহমুদ, উসমান এবং ফকরুল হাসান গ্রেফতার হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। টিমের অন্য সদস্যদের ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। র্যাবের একটি সূত্র জানায়, র্যাবের গোয়েন্দারা ছাড়াও ব্যাটালিয়নের একাধিক টিম কিছু পুরনো জঙ্গিকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি দমন আমাদের মূল কাজের একটি। আর আগের চেয়ে র্যাব জঙ্গিদের ধরতে আরও কৌশলী ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা বা দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে জঙ্গিরা নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে। এ উদ্দেশ্যে দুটি গ্র“প সক্রিয়। দুই গ্র“পেই আছে দেশী এবং বিদেশী জঙ্গি। এরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্রেনওয়াশের মাধ্যমেও টেনে আনছে এ পথে। তিনি বলেন, জঙ্গিদের ত্রিশাল অপারেশনের পর সরকার উগ্রপন্থীদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। জঙ্গি দমনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে সব রকম কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও এ প্রক্রিয়ার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গিরাও এখন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। তাই অভিযানের আগে গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে দেশে একটি গোষ্ঠী নাশকতার চেষ্টা করছে। আর তাদের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্রের তথ্য মিলেছে।
এদিকে সম্প্রতি জঙ্গি দমনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু এর কার্যক্রম এখনও সেভাবে চালু হয়নি। ওই বৈঠকে আরও ৯টি উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নাম চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে ৪টি সংগঠন দেশে নানাভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দমনে পুলিশ ও র্যাবকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। জানা গেছে, অভিযানের পাশাপাশি গণসচেতনতাও সৃষ্টি করা হচ্ছে।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাতছড়ির গহিন বনে অস্ত্র উদ্ধারের পর একটি রাজনৈতিক দল এবং দুটি জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতাকে খোঁজা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সময় দেশে নাশকতার ছক তৈরি করলেও এদের অনেকেই ধরা পড়েনি। তাছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ২১ জানুয়ারি পাকিস্তানি তেহরিক-ই-তালেবানের তিন জঙ্গি ধরা পড়ার পর আরও কয়েকজনের আত্মগোপনের বিষয়ে তারা স্বীকারোক্তি দেন। এদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করছে ডিবি পুলিশ। পাশাপাশি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেনসহ আরবভিত্তিক দেশগুলোতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান সাঈদ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মোঃ সানাউল্লাহ, মুফতি ল্যাংড়া সালাম, মুফতি আবদুল হাকিম, ইয়েমেন ফেরত মাইনুদ্দীন শরীফ, তেহজীব করিম, রেজওয়ান শরীফ, সাবেক শিবির নেতা রানাসহ উল্লেখযোগ্য উগ্রপন্থী কয়েকজন নেতাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল জঙ্গিবাদ কার্যক্রম নজরদারি করা এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ৪ জুন সর্বশেষ এই কমিটির বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সরকার। এরপরই নতুন করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে নির্দেশনা প্রদান করা হলেও জঙ্গি দমনে বড় ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা এবং র্যাব সম্প্রতি আলোচনা ও সমালোচনায় উঠে আসায় পুলিশ কঠোর অভিযানে নামছে জঙ্গি দমনে। আবার র্যাবের চলমান জঙ্গিবিরোধী অভিযানও আগের চেয়ে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ ও র্যাব তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মক্ষমতা এবং দক্ষতা দেখাতে বেশ তৎপর হয়ে উঠছে।
No comments:
Post a Comment