নওগাঁয় রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত দুটি মন্দির ধ্বংসপ্রায়
নওগাঁ প্রতিনিধি
জানা গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও শিব ও কালী মন্দির দুটিতে পূজা-অর্চনা করা হতো। মন্দির এলাকায় দখলদারদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী কালীগ্রাম গ্রামের হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন পূজা বন্ধ করে দেয়। এদিকে এলাকাবাসী ও রবীন্দ ভক্তরা দ্রুত সম্পত্তিগুলো উদ্ধার ও মন্দির দুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ঠাকুর পরিবার আত্রাই উপজেলার পতিসরে জমিদারি পরিচালনার সময় কসবা মৌজায় প্রায় আড়াইশ' বছর আগে কাচারি বাড়ি স্থাপন করে। এ কাচারি বাড়ি থেকে কালীগ্রাম পরগণার কসবা, ভান্ডাগ্রাম ও রাতোয়াল গ্রামে জমিদারি পরিচালনা করা হতো। সে সময় এলাকায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে ঠাকুর পরিবার ১৮ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করে।
রবীন্দ গবেষক ও কবি আতাউল হক সিদ্দিকী জানান, মন্দির দুটি নির্মাণের পর জমিদারের কোষাগার থেকে পূজার জন্য অর্থ ব্যয় করা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও ১৯৮৪/৮৫ সাল পর্যন্ত মন্দির দুটিতে পূজা-অর্চনা করা হতো। কিন্তু মন্দির এলাকায় দখলদারদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী কালীগ্রাম গ্রামের হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন পূজা বন্ধ করে দেয়।
কসবা গ্রামের লোকজন জানান, এসব স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্থানীয়রা ইতিমধ্যে কাচারি বাড়ি ভেঙ্গে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে। কালী মন্দিরটি উত্তর দিকে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে শিব মন্দিরটি এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও দখলদাররা শিব মন্দিরের উঠানে ইটের ঘর নির্মাণ করেছে।
ওখানে এখন যারা বসবাস করছেন তারা বলেন, বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য এসে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের বলেন, যখন সরকার এগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেবে তখন তাদের ছেড়ে দিতে হবে।
কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফিজুর রহমান রবীন্দ নাথ ঠাকুরের পুকুরসহ বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে দাবি জানান।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, ইতিপূর্বে সরকারের পক্ষে মন্দির সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়া হয় তা পর্যাপ্ত ছিল না। তবে বেদখল পুকুরসহ সম্পত্তিগুলো উদ্ধার করাসহ সংস্কারের সকল তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কবিগুরুর স্মৃতিকে সমুজ্জ্বল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments:
Post a Comment