Saturday, June 7, 2014

উলিপুরের হতদরিদ্র নারীরা এখন উন্নয়নের মডেল

উলিপুরের হতদরিদ্র নারীরা এখন উন্নয়নের মডেল

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, দু'বেলার আহার জোটানো ছিল কষ্টসাধ্য। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটাতে হতো তাদের। সেই অবহেলিত ৬ শত হতদরিদ্র নারীর ভাগ্য বদলে গেছে। কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত, বিধবাসহ অবহেলিত এসব হতদরিদ্র নারীরাই এখন জেলার 'নারী মডেল'। 

২০০৬ সালে বিডিএসসি নামের এনজিও দাতা সংস্থা হেক্্স-সুইজারল্যান্ডের আর্থিক সহায়তায় ৬'শ হতদরিদ্র নারী ও কিশোরীকে নিয়ে নারী প্রকল্পের কাজ শুরু করে। লাঞ্ছিত ও ভাগ্যাহত নারীদের স্বাবলম্বী করতে তাদের দিয়েই সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা হয়। 

উলিপুর উপজেলায় ২০টি গ্রামে মোট ৪৩টি নারী প্রাথমিক সমিতি গঠন করা হয়। উপজেলা নারী নির্বাহী কমিটি (ইউপেক) এর মাধ্যমে নিজস্ব সাংগঠনিক ও আর্থিক নীতিমালার ভিত্তিতে নারী সংগঠনের ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। 

ইউপেক-এর সভানেত্রী ছবি বেগম জানান, নারী সংগঠনটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত করা হয়েছে। ধান ভানা, গরু মোটা-তাজাকরণ, গাভী পালন, ছাগল পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, জমি চাষ, নার্সারী, বাঁশের কাজ, বেকারী, হাতের কাজ, কাঠের কাজ ও মত্স্য চাষসহ উঠোনে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে ক্ষতিকারক বৃক্ষ নিধন এবং উপকারী বৃক্ষ রোপণে উত্সাহিত এবং ছোট পরিবার গঠনের উপর জোর দিয়ে থাকেন এসব নারীরা। 

দাতাসংস্থা হেক্্স-সুইজারল্যান্ড এর ৩৬ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার অনুদান বর্তমানে লাভসহ প্রায় ৩৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও তাদের সঞ্চয় তহবিলে রয়েছে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। 

হেক্্স-সুইজারল্যান্ড-এর সহায়তায় নারী প্রকল্পের ক্রয়কৃত ৮ শতক জমির উপর নির্মিত ঘরে সংগঠনের ২৫ জন নারী পা-পোঁশ তৈরির কাজ করছেন। প্রতিজন আয় করছেন মাসে সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে 'নারী পণ্য' নামের একটি শো-রুম সংগঠনের দুইজন নারী বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করে জীবিকানির্বাহ করছেন। এইসব নারীদের স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment