Tuesday, June 10, 2014

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাইয়ে বাংলাদেশ সফর করুন চীনা উদ্যোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাইয়ে বাংলাদেশ সফর করুন
চীনা উদ্যোক্তাদের প্রধানমন্ত্রী
বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে একটি লাভজনক গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনুসন্ধানে চীনের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ লাভজনক হবে, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে। তিনি বলেন, কুনমিং থেকে ঢাকায় দুই ঘণ্টার ফ্লাইটে আপনারা বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেখে আসতে পারেন। খবর বাসসর।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসিডেন্সিয়াল বেজিং হোটেলে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ফোরামের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিসিপিআইটির চেয়ারম্যান জিয়াং জেংউই। চীনের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং কর্পোরেট বডি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও বাণিজ্যিক কোম্পানি, বিনিয়োগ গ্রুপ, নির্মাণ, বিদ্যুত উৎপাদন ও প্রকৌশল কোম্পানিগুলোর প্রধানরা এতে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, বেজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আজিজুল হক, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, চীনের সেনি হেভি ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার চুই ইয়ংগিয়ান এবং নিংবো ফোর সিজন ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বাও বুইবং বক্তৃতা করেন।
বিদেশী বিনিয়োগের জন্য সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধার বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেও অংশ নিতে পারে। তারা ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিকস, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, পেট্রোকেমিক্যালস এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, চীনের ব্যাপক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ অভিভূত। চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান উন্নয়ন ও সহযোগিতার অংশীদার। চীন আমাদের অবকাঠামো নির্মাণ প্রচেষ্টায় সমর্থন দিচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সমর্থন ও সহযোগিতা গতি অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪-১৮ মেয়াদে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন খাতে চীনের সহযোগিতা চেয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণেও আমরা চীনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।
দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতার উল্লেখ করে চীন আরও বাংলাদেশী পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত মৎস্য, সিরামিকস এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করে এই বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮টি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে চীনের ৪৯টি কোম্পানি ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, আরও প্রায় ৩শ’ বিনিয়োগকারী ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, হুয়াউই, সিএমইসি, জেডটিইর মতো কোম্পানিগুলো বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মরত রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারী কোম্পানিগুলো বিদ্যুত উৎপাদন, অবকাঠামো নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ, সার, বস্ত্র, চামড়া, সিরামিকস, প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনে কতিপয় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। কারখানায় যে সব পণ্য উৎপাদিত হয় সেগুলো বাংলাদেশে স্থানান্তর করা যেতে পারে। আমাদের তরুণ ও উদ্যমী শ্রমশক্তি এবং সহনীয় বেতনের ফলে এ সব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কম হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ রক্ষা চুক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় ট্যাক্স কনভেনশনের আওতায় বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ পুরোপুরি নিরাপদ। তিনি আরও একটি আকর্ষণীয় সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইইউ এবং প্রায় সকল উন্নত দেশে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার ভোগ করে আসছে।
আইটি ও টেলিকম খাতে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আমরা আমাদের বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতাও বৃদ্ধি করেছি। বর্তমানে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ৭ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী চীনা উদ্যোক্তাদের গত ৫ বছরে বাংলাদেশের সাফল্যের কিছু সূচক সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নআয় থেকে মধ্যআয়ে ওঠে এসেছে। তিনি বলেন, একই সময় আমাদের রফতানি আয় ১০৭ শতাংশ, রেমিটেন্স ৬২ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২১৭ শতাংশ এবং বিদ্যুত উৎপাদন ১০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।
কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণে চীনের সঙ্গে
এমওইউ সই
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীন মঙ্গলবার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এমওইউ অনুযায়ী চীন সরকার ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই টানেল নির্মাণ করবে। বেজিংয়ে এ সমঝোতা স্মারকে যোগাযোগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং চীনের পরিবহন ও যোগাযোগ উপমন্ত্রী চি-কু মাও স্বাক্ষর করেন।
গজারিয়ায় গার্মেন্টপল্লী
নির্মাণে এমওইউ সই
বাংলাদেশে একটি গার্মেন্টপল্লী স্থাপনে মঙ্গলবার বেজিংয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) চীনের ওরিয়ন ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এমওইউর আওতায় ওরিয়ন হোল্ডিং কোম্পানি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি গার্মেন্টপল্লী নির্মাণ করবে। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং ওরিয়ন হোল্ডিং কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা ট্যাং ঝিয়াওজি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন।

No comments:

Post a Comment