বর্ষা আসন্ন, দক্ষিণের জলপথে সেই ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল
মাস্টার সুকানি নেই ফিটনেসও নেই, রোটেশনে জিম্মি যাত্রী

লিটন বাশার, বরিশাল অফিস
বর্ষাকাল আসছে, তবু নিরাপদ নৌ-রুট গড়ে তুলতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও মানুষ নিরুপায় হয়ে লঞ্চে যাতায়াত করছেন। অদক্ষ মাষ্টার, সুকানী ও ড্রাইভার দিয়ে পরিচালিত এসব নৌযান প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত হলেও কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই।
বিআইডব্লি¬উটিএ'র হিসাবমতে, দক্ষিণাঞ্চলে ৮৭টি নৌ-রুট রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকার সাথে সরাসরি নৌযান চলাচল করে ৩৮টি রুটে। বাকি রুটগুলোতে চলে 'এমএল টাইপের' একতলা ছোট লঞ্চ। সরকারি হিসাবমতে প্রতিদিন নৌপথে এ অঞ্চল থেকে যাতায়াত করে লক্ষাধিক যাত্রী। দেশের নৌযানের এখন পর্যন্ত সঠিক কোন হিসাব নির্ধারণ না হলেও রুট পারমিট অনুযায়ী এসব রুটে ১১৭টি লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে বলে বিআইডব্লি¬¬উটিএ সূত্র জানায়। রুট পারমিট ও ফিটনেস নেয়ার ব্যাপারে অস্বচ্ছতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য লঞ্চ মালিকরা যাত্রীর ধারণক্ষমতা কম দেখিয়ে থাকেন। লঞ্চ মালিকরা অভিযোগ করেন, দক্ষ নেভাল আর্কিটেক্ট দিয়ে ডিজাইন করা স্বয়ংসম্পূর্ণ লঞ্চ তৈরি করলেও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে উেকাচ না দিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায় না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে থাকেন।
নৌ-পরিবহন সেক্টরের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্যের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখ লাখ যাত্রীকে। বিআইডব্লি¬উটিএ'র নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে লাইফবয় ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ সব জিনিসপত্র থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ লঞ্চেই এসব সরঞ্জামাদি নেই। দেশের সর্ববৃহত্ জলযান হিসাবে পরিচিত ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী 'সুন্দরবন-৭' লঞ্চে বয়া আছে ১৫৩টি। যাত্রী ধারণক্ষমতা সরকারি হিসাবে ৯৯০ জন। 'সুরভী-৭' লঞ্চে বয়া আছে ১০৭টি। যাত্রী ধারণক্ষমতা ১২৫০ জন। 'সুরভী-৬' লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৯০ জন। বয়া আছে ১২৫টি। 'কীর্তনখোলা-১' লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৭১৫ জন। বয়া আছে ১শ'। কিন্তু কখনোই এ লঞ্চগুলো সহস্রাধিক যাত্রীর নিচে গন্তব্যে রওয়ানা হয় না। বিশেষ করে সরকারি ছুটি, হরতাল, অথবা সাপ্তাহিক ছুটির আগে ও পরে ঢাকা-বরিশাল উভয়প্রান্ত থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চের টিকেট যেন সোনার হরিণ। প্রভাবশালীদের তদ্বির ছাড়া কখনোই এসব দিনে কোনো লঞ্চে টিকেট মিলে না। ২/১টি কোম্পানির লঞ্চের টিকেট কালোবাজারে পাওয়া গেলেও তার দাম তিনগুণ।
দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীসেবার মান বাড়েনি। দুর্ঘটনাকবলিত হলে এসব লঞ্চের যাত্রীদের বাঁচার উপায় নেই। নিরাপত্তা সরঞ্জামাদির মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ৪ জন যাত্রীর জন্য একটি করে লাইফবয়া থাকার কথা। কাগজ-কলমের হিসাবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর যখন এ অবস্থা তখন লক্কর-মার্কা লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উঠতে হয় আল্ল¬াহ্'র উপর ভরসা করে। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোর মত 'এমএল টাইপে'র একতলা লঞ্চগুলো চলাচল করছে এ অঞ্চলে বড় বড় নদীতে। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী শতাধিক লঞ্চের মধ্যে ৩৬টিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার-ড্রাইভার নেই। লঞ্চ চালায় খালাসি ও হেলপাররা। ফিটেনস নেয়ার সময় অভিজ্ঞ চালক ও মাষ্টারদের সনদ দেখিয়ে রুট পারমিট নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খালাসি ও হেলপাররা লঞ্চ পরিচালনা করায় ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। লঞ্চের নির্মাণ-ত্রুটি ও অদক্ষ মাষ্টার-ড্রাইভার দ্বারা লঞ্চ চালাতে গিয়ে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নির্বিকার। শুকনো মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ১৪'শ কিলোমিটার নৌপথ থাকে নৌযান চলাচলের অনুপযোগী। ডুবোচর ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে শুকনো মৌসুমে লঞ্চ চলতে পারে না। আবার বয়া বিকনবাতি না থাকায় লঞ্চ আটকা পড়ে ডুবোচরগুলোতে। তার উপরে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ঝড়ের সময় অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে।
ঢাকার সাথে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলছে রোটেশন পদ্ধতিতে। বিআইডব্লি¬উটিএ'র রুট পারমিট অনুযায়ী ঢাকা ও বরিশাল উভয়প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৬/৭টি লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয় ৩/৪টি। ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চগুলোতে যাত্রী পরিবহন করা হয় ধারণক্ষমতার তিনগুণ। চাহিদার এক- তৃতীয়াংশ লঞ্চ পরিচালনা করায় টিকেট মিলে না। গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও লঞ্চের টিকেট না পেয়ে ডেকে শুইয়ে ঢাকায় নিতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এ অব্যবস্থা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনার বিরুদ্ধে এখানে বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। কিন্তু লঞ্চ মালিকরা কিছুই তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর যাত্রীদের জিম্মি করে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনা করে আসছেন।
বিআইডব্লি¬উটিএ'র হিসাবমতে, দক্ষিণাঞ্চলে ৮৭টি নৌ-রুট রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকার সাথে সরাসরি নৌযান চলাচল করে ৩৮টি রুটে। বাকি রুটগুলোতে চলে 'এমএল টাইপের' একতলা ছোট লঞ্চ। সরকারি হিসাবমতে প্রতিদিন নৌপথে এ অঞ্চল থেকে যাতায়াত করে লক্ষাধিক যাত্রী। দেশের নৌযানের এখন পর্যন্ত সঠিক কোন হিসাব নির্ধারণ না হলেও রুট পারমিট অনুযায়ী এসব রুটে ১১৭টি লঞ্চের ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে বলে বিআইডব্লি¬¬উটিএ সূত্র জানায়। রুট পারমিট ও ফিটনেস নেয়ার ব্যাপারে অস্বচ্ছতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার জন্য লঞ্চ মালিকরা যাত্রীর ধারণক্ষমতা কম দেখিয়ে থাকেন। লঞ্চ মালিকরা অভিযোগ করেন, দক্ষ নেভাল আর্কিটেক্ট দিয়ে ডিজাইন করা স্বয়ংসম্পূর্ণ লঞ্চ তৈরি করলেও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে উেকাচ না দিয়ে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায় না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে থাকেন।
নৌ-পরিবহন সেক্টরের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্যের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লাখ লাখ যাত্রীকে। বিআইডব্লি¬উটিএ'র নিয়ম অনুযায়ী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে লাইফবয় ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ সব জিনিসপত্র থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ লঞ্চেই এসব সরঞ্জামাদি নেই। দেশের সর্ববৃহত্ জলযান হিসাবে পরিচিত ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী 'সুন্দরবন-৭' লঞ্চে বয়া আছে ১৫৩টি। যাত্রী ধারণক্ষমতা সরকারি হিসাবে ৯৯০ জন। 'সুরভী-৭' লঞ্চে বয়া আছে ১০৭টি। যাত্রী ধারণক্ষমতা ১২৫০ জন। 'সুরভী-৬' লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৯০ জন। বয়া আছে ১২৫টি। 'কীর্তনখোলা-১' লঞ্চের ধারণক্ষমতা ৭১৫ জন। বয়া আছে ১শ'। কিন্তু কখনোই এ লঞ্চগুলো সহস্রাধিক যাত্রীর নিচে গন্তব্যে রওয়ানা হয় না। বিশেষ করে সরকারি ছুটি, হরতাল, অথবা সাপ্তাহিক ছুটির আগে ও পরে ঢাকা-বরিশাল উভয়প্রান্ত থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চের টিকেট যেন সোনার হরিণ। প্রভাবশালীদের তদ্বির ছাড়া কখনোই এসব দিনে কোনো লঞ্চে টিকেট মিলে না। ২/১টি কোম্পানির লঞ্চের টিকেট কালোবাজারে পাওয়া গেলেও তার দাম তিনগুণ।
দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীসেবার মান বাড়েনি। দুর্ঘটনাকবলিত হলে এসব লঞ্চের যাত্রীদের বাঁচার উপায় নেই। নিরাপত্তা সরঞ্জামাদির মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ৪ জন যাত্রীর জন্য একটি করে লাইফবয়া থাকার কথা। কাগজ-কলমের হিসাবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর যখন এ অবস্থা তখন লক্কর-মার্কা লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উঠতে হয় আল্ল¬াহ্'র উপর ভরসা করে। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোর মত 'এমএল টাইপে'র একতলা লঞ্চগুলো চলাচল করছে এ অঞ্চলে বড় বড় নদীতে। অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী শতাধিক লঞ্চের মধ্যে ৩৬টিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার-ড্রাইভার নেই। লঞ্চ চালায় খালাসি ও হেলপাররা। ফিটেনস নেয়ার সময় অভিজ্ঞ চালক ও মাষ্টারদের সনদ দেখিয়ে রুট পারমিট নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খালাসি ও হেলপাররা লঞ্চ পরিচালনা করায় ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। লঞ্চের নির্মাণ-ত্রুটি ও অদক্ষ মাষ্টার-ড্রাইভার দ্বারা লঞ্চ চালাতে গিয়ে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নির্বিকার। শুকনো মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ১৪'শ কিলোমিটার নৌপথ থাকে নৌযান চলাচলের অনুপযোগী। ডুবোচর ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে শুকনো মৌসুমে লঞ্চ চলতে পারে না। আবার বয়া বিকনবাতি না থাকায় লঞ্চ আটকা পড়ে ডুবোচরগুলোতে। তার উপরে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ঝড়ের সময় অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে।
ঢাকার সাথে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলছে রোটেশন পদ্ধতিতে। বিআইডব্লি¬উটিএ'র রুট পারমিট অনুযায়ী ঢাকা ও বরিশাল উভয়প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ৬/৭টি লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয় ৩/৪টি। ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চগুলোতে যাত্রী পরিবহন করা হয় ধারণক্ষমতার তিনগুণ। চাহিদার এক- তৃতীয়াংশ লঞ্চ পরিচালনা করায় টিকেট মিলে না। গুরুতর অসুস্থ রোগীকেও লঞ্চের টিকেট না পেয়ে ডেকে শুইয়ে ঢাকায় নিতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এ অব্যবস্থা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনার বিরুদ্ধে এখানে বহু আন্দোলন সংগ্রাম ও মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। কিন্তু লঞ্চ মালিকরা কিছুই তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর যাত্রীদের জিম্মি করে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনা করে আসছেন।
No comments:
Post a Comment