Monday, June 9, 2014

ব্যাঙ্কক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দুবাইয়ের কোথাও টাকা সরিয়েছেন সুদীপ্ত, ইডিকে দেওয়া চিঠিতে দাবি কুণালের

ব্যাঙ্কক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দুবাইয়ের কোথাও টাকা সরিয়েছেন সুদীপ্ত, ইডিকে দেওয়া চিঠিতে দাবি কুণালের

কলকাতা: ব্যাঙ্কক, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দুবাই৷ এই তিন দেশের কোথাও সারদার টাকা সরিয়েছেন সুদীপ্ত সেন৷ অজ্ঞাতবাসে যাওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই সুদীপ্ত টাকা বিদেশে সরিয়ে রাখার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন৷ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে লেখা ৯১ পৃষ্ঠার চিঠিতে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন সারদাকাণ্ডে জেলবন্দি কুণাল ঘোষ৷
সারদার কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল ইডি-র গোয়েন্দাদের৷ সুদীপ্ত সেনের বিদেশি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের হদিশ পেতে এখনও চেষ্টা চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা৷ তার মধ্যেই কুণালের ইডি-কে লেখা চিঠি সেই জল্পনাই উস্কে দিল৷ সূত্রের খবর, চিঠিতে কুণাল লিখেছেন, দুবাই ও ব্যাঙ্কক সম্পর্কে ভীষণ আগ্রহ ছিল সুদীপ্ত সেনের৷ বারবার ওই দুই দেশে বিনিয়োগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতেন৷ ওই দুই দেশে ব্যবসা রয়েছে, রাজ্যের এমন এক সাংসদ ও সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে এ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনাও করেছিলেন সুদীপ্ত৷
গত বছরের এপ্রিলে আচমকা অজ্ঞাতবাসে যাওয়ার আগে জানুয়ারি মাসে সুদীপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন৷ ওই দেশে তাঁর সোনা, হীরের ব্যাবসায় লগ্নি রয়েছে বলে মাঝে মধ্যেই তিনি বলতেন বলে দাবি কুনালের৷
ইডি সূত্রেও জানা গিয়েছে, মধ্য প্রাচ্যের কয়েকটি শহরে এভাবে টাকা রাখা যায় বলে গোয়েন্দারাও জেনেছেন৷ সেই সম্পর্কে খোঁজখবরও নিচ্ছে ইডি৷ সারদার টাকা কোথায় কোথায় এবং কাদের মাধ্যমে গিয়ে থাকতে পারে, তা নিয়ে কুনাল চিঠিতে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য জানিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, সুদীপ্ত উত্তর পূর্বের অসমে খনি ব্যবসায় মোটা টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে বেশ কয়েকবার জানিয়েছিলেন৷ সেখানেও এক সাংসদের যোগসূত্র রয়েছে বলেই চিঠিতে দাবি করেছেন কুণাল৷ সুদীপ্তর টাকা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দিল্লি ও উত্তর প্রদেশে বিভিন্নভাবে ‘পার্ক’ করেছেন বলেও চিঠিতে দাবি করেছেন কুণাল৷
এছাড়াও আরও কারা কারা সারদার টাকার হদিশ দিতে পারেন, এমন এক ডজন ব্যক্তির নামের তালিকাও চিঠিতে দিয়েছেন কুণাল৷ তাঁর ইঙ্গিত, ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে তথ্য৷ ওই তালিকায় রাজৈনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে রাজ্যের বিশিষ্টজন, ব্যবসায়ী সকলেরই নাম রয়েছে৷
সারদার হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির পিছনে যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তার পর্দা ফাঁস করতে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে সারদার তদন্তভার দিয়েছে৷ কুণালও তাঁর দীর্ঘ চিঠির ছত্রে ছত্রে সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, সারদার টাকা আত্মসাত্ করে পরিকল্পনামাফিক চিত্রনাট্য সাজিয়েই সুদীপ্ত উধাও হয়েছিলেন৷ এর সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও ছিল৷ ব্যবসা যে বাঁচবে না এবং লগ্নিকারীদের টাকা যে তিনি ফেরত দিতে পারবেন না, তা জেনেবুঝেই সুদীপ্ত বেহিসেবিভাবে টাকা বিলিয়েছেন এবং অবৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছিলেন৷ সবকিছুই ছিল ঠাণ্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিত৷

সিবিআই ও ইডি-র সমান্তরাল তদন্তের লক্ষ্যই সারদার টাকা কোথায় গেল, তার হদিশ বের করা এবং ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ঠিক কি না, তার রহস্য উন্মোচন৷ এই দুই লক্ষ্যে কুণালের চিঠিতে দেওয়া তথ্য কাজে লাগানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে ইডি৷

No comments:

Post a Comment