Wednesday, June 4, 2014

মর্যাদা হারিয়েও হেলদোল নেই সিপিআই-এ

মর্যাদা হারিয়েও হেলদোল নেই সিপিআই-এ

CPI Elecn. Symbol
গৌতম হোড়

নয়াদিল্লি: সেই ১৯৫২ সালের পর থেকে এই প্রথম জাতীয় দলের মর্যাদা হারাতে চলেছে কংগ্রেসের পরেই দেশের প্রাচীনতম দল৷ কিন্ত্ত সিপিআই-এর অন্দরে অথচ তা নিয়ে তেমন কোনও হেলদোল নেই৷ বামফ্রন্টের শরিক সিপিআই(এম)-এ নিচুতলার কর্মীরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভ জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব বদলের দাবি উঠেছে৷ প্রাচীনতম দল কংগ্রেসে উঠছে গান্ধী পরিবারের বিরোধী স্বর৷ কিন্ত্ত লোকসভায় মাত্র একজন সাংসদ নিয়েও সিপিআই আগের মতোই শান্ত, নিস্তরঙ্গ৷ উল্টে ফেসবুকে ইস্তফার ব্যর্থ নাটক করে জনগণের ইয়ার্কি ও কটাক্ষের লক্ষ্য হচ্ছেন শীর্ষ নেতৃত্ব৷

গত ৩১ মে সিপিআই-এর জাতীয় পরিষদের সদস্য ও এআইটিইউসি সম্পাদক রামকৃষ্ণ পান্ডা সিপিআই-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘোষণা করেন, তিনি জাতীয় পরিষদ ও রাজ্যের সেক্রেটারিয়েট থেকে ইস্তফা দিয়েছেন৷ এরপর শুধু শ্রমিক শ্রেণির জন্য কাজ করবেন৷ একদিন পরেই তিনি ফেসবুকেই জানান, দেশের সব জায়গা থেকে লোকে তাঁকে ইস্তফা প্রত্যাহার করতে বলেছেন৷ তাই প্রবীণ নেতা এবি বর্ধন, সুধাকর রাও, এ রাজা ও হাজার হাজার কমরেডের মনোভাবকে সম্মান জানিয়ে তিনি ইস্তফা প্রত্যাহার করছেন৷ গত ২৫ মে বৈঠকে হারের পর্যালোচনার পর নেতৃত্বের সামান্য সমালোচনা হয়েছিল বটে৷ কিন্ত্ত আর বিশেষ কিছুই হয়নি৷ দলের এক নেতার কটাক্ষ, 'আমাদের স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে৷ সেই বয়স্ক নেতৃত্ব, সেই চিরাচরিত পদ্ধতি, সেই একই চিন্তাভাবনা নিয়ে আমরা চলতে থাকব৷' অথচ, এই নির্বাচনে সিপিআই-এর ধাক্কাটা কিন্ত্ত কম লাগেনি৷ এর জেরে তাঁরা জাতীয় দলের মর্যাদা পর্যন্ত হারাবেন৷ জাতীয় দল হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম হল, লোকসভা নির্বাচনে চারটি বা তার বেশি রাজ্যে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে এবং লোকসভায় এক বা একাধিক রাজ্য থেকে ৪ জন সাংসদকে জিততে হবে৷ অথবা অন্তত তিনটি রাজ্য থেকে অন্তত ১১ জন সাংসদকে জিতে আসতে হবে৷ এর একটা শর্তও সিপিআই পূরণ করতে পারেনি৷ ফলে এখন যে কোনও দিন নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দুঃসংবাদটা অজয় ভবনে এসে পৌঁছবে৷ আরও বিপদ, সিপিআই-এর প্রতীক কাস্তে ধানের শিষ পর্যন্তও হারাতে হতে পারে৷ এখনই অবশ্য প্রতীক যাবে না৷ এখন কিছুদিন সময় দেওয়া হবে যদি আবার তাঁরা যোগ্যতামান পেরোতে পারেন৷ না হলে তাঁদের প্রতীকও যাবে৷ আর সেই ১৯৫২ সাল থেকেই সিপিআই-এর কাছে এই প্রতীক আছে৷ কংগ্রেস-সহ অন্য দল প্রতীক বদল করলেও সিপিআই কখনও করেনি৷

রামকৃষ্ণ পান্ডার ইস্তফা ও তা প্রত্যাহার করার পর সিপিআই-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যে সব মন্তব্য এসেছে,তা থেকেই স্পষ্ট এই কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি মানুষের মনোভাবটা কেমন৷ প্রকাশ চন্দ্র ঝা বলেছেন, 'বর্তমান নেতৃত্বর অধীনে সিপিআই ফ্লপ করতে বাধ্য৷ আগাগোড়া বদল জরুরি৷' কমল চেনয়ের সাফ কথা, 'দলের বর্ষীয়ান নেতারা ব্যর্থ৷ তাঁরা আত্মসমীক্ষা পর্যন্ত করবেন না৷ সে জন্যই আমি আম আদমি পার্টিতে ভাল আছি৷'

কিন্ত্ত ঘটনা হল, সিপিআই-এর নেতৃত্বেই বা কে আসবেন? এ বি বর্ধন সরে গিয়ে এখন দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সুধাকর রেড্ডি৷ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কিছুটা নবীন বলতে আছেন ডি রাজা৷ এই অবস্থায় দলের এক নেতার মন্তব্য, 'এটা ঠিক, আমাদের নেতার অভাব৷ কিন্ত্ত এ ভাবে তো বসে থাকলে হবে না৷ এই ধাক্কার পরে দলেও তো পরিবর্তন দরকার৷ না হলে তো দলটাই যাবে৷'

মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরে গিয়েছে, মেহনতি মানুষের ভোট দল পাচ্ছে না৷ দেশের সবচেয়ে পুরোনো কমিউনিস্ট পার্টি কি অদূর ভবিষ্যতে ইতিহাসই হয়ে যাবে? প্রশ্নটা কিন্ত্ত উঠেই গেল৷

No comments:

Post a Comment