Sunday, June 8, 2014

অসমিয়ারা যখন 'বঙাল' বলেন তখন ঐতিহাসিক ভাবে সঠিক শব্দই ব্যবহার করেন। 'বঙ্গ' থেকে বহু প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃত, তিব্বতী বহু গ্রন্থে 'বঙাল' শব্দটিই ছিল।

Sushanta Kar6:47pm Jun 8
অসমিয়ারা যখন 'বঙাল' বলেন তখন ঐতিহাসিক ভাবে সঠিক শব্দই ব্যবহার করেন। 'বঙ্গ' থেকে বহু প্রাচীন বৌদ্ধ সংস্কৃত, তিব্বতী বহু গ্রন্থে 'বঙাল' শব্দটিই ছিল। অসমের বরাক উপত্যকার মুসলমানদের হিন্দুরা যখন কিম্বা সাধারণভাবে পূব বাংলার বাঙালিদের দক্ষিণ-পশ্চিম (উত্তর নয় )বঙ্গীয়রা 'বাঙাল' বলেন তখন লজ্জা পাবার বিশেষ কিছু নেই, যদিও তাঁরা বিদ্রূপার্থেই শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এই তথ্য সম্ভবত নিজেরাও মনে রাখেন না যে 'বাঙাল'রাই আসলে ঐতিহাসিক ভাবে যথার্থ এবং বিশুদ্ধ বাঙালি। নিখাদ বাঙালি। বাঙাল মানে তাঁরাই যারা দশম-দ্বাদশ শতক থেকে ক্ষমতাসীন আর্য-ব্রাহ্মণ্য সংস্কারের কাছে মাথা নোয়ান নি সেভাবে, অপবাদটা জোটে সেজন্যেই। সেই আর্য ব্রাহ্মণ্য সংস্কার--যে সংস্কার ভাবত বাঙালিরা পাখির মতো কিচির মিচির করা দুর্বোধ্য অসুর ভাষাতে কথা বলতেন, বাঙালিরা দস্যু-ডাকাত, পাপী জাত। এদের দেশে পা ফেললেই জাত যায়, ফিরে গেলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। আর নইলে পতিত হতে হয়। বাঙালিরা যজ্ঞবহির্ভূত ব্রতাচারী, তাই ব্রাত্য। চর্যার কবি ভুসুকু যখন ডোমনীকে বিয়ে করে বললেন, 'আজি ভুসুকু তুই বঙালি ভইলি' --তখন আসলে জানিয়ে দিলেন নিকুচি করেছে তোমার প্রায়শ্চিত্ত। আজই আমি আসলে মুক্ত হলাম... বঙালি মানে 'বাঙাল' হলাম। ভুসুকুর কাল অব্দি বঙাল দেশ মানে কিন্তু সেই আজকের 'বাংলাদেশ'ই। ঐতিহাসিক ভাবে কথাটা সত্য। কিন্তু সম্রাট আকবর এসেই শুধু প্রথম 'বঙাল'দেশের মর্যাদার বিস্তার ঘটালেন। গোটা একটা সুবাহ-র নাম রেখে দিলেন বাঙলাহ! সেই থেকে যখন 'বাঙালি' --তো কী আর এমন আছে যে আমাদের শরীর এবং ভাষা থেকে 'বঙাল' কিম্বা 'বাঙাল' গন্ধ ঘোচাতে হবে... জয় বাঙাল! :)

No comments:

Post a Comment