Thursday, June 12, 2014

ভারতে মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ

ভারতে মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ
ছুটির কথা ভুলে যান। দু’মাসের মধ্যে জমা দিন নিজেদের সমস্ত সম্পত্তির খতিয়ান। মন্ত্রীদের প্রতি নয়া নির্দেশ নরেন্দ্র মোদির। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মোদি স্পষ্ট করেন, স্বচ্ছ ও দক্ষ সরকারের যে কথা তিনি ভোটের আগে দিয়েছিলেন, তা এবার তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চান। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
পরিবারের কাউকে ব্যক্তিগত সচিব না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন দায়িত্ব নেয়ার দু’দিনের মাথায়। মোদির নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা সব মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তাতেই রয়েছে সম্পত্তির হিসেব জমা দেয়ার কথা। শুধু নিজেদের নয়, পরিবারের প্রত্যেকের নামে যা যা সম্পত্তি রয়েছে, এমনকি গয়না-শেয়ারও যা আছে, তার খতিয়ান মন্ত্রীদের জমা দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মতে, মোদি মনে করেন মানুষের কাজ করার জন্য পাঁচ বছর যথেষ্ট নয়। তাই মন্ত্রীদের কথায় কথায় আগের মতো ছুটিতে যাওয়া চলবে না। আগে গরম পড়লেই অনেক মন্ত্রী ছুটি নিয়ে বা সরকারী সফরের মোড়কে বিদেশে যেতেন, সেই সংস্কৃতিও বদলাতে চান মোদি। এক কথায়, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পরিষ্কার মানসিকতা পাল্টান। সামনে কাজ অনেক। জনগণের যে রায় নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য শুধু কাজেই মনোনিবেশ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রী হওয়ার আগে কারও যদি কোন ব্যবসায়িক স্বার্থ বা যোগাযোগ থেকে থাকে, তা হলে এবার সেটির সঙ্গে সম্পর্কোচ্ছেদ করতে হবে। পরিবারের কোন সদস্যকে সরকারী কাজের বরাদ্দ দেয়া যাবে না। কোন সরকারী পদে পরিবারের সদস্যদের নিয়োগও করা যাবে না। যা সম্পত্তি রয়েছে, তার ভিত্তিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কর দিতে হবে সকলকে। মোদি ইতোমধ্যেই আমলাদের ক্ষমতা দেয়ার ব্যাপারে দরাজ হয়েছেন, যাতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা পিছপা না হন। নতুন নতুন ভাবনাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু অনেক সময়ই মন্ত্রীরা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আমলাদের ওপর চাপ বাড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকারে যাতে তেমন কোন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটিও সুনিশ্চিত করতে চান মোদি। সোমবার রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার মাধ্যমেই মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইউপিএ আমলের মতো তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক। ভোট প্রচারে মোদি বার বার বলেছেন, তাঁর পরিবারের আগে-পিছে কেউ নেই। ফলে তাঁর দুর্নীতি করারও কোন প্রয়োজন নেই।
তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি গোটা দুনিয়ায় সাড়া ফেললেও নিজের পরিবারের কাউকে দিল্লীতে আনেননি মোদি। রেস কোর্স রোডে এই প্রথম কোন প্রধানমন্ত্রী প্রবেশ করেছেন, যাঁর সঙ্গে পরিবারের কেউ নেই। স্ত্রী যশোদাবেন দিল্লীতে আসার ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও মোদি সেই পথে হাঁটেননি। বিজেপির এক নেতার কথায়, অতীতে দুর্নীতির অনেক ঘটনায় মন্ত্রীদের পারিবারিক যোগ উঠে এসেছে। মোদি প্রথম থেকেই সেই ধরনের যাবতীয় সম্ভাবনার পথ বন্ধ করতে চান

No comments:

Post a Comment