দিল্লি, মুম্বইকে পিছনে ফেলে পরিষেবায় প্রথম কলকাতা
এই সময়: একদা রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, 'মুমূর্ষু নগরী'৷ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন উন্নয়ন নিয়ে তাঁর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন যিনি, সেই স্যাম পিত্রোদা কয়েক মাস আগেও এই শহরে দাঁড়িয়েই নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের মান নিয়ে নাক সিঁটকেছিলেন৷
সদ্য প্রকাশিত একটি সমীক্ষা কিন্ত্ত উল্টো কথা বলছে৷ বরং, নাগরিক পরিষেবা, নগর পরিকল্পনা থেকে পুর পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু-সহ দেশের ২১টি শহরের মধ্যে প্রথম হয়েছে কলকাতাই৷ বেঙ্গালুরুর যে সংস্থার সমীক্ষায় 'সিটি অফ জয়' বাকিদের ছাপিয়ে গিয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত যোজনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য অরুণ মইরা, গোদরেজ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আদি গোদরেজ, নগর পরামর্শদাতা ইরিনা ভিট্টল ও কেন্দ্রের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব এম রামচন্দ্রনের মতো মানুষেরা৷ ইনফোসিস, টাটা টি-র মতো প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে৷
'জনাগ্রহ' নামে বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠানটি নগরোন্নয়ন ও পরিকল্পনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত৷ দু'বছর ধরে শহরগুলির পুর পরিষেবার মান ও ভবিষ্যত্ উন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে তারা৷ সেই জন্য পরিষেবার মানের পাশাপাশি পুর আইন ও পুরসভা পরিচালনার নিয়মকানুনে দ্রুত কাজের সুযোগ এবং স্বচ্ছতা কতটা আছে, তা-ও তাদের সমীক্ষার বিবেচ্য ছিল৷ এ জন্য ৮৩টি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছিল তারা৷ এই মাপকাঠিতে দশের মধ্যে চার পেয়ে দেশে এক নম্বর স্থান দখল করেছে কলকাতা৷ সামগ্রিক বিচারে দিল্লি ও মুম্বই কলকাতার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে৷ তবে সমীক্ষার ফলাফল কলকাতার মুকুটে নয়া পালক জুড়লেও, গোটা দেশের জন্য তা খুবই দুর্ভাবনার৷ জনাগ্রহ-র সমীক্ষায় আদর্শ পুর পরিষেবা হিসাবে নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনকে মাপকাঠি করা হয়েছিল৷ সমীক্ষার ফল বলছে, ওই দুই শহরের তুলনায় ভারতীয় শহরগুলির পরিষেবা অত্যন্ত নিম্নমানের৷
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতাকে 'মিছিল নগরী' বলে শহরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করেছিলেন৷ এখনও এই শহর সম্পর্কে শোনা যায়, কলকাতায় কথায় কথায় রাজনীতি! সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য বলছে, রাজনীতিই এই শহরের পরিচালন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল তৈরি করেছে৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরসভার হাতে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কলকাতাতেই সবচেয়ে ভালো৷ এই বিষয়ে কলকাতা দশে ৬.৮ পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে৷ সমীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পুর-পরিচালনায় স্বচ্ছতা৷ এই বিষয়ে কলকাতার কৃতিত্ব মোটেই উল্লেখযোগ্য নয়, তবে দিল্লি, মুম্বইয়ের থেকে এগিয়ে৷ এই ক্ষেত্রে নজরকাড়া কৃতিত্ব আমেদাবাদের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে বিশেষ অবদান রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আমেদাবাদ পুরসভায় একগুচ্ছ সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছিলেন তিনি৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, হিসাব রাখা ও কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নিয়মকানুন চালু করা৷ রাজ্যের পুর দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, পুরসভা পরিচালনায় কলকাতার গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল বলতে কলকাতা-সহ রাজ্যের পুরনিগমগুলিতে মেয়র-ইন-কাউন্সিল ব্যবস্থা এবং পুরসভায় চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল ব্যবস্থার কথাই বলা হয়েছে, যা গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে৷ পাশাপাশি, নগর পরিকল্পনায় যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে, সে জন্য কলকাতায় মেট্রোপলিটন কমিটি নামে পৃথক একটি সংস্থা রয়েছে, যারা নগর পরিকল্পনায় পুরসভা ও কেএমডিএ, কেআইটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে৷
সমীক্ষার দু'টি উল্লেখযোগ্য দিক হল, নগর পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি এবং সম্পদ সৃষ্টি৷ এই দু'টি ব্যাপারে কোনও শহরই দেশের মুখরক্ষা করতে পারেনি৷ ২২টি শহরের একটিও লক্ষ্যমাত্রায় পাঁচের গণ্ডি পেরোয়নি৷ এই ক্ষেত্রেও সমীক্ষার ফলাফল কলকাতার পক্ষে কিঞ্চিত্ স্বস্তির৷ সাধারণ চোখে দিল্লি, মুম্বইকে অনেক আধুনিক এবং ঝকঝকে মনে হলেও এ ব্যাপারে কলকাতা কিন্ত্ত খুব একটা পিছিয়ে নেই৷ যেমন, পুর পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ ও পুর সম্পদে দিল্লি ও মুম্বই যথাক্রমে ৪.৩ ও ৪ নম্বর পেয়েছে৷ সেখানে কলকাতার প্রাপ্ত নম্বর ৩.৬৷
কলকাতার পালক-প্রাপ্তির এই কৃতিত্ব কার? এ নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পুরোনো ও বর্তমান শাসকদলে৷ সিপিএমের দাবি, পুর নিয়মকানুনে বদল এনেছিলেন তাঁরাই৷ তৃণমূলের দাবি, এ সাফল্য তাঁদের পুর-পরিচালনার ফসল৷
রাজনীতি নয়, শেষ হাসি অবশ্য কলকাতারই৷
সদ্য প্রকাশিত একটি সমীক্ষা কিন্ত্ত উল্টো কথা বলছে৷ বরং, নাগরিক পরিষেবা, নগর পরিকল্পনা থেকে পুর পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু-সহ দেশের ২১টি শহরের মধ্যে প্রথম হয়েছে কলকাতাই৷ বেঙ্গালুরুর যে সংস্থার সমীক্ষায় 'সিটি অফ জয়' বাকিদের ছাপিয়ে গিয়েছে, তার সঙ্গে জড়িত যোজনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য অরুণ মইরা, গোদরেজ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আদি গোদরেজ, নগর পরামর্শদাতা ইরিনা ভিট্টল ও কেন্দ্রের নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব এম রামচন্দ্রনের মতো মানুষেরা৷ ইনফোসিস, টাটা টি-র মতো প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে৷
'জনাগ্রহ' নামে বেঙ্গালুরুর প্রতিষ্ঠানটি নগরোন্নয়ন ও পরিকল্পনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত৷ দু'বছর ধরে শহরগুলির পুর পরিষেবার মান ও ভবিষ্যত্ উন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে সমীক্ষা চালাচ্ছে তারা৷ সেই জন্য পরিষেবার মানের পাশাপাশি পুর আইন ও পুরসভা পরিচালনার নিয়মকানুনে দ্রুত কাজের সুযোগ এবং স্বচ্ছতা কতটা আছে, তা-ও তাদের সমীক্ষার বিবেচ্য ছিল৷ এ জন্য ৮৩টি প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছিল তারা৷ এই মাপকাঠিতে দশের মধ্যে চার পেয়ে দেশে এক নম্বর স্থান দখল করেছে কলকাতা৷ সামগ্রিক বিচারে দিল্লি ও মুম্বই কলকাতার থেকে অনেকটাই পিছিয়ে৷ তবে সমীক্ষার ফলাফল কলকাতার মুকুটে নয়া পালক জুড়লেও, গোটা দেশের জন্য তা খুবই দুর্ভাবনার৷ জনাগ্রহ-র সমীক্ষায় আদর্শ পুর পরিষেবা হিসাবে নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনকে মাপকাঠি করা হয়েছিল৷ সমীক্ষার ফল বলছে, ওই দুই শহরের তুলনায় ভারতীয় শহরগুলির পরিষেবা অত্যন্ত নিম্নমানের৷
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতাকে 'মিছিল নগরী' বলে শহরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কটাক্ষ করেছিলেন৷ এখনও এই শহর সম্পর্কে শোনা যায়, কলকাতায় কথায় কথায় রাজনীতি! সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য বলছে, রাজনীতিই এই শহরের পরিচালন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল তৈরি করেছে৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরসভার হাতে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কলকাতাতেই সবচেয়ে ভালো৷ এই বিষয়ে কলকাতা দশে ৬.৮ পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে৷ সমীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পুর-পরিচালনায় স্বচ্ছতা৷ এই বিষয়ে কলকাতার কৃতিত্ব মোটেই উল্লেখযোগ্য নয়, তবে দিল্লি, মুম্বইয়ের থেকে এগিয়ে৷ এই ক্ষেত্রে নজরকাড়া কৃতিত্ব আমেদাবাদের৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পিছনে বিশেষ অবদান রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন আমেদাবাদ পুরসভায় একগুচ্ছ সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছিলেন তিনি৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, হিসাব রাখা ও কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নিয়মকানুন চালু করা৷ রাজ্যের পুর দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, পুরসভা পরিচালনায় কলকাতার গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডল বলতে কলকাতা-সহ রাজ্যের পুরনিগমগুলিতে মেয়র-ইন-কাউন্সিল ব্যবস্থা এবং পুরসভায় চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল ব্যবস্থার কথাই বলা হয়েছে, যা গোটা দেশকে পথ দেখিয়েছে৷ পাশাপাশি, নগর পরিকল্পনায় যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকে, সে জন্য কলকাতায় মেট্রোপলিটন কমিটি নামে পৃথক একটি সংস্থা রয়েছে, যারা নগর পরিকল্পনায় পুরসভা ও কেএমডিএ, কেআইটিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে৷
সমীক্ষার দু'টি উল্লেখযোগ্য দিক হল, নগর পরিকল্পনা ও নকশা তৈরি এবং সম্পদ সৃষ্টি৷ এই দু'টি ব্যাপারে কোনও শহরই দেশের মুখরক্ষা করতে পারেনি৷ ২২টি শহরের একটিও লক্ষ্যমাত্রায় পাঁচের গণ্ডি পেরোয়নি৷ এই ক্ষেত্রেও সমীক্ষার ফলাফল কলকাতার পক্ষে কিঞ্চিত্ স্বস্তির৷ সাধারণ চোখে দিল্লি, মুম্বইকে অনেক আধুনিক এবং ঝকঝকে মনে হলেও এ ব্যাপারে কলকাতা কিন্ত্ত খুব একটা পিছিয়ে নেই৷ যেমন, পুর পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ ও পুর সম্পদে দিল্লি ও মুম্বই যথাক্রমে ৪.৩ ও ৪ নম্বর পেয়েছে৷ সেখানে কলকাতার প্রাপ্ত নম্বর ৩.৬৷
কলকাতার পালক-প্রাপ্তির এই কৃতিত্ব কার? এ নিয়ে দড়ি টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যের পুরোনো ও বর্তমান শাসকদলে৷ সিপিএমের দাবি, পুর নিয়মকানুনে বদল এনেছিলেন তাঁরাই৷ তৃণমূলের দাবি, এ সাফল্য তাঁদের পুর-পরিচালনার ফসল৷
রাজনীতি নয়, শেষ হাসি অবশ্য কলকাতারই৷
No comments:
Post a Comment