অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুন বন্ধ করার উপায়
হেলাল উদ্দিন
ইদানিংকালে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন খুললেই দেখা যায় অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। দু’একটি ঘটনায় অপহৃত ব্যক্তি উদ্ধার হওয়া, দু’একটি ঘটনায় ভিকটিমের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভিকটিমের কোন সন্ধান পাওয়া যায় না। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এ বছরের গত চার মাসে সারা দেশে ৫৩ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। আর এ ধরনের অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনায় দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বস্তিতে নেই দেশের কোন নাগরিক। ঘর থেকে বের হয়েই ভাবতে হচ্ছে আবার ফিরে আসতে পারব কি?
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ২৬৮ জন অপহৃত হন। এর মধ্যে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩ জনের। অপহরণের পর ছেড়ে দেয়া হয় ২৪ জনকে। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় ১৪ জনকে। কিন্তু ১৮৭ জনের কোন খোঁজই নেই। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অপহরণের মামলা হয়েছে ৩৩৯১টি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটে ১৯৬টি।
অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম ও হত্যার জঘন্যতম অপরাধ নিয়মিত সংঘটিত হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা হচ্ছে, তদন্ত চলছে। কিন্তু এ রোগ প্রতিরোধ করার কি কোন উপায় নাই? চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ ঈঁৎব! এ নীতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কি কোন সংস্থা আমাদের দেশে নেই? রবিবারে ৫ জনকে অপহরণ করা হলো। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, ভাংচুর, প্রশাসনের অফিস ঘেরাও, বদলি, সাসপেনশন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে গেল। বৃহস্পতিবারে ওই পাঁচজনসহ ৭ জনের মৃতদেহ নদীতে পাওয়া গেল। ঐ পরিবারের লোকদের সান্ত¡Íনা দেবার ভাষা কি কারও আছে?
পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো একদিন এ মর্মান্তিক ঘটনাও মানুষ এক সময় ভুলে যাবে। ক্ষত চিহ্ন, চির দিনের মতো রয়ে যাবে শুধু ঐ পরিবারের লোকদের অন্তরে। কেউকি নিশ্চয়তা দিতে পারেন, এরপর আর কোন অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা ঘটবে না? এ ধরনের জঘন্য অপরাধ বন্ধ করার স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা কি সম্ভব নয়?
বাংলাদেশ পুলিশ! বিশ্বব্যাপী যাদের সুনাম। বিদেশে গিয়ে যে পুলিশ কর্মকর্তারা সুনামের সাথে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে পুরস্কৃত হচ্ছেন, কোথায় সেই পুলিশ বাহিনী? এই অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ভাবে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না?
এ নির্মম জঘন্যতম অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য আমি কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি। আমার বিশ্বাস সততা, একাগ্রতা, আন্তরিকতা, দেশের মানুষের প্রতি মমত্ব বোধের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে এ কাজগুলো করাতে পারলে, নির্দিষ্ট দিন থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে মানবিক বিপর্যয়ের এ নৃশংস অপরাধ।
বন্ধ করার জন্য করণীয়
প্রত্যেকটি অপহরণের ঘটনায় কার, মাইক্রোবাস বা জীপগাড়ি ব্যবহার হয়েছে। এ ধরনের হাল্কা যানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সম্ভব হবে অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ থানা এলাকায় ‘রেন্ট এ কার’ নামক হাল্কা যানবাহন ভাড়া দেবার একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি রয়েছে। প্রত্যেক থানার পুলিশ কর্তৃক ঐ সকল রেন্ট এ কারগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
থানা এলাকায় কতগুলো হাল্কা যানবাহন ভাড়ায় চালিত হয়? গাড়ির নাম্বার, ড্রাইভারের নাম, ঠিকানা মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি থানাতে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন প্রত্যেকটি গাড়ি ভাড়াতে যাবার পূর্বে কোথায় কত সময়ের জন্য যাচ্ছে, যাত্রী কতজন, যাত্রীদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি ইত্যাদি বিবরণ থানাতে জমা দিতে হবে। ঐ নির্দিষ্ট গাড়িটি ভাড়া শেষ করে ফেরার পর আবার রিপোর্ট করতে হবে যে, সে যথাযথভাবে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে বা নির্দিষ্ট গন্তব্য হতে ফিরিয়ে এনে যথাস্থানে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, কোন প্রকার ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটেনি।
হাল্কা যানবাহনে চলাচলরত প্রত্যেক যাত্রীকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। দৈনিক পত্রপত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশনে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেক যাত্রী তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখেন।
প্রত্যেক থানা এলাকার প্রত্যেকটি রাস্তা পুলিশের ২৪/৭ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুলিশ বাহিনী সন্দেহজনক সকল গাড়ি বিশেষ করে হাল্কা যানবাহন চেক করবেন। পুলিশ টিমের সদস্যদের নিকট অন্তত একটা ডিজিটাল ক্যামেরা থাকলে ভাল হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা যেহেতু বাধ্যতামূলক কাজেই যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আছে কি না চেক করবেন। তাছাড়া সন্দেহমূলক অন্য যে কোন বিষয়ে তল্লাশি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন ক্রমেই যেন নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক টিমই সাদা পোশাকে অপারেশন করে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর উপর অভিযোগ হচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম ও খুনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। যে বাহিনী মানুষের নিরাপত্তা দেবার জন্য নিয়োজিত, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ মোটেই শুভকর নয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ অভিযোগ খ-ন করার জন্য কেহ কোন প্রকার বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করেননি। একটা নির্দিষ্ট সময় ৬ মাস বা ১ বছর কালের জন্য সাদা পোশাকে অপারেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
আইনানুযায়ী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেফতার করতে গেলে গ্রেফতারের কারণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা বা অন্য কোন রেকর্ডপত্রাদি থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তা দেখাতে বাধ্য। এ আইনকে যথাযথভাবে পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্বপালনে আরও আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়নীতি, দুর্নীতি মক্ত এবং প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেক এলাকায় মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত দেখা যায় সাধারণত সিপাহী, এএসআই এবং এসআইদের।
সিনিয়র কর্মকর্তাদের খুব বেশি মাঠে দেখা যায় না। কর্মরত সকল ফোর্সের মনোবল বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশাত্মবোধ এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অনূপ্রেরণা প্রদানের জন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের মাঠে যেতে হবে। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনরতদের ব্রিফিং দিতে হবে।
৬ মাসের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ ব্যবস্থা চালু করে দেখা যেতে পারে সুফল আসে কিনা? এমন যদি সম্ভব হয়, একটি হাল্কা যানবাহনও চেকিং ছাড়া রাস্তায় চলবে না এবং ঐ ধরনের গাড়ির যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ভ্রমণ করবেন না, তাহলে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি, অপরাধ বন্ধ হবেই।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে ২৬৮ জন অপহৃত হন। এর মধ্যে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩ জনের। অপহরণের পর ছেড়ে দেয়া হয় ২৪ জনকে। পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় ১৪ জনকে। কিন্তু ১৮৭ জনের কোন খোঁজই নেই। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অপহরণের মামলা হয়েছে ৩৩৯১টি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটে ১৯৬টি।
অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম ও হত্যার জঘন্যতম অপরাধ নিয়মিত সংঘটিত হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা হচ্ছে, তদন্ত চলছে। কিন্তু এ রোগ প্রতিরোধ করার কি কোন উপায় নাই? চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ ঈঁৎব! এ নীতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার কি কোন সংস্থা আমাদের দেশে নেই? রবিবারে ৫ জনকে অপহরণ করা হলো। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ, ভাংচুর, প্রশাসনের অফিস ঘেরাও, বদলি, সাসপেনশন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে গেল। বৃহস্পতিবারে ওই পাঁচজনসহ ৭ জনের মৃতদেহ নদীতে পাওয়া গেল। ঐ পরিবারের লোকদের সান্ত¡Íনা দেবার ভাষা কি কারও আছে?
পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো একদিন এ মর্মান্তিক ঘটনাও মানুষ এক সময় ভুলে যাবে। ক্ষত চিহ্ন, চির দিনের মতো রয়ে যাবে শুধু ঐ পরিবারের লোকদের অন্তরে। কেউকি নিশ্চয়তা দিতে পারেন, এরপর আর কোন অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা ঘটবে না? এ ধরনের জঘন্য অপরাধ বন্ধ করার স্থায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা কি সম্ভব নয়?
বাংলাদেশ পুলিশ! বিশ্বব্যাপী যাদের সুনাম। বিদেশে গিয়ে যে পুলিশ কর্মকর্তারা সুনামের সাথে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে পুরস্কৃত হচ্ছেন, কোথায় সেই পুলিশ বাহিনী? এই অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ভাবে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না?
এ নির্মম জঘন্যতম অপরাধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য আমি কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি। আমার বিশ্বাস সততা, একাগ্রতা, আন্তরিকতা, দেশের মানুষের প্রতি মমত্ব বোধের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে এ কাজগুলো করাতে পারলে, নির্দিষ্ট দিন থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে মানবিক বিপর্যয়ের এ নৃশংস অপরাধ।
বন্ধ করার জন্য করণীয়
প্রত্যেকটি অপহরণের ঘটনায় কার, মাইক্রোবাস বা জীপগাড়ি ব্যবহার হয়েছে। এ ধরনের হাল্কা যানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সম্ভব হবে অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম এবং খুনের ঘটনা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ থানা এলাকায় ‘রেন্ট এ কার’ নামক হাল্কা যানবাহন ভাড়া দেবার একটি নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি রয়েছে। প্রত্যেক থানার পুলিশ কর্তৃক ঐ সকল রেন্ট এ কারগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
থানা এলাকায় কতগুলো হাল্কা যানবাহন ভাড়ায় চালিত হয়? গাড়ির নাম্বার, ড্রাইভারের নাম, ঠিকানা মোবাইল নাম্বার ইত্যাদি থানাতে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিদিন প্রত্যেকটি গাড়ি ভাড়াতে যাবার পূর্বে কোথায় কত সময়ের জন্য যাচ্ছে, যাত্রী কতজন, যাত্রীদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি ইত্যাদি বিবরণ থানাতে জমা দিতে হবে। ঐ নির্দিষ্ট গাড়িটি ভাড়া শেষ করে ফেরার পর আবার রিপোর্ট করতে হবে যে, সে যথাযথভাবে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে বা নির্দিষ্ট গন্তব্য হতে ফিরিয়ে এনে যথাস্থানে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, কোন প্রকার ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটেনি।
হাল্কা যানবাহনে চলাচলরত প্রত্যেক যাত্রীকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। দৈনিক পত্রপত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশনে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেক যাত্রী তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখেন।
প্রত্যেক থানা এলাকার প্রত্যেকটি রাস্তা পুলিশের ২৪/৭ ঘণ্টা পাহারার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুলিশ বাহিনী সন্দেহজনক সকল গাড়ি বিশেষ করে হাল্কা যানবাহন চেক করবেন। পুলিশ টিমের সদস্যদের নিকট অন্তত একটা ডিজিটাল ক্যামেরা থাকলে ভাল হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা যেহেতু বাধ্যতামূলক কাজেই যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আছে কি না চেক করবেন। তাছাড়া সন্দেহমূলক অন্য যে কোন বিষয়ে তল্লাশি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন ক্রমেই যেন নিরীহ নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক টিমই সাদা পোশাকে অপারেশন করে থাকেন। দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর উপর অভিযোগ হচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক অবৈধ আটক, অপহরণ, গুম ও খুনের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। যে বাহিনী মানুষের নিরাপত্তা দেবার জন্য নিয়োজিত, তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ মোটেই শুভকর নয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ অভিযোগ খ-ন করার জন্য কেহ কোন প্রকার বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করেননি। একটা নির্দিষ্ট সময় ৬ মাস বা ১ বছর কালের জন্য সাদা পোশাকে অপারেশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।
আইনানুযায়ী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেফতার করতে গেলে গ্রেফতারের কারণ, গ্রেফতারি পরোয়ানা বা অন্য কোন রেকর্ডপত্রাদি থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে তা দেখাতে বাধ্য। এ আইনকে যথাযথভাবে পালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্বপালনে আরও আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়নীতি, দুর্নীতি মক্ত এবং প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেক এলাকায় মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত দেখা যায় সাধারণত সিপাহী, এএসআই এবং এসআইদের।
সিনিয়র কর্মকর্তাদের খুব বেশি মাঠে দেখা যায় না। কর্মরত সকল ফোর্সের মনোবল বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি, দেশাত্মবোধ এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার অনূপ্রেরণা প্রদানের জন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের মাঠে যেতে হবে। বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনরতদের ব্রিফিং দিতে হবে।
৬ মাসের একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ ব্যবস্থা চালু করে দেখা যেতে পারে সুফল আসে কিনা? এমন যদি সম্ভব হয়, একটি হাল্কা যানবাহনও চেকিং ছাড়া রাস্তায় চলবে না এবং ঐ ধরনের গাড়ির যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া ভ্রমণ করবেন না, তাহলে আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি, অপরাধ বন্ধ হবেই।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment