চরফ্যাশন ও মনপুরায় কয়েক লাখ মানুষ প্লাবনের ঝুঁকিতে
শিপু ফরাজী, চরফ্যাশন থেকে
প্রকাশ : ০২ জুন, ২০১৪
মেঘনা-তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙনে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরার সাড়ে ২২ কিমি বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। এসব বেড়িবাঁধের মধ্যে সাড়ে ৫ কিমি বাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারলেও ১৭ কিমি এলাকার বাঁধ নির্মাণ উদ্যোগ এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়ে গেছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে এসব বাঁধ নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং বর্ষার ভারি জোয়ারের মৌসুম এগিয়ে আসায় মেঘনা-তেঁতুলিয়া পাড়ে অবস্থিত চরফ্যাশন ও মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক লাখ মানুষ প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে দুটি উপজেলার সিংহভাগ এলাকার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন চাষও বিঘিœত হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের সাড়ে ৫ কিমি, উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫ কিমি এবং চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ কিমি, মুজিবনগর ইউনিয়নের চর মোতাহারে সাড়ে ৩ কিমি এবং নজরুলনগর ইউনিয়নের ২ কিমি বেড়িবাঁধ মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এসব বেড়িবাঁধের মধ্যে মুজিবনগর ইউনিয়নের চর মোতাহারের সাড়ে ৩ কিমি এবং নজরুলনগর ইউনিয়নের ২ কিমি বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব কাজের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২-র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মনপুরা, সাকুচিয়া এবং মাদ্রাজের বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ আছে। দাফতরিক জটিলতার কারণে এসব বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র থেকে জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, মনপুরা উপজেলার মনপুরা, উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন এবং চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের ১৭ কিমি বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণসহ ৩৪ গ্র“প কাজের টেন্ডার হয় ৩ মার্চ। ওই টেন্ডারের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা ছিল ২২ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বোর্ড বরাদ্দের অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ দেয়া ৫৫ কোটি টাকার মধ্যে নোট শিটের মাধ্যমে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ৩৪ গ্র“প কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশে গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে ৩ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি সপ্তাহব্যাপী এ ৩৪ গ্র“প কাজের সরেজমিন তদন্ত করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা-২-র ডিজাইন সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজি তোফায়েল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত দল সরেজমিন পরিদর্শন করে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় এসব কাজের টেন্ডার বাতিল করেন এবং বোর্ড বরাদ্দের অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ৫৫ কোটি টাকার মধ্যে ৪১ কোটি টাকার বরাদ্দ বাতিল করেন। ফলে চরফ্যাশন ও মনপুরায় অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকে ১৪ কোটি টাকা। এ টাকার মধ্যে মনপুরা ইউনিয়নে সাড়ে ৭ কিমি এবং উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ কিমি বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এবং চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ কিমি বাঁধ পুনর্নির্মাণে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়সহ ১৪ কোটি টাকার ২২ গ্র“প কাজের পুনঃটেন্ডার হয়েছে ৮ মে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ দেয়া হয়নি। ফলে এখনও শুরু করা যায়নি বিলীন হয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধের বিকল্প নতুন বাঁধ নির্মাণ কাজ।
দাফতরিক জটিলতায় কাজ শুরুতে বিলম্বের কারণে বর্ষা মৌসুমের মধ্যে বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় বাড়ছে। এতে করে ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং ভারি জোয়ারে মেঘনা-তেঁতুলিয়ার উপচেপড়া জলরাশিতে মনপুরা উপজেলার মনপুরা, হাজিরহাট, উত্তর সাকুচিয়া এবং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন এবং চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর, নজরুলনগর, চরকলমী, এওয়াজপুর, নুরাবাদ, রসুলপুর, চরমানিকা, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চরমাদ্রাজ, জিন্নাগড় এবং আসলামপুর ইউনিয়নের সবকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে দুই উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ প্লাবন ঝুঁকিতে আছে। পাশাপাশি এসব ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির আমন চাষ বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment