Thursday, June 5, 2014

অনিশ্চিত পড়ুয়াদের ভবিশষ্যত্

অনিশ্চিত পড়ুয়াদের ভবিশষ্যত্

duo2
মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য

মধুরিমা রায়৷ উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর -৯৪ শতাংশ৷ জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেডিক্যাল) র্যাঙ্ক- ১২২৮৷ ডাক্তারি পড়ার সুযোগ - অনিশ্চিত

স্মরণিকা বসু৷ উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর- ৯৩ শতাংশ৷ জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেডিক্যাল) র্যাঙ্ক- ১৯৪৭৷ ডাক্তারি পড়ার সুযোগ - অনিশ্চিত

অর্ঘ্য ঘোষ৷ উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর- ৮৫ শতাংশ৷ জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেডিক্যাল) র্যাঙ্ক- ২২৮৪৷ ডাক্তারি পড়ার সুযোগ - অনিশ্চিত

এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র৷ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জয়েন্ট এন্ট্রান্স ফলের পর 'অনিশ্চিত' ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যাটা এর কয়েকগুন৷ গতবার এরকম র্যাঙ্ক পাওয়া ছেলেমেয়েরা এখন রাজ্যের কোনও না কোনও মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারির শিক্ষা নিচ্ছেন৷ কিন্ত্ত, এবার হয়তো তা হবে না৷ সৌজন্যে, পরিকাঠামোর ঘাটতির জেরে এমসিআইয়ের কোপে পড়ে এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে যাওয়া রাজ্যের ডাক্তারি আসন সংখ্যা৷ নিট ফল, রাত জেগে পড়াশুনা৷ সকাল হতেই স্কুল৷ তারপর কোচিং ক্লাস৷ ফিরে এসে আবার বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে জয়েন্টের মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সবারই স্বপ্নের ওপর পড়েছে অনিশ্চয়তার শীলমোহর৷

জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত স্মরণিকা৷ গত বছর ২৪৫০ ডাক্তারি আসনে পড়ুয়ারা সুযোগ পাওয়ায় পাঁজরে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল মেয়েটার৷ স্বপ্নপুরণের জেদ বুকে চেপে নিয়ে প্রাণ দিয়ে প্রস্ত্ততিও নিয়েছিল খিদিরপুরের সেন্ট টেরেসা স্কুলের সদ্য আইএসসি পাশ করা স্মরণিকা বসু৷ হয়তো, আইএসসি-র থেকেও বেশি করে৷ মেডিক্যাল এন্ট্রান্সের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি৷ র্যাঙ্ক ১৯৪৭৷ তবুও সারাদিন মুখ মেঘলা মেয়েটার৷ কারণ, ডাক্তারি পড়াটাই যে অনিশ্চিত৷ টেলিফোনের ওপর থেকে বলে উঠলেন, 'কিছু বুঝতে পারছি না৷ এত সিট কমে গেছে৷ হয়তো এবার ডাক্তারি পড়ার সুযোগটাই পাব না৷' স্মরণিকার বাল্যবন্ধু, হাওড়া কদমতলার মধুরিমারও গোটা দিন কেটেছে উদ্বেগের সঙ্গে৷ সুশিলা বিড়লা গার্লস স্কুলের ছাত্রীটির র্যাঙ্ক ১২২৮৷ 'আচ্ছা, কতগুলো সিট সংরক্ষিত থাকে? আমি কি ডেন্টালেও চান্স পাব না?' একরাশ উদ্বেগ ধরা পড়ল টিনএজার মেয়েটির গলায়৷ বিকেল থেকে সবরকম হিসেব করে হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন হুগলী জেলার বৈঁচির বাসিন্দা অর্ঘ্য ঘোষও৷ জানালেন, 'ভেবেছিলাম দু'হাজারের মধ্যে র্যাঙ্ক করলেই চান্স পেয়ে যাব৷ আমার বাইশশো মতো র্যাঙ্ক হয়েছে৷ সিট তার প্রায় অর্ধেক৷ চান্স পাব না বোধহয়৷ কলেজেই ভর্তি হতে হবে শেষমেষ৷' বর্ধমান সিএমএস হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৪২৬ নম্বর নিয়ে পাশ করেছে অর্ঘ্য৷

স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা অবশ্য এখনই হতোদ্যম হতে মানা করছেন ছাত্রছাত্রীদের৷ বৃহস্পতিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ অনুষ্ঠআনে এসে সুশআন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্ত্বনা, 'গতবারের ১২৫০ আসন তো আছেই, সেই সঙ্গে ডেন্টালের সাড়ে চারশো আসন আছে৷ পরে, আসন যেমন যেমন বাড়বে, আমরা সেই অনুযায়ী, সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাউন্সেলিংয়ের কথা জানাব৷' সঙ্গে অনুমোদন হারানো আসনগুলি ফিরিয়ে আনতে নিজেদের চেষ্টার কথা জানতেও কসুর করেননি তিনি৷ তাঁর মন্তব্য, 'এমসিআই ৮০০-৮৫০ আসনে ভর্তি করতে বারণ করছে৷ তবে, মেডিক্যালের ১১০০-র মতো আসনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে৷ ওরা পরিদর্শন করেছে৷ কিছু পয়েন্ট ক্ল্যারিফিকেশন চেয়েছে৷ আমরা তার উত্তর দিয়েছি৷ আবার কিছু পয়েন্টের উত্তর চেয়ে পাঠিয়েছে৷'
স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার আশ্বাসবাণীতে কি অনিশ্চয়তার মেঘ কাটবে? সময়ই দেবে সে উত্তর৷

No comments:

Post a Comment