Thursday, June 5, 2014

হিমাচলে অগ্নুত্‍পাত, আতঙ্কে পালাচ্ছেন বাসিন্দারা

volcano-fuego
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকায় আগ্নেয়গিরির মতো অগ্নুত্‍পাতে ছড়াল আতঙ্ক। ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন অধিবাসীরা।

গত সোমবার রাতে শিমলা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের গাদিয়াড়া গ্রাম থেকে ১০০ মিটার দূরত্বের একটি পাহাড়ের মাথা থেকে আচমকা আগুনের শিখা ও প্রচণ্ড তপ্ত তরল বেরিয়ে আসতে দেখেন গ্রামবাসীরা। ভূতাত্বিকরা জানিয়েছেন, ওই তরলের সঙ্গে আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তর থেকে বেরিয়ে আসা ম্যাগমার মিল রয়েছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিনিধি দল।

এদিকে, এযাবত্‍ 'শান্ত' পাহাড়ের ঢাল বেয়ে লাভাস্রোত নামতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামের বাসিন্দারা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগ্নেয়গিরি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে মনে করে উপত্যকা জুড়ে প্রবল ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, জ্বলন্ত লাভাস্রোত তাঁদের ফসলের খেত ও বসতি পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে। আপাতত জিএসআই বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার প্রায় ৬টি গ্রামের মানুষ। এ অঞ্চলের ইতিহাসে এ রকম ঘটনার মোকাবিলা করতে হয়নি বলে তাঁদের আরও ভয় গ্রাস করেছে।

স্থানীয় দ্রাং পঞ্চায়েতের সভাপতি বেদ প্রকাশ জানিয়েছেন, পাহাড়ের মাথায় আনুমানিক ১০ ফিট এলাকায় একাধিক গর্ত থেকে ক্রমাগত তপ্ত তরল ও গ্যাস বেরিয়ে আসছে। তাঁর কথায়, এই অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে বাসিন্দারা প্রবল ভীতির শিকার হয়েছেন।

অন্য দিকে, আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়ায় আশেপাশের অঞ্চল থেকে গাদিয়াড়া গ্রামের উদ্দেশে পর্যটকের ঢল নেমেছে। নিরাপত্তার খাতিরে তাই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে ঘুরে গিয়েছেন মুখ্য সংসদীয় সচিব জগজীবন পাল, যাঁর অধীনস্থ সুলা জেলার মধ্যেই এই এলাকা পড়ে। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় মাটির নীচের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। লোহার তৈরি একটি বিদ্যুতের খুঁটি প্রচণ্ড তেতে গিয়ে লাল হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক বাড়ে বেলে তিনি জানান। তাঁদের অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত ভূতাত্ত্বিক প্রধান অরুণ শর্মা জানিয়েছেন, হিমাচলে এর আগে আগ্নেয়গিরির উপস্থিতি জানা না গেলেও, ওই অঞ্চলে এর আগেও ম্যাগমার নমুনা পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মতে, মণিকরণ, কলথ, তপ্তপানি ও বশিষ্ঠ কুণ্ডের মতো রাজ্যের বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবণগুলির উপস্থিতিই এই তত্ত্ব প্রমাণ করে।

No comments:

Post a Comment