Thursday, June 12, 2014

অঙ্ক বদলে সিপিএমের ঘরছাড়াদের ফেরাতে দলকে নির্দেশ মুকুলের

অঙ্ক বদলে সিপিএমের ঘরছাড়াদের ফেরাতে দলকে নির্দেশ মুকুলের

ARAMBAG
শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু! রাজ্যে কি বদলে যেতে চলেছে রাজনৈতিক মেরুকরণের ছবিটা ? দলকে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক নির্দেশে তো তেমন লক্ষণই স্পষ্ট৷ তাত্পর্যপূর্ণ ভাবে, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে প্রশাসনের পাশাপাশি পার্টিকেও নামাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ঘটনা হল, এই ঘরছাড়াদের বেশির ভাগই বাম শিবিরের৷ মমতার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় বুধবারই জেলা নেতৃত্বকে ঘরোয়া বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করে চলতে হবে৷ ঘরছাড়াদের ফেরাতে আজ প্রশাসনকেও বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ নবান্নে জেলা পুলিশ সুপার-সহ পদস্থ পুলিশ কর্তাদের বৈঠকে ডেকেছেন তিনি৷

স্বাভাবিক ভাবেই বঙ্গ রাজনীতির এই উলটপুরাণ নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা চলছে যথেষ্ট৷ লোকসভা ভোটে বামেদের বিপর্যয় যেমন মমতার কাছে স্বস্তির কারণ হয়েছে, তেমনই চিন্তা বাড়িয়েছে বিজেপির উত্থান৷ রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মমতা বামেদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ কারণ, একদিকে যেমন তৃণমূলের হামলায় গ্রামছাড়া বাম কর্মী-সমর্থকেরা বিজেপিতে ভিড়ছেন, ঠিক তেমনই বীরভূমের ইলামবাজারে এক সমর্থক খুনের ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি তেড়েফুঁড়ে পথে নেমেছে৷ এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন মমতা যে বামেদের অচ্ছুত করে রাখতে চান না, সোমবার নবান্নে বাম নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ আগামী বছর কলকাতা পুরসভা ও ২০১৬-য় রাজ্যে বিধানসভা ভোট রয়েছে৷ এই দুই ভোটেই বিজেপির শক্তি সঞ্চয়ের পথে বামেদের কাজে লাগাতে চান তৃণমূল নেত্রী৷ যা রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণের ছবিটাই বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকট করে তুলেছে৷

এই অবস্থায় মুকুলবাবুর এ দিনের বৈঠক খুবই তাত্পর্যপূর্ণ৷ বিধানসভাভবনে তাঁর ডাকা বৈঠকে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (কেষ্ট), হুগলির তপন দাশগুপ্ত, বর্ধমান গ্রামীণের স্বপন দেবনাথ, নদিয়ার গৌরীশঙ্কর দত্ত, উত্তর ২৪ পরগনার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পুরুলিয়ার শান্তি মাহাতো, বাঁকুড়ার অরূপ খাঁ, শ্যামা মুখোপাধ্যায়, কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষেরা উপস্থিত ছিলেন৷ মুকুলবাবু জেলা নেতৃত্বকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, দলনেত্রী চাইছেন, কর্মীরা যেন অযথা কোনও গোলমালে জড়িয়ে না-পড়েন৷ তাঁর নির্দেশ, আইন হাতে তুলে নিতে দেবেন না৷ দলের পুরোনো কর্মীরাও যাতে দলে যথাযথ সম্মান পায়, সেদিকে নজর রাখুন৷ ঘরছাড়ারা ঘরে ফিরলে ফিরুক৷ কর্মীরা যেন সেখানে কোনও বাধা না-দেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বসু-সহ বাম নেতৃত্বের বৈঠক নিয়ে যত রাজনৈতিক বিতর্কই চলুক না কেন, প্রশাসন যে বামেদের প্রতি কিছুটা নরম মনোভাব নিয়েছে তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে৷ দু'দিন আগেই গড়বেতায় খুন হওয়া সিপিএম কর্মী সইদুল ভুঁইয়ার দেহ আরামবাগ হাসপাতাল মর্গে পড়ে থাকলেও তাঁর পরিবারের লোকেদের হাতে তুলে দেয়নি৷ সূর্যকান্ত মিশ্র এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে ফ্যাক্স করে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ শুধু দেহ তাঁর বাড়ির লোকেদের হাতেই তুলে দেয়নি, অভিযোগও জমা নিয়েছে৷

সূর্যকান্ত মিশ্র অবশ্য এ দিনও বলেছেন, 'এখনও সরকারের সদিচ্ছা দেখা যায়নি৷ মাঠেঘাঠে যা ঘটছে, তা বন্ধ হবে কি না, তার উপরই সব নির্ভর করছে৷ কর্মীরা নানা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যই হল, বামেরা আন্দোলনে নামার আগে সরকারকে নোটিস দেওয়া৷' রবিন দেব বলেছেন, 'অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, মুকুলবাবুর নির্দেশ তাঁর দলের নেতারা কী ভাবে কার্যকর করেন৷' এই পরিস্থিতিতেই আজ বিমান বসুর নেতৃত্বে বামেদের এক প্রতিনিধি দল যাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায়, হিংসা-কবলিত এলাকার দলীয় সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে৷

http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/mukul-takes-initiatives-to-bring-back-the-cpm-refugees/articleshow/36422550.cms?

No comments:

Post a Comment