Wednesday, June 4, 2014

সিবিআই তদন্ত শুরু সারদায় তিনটি এফআইআর

সিবিআই তদন্ত শুরু সারদায় তিনটি এফআইআর

saradha-group
এই সময়: প্রথম পর্যায়ে তিনটি এফআইআর রুজু করে সারদা কেলেঙ্কারির 'বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের' তদন্ত শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল সিট৷ সিবিআইয়ের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের তরফে যে মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে তাতে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে৷ প্রথম তিনটি এফআইআরে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন, সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল সাংসদ কুণাল ঘোষ ছাড়াও রয়েছে দেবযানী মুখোপাধ্যায়, মনোজ নাগেল, অরবিন্দ চৌহান এবং সোমনাথ দত্তের নাম৷ এঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে জেলে রয়েছেন৷ একই সঙ্গে এ দিন ওড়িশার মোট ৪৪টি সংস্থার বিরুদ্ধে ৪৩টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে৷ সাম্প্রতিক কালের মধ্যে একই দিনে এত বেশি সংখ্যায় কেস কোনও কেলেঙ্কারিতে দায়ের করা হয়নি৷

সিবিআইয়ের মুখপাত্র কাঞ্চন প্রসাদ বলেছেন, 'সারদা কেলেঙ্কারির আরও নথি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে৷ খুব তাড়াতাড়ি আরও কয়েকটি এফআইআর দায়ের করা হবে৷' বুধবার যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে তাতে সারদা গোষ্ঠীর চারটি সংস্থার নামও রয়েছে৷ এই সংস্থাগুলি হল সারদা রিয়্যালিটি, সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, সারদা কনস্ট্রাকশন এবং সারদা প্রিন্টিংস৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই যে মামলা নথিভুক্ত করেছে তাতে সেবি বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি টাকা পাচারের সূত্রও খঁুজে দেখা হবে৷

মামলার পরবর্তী ধাপে কী ভাবে এগোতে চায় সিবিআই? মামলা শুরু করার পর সুদীপ্ত সেন, কুণাল ঘোষ-সহ অন্য ডিরেক্টরদের জেরা করার জন্য নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতের কাছে সিবিআই আবেদন জানাবে৷ সিবিআইকে লেখা সুদীপ্ত সেনের চিঠি এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ হাতে নিয়ে এরপরই জেরা করা হবে তাঁদের৷ ইতিমধ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এই সারদা মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে সারদা গোষ্ঠীর গায়েব হয়ে যাওয়া ৬০০ কোটি টাকা কোথায় গেল এবং কারা এতে লাভবান হয়েছে তা দেখার জন্য মূলত সিবিআইকে কাজ করতে হবে৷ এ জন্য প্রয়োজনে আলাদা করে ফরেন্সিক অডিটও করাতে পারে তারা৷ ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে গা ঢাকা দেওয়ার আগে সুদীপ্ত সেন সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন বিভাগকে যে চিঠি দিয়েছিলেন এতদিন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনও গুরুত্ব না-থাকলেও মামলা দায়ের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার গুরুত্ব অনেকটা বেড়ে গিয়েছে৷ কারণ, ওই চিঠিতে যাদের নাম সুদীপ্ত সেন উল্লেখ করেছিলেন, তাদের ডেকে জেরা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সিবিআই৷

রাজ্য সরকারের মতো সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন নিজেও সিবিআই তদন্তে খুব একটা রাজি ছিলেন না৷ কিন্ত্ত তৃণমূলের সাংসদ কুণাল ঘোষ বারবারই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত সিবিআই তদন্ত শুরু করলেও তাদের প্রথম এফআইআরে থাকল কুণালবাবুর নাম৷ মামলা শুরুর আগে প্রস্ত্ততি কী ভাবে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা?

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই সিবিআই এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ৯ সদস্যর একটি তদন্তকারী দল বা সিট তৈরি করে৷ সিটের মাথায় রাখা হয় সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর রাজীব সিংকে৷ অন্য দিকে, সংস্থার স্পেশাল ডিরেক্টর অনিল সিনহাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় পুরো তদন্তের কাজ নজরদারি করার জন্য৷ প্রায় একমাস পর বুধবার এই মামলায় সরকারি ভাবে অভিযোগ নথিভুক্ত করলেও সিবিআই বিধাননগরের পূর্ত ভবনে তাদের ক্যাম্প অফিসের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে৷ এ জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ৬টি গাড়ি ছাড়াও ১০ জন ইন্সপেক্টর এবং ২০ জন কনস্টেবল চেয়ে নিয়েছে তারা৷ সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এ রাজ্যে সারদার নামে প্রায় ৩৮৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ তার মধ্যে যে-সব মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়া গিয়েছে তা স্ক্রুটিনি করার পর প্রথম পর্যায়ে এই তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

No comments:

Post a Comment