‘স্বচ্ছতা’ মাপবেন মন্ত্রী, বন্ধ ফলপ্রকাশ
স্নেহাশিস নিয়োগী
ঝড়ে লিঙ্ক ফেলিওরের জন্য নয়৷ রাজ্যের প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কি না, সদ্যনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে তা দেখতে চেয়েছেন বলেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া সত্ত্বেও ফলপ্রকাশ আটকে রয়েছে৷ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কমিশনের চেয়ারম্যানদের মতে, এ ভাবে কোনও মন্ত্রী কমিশনের বোর্ডের অনুমোদিত নিয়োগ প্যানেল দেখতে চাইতে পারেন না৷ তাঁদের দাবি, বাম আমলে এ ঘটনা ভাবাই যেত না৷
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, পার্থবাবু নতুন দায়িত্ব নেওয়ার দিনই (বুধবার) এসএসসির কেন্দ্রীয় বোর্ড রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে প্রধান শিক্ষক এবং গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল চূড়ান্ত করে ফেলে৷ সেই মোতাবেক কমিশনের পাঁচটি অঞ্চলে কতজন পাশ করেছেন, প্রধান শিক্ষিক নিয়োগে কী ভাবে শিক্ষিকাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং নিয়োগের শর্তাবলী কী হবে, সে সব চূড়ান্ত হয়ে যায়৷ ঠিক হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান সংবাদমাধ্যমকে তা জানাবেন৷ ওই বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব-সহ তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন৷ তবে ২৯ মে কমিশনের চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য বিতর্ক এড়াতে সাংবাদিকদের জানান, ঝড়ের জন্য লিঙ্ক ফেল করায় প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না৷
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা কমিশনকর্তার ঝড়ের অজুহাত কার্যত নস্যাত্ করে দিয়েছেন৷ তাঁদের দাবি, এর আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৭৫ হাজার সফল প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি৷ তাই চেয়ারম্যান ফলপ্রকাশে যে প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দিচ্ছেন, তা ঠিক নয়৷ সুবীরেশবাবু অবশ্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফলপ্রকাশ থমকে যাওয়ার কথা স্বীকার করতে চাইছেন না৷ শনিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা বলে তিনি বলেন, 'না না, এ রকম কিছু নয়৷'
বিকাশ ভবনের একাধিক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ২০১২ সালের ২৮ জুন দু'টি ক্ষেত্রেই নিয়োগের বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল৷ গত বছরের পুজোর সময়েই প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল৷ তিন-তিনবার কমিশনের চেয়ারম্যান বদলের জন্য তা স্থগিত হয়ে যায়৷ শেষে সহকারি শিক্ষক নিয়োগে ডামাডোল ও ভোটের জন্য তা স্থগিত হয়ে যায়৷ কিন্ত্ত শেষমেশ বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশ হবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়৷ আচমকাই শিক্ষামন্ত্রী বদলে যাওয়ায় বুধবার পার্থবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যান সুবীরেশবাবু৷ সে সময় তিনি মন্ত্রীকে এই দু'টি নিয়োগের প্যানেল প্রকাশের কথা জানান৷ তখনই গোটা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কি না, তা পার্থবাবু দেখতে চান৷ বিকাশ ভবন ঘুরে এসে সুবীরেশবাবু এসএসসির অন্য সদস্যদের তা জানালেন না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷
রাজ্যের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে বলেন, 'এসএসসির প্যানেল তৈরিতে নিজস্ব কোড থাকে৷ তা অত্যন্ত গোপনীয়৷ ফলপ্রকাশের আগে দপ্তরের মন্ত্রী তো দূর অস্ত, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী চাইলেও তা দেখতে পারেন না৷ তা হলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবেই৷' প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর সহকারি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে কম্বাইন্ড মেরিট লিস্টের প্রার্থীরা ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম মঞ্চ গড়ে আন্দোলন করছেন৷ তাতে সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের শীর্ষস্তরের নেতানেত্রী ও শিক্ষাবিদরাও সামিল হচ্ছেন৷ শিক্ষামহল মনে করছে, প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগে নয়া শিক্ষামন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপ বিতর্ক আরও বাড়াবে৷
প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ ১,১৩৪টি পরীক্ষার্থী ৩,৮১৩ জন ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছিলেন ১,৫১৯ জন এমপ্যানেলড ৯৮৫ জন ওয়েটিং লিস্ট ২২২ জন
গ্রন্থাগারিক শূন্যপদ ১৩০টি পরীক্ষার্থী ১৯,৫৯৯ জন ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছিলেন ২৭২ জন এমপ্যানেলড ১২৯ জন ওয়েটিং লিস্ট ১৯ জন
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/education-minister-partha-chatterjee-wants-transperency-in-result/articleshow/35857238.cms
স্নেহাশিস নিয়োগী
ঝড়ে লিঙ্ক ফেলিওরের জন্য নয়৷ রাজ্যের প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কি না, সদ্যনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে তা দেখতে চেয়েছেন বলেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া সত্ত্বেও ফলপ্রকাশ আটকে রয়েছে৷ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কমিশনের চেয়ারম্যানদের মতে, এ ভাবে কোনও মন্ত্রী কমিশনের বোর্ডের অনুমোদিত নিয়োগ প্যানেল দেখতে চাইতে পারেন না৷ তাঁদের দাবি, বাম আমলে এ ঘটনা ভাবাই যেত না৷
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, পার্থবাবু নতুন দায়িত্ব নেওয়ার দিনই (বুধবার) এসএসসির কেন্দ্রীয় বোর্ড রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে প্রধান শিক্ষক এবং গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল চূড়ান্ত করে ফেলে৷ সেই মোতাবেক কমিশনের পাঁচটি অঞ্চলে কতজন পাশ করেছেন, প্রধান শিক্ষিক নিয়োগে কী ভাবে শিক্ষিকাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং নিয়োগের শর্তাবলী কী হবে, সে সব চূড়ান্ত হয়ে যায়৷ ঠিক হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান সংবাদমাধ্যমকে তা জানাবেন৷ ওই বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব-সহ তিনজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন৷ তবে ২৯ মে কমিশনের চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য বিতর্ক এড়াতে সাংবাদিকদের জানান, ঝড়ের জন্য লিঙ্ক ফেল করায় প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না৷
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা কমিশনকর্তার ঝড়ের অজুহাত কার্যত নস্যাত্ করে দিয়েছেন৷ তাঁদের দাবি, এর আগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ৭৫ হাজার সফল প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি৷ তাই চেয়ারম্যান ফলপ্রকাশে যে প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত দিচ্ছেন, তা ঠিক নয়৷ সুবীরেশবাবু অবশ্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফলপ্রকাশ থমকে যাওয়ার কথা স্বীকার করতে চাইছেন না৷ শনিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা বলে তিনি বলেন, 'না না, এ রকম কিছু নয়৷'
বিকাশ ভবনের একাধিক আধিকারিক জানাচ্ছেন, ২০১২ সালের ২৮ জুন দু'টি ক্ষেত্রেই নিয়োগের বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল৷ গত বছরের পুজোর সময়েই প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগের প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল৷ তিন-তিনবার কমিশনের চেয়ারম্যান বদলের জন্য তা স্থগিত হয়ে যায়৷ শেষে সহকারি শিক্ষক নিয়োগে ডামাডোল ও ভোটের জন্য তা স্থগিত হয়ে যায়৷ কিন্ত্ত শেষমেশ বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশ হবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়৷ আচমকাই শিক্ষামন্ত্রী বদলে যাওয়ায় বুধবার পার্থবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যান সুবীরেশবাবু৷ সে সময় তিনি মন্ত্রীকে এই দু'টি নিয়োগের প্যানেল প্রকাশের কথা জানান৷ তখনই গোটা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে কি না, তা পার্থবাবু দেখতে চান৷ বিকাশ ভবন ঘুরে এসে সুবীরেশবাবু এসএসসির অন্য সদস্যদের তা জানালেন না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷
রাজ্যের প্রাক্তন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ দে বলেন, 'এসএসসির প্যানেল তৈরিতে নিজস্ব কোড থাকে৷ তা অত্যন্ত গোপনীয়৷ ফলপ্রকাশের আগে দপ্তরের মন্ত্রী তো দূর অস্ত, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী চাইলেও তা দেখতে পারেন না৷ তা হলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবেই৷' প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর সহকারি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যে কম্বাইন্ড মেরিট লিস্টের প্রার্থীরা ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম মঞ্চ গড়ে আন্দোলন করছেন৷ তাতে সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের শীর্ষস্তরের নেতানেত্রী ও শিক্ষাবিদরাও সামিল হচ্ছেন৷ শিক্ষামহল মনে করছে, প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক নিয়োগে নয়া শিক্ষামন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপ বিতর্ক আরও বাড়াবে৷
প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ ১,১৩৪টি পরীক্ষার্থী ৩,৮১৩ জন ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছিলেন ১,৫১৯ জন এমপ্যানেলড ৯৮৫ জন ওয়েটিং লিস্ট ২২২ জন
গ্রন্থাগারিক শূন্যপদ ১৩০টি পরীক্ষার্থী ১৯,৫৯৯ জন ইন্টারভিউতে ডাক পেয়েছিলেন ২৭২ জন এমপ্যানেলড ১২৯ জন ওয়েটিং লিস্ট ১৯ জন
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/education-minister-partha-chatterjee-wants-transperency-in-result/articleshow/35857238.cms
No comments:
Post a Comment