নম্বর-নীতিতে বদল চান মমতা
পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশ এবং পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাকে কাঠগড়ায় তুললেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুযোগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় 'ইচ্ছাকৃত ভাবে' কম নম্বর দেওয়ার জন্য সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এ রাজ্যের ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে পড়ছে৷ ব্রাত্য বসু যখন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর উদ্যোগে রাজ্য পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি কমিটি নবম শ্রেণি থেকে সর্বভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছাত্রছাত্রীদের ঘাড় থেকে বাড়তি বোঝা নামাতে সিলেবাস এবং প্রশ্নপত্রের ধাঁচ আমূল বদলে ফেলেছে৷ আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিকেও ৪০ শতাংশ মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চনস (এমসিকিউ ) হবে৷ যার মান এক নম্বরের৷ সেইসঙ্গে বাকি প্রশ্নের মানও সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক হবে৷ যাতে প্রাইভেট টিউশনের রমরমা ঠেকানো যাবে ও পাঠ্যবই খুঁটিয়ে পড়ার প্রবণতাও তৈরি হবে৷ কিন্ত্ত মুখ্যমন্ত্রী জানান, অবজেক্টিভ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলেও পুরো নম্বর পাওয়া যায় না বলে বার বার অভিযোগ উঠেছে৷ মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধাতালিকায় শীর্ষ স্থানাধিকারী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী তা স্বীকারও করে নেন৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ডের কর্তাদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, 'অন্য জায়গায় অবজেক্টিভ প্রশ্নে সঠিক উত্তর দিলে ফুল নম্বর দেয়৷ এখানে কিপটেমি করে এক, দুই, তিন নম্বর কেটে নিচ্ছে৷ এতে অন্য রাজ্যের তুলনায় আমাদের ছেলেমেয়েরা পিছিয়ে যাচ্ছে৷ এটা কেন হবে? কেন ফুল নম্বর দেবে না? আপনাদের এটা দেখতে হবে৷' একই সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার ক্ষেত্রে জোর করে কোনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়৷ ৮২ জন কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতা শেষে তিনি বলেন, 'আমি জনে জনে কথা বলে যেটা দেখলাম, এদের ৮০ শতাংশ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে চলে যাচ্ছে৷ ১০ শতাংশ মেকানিক্যাল৷ বাকিরা ডাক্তারিতে যাচ্ছে৷ একজন আইএএস হবে৷ তোমরা এক একজন মহীরূহ হও৷ মেধা এবং ট্যালেন্টে আমরা কিন্তু এক নম্বর৷' নিজের উদাহরণ টেনে কৃতীদের তিনি বলেন, 'আমার আগে খুব মাথা গরম হত৷ এখনও কখনও-সখনও হয়৷ মাথা গরম না-করে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে হবে৷ আমাদের তো আর ছোটবেলায় গাইড করার কেউ ছিল না৷ কিন্ত্ত তোমাদের তা আছে৷ তাই বলব, যে যাই কর, সব সময় মাথা ঠান্ডা রেখে পজিটিভ থাকবে৷ কখনও চিন্তা করবে না৷' এ রাজ্য থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক ছাত্রছাত্রীই ভিন রাজ্যে চলে যায়৷ রাজ্য থেকে 'ব্রেন ড্রেন'-এর এই প্রবণতায় প্রায়শই বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এতে দোষের কিছু দেখছেন না৷ তাঁর কথায়, 'কেউ ব্যাঙ্গালোরে পড়তে গেলে যাক৷ আমি চাইব, সে পড়াশোনা করে রাজ্যে ফিরে আসুক৷ আমার একটা স্বপ্ন আছে, বিশ্ব বাংলা করার৷ তা হলে তোমাদের কোথাও যেতে হবে না৷ সারা বিশ্ব তোমাদের কাছে আসবে৷' টাউন হলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃতীদের নজর ছিল, কখন মুখ্যমন্ত্রীর অটোগ্রাফ তাদের হাতে আসবে৷ এদিন বিকালে মুখ্যমন্ত্রী যখন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৌঁছোন, তখন কৃতীদের হাতে ল্যাপটপ, বই, শংসাপত্র, উপহার তুলে দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রী আসতেই ছাত্রছাত্রীরা একে একে উঠে আসে তাঁর কাছে৷ কারও আবদার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলবে, কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয় নিজের আঁকা ছবি৷ আর সবার আবদার -- অটোগ্রাফ চাই৷ টানা পাঁচ মিনিট চলেছে অটোগ্রাফ-পর্ব৷ সেই সময় কোনও কৃতী গান গেয়েছে, কেউ পাঠ করেছে, কেউ আবৃত্তি শুনিয়েছে৷ তার পর অনুষ্ঠান শেষে মাইকে রীতিমতো ঘোষণা করে ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হল মুখ্যমন্ত্রীর অটোগ্রাফ৷
No comments:
Post a Comment