Sunday, June 8, 2014

তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চীনা বিপ্লবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি বেজিংয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা

তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে চীনা বিপ্লবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
বেজিংয়ে লালগালিচা সংবর্ধনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বিকেলে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে পিপলস হিরোদের (জনবীর) স্মৃতিসৌধে ফুলের তোড়া দিয়ে চীনা বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ফুলের তোড়া দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী চীনা বীরদের স্মরণে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। ১৯ ও ২০ শতকে বিপ্লবের সময় এসব বীর শহীদ হন। খবর বাসসর।
এ সময় চীনা পিপলস আর্মির একটি চৌকস দল সশস্ত্র স্যালুট প্রদান করে এবং বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জুন এবং প্রধানমন্ত্রীর অন্য সফরসঙ্গী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর পর প্রধানমন্ত্রী বেজিং ছায়াং থিয়েটারে যান এবং চীনা শিল্পীদের এ্যাক্রোবেটিক শো প্রত্যক্ষ করেন।
শেখ হাসিনা থিয়েটার প্রাঙ্গণে পৌঁছলে থিয়েটারের জেনারেল ম্যানেজার লিউ শিংওয়াং তাঁকে স্বাগত জানান।
বেজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বিকেলে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুনমিং সফর শেষ করে রাজধানী বেজিং পৌঁছলে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) বেজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার লিউ ঝেনমিন। বেজিংয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আজিজুল হক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দুটি শিশু প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়। এখান থেকে তাকে প্রেজেন্টেশন লাইনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। এর পর তিনি চীনা পিপলস আর্মির একটি চৌকস দলের স্টাটিক গার্ড পরিদর্শন করেন।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে দাইয়োতাই রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। বেজিং অবস্থানকালে এ গেস্ট হাউসেই তিনি থাকবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকালে সাড়ে আটটা) কুনমিংয়ের চাঙশুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াঙের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী ছয়দিনের সরকারী সফরে গত ৬ জুন কুনমিং যান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে মূল বক্তব্য রাখবেন। এর পর তিনি চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এর পর সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে এক ভোজসভায় তিনি অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন ট্রেড এ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন ফোরামে মূল বক্তব্য রাখবেন। শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং এবং চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) চেয়ারম্যান উ ঝেংশেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রী সিসিটিভি, ফিনিক্স টিভি, ইউনান টিভি ও চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনালের বাংলা বিভাগকে সাক্ষাতকার দেবেন। এ ছাড়া চীনের কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রী আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১১ জুন সকালে দেশের উদ্দেশে বেজিং ত্যাগ করবেন এবং একইদিন বিকেলে ঢাকা পৌঁছবেন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়াবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী। এ ছাড়াও ৭০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।

No comments:

Post a Comment