Saturday, June 14, 2014

টিকিট দুর্নীতিতে তৃণমূল সাংসদের নাম

টিকিট দুর্নীতিতে তৃণমূল সাংসদের নাম

146201416260703-large
এই সময় , নয়াদিল্লি : বিমানের টিকিট কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করল সিবিআই৷ এ দিন সাংসদের দিল্লির বাড়িতে তল্লাশি চালান সিবিআই গোয়েন্দারা৷ তিনি বাড়িতে না থাকায় সোমবার তাঁকে সিবিআই দন্তরে ডেকে পাঠিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা৷ এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এনেছে তৃণমূল৷

দেবব্রতবাবুর পাশাপাশি রাজ্যসভার আরও দুই বর্তমান ও তিন প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধেও এফআইআর করেছে সিবিআই৷ বর্তমান সাংসদেরা হলেন বিএসপি -র ব্রজেশ পাঠক এবং এমএনএফের লালমিন লিয়ানা৷ আর তিন প্রাক্তন সাংসদদের মধ্যে আছেন বিজেপির জেপিএন সিং , আরএলডি -র মেহমুদ মাদানি এবং বিজেডি -র রেণুবালা প্রধান৷

এই সূত্র ধরে দিল্লি ও ওড়িশায় দশটি জায়গায় সিবিআই তল্লাশিও করেছে৷ তার মধ্যে রাজনীতিবিদদের বাড়ি ও ট্র্যাভেল এজেন্টদের অফিসও আছে৷ সাংসদরা ছাড়াও এয়ার ইন্ডিয়ার কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট রুবাইনা আখতার এবং ক্রুইজ ট্র্যাভেলের নামেও এফআইআর করা হয়েছে৷ সিবিআই সূত্রের খবর , এই সাংসদেরা বিমানে যাতায়াতের টিকিট বাবদ রাজ্যসভা সচিবালয় থেকে যে টাকার বিল জমা দিয়েছেন , টিকিটের আসল দাম তার থেকে অনেক কম৷ এ ব্যাপারে গত বছর ১ নভেম্বর প্রথম মামলা দায়ের করে সিবিআই৷ কিন্ত্ত এই তালিকায় দেবব্রতবাবুর নাম থাকায় বিস্ময় গোপন করেননি তৃণমূল নেতৃত্ব৷ দলের মুখপাত্র ডেরেক ও 'ব্রায়েন বলেন , 'দেশের ভূমি সংস্কার কর্মসূচির জনক দেবব্রতবাবু আদ্যন্ত সত্ বলে পরিচিত৷ গত চল্লিশ বছর ধরে তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত৷ '

ডেরেক জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উপায়েই এর মোকাবিলা করবে তাঁর দল৷ তৃণমূল নেতাদের দাবি , অনেক ক্ষেত্রেই বিমানের টিকিট বাবদ ট্র্যাভেল এজেন্ট যে বিল দেয় , তা বিমানভাড়ার থেকে বেশি৷ সাংসদের সেটা জানার কথা নয়৷ তৃণমূলের দাবি , সব নথিপত্রই দেবব্রতবাবুর কাছে আছে৷ সিবিআই এ দিন যে ভাবে তাঁর অনুপস্থিতিতে দেবব্রতবাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় তারও সমালোচনা করেছে দল৷ আসলে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হয় কিছুটা আচমকাই৷ এয়ার ইন্ডিয়ার ভিজিল্যান্সের কাছ থেকে খবর পেয়ে ৬০০টি ভুয়ো বোর্ডিং পাস -সহ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে একজনকে ধরা হয়৷ সেই সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় , এই সমস্ত পাস সাংসদদের বিল দেওয়ার সময় কাজে লাগে৷

No comments:

Post a Comment