শেষ দিকে ধর্মকে প্রচারণায় হাতিয়ার বানাচ্ছেন মোদী
অঞ্জন রায় চৌধুরী, নয়াদিল্লি
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, এটা দলের কৌশল এবং আগে থেকেই নির্ধারণ করা ছিল। আর নির্বাচনের নবম পর্বে এসে সেই কৌশলকেই কাজে লাগানো হচ্ছে। কারন ভোটারদের একটা অংশ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয় এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো প্রদেশের ভোটাররা ধর্মীয় প্রচারণাকেই গুরুত্ব দেয়। বিজেপি'র এক নেতার তথ্য অনুসারে, এই কৌশলের পেছনে অন্যান্য কারনও আছে। ভোটের প্রথম দুই দফায় উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে দলটির অবস্থান ভাল ছিল। এই সময় মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারেনি এবং মুলায়েম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টিও ভোটারদের কাছে টানতে পারেনি। তবে এই দলগুলো তৃতীয় দফা নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। বিহারে লালু প্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয় যেটি বিজেপি নির্বাচনের আগে ধারণা করতে পারেনি। বিজেপি'র ওই নেতা জানান, এরপরই মোদী ভোটারদের আকর্ষণে প্রচারে ধর্ম এবং বর্ণকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন। উত্তরপ্রদেশে ৮০টি আসন এবং বিহারে ৪০টি আসন আছে। দিল্লিতে সরকার গঠনে এই আসনগুলোর অধিকাংশ জয় করা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দফার নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলে মায়াবতী দলিত সমপ্রদায় (হিন্দুদের নিম্নবর্ণ) এবং মুসলমানদের সমর্থন পেয়েছেন।
গত ২৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে মোদী 'শরণার্থী' এবং 'অনুপ্রবেশকারী' এ দুই ধরনের বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে তাড়িয়ে দিবেন। ৫ মে উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ক্ষমতায় আসলে তিনি 'রাম রাজ্যে' তৈরির অঙ্গিকার করেন। যখন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মোদীর বিরুদ্ধে 'নীচু রাজনীতির' অভিযোগ করেন তখন এটা মোদীকে আঘাত করে। তিনি মনে করেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার বংশ মর্যাদাকে আঘাত করা হয়েছে। প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফি জাফরেলট মোদীর 'মধ্যবিত্ত শ্রেণী' বিষয়টি ব্যাখা করে বলেন, তার এই ধারণা হিন্দুত্ববাদী এবং অন্যান্য অনগ্রসর অংশের মিশ্রণ। উত্তরপ্রদেশে এই দুই ভাগের মিশ্রণ মোদীর জন্য ভালই হয়। বিজেপি'র সূত্র জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে সবসময়ই দলটির প্রচারণায় ছিল উন্নয়ন, হিন্দুত্ববাদ এবং বর্ণ পরিচয়। এর লক্ষ্য উভয় রাজ্যে দলিত এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করা। কিন্তু এই উন্নয়ন, বর্ণ এবং হিন্দুত্ববাদীতা কী মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যথেষ্ট? আর এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত।

No comments:
Post a Comment