বারানসীতে সহজে পার পাচ্ছেন না মোদি
কাওসার রহমান ॥ নানা নাটক সৃষ্টি করে ধর্মীয় শহর বারানসীতে এসে নির্বাচনে দাঁড়ালেও ওয়াকওভার পাচ্ছেন না বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। এখানে ছেড়ে কথা কইবেন না দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
ভারতের বহু প্রাচীন শহর বারানসী। তবে এবার এখানে নির্বাচনী লড়াইটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। লোকসভার এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে হইচই ফেলে দেয়া নতুন দল আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দুই বাঘা প্রার্থী একই আসনে মুখোমুখি হওয়ায় সবার নজর এখন উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বারানসীতে।
ভারতের হিন্দুদের কাছে অন্যতম পবিত্র শহর বারানসী। মোদি গত মাসে ঘোষণা দেন, তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা শুধু মানুষকে চমকে দেয়ার জন্য ছিল না, অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি বা তাঁর দল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, এটি অনেক বড় একটি রাজনৈতিক চাল।
কোন দল ভারতের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখলে উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী লড়াইয়ে ভাল ফল করা প্রায় অপরিহার্য। দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এটি। ২০ কোটি মানুষের এই রাজ্যে লোকসভার আসন আছে ৮০টি।
মোদি টানা দীর্ঘ মেয়াদে পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আছেন। বলা হয়ে থাকে, তাঁর শাসনকালে রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনাও কম নয়। ২০০২ সালে তাঁর রাজ্যে দাঙ্গায় নিহত হয় সহস্রাধিক মুসলমান। এর পেছনে তাঁর মদদ ছিল বলে মনে করেন অনেকে। তবে বিজেপি এবং দলের নেতারা আশা করছেন, মোদি নিজেকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। বারানসীর ভোটাররা সেটাই চাইবেন।
গঙ্গা নদীর তীরবর্তী শহর বারানসী। ধর্মীয়ভাবে খবুই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই শহরে উন্নয়নের ছোঁয়া বলতে গেলে লাগেইনি। জনবহুল, নোংরা এবং অবকাঠামোগতভাবে বিশৃঙ্খল এক শহরই রয়ে গেছে বারানসী।
শহরের বিজেপি নেতা লক্ষ্মণ আচার্যের মতে, নেতৃত্বের অভাবেই বারানসীর এই বেহাল দশা। তিনি বলেন, ‘প্রাচীন এই শহর বহুকাল ধরেই অবহেলিত। নেতৃত্বের সঙ্কটই এর কারণ। এখন মোদি এসেছেন এই আসনে নির্বাচন করতে। ভোটাররা খুশি, তাঁরা বিশ্বাস করেন এবার এখানে কিছু উন্নয়ন হবে।’
তবে উন্নয়ন হোক আর না হোক, ‘বেনারসী’ শাড়ির জন্য বিশ্বখ্যাত বারানসী আসনটি লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতবাসীর মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করণে।
এই বিষয়গুলোই সামনে নিয়ে এখানে প্রচারে নেমেছে এএপি। বারানসীর জন্য তাদের নির্বাচনী সেøাগান ‘নদী, তাঁতশ্রমিক, পয়োনিষ্কাশন।’ পবিত্র গঙ্গা নদী বারানসীতে দূষণে জর্জরিত, বিখ্যাত বেনারসি শাড়ির শহরে বেহাল দশায় আছেন হাজার হাজার তাঁতশ্রমিক, শহরের পথে পথে খোলা পয়নালা।
শহরের বেনিয়াবাগ মাঠে কদিন আগে কয়েক হাজার মানুষের এক সমাবেশে দেয়া ভাষণে কেজরিওয়াল এখানকার কৃষক, তাঁতশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও গৃহবধূদের প্রতি বিজেপিকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৬৫ বছর ধরে বিজেপি ও কংগ্রেস মিলে দেশের সম্পদ লুট করছে।’
বারানসীতে ভোট হবে আগামী ১২ মে। আগামী ৭ মে অষ্টম দফা নির্বাচনের দিন মোদি এখানে আসছেন। ওই দিনের ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য সমাবেশে ভাষণ দেবেন। ওই দিন উত্তর প্রদেশে রাহুল গান্ধীর আমেথি ও বরুণ গান্ধীর সুলতানপুরসহ অন্যান্য আসনে নির্বাচন। কেজরিওয়ালের ভাষণের জবাব হয়ত তখনই পাওয়া যাবে। না পেলেও ১৬ মে জানা যাবে, অবহেলিত বারানসীর মানুষ তাঁদের ভাগ্য ফেরাতে কাকে কাছে টানলেন, কাকে ফিরিয়ে দিলেন। ওই দিন ঘোষণা হবে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল।
গত ২৪ এপ্রিল দেশে ষষ্ঠ দফার ভোট চলার সময় বারানসীতে বিরাট জনসমাবেশ ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আর তা যেভাবে টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে, তাতে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী। ষষ্ঠ দফার ভোট চলার ভেতর মোদির মনোনয়নপত্র পেশ এবং তা টিভিতে প্রদর্শনে কংগ্রেসও দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণের। অবশ্য ভদোদরায় সপ্তম দফা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি যেভাবে নির্বাচনী প্রতীক পদ্মফুলের চিহ্ন দেখিয়েছেন, তাতে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গুজরাট প্রশাসন মোদির বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছে।
বারানসী ঐতিহ্যবাহী শহর। এই মন্দির-শহর ভারতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র। হিন্দু-মুসলিম সব শ্রেণীর মানুষ ইতিহাসের কাল থেকে এখান থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির সুবাস সারা ভারতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা কপিল বললেন, ‘বিভেদ-বিদ্বেষের রাজনীতি এখানে মাথা তুলতে পারবে না। বারানসীর মানুষ ভোট দেবেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারত-সংস্কৃতি রক্ষায়।’
কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায় এই লোকসভা কেন্দ্রের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বারানসী লোকসভা কেন্দ্রের অমতর্র্বতী মির্জাপুরের বিধায়ক। গত নির্বাচনে এ আসনে কংগ্রেস চতুর্থ হয়েছিল।
এখানে কথা হয় বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র অনিল কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি মনে করেন সম্ভাব্য দুইটি কারণে বারানসীকে মোদির লড়াইয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন। এর একটি হচ্ছে- উত্তর প্রদেশই হচ্ছে সর্বাধিক আসন। এখানেই গান্ধী পরিবারের সদস্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরেকটি হচ্ছে- এখানে মুসলিম ভোটের সংখ্যা ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সর্বাধিক।
তিনি বলেন, ‘এ জন্যই লড়াইটা অনেকে মনে করছেন, সেয়ানে-সেয়ানে হবে। হিন্দুত্ববাদ প্রশ্নে মুসলিম ভোট কতটুকু পান মোদি তা এখন দেখার অপেক্ষার বিষয়। শেষ মুহূর্তে ভোটের হাওয়া কোন্দিকে ঘোরে, বোঝা শক্ত বলে আমরা ধারণা করছি।’ তবে এর সঙ্গে একমত নন বারানসীর কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রাইয়ের প্রধান সম্বন্বয়কারী রাবেয়া কালাম। তিনি বলেন, ‘বারানসী আসনে ১৬-১৭ শতাংশ মুসলিম ভোট আছে। তারা মোদিকে এবার ভোট দেবে না।’ কংগ্রেস বারানসী আসনে মোদির চেয়ে জনপ্রিয় বলেও দাবি করেন রাবেয়া কালাম।
বারানসী মার্কেটের বেনারসী শাড়ির দোকানদার সত্যজিৎ এইচ উপাধ্যয় বলেন, ‘প্রাচীন শহরটি বেনারসী শাড়ির জন্য বিশ্বখ্যাত। এই শাড়ি তৈরি হয় মুসলিম মালিকদের শিল্প কারাখানায়। আর শাড়ির অধিকাংশ বিক্রেতা হচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। দুই সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এই আসনে একটি দৃষ্টান্ত আছে।’
২০০৯ সালে বারনসী আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী মুরলী মনোহর যোশী। তিনি পান ২,০৩,১২২ ভোট। এই আসনে বিএসপির মুকতার আনসারি ১,৮৫,৯১১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, সমাজবাদী পার্টির অজয় রাই ১,২৩,৮৭ তৃতীয় এবং কংগ্রেসের রাজেশ মিশ্র ৬৬,৩৮৬ চতুর্থ হন।
৫৪৩ আসনের ভারতের লোকসভায় উত্তর প্রদেশে সর্বাধিক ৮০টি আসন রয়েছে। এ জন্য মোদি গুজরাটে নিজের ভদোদরা আসনের বাইরে উত্তর প্রদেশে দাঁড়িয়েছেন।
ভারতের বহু প্রাচীন শহর বারানসী। তবে এবার এখানে নির্বাচনী লড়াইটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। লোকসভার এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে হইচই ফেলে দেয়া নতুন দল আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দুই বাঘা প্রার্থী একই আসনে মুখোমুখি হওয়ায় সবার নজর এখন উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বারানসীতে।
ভারতের হিন্দুদের কাছে অন্যতম পবিত্র শহর বারানসী। মোদি গত মাসে ঘোষণা দেন, তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা শুধু মানুষকে চমকে দেয়ার জন্য ছিল না, অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি বা তাঁর দল ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, এটি অনেক বড় একটি রাজনৈতিক চাল।
কোন দল ভারতের ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখলে উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী লড়াইয়ে ভাল ফল করা প্রায় অপরিহার্য। দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এটি। ২০ কোটি মানুষের এই রাজ্যে লোকসভার আসন আছে ৮০টি।
মোদি টানা দীর্ঘ মেয়াদে পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আছেন। বলা হয়ে থাকে, তাঁর শাসনকালে রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনাও কম নয়। ২০০২ সালে তাঁর রাজ্যে দাঙ্গায় নিহত হয় সহস্রাধিক মুসলমান। এর পেছনে তাঁর মদদ ছিল বলে মনে করেন অনেকে। তবে বিজেপি এবং দলের নেতারা আশা করছেন, মোদি নিজেকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। বারানসীর ভোটাররা সেটাই চাইবেন।
গঙ্গা নদীর তীরবর্তী শহর বারানসী। ধর্মীয়ভাবে খবুই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই শহরে উন্নয়নের ছোঁয়া বলতে গেলে লাগেইনি। জনবহুল, নোংরা এবং অবকাঠামোগতভাবে বিশৃঙ্খল এক শহরই রয়ে গেছে বারানসী।
শহরের বিজেপি নেতা লক্ষ্মণ আচার্যের মতে, নেতৃত্বের অভাবেই বারানসীর এই বেহাল দশা। তিনি বলেন, ‘প্রাচীন এই শহর বহুকাল ধরেই অবহেলিত। নেতৃত্বের সঙ্কটই এর কারণ। এখন মোদি এসেছেন এই আসনে নির্বাচন করতে। ভোটাররা খুশি, তাঁরা বিশ্বাস করেন এবার এখানে কিছু উন্নয়ন হবে।’
তবে উন্নয়ন হোক আর না হোক, ‘বেনারসী’ শাড়ির জন্য বিশ্বখ্যাত বারানসী আসনটি লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতবাসীর মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার করণে।
এই বিষয়গুলোই সামনে নিয়ে এখানে প্রচারে নেমেছে এএপি। বারানসীর জন্য তাদের নির্বাচনী সেøাগান ‘নদী, তাঁতশ্রমিক, পয়োনিষ্কাশন।’ পবিত্র গঙ্গা নদী বারানসীতে দূষণে জর্জরিত, বিখ্যাত বেনারসি শাড়ির শহরে বেহাল দশায় আছেন হাজার হাজার তাঁতশ্রমিক, শহরের পথে পথে খোলা পয়নালা।
শহরের বেনিয়াবাগ মাঠে কদিন আগে কয়েক হাজার মানুষের এক সমাবেশে দেয়া ভাষণে কেজরিওয়াল এখানকার কৃষক, তাঁতশ্রমিক, ব্যবসায়ী ও গৃহবধূদের প্রতি বিজেপিকে ভোট না দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ৬৫ বছর ধরে বিজেপি ও কংগ্রেস মিলে দেশের সম্পদ লুট করছে।’
বারানসীতে ভোট হবে আগামী ১২ মে। আগামী ৭ মে অষ্টম দফা নির্বাচনের দিন মোদি এখানে আসছেন। ওই দিনের ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য সমাবেশে ভাষণ দেবেন। ওই দিন উত্তর প্রদেশে রাহুল গান্ধীর আমেথি ও বরুণ গান্ধীর সুলতানপুরসহ অন্যান্য আসনে নির্বাচন। কেজরিওয়ালের ভাষণের জবাব হয়ত তখনই পাওয়া যাবে। না পেলেও ১৬ মে জানা যাবে, অবহেলিত বারানসীর মানুষ তাঁদের ভাগ্য ফেরাতে কাকে কাছে টানলেন, কাকে ফিরিয়ে দিলেন। ওই দিন ঘোষণা হবে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল।
গত ২৪ এপ্রিল দেশে ষষ্ঠ দফার ভোট চলার সময় বারানসীতে বিরাট জনসমাবেশ ঘটিয়ে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আর তা যেভাবে টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে, তাতে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি নেত্রী মায়াবতী। ষষ্ঠ দফার ভোট চলার ভেতর মোদির মনোনয়নপত্র পেশ এবং তা টিভিতে প্রদর্শনে কংগ্রেসও দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা গ্রহণের। অবশ্য ভদোদরায় সপ্তম দফা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি যেভাবে নির্বাচনী প্রতীক পদ্মফুলের চিহ্ন দেখিয়েছেন, তাতে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গুজরাট প্রশাসন মোদির বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছে।
বারানসী ঐতিহ্যবাহী শহর। এই মন্দির-শহর ভারতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র। হিন্দু-মুসলিম সব শ্রেণীর মানুষ ইতিহাসের কাল থেকে এখান থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির সুবাস সারা ভারতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা কপিল বললেন, ‘বিভেদ-বিদ্বেষের রাজনীতি এখানে মাথা তুলতে পারবে না। বারানসীর মানুষ ভোট দেবেন ধর্মনিরপেক্ষ ভারত-সংস্কৃতি রক্ষায়।’
কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রায় এই লোকসভা কেন্দ্রের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বারানসী লোকসভা কেন্দ্রের অমতর্র্বতী মির্জাপুরের বিধায়ক। গত নির্বাচনে এ আসনে কংগ্রেস চতুর্থ হয়েছিল।
এখানে কথা হয় বারানসী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র অনিল কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি মনে করেন সম্ভাব্য দুইটি কারণে বারানসীকে মোদির লড়াইয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন। এর একটি হচ্ছে- উত্তর প্রদেশই হচ্ছে সর্বাধিক আসন। এখানেই গান্ধী পরিবারের সদস্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরেকটি হচ্ছে- এখানে মুসলিম ভোটের সংখ্যা ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় সর্বাধিক।
তিনি বলেন, ‘এ জন্যই লড়াইটা অনেকে মনে করছেন, সেয়ানে-সেয়ানে হবে। হিন্দুত্ববাদ প্রশ্নে মুসলিম ভোট কতটুকু পান মোদি তা এখন দেখার অপেক্ষার বিষয়। শেষ মুহূর্তে ভোটের হাওয়া কোন্দিকে ঘোরে, বোঝা শক্ত বলে আমরা ধারণা করছি।’ তবে এর সঙ্গে একমত নন বারানসীর কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রাইয়ের প্রধান সম্বন্বয়কারী রাবেয়া কালাম। তিনি বলেন, ‘বারানসী আসনে ১৬-১৭ শতাংশ মুসলিম ভোট আছে। তারা মোদিকে এবার ভোট দেবে না।’ কংগ্রেস বারানসী আসনে মোদির চেয়ে জনপ্রিয় বলেও দাবি করেন রাবেয়া কালাম।
বারানসী মার্কেটের বেনারসী শাড়ির দোকানদার সত্যজিৎ এইচ উপাধ্যয় বলেন, ‘প্রাচীন শহরটি বেনারসী শাড়ির জন্য বিশ্বখ্যাত। এই শাড়ি তৈরি হয় মুসলিম মালিকদের শিল্প কারাখানায়। আর শাড়ির অধিকাংশ বিক্রেতা হচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। দুই সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এই আসনে একটি দৃষ্টান্ত আছে।’
২০০৯ সালে বারনসী আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী মুরলী মনোহর যোশী। তিনি পান ২,০৩,১২২ ভোট। এই আসনে বিএসপির মুকতার আনসারি ১,৮৫,৯১১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়, সমাজবাদী পার্টির অজয় রাই ১,২৩,৮৭ তৃতীয় এবং কংগ্রেসের রাজেশ মিশ্র ৬৬,৩৮৬ চতুর্থ হন।
৫৪৩ আসনের ভারতের লোকসভায় উত্তর প্রদেশে সর্বাধিক ৮০টি আসন রয়েছে। এ জন্য মোদি গুজরাটে নিজের ভদোদরা আসনের বাইরে উত্তর প্রদেশে দাঁড়িয়েছেন।
No comments:
Post a Comment