Friday, May 9, 2014

প্রিয়াঙ্কা ভারতের ভবিষ্যত ইন্দিরা

প্রিয়াঙ্কা ভারতের ভবিষ্যত ইন্দিরা
মুহম্মদ শফিকুর রহমান
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=16&dd=2014-05-10&ni=172328
সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী অনেকেই বলে থাকেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধীর পুনর্জন্ম হয়েছে, ভারতের ভবিষ্যত নেতৃত্ব দেবার জন্যে। এমন পুনর্জন্ম হয় কি-না জানি না, তবে ভারতের হিন্দী সিনেমায় অনেক পুনর্জন্মের ঘটনা দেখেছি। সালমান খান-শাহরুখ খান পুনর্জন্ম নিয়ে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ তথা স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, প্রিয়াঙ্কার ধমনীতে বইছে নেহরু-গান্ধী পরিবারের রক্ত-মতিলাল নেহরু, জওহর লাল নেহরু, প্রিয়দর্শিনী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী-এভাবে প্রজন্ম পরম্পরায় সেই রক্ত বইতে বইতে এখন রাহুল-প্রিয়াঙ্কার ধমনীতে বইছে। রাহুল জ্যেষ্ঠ তাই তাকেই রাজনীতিতে দেয়া হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা সংসার জীবনে। কিন্তু থাকতে পারছেন কই। কিছুু কিছু রক্ত আছে যা জনগণের জন্য নিবেদিত, চেষ্টা করলেও জনগণ থেকে দূরে থাকতে পারে না, অর্থাৎ জনগণের জন্য কাজ করার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো রাজনীতি। ইচ্ছে করলেও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকেও রাজনীতিতে নামতে হলো।
অবশ্য একজন মুসলমান হিসেবে বা পবিত্র ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হিসেবে পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি না। অর্থাৎ পার্থিব পুনর্জন্মে। তবে হ্যাঁ, আমাদেরও একটা পুনর্জন্ম আছে, তা এ দুনিয়ায় নয়, অর্থাৎ শেষ বিচারের দিনে আমাদেরও ‘ইয়া নাফসি’ ‘ইয়া নাফসি’ বলে বলে রোজহাশরের ময়দানে হাজির হতে হবে নিজের এসিআর নিয়ে। আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন আমাদের সৃষ্টি করে এই সুন্দর পৃথিবীতে পাঠালেন; এখানে আমি কি করেছি না-করেছি, কিভাবে জীবন যাপন করেছি না-করেছি, আমার জন্মের ঋণ শোধ করার জায়গা এই পার্থিব জীবন, তা আমি কতখানি শোধ করেছি না-করেছি, তার তো একটা হিসেব দিতে হবে। হাশরের ময়দানে আল্লাহ সে হিসাবে নেবেন।
তবে হ্যাঁ, পুনর্জন্মে কে বিশ্বাস করল কে করল না সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল এ মুহূর্তে ভারতের একশ’ বিশ কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখাবার জন্যে একজন ইন্দিরা গান্ধীর দরকার। যার সৌন্দর্য আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, সাহস, দূরদর্শিতা দেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং তারই প্রতিচ্ছবি প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। যত তাড়াতাড়ি তিনি ভারতের নেতৃত্বে আসবেন, মা সোনিয়া গান্ধী এবং ভাই রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়াবেন ততই মঙ্গল। নইলে গুজরাটের কসাই দাঙ্গাবাজ মোদির হাতে পড়ে ভারতের যে কি দশা হবে তা তো এখনই অনুমান করা যাচ্ছে। যেখানে ধর্মের বাড়াবাড়ি সেখানে ধর্ম থাকে না, অধর্ম এসে বাসা বাঁধে, আসে ধর্মের নামে রাজনীতির ব্যবসা, যা সমাজের জন্যে ক্যান্সার বয়ে আনে। চরম হিন্দুত্ববাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় যাবার আগে এখনি যেভাবে ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ধমকাচ্ছেন, কোন এক নির্বাচনী সভায় ‘কুত্তে কা পিল্লা’ (কুত্তার বাচ্চা) বলে গালিও দিয়েছেন, এমনকি বাংলাদেশ থেকে যারা পশ্চিম বাংলাসহ বিভিন্ন রাজ্যে গেছেন, বসবাস করছেন, তাদেরও বাক্স-পেটরা বেঁধে তৈরি থাকতে বলেছেন, ১৬ মের পর তাদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে। ১৬ মে ভারতের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এই লোক যদি একবার ক্ষমতায় আসে তাহলে কেবল ভারত কেন প্রতিবেশী প্রতিটি দেশেরই ভাববার বিষয় রয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতের সমাজে ক্যান্সার জন্ম নিলে তা-তো চারদিকে ছড়াবেই। কেউ কেউ মনে করেন বাংলাদেশের কাগজে ভারতের ওপর লেখার দরকার কি। উত্তর হলো দরকারটা এখানেই।
ভারত বাংলাদেশের বড় প্রতিবেশী। ভারতের এক শ’ বিশ কোটি মানুষের মধ্যে ২০ কোটি মুসলমান। যেমন বাংলাদেশেও ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে এখনো প্রায় দেড় কোটি হিন্দু তথা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রয়েছে। বাংলাদেশের তিনদিকে ভারত। দুই দেশের মধ্যে এখনও অনেক অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। রয়েছে তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা, রয়েছে বর্ডার সমস্যা, রয়েছে বাণিজ্য বৈষম্য, এসবের সমাধান করতে হলে দুই দেশের রাজনীতি হবে গণতান্ত্রিক (যা ভারত বিগত ৬৭ বছর ধরে চর্চা করে চলেছে) এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে উদার, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ দ্বারা। তাছাড়া বাংলাদেশের তিনদিকে ভারতের বর্ডার হওয়ায়, চোরাচালান মাদকসহ অন্যান্য দ্রব্য যেমন সমস্যা তেমনি আরো বড় সমস্যা হলো বাংলাদেশের সন্ত্রাসী-গডফাদারদের অনায়াসে ভারতে পলায়ন। যেমন সাম্প্রতিককালের নারায়ণগঞ্জের সিরিয়াল খুনের আসামি নুরু এখন কোথায়? ভারতে নয়কি? দেশেও আত্মগোপন করে থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বর্ডারক্রস করে ভারতে যেয়ে দিব্যি বসবাস করছে এবং সেখানে বসেই তদ্বির করে অথবা টাকার জোরে সব অভিযোগ মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসে। প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর গত বুধবার দৈনিক জনকণ্ঠে ‘কোথাও শান্তি নেই, পৃথিবীতে শান্তি নেই আজ’ শিরোনামে প্রকাশিত কলামে বলেছেন, “এইভাবেই বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে”। শ্রদ্ধেয় গাফফার চৌধুরী আরো বলেছেন, “নূর হোসেন পালাতে পেরেছেন, তাতে কি হয়েছে? রানা প্লাজার পলাতক মালিককে যদি ভারত থেকে ধরে আনা যায়, তাহলে নূর হোসেনকে কেন পারা যাবে না?”
এ কারণেই গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক সেক্যুলার বাংলাদেশের (যদিও ভারতের মোদির মতো বাংলাদেশেও খালেদা জিয়ার মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি রয়েছে) মতো প্রতিবেশী ভারতেও গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার রাজনৈতিক শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকতে হবে। নয়ত ক্যান্সার ছড়াতে আর দেরি হবে না। আমরা যদি একবার পেছনের দিকে তাকাই তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতায় গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক-সেক্যুলার রাজনৈতিক শক্তি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় না থাকত, যদি মহীয়সী প্রিয়দর্শিনী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী না থাকতেন, যদি বিজেপির মতো চরম হিন্দুত্ববাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক দল ক্ষমতায় থাকত বা উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে দুই হাজার লোকের হত্যার জন্য অভিযুক্ত নরেন্দ্রনাথ দামোদর দাস মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে কি হতো? আজ এত বছর পরও ভাবতে গা শিউরে ওঠে। আমরা কি ভারতে আশ্রয় পেতাম? প্রবাসী সরকার গঠনে সাহায্য সহযোগিতা পেতাম? না-কি পাকিস্তানী হানাদার, সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য প্রশিক্ষণ-অস্ত্র-গোলা বারুদ পেতাম? বরং মোদির মতো কোন ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদী সেদিন ক্ষমতায় থাকলে বলতেন মুসলমানে-মুসলমানে কামড়া-কামড়ি করছে, তাতে ভারতের কি? করুক না, শেষ হয়ে যাক। মোদিরা আমাদের বহিঃশত্রু দ্বারা আক্রান্ত স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠী ভাবত না। ধর্মান্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখত।
তবে এটাও ঠিক মোদিকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা থেকে শুরু করে চলমান ভোটগ্রহণ পর্যন্ত ভারতের অধিকাংশ মিডিয়া (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) মোদির পক্ষে নেমেছে। যেমন নেমেছেন ভারতের বৃহৎ পুঁজির হাউসগুলো। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া খালেদা জিয়ার পক্ষে এবং তা মোটেই রাজনীতি দেখে না, ব্যক্তি দেখে বলা মুশকিল? সঙ্গত কারণ বলছি এ জন্য যে, ভারতের বিজেপি এবং বাংলাদেশের বিএনপি নামের দিক থেকে যেমন পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি, তেমনি উভয়ের মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কালো ছায়া। ভারতের বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন (ইন্ডিয়া টু ডে)-র ২৮ এপ্রিল’১৪ সংখ্যা মোদিকে এমন সাজে সাজিয়ে প্রচ্ছদে বসানো হয়েছে, প্রথম দর্শনে মনে হবে মোঘল সম্রাট শাজাহান বসে আছেন কারুকার্য খচিত বিছানায়, পাশে পেছনে একই কারুকাজের তাকিয়া, পাশে নদী কলকল সম্ভবত যমুনাকে বোঝানো হয়েছে। সম্রাট শাজাহান এভাবেই যমুনা পাড়ে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে তার দরবার বসাতেন, রাজকার্য পরিচালনা করতেন। মোদির পরনেও দেখানো হয়েছে সম্রাটের মতোই চকচকে কারুকার্য খচিত শেরওয়ানি ও মাথায় পাগড়ি। গত ১০ এপ্রিল দিল্লীতে ভোট হয়েছে। ইন্ডিয়া টু ডে’র কভার স্টোরিটি শুরু করা হয়েছে একজন ভোটারের কথা দিয়ে, যিনি মোদিকে ভোট তো দিয়েছেনই, পরন্তু মোদির পক্ষে সপ্তাহব্যাপী গলিগলি ভোটও চেয়ে বেরিয়েছেন। জয় চৌধুরী নামের এই ভোটার সমর্থক যে কারণে মোদির পক্ষে নেমেছেন তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো : ‘’ Modi’s taking over the top job will bring in a uniform civil code and put an end to young Hindu girls converting to Islam after falling in love with Muslim boys”- মোদিকে ভোট দেয়ার কারণটি লক্ষ্য করার মত নয় কি? শুধু কি তাই, এই মোদিও ঘোষণা করেছেন রামমন্দির নির্মাণ করবেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ ও বসবাসকারীদের ১৬ মের পরে ফেরত পাঠানো হবে। মোদি তাদের বাক্স-পেটয়া গুছিয়ে রাখতে বলেছেন। ১৬ মে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
অথচ গান্ধী পরিবারের দিকে তাকালে দেখা যাবে এক ভিন্ন চিত্র। ইন্দিরা গান্ধী সফদার জং স্ট্রিটে যে বাড়িটিতে থাকতেন তা একেবারেই সাদামাটা, সর্বত্র মধ্যবিত্ত পরিবেশ। ওই বাড়িতে সবচে দামি আসবাবপত্র দেখেছি বই আর কিছু তৈলচিত্র। অন্যান্য আসবাবপত্র চেয়ার-টেবিল-সোফা সেট সবই বেতের তৈরি। ইন্দিরা গান্ধীর পোশাকও ছিল বড় জোর সিল্ক শাড়ি, কারো কারো মত ফ্রান্স থেকে আনা শিপন নয়। একই চালচলনও দেখা যাচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রের মধ্যেও। সোনিয়া গান্ধী যেমন সাদা-মাটা শাড়ি পরেন শাশুড়ির মতো, তেমনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। প্রিয়াঙ্কাকে আজ পর্যন্ত কোন সিল্ক শাড়িতেও দেখা যায়নি, সর্বত্র সাদামাটা সুতি শাড়ি। রাহুল তো সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির ওপর বড় কালো জহর কোর্ট (মুজিব কোটের মতো) পরেন, পথ পার্শ্বস্থ সাধারণ রেস্টুরেন্টে চা পান করেন, যেটা নিয়ে কেউ কেউ ঠাট্টাও করেন। রাহুল এখনো বিয়ে করেননি, সেটা নিয়ে মোদির দল কটাক্ষ করে, অথচ মোদি যশোদাবেনকে যৌবনে বিয়ে করেও অল্প দিনেই তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং গত অর্ধশতাব্দী যাবত খোঁজও নেননি একবারও। এবার ঠেলায় পড়ে বিয়ের কথা স্বীকার করেন, নয়ত নমিনেশনই বাতিল হবার সম্ভাবনা ছিল। পক্ষান্তরে রাহুল গান্ধীকে বলা হয় ‘সংস্কারমুক্ত’ (Liberal) তার মানে এই নয় যে, তিনি ‘হাবাগোবা’ (Opaque)। বরং সেও প্রিয়াঙ্কার মতো স্বদেশের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে, বিদেশের উচ্চ ডিগ্রীধারী স্মার্ট। তার সম্পর্কে বলা হয় He works for the development of every section and looked upon all as equals ’ অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা চেহারা, চাহনি, চুলের স্ট্রাইল, শাড়ি পরার স্টাইল, ভুবন মোহিনী হাসি, কথাবার্তা আচার-আচরণ সবই যেন ইন্দিরা গান্ধীর মতো। এক কথায় বলা যায় শিক্ষায় দীক্ষায় V-V swart যে কারণে বলা হয় প্রিয়াঙ্কা হচ্ছেন ইন্দিরার প্রতিচ্ছবি এবং ভবিষ্যত ভারতের ইন্দিরা গান্ধী। তবে প্রিয়াঙ্কা সরাসরি রাজনীতিতে না এলেও ভারতের রাজনীতিকে এরই মধ্যে আয়ত্তে এনেছেন এবং রাহুলের পর প্রিয়াঙ্কাই হবেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ভ্রাতা, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং ভবিষ্যত ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কথাটি বেশি বলা হবে না এ জন্যে যে, কবি বলেছেন-
“হোনেওয়ালে লাড়কুঁকে মিটি মিটি বাত,
হোনেওয়ালে দরখাত-কে কচি কচি পাত”।
প্রিয়াংকা একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হাসিমুখে চরম আঘাত হানতে সক্ষম। মোদি যখন গান্ধী পরিবার ও তার স্বামীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তখন তার উত্তর ছিল খুবই কার্যকর প্রতি আক্রমণমূলক। তবে ভাষা ছিল সংযত এবং মার্জিত, যাতে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বললেন- “জু কাহনা হায় উনকো কাহনে দিজিয়ে, জু করনা হায় উনকো করনে দিজিয়ে, মুজে কোই পরোয়া নেহি, ম্যাঁয় আপনা কাম করতা হোঁ, করতে রাহোঙ্গে”।
ভারতের সাধারণ নির্বাচনে একটা জেল্টনম্যান এগ্রিমেন্ট ছিল, একদলের বড় নেতা প্রতিপক্ষের বড় নেতার নির্বাচনী এলাকায় যেতেন না, মোদি এবার সেই কালচার ভঙ্গ করে রাহুলের নির্বাচনী এলাকায় গেছেন। এর উত্তরে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য ছিল “ ম্যাঁয় জানতি হুঁ কে আপ সমজতে হায়.... জু সহি নিয়ত সে আপকে সামনে আতা হায়, জু কাম করতা হায় আপ উসে আচ্ছি তরহে সে পহসানতি হায়, তু আপ নিয়ত সমুজ লে ইনকি, কিস লিয়ে আয়ে হায় ইহাঁ”। কোন বেফাঁস কথা নেই, কোন আক্রমণাত্মক শব্দ নেই, কোন ব্যক্তিগত কুৎসা নেই, এমনকি নামও নেননি, তবু এমনভাবে আক্রমণ করলেন যে, মোদি ও তার দল বেকায়দায় পড়ে গেল। কাবেরী বাজমে নামের এক নারী গান্ধী পরিবারের সদস্যদের ব্লাড-গ্রুপ বিশ্লেষণ করে বলেছেন, পরিবারে প্রিয়াঙ্কাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। যেমন সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর ব্লাড-গ্রুপ O+ (O-Positive) তারা একাধিকবার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী assassinated ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ব্লাড-গ্রুপ o-negative ছিল। ঠিক একইভাবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রের ব্লাড গ্রুপও o-(o-negative. অনেকেই বিশ্বাস করে প্রিয়াঙ্কাই হবে পরিবারের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
আমি এসব জ্যোতিষী বিশ্লেষণে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি ভাল পারিবারিক পরিবেশের উত্তরাধিকার এবং ভাল শিক্ষা-দীক্ষা ভাল কালচার. ভাল কাজই মানুষকে ওপরে তুলে আনে। প্রিয়াঙ্কার মধ্যে যেহেতু সবই আছে সেহেতু তিনিই হবেন রাহুলের পর পরিবারের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী- আজ না হয় কাল, কাল না হয় পরশু। ঢাকা ॥ ৮ মে ২০১৪
লেখক : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক

No comments:

Post a Comment