Friday, May 9, 2014

সস্তা শ্রমবাজার, ১৬ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ

আগামী বছরের মধ্যেই ৭শ’ কোটি ডলার সরাসরি বিনিয়োগ
সস্তা শ্রমবাজার, ১৬ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=27&dd=2014-05-10&ni=172304
এম শাহজাহান ॥ তুরস্কের নাগরিক ফিকরেত সিসেক ১৮ বছর যাবত বাংলাদেশ ব্যবসা করছেন। শুরুর দিকে তিনি কার্পেট তৈরি করে নিজদেশ তুরস্কে রফতানি করতেন। এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সময়ের ব্যবধানে তিনি বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। বেড়েছে তাঁর কারখানার উৎপাদনও। উৎপাদিত কার্পেট তুরস্কসহ রফতানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। কার্পেট রফতানির পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিদেশী এই বিনিয়োগকারী। এ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবামূলকখাতে বিনিয়োগ করার স্বপ্ন দেখছেন ফিকরেত।
জানা গেছে, সস্তা শ্রমবাজার, ১৬ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং এশিয়া অঞ্চলের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক স্বপ্নের ভুবন। এ কারণে গত অর্থবছরে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে, যার প্রবৃদ্ধির হার ৩৭ শতাংশ। আর তাই আগামী বছরের মধ্যেই ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আশা করছে সরকার। উৎপাদনমুখী শিল্পের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১৫টি সেবামূলক খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ বোর্ড ১৭টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা দিয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিরক্ষা, আণবিক শক্তি, সংরক্ষিত বনভূমি, টাঁকশাল ও রেলওয়ে এই ৫টি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ নিষিদ্ধ রয়েছে।
সূত্র মতে, উৎপাদনমুখী খাতে বিদেশী বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েই চলছে। আর এ সব উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে জমির। বিনিয়োগের জন্য অন্যতম অপরিহার্য হলো জমি প্রাপ্তি। জমি ক্রয় ও ইজারা নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক শিথিলতা আছে বলে বিনিয়োগ বোর্ড জানিয়েছে। তবে জমির প্রয়োজন খুব বেশি হয় না এমন সব বিদেশী বিনিয়োগে সরকার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। বিনিয়োগ বোর্ড (বিওআই) আশা করছে, এ দেশের সেবামূলক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে সেবামূলক ১৫টি খাত অগ্রাধিকার দিয়ে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও মুনাফা করলেও তাদের তেমন জমির প্রয়োজন হচ্ছে না। অথচ এ খাতে বিনিয়োগের ফিডব্যাক অনেক গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ভারি বা বৃহৎ শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগে সরকার নিরুৎসাহিত করছে না। ভারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সমুদ্রের পার এবং নদী অববাহিকার পরিত্যক্ত জমিগুলো ব্যবহার করতে চায় বিনিয়োগ বোর্ড। এক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এলে সমুদ্র ও নদী পারেও তাদের জমি বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, উৎপাদনমুখী শিল্পের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ১৫টি সেবামূলক খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এ সব খাত হচ্ছে- প্রযুক্তি, কনস্ট্রাকশন বিজনেস, বিনোদন, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেমন- হাসপাতাল, ক্লিনিক ও নার্সিং, হোটেল ও পর্যটন, কনসাল্টিং সার্ভিসেস, ল্যাবরেটরি টেস্টিং, ফটোগ্রাফি কার্যক্রম, প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং, টেলিকমিউনিকেশন, পরিবহন ও যোগাযোগ, ওয়্যারহাউস ও কন্টেইনার সার্ভিস, ব্যাংকিং কার্যক্রম, লিগ্যাল ও প্রফেশনাল সার্ভিস ও শিক্ষাসেবা।
সূত্রগুলো বলছে, এ সব খাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা গেলে জমির ওপর চাপ কমবে। তবে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে কিনা, তা নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র ম-ল জনকণ্ঠকে বলেন, জমির স্বল্পতার কথা বিবেচনায় নিয়ে সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করা হচ্ছে। এ সব খাতে বিনিয়োগের জন্য জমির খুব প্রয়োজন হয় না। বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগ বোর্ড কাজ করছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র রয়েছে। তাই বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে ভারি ও বৃহৎ শিল্পকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের জমির মালিকানা প্রাইভেট সেক্টরের হাতে। এ কারণে সমুদ্রের পার এবং নদী অববাহিকার পরিত্যক্ত জমিতে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। জাপানের টয়োটা গাড়ির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এ কারখানাটি সমুদ্রপারে অবস্থিত। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বোর্ড ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস-বিদ্যুত সঙ্কট এবং ভারি শিল্প স্থাপনে জমির স্বল্পতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকার পরও দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহের গতি বেড়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ৯৬ কোটি ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ এসেছিল, সেখানে ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ১৭৩ কোটি ডলারে। এ ছাড়া গত ২০০১ সাল পর্যন্ত সরাসরি বিদেশী হয়েছিল ৩৫৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০০৯-১৩ পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলারে। বিনিয়োগ বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিদেশী বিনিয়োগের খাত হিসেবে অগ্রাধিকারে রয়েছে বস্ত্র, ব্যাংকিং ও টেলিযোগাযোগ। যদিও পাঁচ বছরের মধ্যে কোন কোন বছরে এর অবস্থান কিছুটা অদল-বদল হয়েছে। যেমনÑ ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ এলেও পরের দুই বছর তা হয়নি। তবে গত অর্থবছরে আবার এই খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। বিপরীতে প্রথম দুই বছরে ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ যে পরিমাণ এসেছে, পরের তিন বছর তা ক্রমাগত বেড়েছে। তবে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতে বিদেশী বিনিয়োগ গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আবদুস সামাদ জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনেই এফডিআই প্রবাহ ৫০০-৭০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে। এ ছাড়া চলতি বছর প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে নিতে সরকার আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, পশ্চিমা ও এশিয়ান বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার সর্বোচ্চ প্রয়াস চালাচ্ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, মিসর, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও চীনের বিনিয়োগকে সম্ভাবনাময় বিবেচনায় নিয়ে দেশ দুটির বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করার প্রয়াস চলছে।
বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের সঠিক পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে আগামী পাঁচ বছরে বড় ধরনের বিনিয়োগ পেতে পারে বাংলাদেশ। তিনি জানান, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের গন্তব্য হিসেবে দেখতে চাই।

বিদেশী বিনিয়োগে ১৭টি
খাতে কর অবকাশ
বিদেশী বিনিয়োগ আনতে বিনিয়োগ বোর্ড ১৭টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা দিয়েছে, যা ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আর্থিক দিক থেকে বা মুনাফা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও বিধিবিধান যথেষ্ট শিথিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় সব উন্নত দেশে বাংলাদেশী পণ্য এখন শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই সুবিধা নেই। ৩২টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। আরও আটটি দেশের সঙ্গে তা করার প্রক্রিয়া চলছে। একইভাবে ২৮টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরও ২১টি দেশের সঙ্গে তা সম্পাদনের কাজ চলছে। এই চুক্তি কার্যকর থাকলে বিদেশী বিনিয়োগকারীকে যে কোন একটি দেশে আয়কর দিলেই চলে। বিনিয়োগের খাতও অবারিত। তবে ৫টি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ নিষিদ্ধ রয়েছে। এগুলো হলো- প্রতিরক্ষা, আণবিক শক্তি, সংরক্ষিত বনভূমি, টাঁকশাল ও রেলওয়ে।
খাদ্য নিরাপত্তায়
বিদেশী বিনিয়োগ
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাঁচ মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্প্রতি চিঠি দেয়া হয়েছে। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এ চিঠি ইস্যু করে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরে গ্রেন এলিভেটর তৈরি, ফ্লাওয়ার মিল ও ভোজ্যতেল শোধনাগার প্ল্যান্ট তৈরিসহ প্যাকেজিং, রেলওয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লাশিল্পের উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে চায় ইউক্রেন। দুই দেশের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে চায় ইউক্রেন সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ প্রসঙ্গে বলেন, সার্বিকভাবে বিদেশী বিনিয়োগের এ প্রবণতা অবশ্যই ইতিবাচক। এতে মনে হচ্ছে যে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে।

বিদেশী বিনিয়োগ আনতে
টাস্কফোর্স গঠন
বিদেশী বিনিয়োগ আনতে ইতোমধ্যে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ সব উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে, যাতে দেশে কাক্সিক্ষত বিদেশী বিনিয়োগ আসে। গঠিত টাস্কফোসের্র প্রধান করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে। সদস্য করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিনিয়োগ বোর্ডের একজন সদস্যকে। এ টাস্কফোর্সের কাজের আওতায় বলা হয়েছে, ৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি নির্বাচন করা, পিপিপির আওতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যুত উৎপাদন নিশ্চিতকরণ, প্রকল্পসমূহে অর্থায়নের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা। ইতোমধ্যে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএফসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারার গহিরা ও মীরসরাই, মৌলভীবাজারের শেরপুরে, সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুসংলগ্ন এলাকায় এবং বাগেরহাটের মংলায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
জানা গেছে, বিনিয়োগ করার পর সেই বিনিয়োগ সুরক্ষায় বিশ্বের ২২তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় গত অর্থবছরে সম্পূর্ণ নতুনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগে এসেছে ৭টি দেশ। আর আগের অর্থবছরের তুলনায় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ৬টি দেশে। বিশ্বব্যাংক ও আইএফসি প্রকাশিত ইজি এ্যান্ড ডুয়িং বিজনেস-২০১৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম। গত ২০১২-১৩ অর্থবছর বাংলাদেশ থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম, জর্দান, কুয়েত ও মাল্টা। তবে লিবিয়া, নাইজিরিয়া, গিনি, সার্বিয়া, মিসর, হাঙ্গেরি সম্পূর্ণ নতুনভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগে এসেছে।

No comments:

Post a Comment