সরকার গঠন বিষয়ে মোদির দৌড়ঝাঁপ, ঠেকাতে ব্যস্ত ইউপিএ
বিভ্রান্তির বুথফেরত সমীক্ষা রিপোর্টেই তৎপর এনডিএ ॥ সরগরম রাষ্ট্রপতি ভবন
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2014-05-14&ni=172721
কাওসার রহমান ॥ বিভ্রান্তি থাকলেও বুথফেরত সমীক্ষায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস পেয়ে সরকার গঠনের দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এখন গুজরাটের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন থেকে শুরু করে তার মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে হোমওয়ার্কে ব্যস্ত। বুথফেরত সমীক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এ দলটি এখন মোদিকে ঠেকাতে বৃহত্তর জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। পাশাপাশি নতুন সরকার গঠন কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ভবনও এখন সরগরম। শেষ দফা ভোটের পরই রাষ্ট্রপতি নতুন সরকার গঠন ও নতুন সংসদ আহ্বানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে এতসব আয়োজনের মাঝে বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং মঙ্গলবার শেষ অফিস করে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। আগামী শনিবার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক করে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তিনি জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়ে দেশবাসীর কাছ থেকে বিদায় নেবেন।
সমীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ॥ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার ফল নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি সমীক্ষায় বিজেপি সমর্থিত জোট এনডিএ এগিয়ে থাকলেও এক এক চ্যানেলের এক এক ফল এসেছে। কেউ বলেছে, এডিএ পাবে ২৪৯টি আসন। আবার কেউ ২৮২টি আসন পাওয়ার কথা বলছে। কেউ বলছে, ২৮৯টি আসন পাবে। আবার কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এনডিএকে ৩৪০ আসন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে। ফলে সমীক্ষার ফল নিয়ে রাজনীতিকদের মধ্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস তো গত রাতেই এ সমীক্ষার ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁরা এ বিষয়ে চ্যানেলগুলোর আলোচনাও বর্জন করেছে।
২০০৪ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনেও এ বুথফেরত সমীক্ষায় এনডিএকে বিপুল আসন দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর ভরাডুবি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কংগ্রেসই দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করে। এবার ভোটে মোদি হওয়া নিয়ে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, এনডিএর অস্বাভাবিক ভাল ফলকে কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না। এ কারণেই সবাই চূড়ান্ত ফল জানার জন্য ১৬ মের দিকে তাকিয়ে আছে।
শেষ দফায় দেশের ৪১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হতে না হতেই টিভি চ্যানেলগুলো ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ দেখাতে শুরু করে। বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলের বুথফেরত সমীক্ষায় উত্তর ভারতে মোদি-ঝড়ের কথা বলা হয়। বলা হয়, বিজেপি এবং এনডিএ কংগ্রেস সমর্থিত ইউপিএকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এতটাই এগিয়ে গেছে, তাদের সরকার গড়তে তেমন বেগ পেতে হবে না।
সব সমীক্ষা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, টাইমস নাউ এবং ওআরজি’র সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে ২৪৯টি আসন। ইউপিএ পেতে পারে ১৪৮টি আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ২১০ থেকে ২২০টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে আসতে পারে ১০৫ থেকে ১২০টি আসন। সিএনএন-আইবিএন ও লোকনীতির সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে ২৭০ থেকে ২৮২ আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ২৩০ থেকে ২৪২ আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ৯২-১০২ আসন পেতে পারে। তবে এ সমীক্ষায় কংগ্রেসের দৌড় থামতে পারে ৭২ থেকে ৮২ আসনে। এবিপি নিউজ-নিয়েলসন সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে ইউপিএ পেতে পারে মাত্র ৯৭ আসন। এনডিএ জোট পেতে পারে ২৮১ আসন। ইন্ডিয়া টিভি-সি ভোটারের সমীক্ষা এনডিএ জোটকে দিয়েছে ২৮৯ আসন, ইউপিএকে ১০১। হেডলাইনস টুডে-ইন্ডিয়া টুডের সমীক্ষায় এনডিএ পেতে চলেছে ২৭২টির বেশি আসন এবং ইউপিএ’র ঝুঁলিতে আসতে পারে ১১৫ আসন।
বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এবার কংগ্রেসের অবস্থা খুবই খারাপ। আগাগোড়া বিষয়ের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মোদি ফ্যাক্টর নয়, সে সঙ্গে সক্রিয় ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএর ১০ বছরের অপশাসন। অত্যাবশ্যক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে ভোটারদের ওপর। তবে এ সমীক্ষার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। ৮১ কোটি ভোটারের মধ্যে কয়েক হাজার ভোটারের মতামত দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসা যুক্তিযুক্ত নয়।
বিজেপি ঠেকাতে মমতাকে পাশে চান সোনিয়া ॥ নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আবার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান সোনিয়া গান্ধী। ভোটপর্ব চুকতেই সোমবার রাতে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কোর কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমটি হলো মোদিকে ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দ্বিতীয়টি হলো এক্সিট পোলের ফল খারিজ। প্রথম উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে গেলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলসহ আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে পেতেই হবে কংগ্রেসকে। সে জন্যই মমতাকে পাশে পেতে চায় কংগ্রেস। আর এ কাজে মমতার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন খোদ সোনিয়া গান্ধী।
ইউপিএ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে আসার পর গত দেড় বছর কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক মোটে মধুর নয়। কিন্তু সে সম্পর্ক আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন সোনিয়া নিজে।
জানা যায়, ভোটের ফল শেষে মমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখবেন সোনিয়া। এমনিতে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক খারাপ হলেও সোনিয়ার সঙ্গে মমতার সম্পর্কের উষ্ণতায় ভাটা পড়েনি। দুই জনেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই সম্পর্ককে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন সোনিয়া।
কংগ্রেসের এক প্রধান নেতা বলেন, ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলসহ অনেক আঞ্চলিক দলকেই আমরা পাশে পেতে চাই। সে জন্যই যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ আঞ্চলিক দলের তালিকায় রয়েছে, মায়াবতীর বিএসপি, মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি, চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মতো দলগুলো।
তবে এ নেতানেত্রীদের মধ্যে মমতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে সোনিয়ার হিসাবটা স্পষ্ট। যেসব রাজনৈতিক দল মুসলিম ভোট পায় এবং অদূর ভবিষ্যতে যাদের বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, তারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যেতে পারবেন না। তৃণমূলের ক্ষেত্রে দুটিই সত্য। ২০১৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে। তাছাড়া রাজ্যের মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ পাওয়ার ব্যাপারে মমতা সচেষ্ট। তাই তার পক্ষে মোদিকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। তার ওপর মোদি সম্প্রতি রাজ্যে গিয়ে মমতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব পাল্টেছে। তার পর থেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ভাবনার শুরু।
ভোট চলার সময় থেকেই কংগ্রেস নেতারা কিভাবে নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকানো যায়, তার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। কোর কমিটির বৈঠকেও সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিভাবে সেটা হবে, কংগ্রেস নিজে সরকার গঠন করতে যাবে, না কি আঞ্চলিক দলের কাউকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে, সেসব বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তবে কংগ্রেস মোটামুটি সব বিকল্পই খোলা রাখছে। অবশ্য পুরোটাই নির্ভর করছে, যদি ফল বেরোনোর পর খেলাটা কিছুটা হলেও তাদের হাতের মধ্যে থাকে। খেলা সম্পূর্ণ হাতের বাইরে গেলে অবশ্য তাদেরও কিছু করার থাকবে না। তখন আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে পেয়েও কিছু করার থাকবে না। তাই ভোটের ফল দেখার পর মমতা, মায়াবতী, মুলায়ম, চন্দ্রশেখর রাওদের পাশে পেতে প্রস্তুত সোনিয়া। কংগ্রেস নেতাদের বিশ্বাস, আপাতত মোদিকে ঠেকাতে পারলে বিজেপির মধ্যে গ-গোল প্রবল আকার নেবে। ভবিষ্যতে মোদির ম্যাজিক আর কাজ করবে না। এত চেষ্টার পর প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলে মোদিও ভেঙ্গে পড়বেন। সব মিলিয়ে তাই একটা চ্যালেঞ্জ নিতে চায় কংগ্রেস। তবে সেটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটা ১৬ মে বোঝা যাবে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রস্তুতি ॥ নতুন সরকার গঠন কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ভবনও সরগরম। শেষ দফা ভোটের পরই রাষ্ট্রপতি নতুন সরকার গঠন ও নতুন সংসদ আহ্বানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আইন ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন লোকসভার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছেন। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোন দল বা জোট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে ওই দল বা জোটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। কিন্তু যদি কোনদল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে তার ভূমিকা অনেক বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে অর্থাৎ কোন জোট বা দল ২৭২ আসন না পেলে রাষ্ট্রপতির কি করণীয় সে বিষয়ে তিনি আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই বৈঠকে এ্যাটর্নি জেনারেল মোহন পরাশরণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁর নতুন নিয়োগকৃত আইন পরামর্শক ও সাবেক কেদ্রীয় আইন সচিব ও লোকসভার সাবেক মহাসচিব টি কে বিশ্বনাথের সঙ্গে। এ ছাড়া উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। নিয়মানুযায়ী, ফল ঘোষণার এক বা দু’দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বানের চূড়ান্ত ফল উপস্থাপন করবে। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আশা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ১৭ বা ১৮ মে’র মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল উপস্থাপন করবেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। অন্যথায় ভূমিকা নেবেন নতুন সরকার গঠনের ব্যাপারে। আগামী ৩১ মে চলমান পঞ্চদশ লোকসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সে আলোকেই তিনি সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং ২ নতুন ষোড়শ লোকসভার নতুন অধিবেশন আহ্বান করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিজেপিতে দৌড়ঝাঁপ ॥ বিজেপিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে। ইতোমধ্যে দলটির নীতি নির্ধারক মোদি এবং দলের প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং সংগঠনটির পরিচালক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করেছেন। বিশেষ করে এক্সিট পোলের জরিপে বিজেপিই নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এমন ইঙ্গিত আসার পর বিজেপি দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কি করা হবে, আর না পেলে কি করা হবে কাকে বা কাদের শরিক হিসেবে নেয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে রেখেছে দলটি।
তবে দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন। এক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে, এতে কারা থাকবেন তা নির্ভর করছে তার ওপরই। ইতোমধ্যে নরেন্দ্র মোদিও কাজ এগিয়ে রাখতে সোমবারই গুজরাট চলে গেছেন। সেখানে তিনি গত সোম ও মঙ্গলবার জোটের শরিক এবং বিজেপির এমএলএদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মোদির পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে মোদিও পরবর্তী গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিনিয়র মন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ট মিসেস আনান্দিবেন প্যাটেলের নামে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে এমএলএ হিসেবে আছেন। বর্তমানে তিনি সড়ক উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও নাম এসেছে দলের অপর সিনিয়র মন্ত্রী নিটিন প্যাটেলের নাম। তবে যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হোন না কেন আগামী ২০ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের একটি তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও দলের স্পীকার ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়েও বিজেপিতে আলোচনা চলছে। স্পীকার পদের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দলের সিনিয়র নেতা মুরলিমনোহর যোশী। কিন্তু ওই পদে সুষমা স্বরাজকে বসিয়ে তাঁকে ‘বিগ ফোর’-এর বাইরে রাখারও একটি প্রস্তাব রয়েছে। অনেকে লালকৃষ্ণ আদভানিকেও স্পীকার পদে আসীন করে তাকে মোদি-বিরোধী বিক্ষুব্ধ নেতাদের থেকে আলাদা রাখার কথা ভাবছেন। তবে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে লোকসভায় প্রবীণতম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আদভানির। সেক্ষেত্রে তিনি প্রথম স্পীকার হবেন এবং স্পীকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার পৌরহিত্য করবেন।
মোদি ইতোমধ্যে আরএসএস নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে তিনি রাজনাথকে মন্ত্রিসভায় আনতে চান। এমনকি রাজনাথকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদও দিতে তার আপত্তি নেই। তবে মোদি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হলে তিনিই হবেন প্রথম আরএসএস প্রচারক যিনি এ পদে আসীন হচ্ছেন। কারণ বাজপেয়ী সঙ্ঘ পরিবারের প্রচারক ছিলেন না। রাজনাথ হলেন আরএসএসের নিজস্ব প্রতিনিধি। তাই মন্ত্রিসভায় রাজনাথ থাকুক, সেটা ভাগবতেরও ইচ্ছা। সেক্ষেত্রে সঙ্ঘ ফের গডকড়িকে বিজেপির সভাপতি করতে আগ্রহী। কিন্তু বিজেপির অনেক শীর্ষ নেতারই এতে আপত্তি রয়েছে। প্রবীণদের মধ্যে যশবন্ত সিন্হা কিংবা যোশ্বার মতো কাউকে যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান করার কথাও ভাবনাচিন্তায় রয়েছে।
সমীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ॥ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার ফল নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি সমীক্ষায় বিজেপি সমর্থিত জোট এনডিএ এগিয়ে থাকলেও এক এক চ্যানেলের এক এক ফল এসেছে। কেউ বলেছে, এডিএ পাবে ২৪৯টি আসন। আবার কেউ ২৮২টি আসন পাওয়ার কথা বলছে। কেউ বলছে, ২৮৯টি আসন পাবে। আবার কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে এনডিএকে ৩৪০ আসন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে। ফলে সমীক্ষার ফল নিয়ে রাজনীতিকদের মধ্যেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেস তো গত রাতেই এ সমীক্ষার ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁরা এ বিষয়ে চ্যানেলগুলোর আলোচনাও বর্জন করেছে।
২০০৪ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনেও এ বুথফেরত সমীক্ষায় এনডিএকে বিপুল আসন দিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর ভরাডুবি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে কংগ্রেসই দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করে। এবার ভোটে মোদি হওয়া নিয়ে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও, এনডিএর অস্বাভাবিক ভাল ফলকে কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না। এ কারণেই সবাই চূড়ান্ত ফল জানার জন্য ১৬ মের দিকে তাকিয়ে আছে।
শেষ দফায় দেশের ৪১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হতে না হতেই টিভি চ্যানেলগুলো ‘বুথফেরত সমীক্ষা’ দেখাতে শুরু করে। বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলের বুথফেরত সমীক্ষায় উত্তর ভারতে মোদি-ঝড়ের কথা বলা হয়। বলা হয়, বিজেপি এবং এনডিএ কংগ্রেস সমর্থিত ইউপিএকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এতটাই এগিয়ে গেছে, তাদের সরকার গড়তে তেমন বেগ পেতে হবে না।
সব সমীক্ষা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, টাইমস নাউ এবং ওআরজি’র সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে ২৪৯টি আসন। ইউপিএ পেতে পারে ১৪৮টি আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ২১০ থেকে ২২০টি আসন। কংগ্রেসের ঝুলিতে আসতে পারে ১০৫ থেকে ১২০টি আসন। সিএনএন-আইবিএন ও লোকনীতির সমীক্ষা অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে ২৭০ থেকে ২৮২ আসন। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেতে পারে ২৩০ থেকে ২৪২ আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ৯২-১০২ আসন পেতে পারে। তবে এ সমীক্ষায় কংগ্রেসের দৌড় থামতে পারে ৭২ থেকে ৮২ আসনে। এবিপি নিউজ-নিয়েলসন সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে ইউপিএ পেতে পারে মাত্র ৯৭ আসন। এনডিএ জোট পেতে পারে ২৮১ আসন। ইন্ডিয়া টিভি-সি ভোটারের সমীক্ষা এনডিএ জোটকে দিয়েছে ২৮৯ আসন, ইউপিএকে ১০১। হেডলাইনস টুডে-ইন্ডিয়া টুডের সমীক্ষায় এনডিএ পেতে চলেছে ২৭২টির বেশি আসন এবং ইউপিএ’র ঝুঁলিতে আসতে পারে ১১৫ আসন।
বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এবার কংগ্রেসের অবস্থা খুবই খারাপ। আগাগোড়া বিষয়ের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে ভোট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মোদি ফ্যাক্টর নয়, সে সঙ্গে সক্রিয় ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএর ১০ বছরের অপশাসন। অত্যাবশ্যক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতি বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে ভোটারদের ওপর। তবে এ সমীক্ষার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। ৮১ কোটি ভোটারের মধ্যে কয়েক হাজার ভোটারের মতামত দিয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসা যুক্তিযুক্ত নয়।
বিজেপি ঠেকাতে মমতাকে পাশে চান সোনিয়া ॥ নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আবার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান সোনিয়া গান্ধী। ভোটপর্ব চুকতেই সোমবার রাতে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কোর কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমটি হলো মোদিকে ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দ্বিতীয়টি হলো এক্সিট পোলের ফল খারিজ। প্রথম উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে গেলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলসহ আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে পেতেই হবে কংগ্রেসকে। সে জন্যই মমতাকে পাশে পেতে চায় কংগ্রেস। আর এ কাজে মমতার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন খোদ সোনিয়া গান্ধী।
ইউপিএ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে আসার পর গত দেড় বছর কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক মোটে মধুর নয়। কিন্তু সে সম্পর্ক আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন সোনিয়া নিজে।
জানা যায়, ভোটের ফল শেষে মমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখবেন সোনিয়া। এমনিতে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক খারাপ হলেও সোনিয়ার সঙ্গে মমতার সম্পর্কের উষ্ণতায় ভাটা পড়েনি। দুই জনেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই সম্পর্ককে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন সোনিয়া।
কংগ্রেসের এক প্রধান নেতা বলেন, ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলসহ অনেক আঞ্চলিক দলকেই আমরা পাশে পেতে চাই। সে জন্যই যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ আঞ্চলিক দলের তালিকায় রয়েছে, মায়াবতীর বিএসপি, মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি, চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মতো দলগুলো।
তবে এ নেতানেত্রীদের মধ্যে মমতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে সোনিয়ার হিসাবটা স্পষ্ট। যেসব রাজনৈতিক দল মুসলিম ভোট পায় এবং অদূর ভবিষ্যতে যাদের বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, তারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যেতে পারবেন না। তৃণমূলের ক্ষেত্রে দুটিই সত্য। ২০১৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে। তাছাড়া রাজ্যের মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ পাওয়ার ব্যাপারে মমতা সচেষ্ট। তাই তার পক্ষে মোদিকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। তার ওপর মোদি সম্প্রতি রাজ্যে গিয়ে মমতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করার পর থেকেই তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব পাল্টেছে। তার পর থেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে মমতার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ভাবনার শুরু।
ভোট চলার সময় থেকেই কংগ্রেস নেতারা কিভাবে নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকানো যায়, তার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। কোর কমিটির বৈঠকেও সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিভাবে সেটা হবে, কংগ্রেস নিজে সরকার গঠন করতে যাবে, না কি আঞ্চলিক দলের কাউকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে, সেসব বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তবে কংগ্রেস মোটামুটি সব বিকল্পই খোলা রাখছে। অবশ্য পুরোটাই নির্ভর করছে, যদি ফল বেরোনোর পর খেলাটা কিছুটা হলেও তাদের হাতের মধ্যে থাকে। খেলা সম্পূর্ণ হাতের বাইরে গেলে অবশ্য তাদেরও কিছু করার থাকবে না। তখন আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে পেয়েও কিছু করার থাকবে না। তাই ভোটের ফল দেখার পর মমতা, মায়াবতী, মুলায়ম, চন্দ্রশেখর রাওদের পাশে পেতে প্রস্তুত সোনিয়া। কংগ্রেস নেতাদের বিশ্বাস, আপাতত মোদিকে ঠেকাতে পারলে বিজেপির মধ্যে গ-গোল প্রবল আকার নেবে। ভবিষ্যতে মোদির ম্যাজিক আর কাজ করবে না। এত চেষ্টার পর প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলে মোদিও ভেঙ্গে পড়বেন। সব মিলিয়ে তাই একটা চ্যালেঞ্জ নিতে চায় কংগ্রেস। তবে সেটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটা ১৬ মে বোঝা যাবে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রস্তুতি ॥ নতুন সরকার গঠন কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি ভবনও সরগরম। শেষ দফা ভোটের পরই রাষ্ট্রপতি নতুন সরকার গঠন ও নতুন সংসদ আহ্বানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি আইন ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন লোকসভার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছেন। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোন দল বা জোট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তাহলে ওই দল বা জোটকে নতুন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। কিন্তু যদি কোনদল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তাহলে তার ভূমিকা অনেক বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হলে অর্থাৎ কোন জোট বা দল ২৭২ আসন না পেলে রাষ্ট্রপতির কি করণীয় সে বিষয়ে তিনি আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ওই বৈঠকে এ্যাটর্নি জেনারেল মোহন পরাশরণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁর নতুন নিয়োগকৃত আইন পরামর্শক ও সাবেক কেদ্রীয় আইন সচিব ও লোকসভার সাবেক মহাসচিব টি কে বিশ্বনাথের সঙ্গে। এ ছাড়া উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও সোমবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। নিয়মানুযায়ী, ফল ঘোষণার এক বা দু’দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বানের চূড়ান্ত ফল উপস্থাপন করবে। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আশা করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ১৭ বা ১৮ মে’র মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল উপস্থাপন করবেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। অন্যথায় ভূমিকা নেবেন নতুন সরকার গঠনের ব্যাপারে। আগামী ৩১ মে চলমান পঞ্চদশ লোকসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সে আলোকেই তিনি সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং ২ নতুন ষোড়শ লোকসভার নতুন অধিবেশন আহ্বান করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিজেপিতে দৌড়ঝাঁপ ॥ বিজেপিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে। ইতোমধ্যে দলটির নীতি নির্ধারক মোদি এবং দলের প্রেসিডেন্ট রাজনাথ সিং সংগঠনটির পরিচালক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দেখা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করেছেন। বিশেষ করে এক্সিট পোলের জরিপে বিজেপিই নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এমন ইঙ্গিত আসার পর বিজেপি দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কি করা হবে, আর না পেলে কি করা হবে কাকে বা কাদের শরিক হিসেবে নেয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে রেখেছে দলটি।
তবে দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবেন। এক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে, এতে কারা থাকবেন তা নির্ভর করছে তার ওপরই। ইতোমধ্যে নরেন্দ্র মোদিও কাজ এগিয়ে রাখতে সোমবারই গুজরাট চলে গেছেন। সেখানে তিনি গত সোম ও মঙ্গলবার জোটের শরিক এবং বিজেপির এমএলএদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মোদির পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে মোদিও পরবর্তী গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিনিয়র মন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ট মিসেস আনান্দিবেন প্যাটেলের নামে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে এমএলএ হিসেবে আছেন। বর্তমানে তিনি সড়ক উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও নাম এসেছে দলের অপর সিনিয়র মন্ত্রী নিটিন প্যাটেলের নাম। তবে যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হোন না কেন আগামী ২০ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের একটি তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও দলের স্পীকার ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়েও বিজেপিতে আলোচনা চলছে। স্পীকার পদের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দলের সিনিয়র নেতা মুরলিমনোহর যোশী। কিন্তু ওই পদে সুষমা স্বরাজকে বসিয়ে তাঁকে ‘বিগ ফোর’-এর বাইরে রাখারও একটি প্রস্তাব রয়েছে। অনেকে লালকৃষ্ণ আদভানিকেও স্পীকার পদে আসীন করে তাকে মোদি-বিরোধী বিক্ষুব্ধ নেতাদের থেকে আলাদা রাখার কথা ভাবছেন। তবে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে লোকসভায় প্রবীণতম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আদভানির। সেক্ষেত্রে তিনি প্রথম স্পীকার হবেন এবং স্পীকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার পৌরহিত্য করবেন।
মোদি ইতোমধ্যে আরএসএস নেতৃত্বকে জানিয়েছেন যে তিনি রাজনাথকে মন্ত্রিসভায় আনতে চান। এমনকি রাজনাথকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদও দিতে তার আপত্তি নেই। তবে মোদি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হলে তিনিই হবেন প্রথম আরএসএস প্রচারক যিনি এ পদে আসীন হচ্ছেন। কারণ বাজপেয়ী সঙ্ঘ পরিবারের প্রচারক ছিলেন না। রাজনাথ হলেন আরএসএসের নিজস্ব প্রতিনিধি। তাই মন্ত্রিসভায় রাজনাথ থাকুক, সেটা ভাগবতেরও ইচ্ছা। সেক্ষেত্রে সঙ্ঘ ফের গডকড়িকে বিজেপির সভাপতি করতে আগ্রহী। কিন্তু বিজেপির অনেক শীর্ষ নেতারই এতে আপত্তি রয়েছে। প্রবীণদের মধ্যে যশবন্ত সিন্হা কিংবা যোশ্বার মতো কাউকে যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান করার কথাও ভাবনাচিন্তায় রয়েছে।
No comments:
Post a Comment