Tuesday, May 13, 2014

র‌্যাব এখন রক্তচোষা ও মানুষখেকো, মনে করেন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী খুনের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না ॥ নারায়ণগঞ্জে বলেছেন বিএনপি নেত্রী

র‌্যাব এখন রক্তচোষা ও মানুষখেকো, মনে করেন খালেদা জিয়া
প্রধানমন্ত্রী খুনের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না ॥ নারায়ণগঞ্জে বলেছেন বিএনপি নেত্রী
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=15&dd=2014-05-14&ni=172720
স্টাফ রিপোর্টার ॥ র‌্যাব এখন রক্তচোষা ও মানুষখেকো হয়ে গেছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অবিলম্বে র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, র‌্যাব যতদিন থাকবে, ততদিন তারা মানুষকে গুম করবে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে তাকেসহ অন্যদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না? তাদের শক্তির উৎস কী? এ ঘটনার বিচার হতেই হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে মিজমিজি মৌচাক মাদ্রাসা রোডের বুকস গার্ডেন এলাকায় কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে নজরুল ও নিহত অন্য ৫ জনের স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করে তিনি বলেন, এ ঘটনার দায়ে অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার র‌্যাবকে দলীয় কাজে ব্যবহার করে অহরহ মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, গুম করছে। তারা জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনার দায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এড়াতে পারেন না। আমরা ওই সময় র‌্যাব তৈরি করেছিলাম সন্ত্রাস দমন ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য। তখন র‌্যাবের কার্যক্রম প্রশংসিত হয়েছিল।
পরে এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারের জলকুড়ির বাসায় গিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত নূর হোসেনকে র‌্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু র‌্যাবের এত ক্ষমতা কোথায়, যে একজনকে তারা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারে? তিনি বলেন, যে র‌্যাব মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, সে র‌্যাবের কোন প্রয়োজন নেই।
নজরুলের বাসায় খালেদা জিয়া বলেন, অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতার করা না হলে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আন্দোলনে নামতে হবে। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, গুম-খুন বন্ধ করুন অন্যথায় দেশের মানুষ এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। তখন আর কারও কিছু করার থাকবে না। নজরুলের শ্বশুরকে ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি নজরুলের পরিবারে কিছু হয় তাহলে তার পরিণতি ভাল হবে না।
খালেদা জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের হত্যাকা-ে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। এতে প্রমাণ হয়, সরকার খুনীদের মদদ দিচ্ছে। এ সরকার একটি খুনী সরকার। তারা র‌্যাবকে দিয়ে হত্যা ও গুমের মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
নিহত নজরুল ইসলামের কিশোরী কন্যাকে সান্ত¡না দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ভেঙ্গে পড়ো না। শক্ত হতে হবে। এই নির্মম হত্যাকা-ের বিচার হতেই হবে। এ জন্য আমরা পাশে আছি, পাশে থাকব। এ সময় একই ঘটনায় নিহত আরও পাঁচ পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া। তাঁরা এ সময় খালেদা জিয়ার কাছে হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তাঁদের সান্ত¡না দিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। ধৈর্য ধরতে হবে। খালেদা জিয়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটিকে সান্ত¡না দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম, নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আবদুস সালাম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলামের প্রশংসা করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনার সাহসী পদক্ষেপেই এ ঘটনার অনেক সত্য উন্মোচিত হয়েছে। তাই আপনাকেও সাহস রেখে চলতে হবে।
বেলা সোয়া ১১টায় গুলশানের বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নজরুল ইসলামের বাড়িতে পৌঁছেন। নজরুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। এ সময় নজরুল ও নিহত অন্য ৫ পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে খালেদা জিয়ার কাছে হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ওই এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
দুপুর ১টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া এ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জলকুড়ির বাড়িতে যান। আবেগতাড়িত কণ্ঠে নিহত চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকার খালেদা জিয়াকে বলেন, আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ সময় খালেদা জিয়াকে পাশে পেয়ে কান্নায় ভেয়েমড় পড়েন নিহতের অন্য স্বজনরাও। প্রায় আধাঘণ্টা খালেদা জিয়া চন্দন সরকারের বাসায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান।
নির্মম হত্যাকা-ের শিকার এ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জলকুড়ির বাসায় তাঁর স্বজনদের সমবেদনা জানাতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ হত্যাকা-ের পর এত সময় পেরিয়ে গেলেও কেন আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। তাদের পেছনে কোন শক্তি আছে। দোষীদের গ্রেফতার করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নূর হোসেনকে র‌্যাবই দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু র‌্যাবের এত ক্ষমতা কোথায়, যে একজনকে তারা দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারে? তিনি বলেন, নির্মম হত্যাকা-ের শিকার এই পরিবারগুলোর কিছু হলে দেশে আগুন জ্বলবে। এই ‘অবৈধ’ সরকার এ বিষয়ে কিছু না করলে সুযোগ পেলে আমরাই বিচার করব।
নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় র‌্যাবের জড়িতদের বিচার দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, র‌্যাব প্রধানমন্ত্রীর আওতায় নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে। তাদের এত ক্ষমতা কিভাবে এলো? যে র‌্যাব মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেই র‌্যাবই মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। যে র‌্যাব মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, সে র‌্যাবের কোন প্রয়োজন নেই।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে খুন-গুমের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এ অবস্থা চলতে পারে না। আমরা এ অবস্থা চলতে দিতে পারি না। এর প্রতিবাদ করতেই হবে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত সবাইকে অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাই তাকে এ হত্যাকা-ের জবাব দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জের হত্যাকা-ের ব্যাপারে সরকার সব জানে। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন হত্যাকারীরা গ্রেফতার হচ্ছে না। তাদের শক্তির উৎস কী জনগণ জানতে চায়? সরকারকে উদ্দেশ করে খালেদা বলেন, খুন- গুমের দায়ভার নিয়ে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, এ সরকার যদি খুনীদের বিচার করতে না পারে তাহলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে তাদের বিচার করা হবে। নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে আপনারা যেসব কর্মসূচী দেবেন তাতে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। এ সরকার এ ঘটনার বিচার না করলে আমরা সুযোগ পেলে এর বিচার অবশ্যই করব।
দুপুর পৌনে ২টায় নারায়ণগঞ্জের জলকুড়ি এলাকায় নিহত এ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা জিয়া। বিকেল পৌনে ৩টায় রাজধানীর গুলশানের বাসায় পৌঁছেন খালেদা জিয়া। নারায়ণগঞ্জে যাওয়া-আসার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে হাত নেড়ে ও সেøাগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে খালেদা জিয়া নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোর সময় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী সেখানে ভিড় জমান।
‘বঙ্গবন্ধু দেশকে দুই’
ভাগে ভাগ করেছেন
বিডিনিউজ জানায়, ছেলে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলার এক মাসের মাথায় ফের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।
বঙ্গবন্ধু দেশকে ‘দুই ভাগে ভাগ করেছেন’- বলে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার রাতে গুলশানে নিজের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যে ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন, তাকে কিভাবে জাতির পিতা বলা যায়। তাহলে সবাই বাঙালী হয় কিভাবে? স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী, কিন্তু জাতি হিসেবে বাঙালী হতে পারি না। ফলে আজ জাতির পিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’
গত ৮ এপ্রিল লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের প্রথম ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ তিনি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গৃহীত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।’
তারেক রহমানের ওই বক্তব্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে রাতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর খালেদা জিয়া র‌্যাব নিয়েও কথা বলেন। এ বাহিনী বিলুপ্ত করার দাবি জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন।
র‌্যাব বিলুপ্ত না হলে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

No comments:

Post a Comment