ঢাকা, গাজীপুর নারায়ণগঞ্জ ॥ বিশুদ্ধ বায়ু নেই
০ ঢাকার বায়ু দূষণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫ গুণ বেশি
০ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে আরও বেশি
০ ইটভাটি ও সীসাযুক্ত পেট্রোল বেশি দূষণ করছে বায়ুকে
০ গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে আরও বেশি
০ ইটভাটি ও সীসাযুক্ত পেট্রোল বেশি দূষণ করছে বায়ুকে
শাহীন রহমান
বায়ু দূষণের ব্যাপ্তি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দূষণের তালিকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের নাম স্থান পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব এলাকায় দূষণের ব্যাপ্তি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বর্তমানে অনেকগুণ বেশি। ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এ মাত্রা আরও ভয়াবহ। এছাড়া এসব এলাকার নদীতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এছাড়া শব্দ দূষণ কোথাও সহনীয় মাত্রায় নেই।
বিশেজ্ঞদের মতে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দূষণ নিয়ে এই প্রথম আলোচনা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। দূষণের ভয়াবহতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখনও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দূষণের ব্যাপ্তি সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও বায়ুর অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। এসব কারণে আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশের নাম জোরেশোরে উল্লেখ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ জরিপে বিশ্বের এক হাজার ৬শ’ শহরের মধ্যে বেশি দূষিত ২৫ শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অবস্থান ১৭তম, গাজীপুর ২১ এবং ঢাকার অবস্থান ৩৪তম। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নয়। এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক জরিপেও বাংলাদেশের বায়ু দূষণের নেতিবাচক দিকটি উঠে এসেছে। এছাড়া সামগ্রিক দূষণের চিত্রও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, শুধু ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ সহনীয় মানমাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। প্রতিমাসেই ঢাকার বায়ু মানমাত্রা পরীক্ষা করে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় বায়ু দূষণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে গড়ে ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলার ম্যাটার-এসপিএম) ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম, যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম বেশি। তাদের মতে, বায়ুর সহনীয় মাত্রার পরিমাণ ২শ’ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও বায়ু মানমাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বেশি বলে জানান পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট জহির উদ্দিন তালুকদার। শুধু বায়ু দূষণ নয়, নদী দূষণ ও শিল্পকারখানার দূষণে তিন নগরী বর্তমানের সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পাশ দিয়েই ঢাকার তিন প্রধান নদী বয়ে চলেছে। এ নদীকেই কেন্দ্র করে শহর গড়ে উঠলেও এই নদীই এখন মরণযন্ত্রণা হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া এ তিন শহরের বুক চিরে গড়ে উঠেছে অজস্র কলকারখানা। যার বেশিরভাগই অপরিকল্পিত। বর্জ্য শোধনাগার ছাড়াই এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলছে বছরের পর বছর। আবার পরিবেশ আইন না মেনে গড়ে উঠেছে সহস্র ইটভাঁটি। ইটভাঁটি ও কলকারখানার ধোঁয়া সরাসরি বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করছে। আবার শিল্পের দূষিত তরল বর্জ্যরে একমাত্র ভাগার হলো ঢাকার তিন নদী। পরিবেশ অধিদফতরের সর্বশেষ জরিপ (মে ২০১৪) ঢাকার প্রধান তিন নদীতে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতিলিটারে ১ মিলিগ্রামের কম রয়েছে অথচ ব্যবহার উপযোগী পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকতে হবে প্রতিলিটারে ৫ মিলিগ্রাম। অক্সিজেনের পরিমাণ আড়াই মিলিগ্রামের নিচে নেমে গেলে সেখানে কোন জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার কথা নয়। সেই অনুযায়ী ঢাকার বুঙ্গিগঙ্গা তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে নদী না বলে আবর্জনার বড় ড্রেন বলাই শ্রেয়।
পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট জহির উদ্দিন তালুকদার বলেন, প্রতিমাসে ঢাকার তিন নদীর পানির অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। মে মাসে বুড়িগঙ্গার ৮ স্থানের পানি পরীক্ষা করে কোথাও ১ মিলিগ্রামের ওপরে অক্সিজেনের মাত্রা পাওয়া যায়নি। তুরাগ নদেও এ মাসে ৫টি স্থানের পানির মাত্রা পরীক্ষা করে একই অবস্থা পাওয়া গেছে। শুধু শীতলক্ষ্যা নদীর ঘোড়াশাল এলাকায় অক্সিজেনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৪ মিলিগ্রামের ওপরে। বাকি স্থানে ১ বা এক ভাগের কিছু ওপরে, যা দূষণের মাত্রার সীমা ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস বা পদার্থ বায়ুতে মিশে জীবজগতের স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাকে বায়ু দূষণ বলে। কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি বায়ু দূষণকারী গ্যাস। কলকারখানা অথবা যানবাহন হতে সৃষ্টি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও বায়ু দূষণকে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলে ঘোষণা করেছে।
পরিবেশ দূষণ ও জীবনমানের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রতিবছর একটি বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করেন। ২০১৪ সালের এ গবেষণায় মোট ১৭৮টি দেশের সার্বিক পরিবেশগত পরিস্থিতি ও জীবনমানে তার প্রভাব নিয়ে এবার গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল ইনভায়রনমেন্টাল পারফর্মেন্স এ্যান্ড ইনডেক্স। এ গবেষণার ফলাফল অনুযায়ীও সার্বিক জীবনমানের ভিত্তিতে পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত দেশগুলোর তালিকায় ১৭৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৯তম। শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের নিরিখে করা পৃথক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮তম। এ গবেষণার নেতিকবাচক দিক বিচেনায় বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন অবস্থানে রয়েছে দেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপর্যয়ের ঝুঁকি, নদী, খাল-বিল এবং অন্যান্য জলাশয়সহ দূষণ ও দখলের প্রতিযোগিতা এবং শব্দ দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ। ঢাকাসহ সমগ্র দেশ আজ ভয়াবহ বায়ু দূষণের কবলে পড়েছে। সীসাযুক্ত পেট্রোল আমদানি বন্ধ করা, ঢাকা থেকে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সি উঠিয়ে দেয়ার পরও ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পেছনে পড়ে নেই গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জও। যদিও এর আগে বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে শুধু ঢাকার নামই জড়িত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের নাম যুক্ত হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে জানান হয়েছে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বায়ু দূষণের মাত্রাও ঢাকার চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শহরের চারপাশের ইটভাঁটি, তীব্র যানজট, পুরনো মোটরগাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ধুলা। এসব মিলিয়ে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী পরিবেশ এখন অস্বস্তিকর। ঢাকা থেকে বিতাড়িত দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সিগুলো অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলাচল করে সৃষ্টি করছে তীব্র বায়ু দূষণ। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শহর এবং তার আশপাশের জনবসতি ও কৃষি জমিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে ওঠা ইটভাঁটি। ফলে এসব ইটভাঁটি বায়ু দূষণের ঘনত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বৈধ ও অবৈধ মিলে সারাদেশে কম-বেশি ১০,০০০ ইটভাঁটি রয়েছে। যার বেশিরভাই ঢাকা ও এর আশপাশে অবস্থিত। এখনও এসব ইটভাঁটিতে সেকেলে পদ্ধতির ইট পোড়ানো হচ্ছে। মূল্যবান কাঠ ছাড়াও নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কয়লা আমদানি করা হচ্ছে ভারতের মেঘালয় থেকে। নিম্নমানের এই কয়লা থেকে নির্গত সালফারের পরিমাণ ৭-১০ শতাংশ। যেখানে পরিবেশসম্মত সর্বোচ্চ সীমা হচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ। ইটভাঁটি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন।
এছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা মোটরগাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড ঢাকার বাতাসকে করে তুলছে আরও ভারি। বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষেণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা এখন এত বেশি যা সহনীয় মাত্রার থেকে পাঁচগুণ বেশি। এরপরও রয়েছে ধুলা। ঢাকা শহরের ধূলিকণাকে ধূলি বোমা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বায়ু দূষণজনিত অসুস্থতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী কাশি, সর্দি, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনাইটিস, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কায়াস্টেসিস, এমফাইসেমা, ক্যান্সার প্রভৃতি। যুক্তরাজ্যের সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডির বাংলাদেশের মৃত্যু ও অসুস্থতা নিয়ে ২০০০ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশের মানব মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে বায়ুবাহিত রোগসমূহ।
শুধু বায়ু দূষণ নয়। এই তিন শহরের অন্যতম মেজর সমস্যা হচ্ছে নদী বা পানি দূষণ। সর্বশেষ গবেষণায় বুঙ্গিগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার পানিতে যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়া গেছে তা কেউ এখন আর পানি বলে স্বীকার করে না। নদীর পাড়ে দাঁড়ালেই দুর্গন্ধযুক্ত পানি গন্ধের টিকা মুশকিল হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬২ বছরের বিষাক্ত পদার্থ চার নদীতে রয়েছে, যা তিনটি শহরের কোল ঘেঁষে প্রবাহিত। ফলে বায়ু দূষণের পাশাপাশি এ নদীগুলো দূষিত পানির কারণে দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর বিষাক্ত পদার্থও বায়ুর সঙ্গে মিশে বায়ুকে দূষিত করছে। ফলে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ঢাকার নদী দূষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যেখানে নদীর দূষণ দখলরোধে আদালতের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তারপরও অবস্থা পাল্টায়নি।
শুধু আদালতের রায় নয়, নদীর অবস্থা বিবেচনায় অনেক আগেই ঢাকার নদীগুলোকে পরিবেশগত বিপর্যস্ত এলাকা (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া-ইসিএ) ঘোষণা করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে। কিন্তু চার নদীকে ইসিএ ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্তু নদীর পরিবেশ উন্নয়নে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। ফলে নদীগুলোকে পরিবেশ বিপর্যস্ত ঘোষণা করেও কোন লাভ হয়নি। নদীর চার পাশে পরিবেশ ধ্বংসী কাজ এখনও অব্যাহত। এ অবস্থা চলতে থাকলে নদীগুলো মরণদশায় পরিণত হবে। ব্যাহত হবে নদীগুলোর পূর্বের অবস্থায় ফিরে নেয়ার কাজ।
২০০৯ সালে অক্টোবর মাসে আদালতের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীকে পরিবেশ সঙ্কটাপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। ১৯৯৫ সালের ১ নং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৫ এর উপধারা(১) এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এবং ১৯৯৭ সালের পরিবেশ আইনের ৩ নং বিধি অনুসারে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিবেশ সঙ্কটাপূর্ণ এলাকার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ৭ ধরনের কার্যাবলী নিষিদ্ধ করা হয়। এসব কাজের মধ্যে ছিল নদীতে সব ধরনের শিকার করা, নদীতে বসবাসকারী জলজপ্রাণী ধরা বা সংগ্রহ করা, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস করা বা ধ্বংসের আশঙ্কা সৃষ্টিকারী সব ধরনের তৎপরতা, ভূমি, পানি, মাটি, বায়ু এবং শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর যে কোন ধরনের কাজ। বাসাবাড়ি, শিল্প কারাখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালী থেকে নিঃসৃত বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নদীতে নির্গমন নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এ নিষিদ্ধ শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। আদালতের রায় বর্তমানে একই অবস্থায় আছে। পরিস্থিতির কোন উন্নতি নেই। ফলে দিন দিন বিশ্বে বাংলাদেশের নাম দূষিত তালিকায় উঠে যাচ্ছে এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।
বায়ু দূষণের ব্যাপ্তি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দূষণের তালিকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের নাম স্থান পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব এলাকায় দূষণের ব্যাপ্তি সহনীয় মাত্রার চেয়ে বর্তমানে অনেকগুণ বেশি। ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ছাড়িয়ে গেছে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এ মাত্রা আরও ভয়াবহ। এছাড়া এসব এলাকার নদীতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এছাড়া শব্দ দূষণ কোথাও সহনীয় মাত্রায় নেই।
বিশেজ্ঞদের মতে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দূষণ নিয়ে এই প্রথম আলোচনা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। দূষণের ভয়াবহতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখনও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দূষণের ব্যাপ্তি সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও বায়ুর অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। এসব কারণে আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশের নাম জোরেশোরে উল্লেখ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ জরিপে বিশ্বের এক হাজার ৬শ’ শহরের মধ্যে বেশি দূষিত ২৫ শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অবস্থান ১৭তম, গাজীপুর ২১ এবং ঢাকার অবস্থান ৩৪তম। শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নয়। এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক জরিপেও বাংলাদেশের বায়ু দূষণের নেতিবাচক দিকটি উঠে এসেছে। এছাড়া সামগ্রিক দূষণের চিত্রও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, শুধু ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ সহনীয় মানমাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। প্রতিমাসেই ঢাকার বায়ু মানমাত্রা পরীক্ষা করে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় বায়ু দূষণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে গড়ে ঢাকা শহরের বায়ু দূষণের মাত্রা (সাসপেন্ডেড পার্টিকুলার ম্যাটার-এসপিএম) ৬শ’ মাইক্রোগ্রাম, যা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৪শ’ মাইক্রোগ্রাম বেশি। তাদের মতে, বায়ুর সহনীয় মাত্রার পরিমাণ ২শ’ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও বায়ু মানমাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বেশি বলে জানান পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট জহির উদ্দিন তালুকদার। শুধু বায়ু দূষণ নয়, নদী দূষণ ও শিল্পকারখানার দূষণে তিন নগরী বর্তমানের সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পাশ দিয়েই ঢাকার তিন প্রধান নদী বয়ে চলেছে। এ নদীকেই কেন্দ্র করে শহর গড়ে উঠলেও এই নদীই এখন মরণযন্ত্রণা হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া এ তিন শহরের বুক চিরে গড়ে উঠেছে অজস্র কলকারখানা। যার বেশিরভাগই অপরিকল্পিত। বর্জ্য শোধনাগার ছাড়াই এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলছে বছরের পর বছর। আবার পরিবেশ আইন না মেনে গড়ে উঠেছে সহস্র ইটভাঁটি। ইটভাঁটি ও কলকারখানার ধোঁয়া সরাসরি বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করছে। আবার শিল্পের দূষিত তরল বর্জ্যরে একমাত্র ভাগার হলো ঢাকার তিন নদী। পরিবেশ অধিদফতরের সর্বশেষ জরিপ (মে ২০১৪) ঢাকার প্রধান তিন নদীতে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতিলিটারে ১ মিলিগ্রামের কম রয়েছে অথচ ব্যবহার উপযোগী পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকতে হবে প্রতিলিটারে ৫ মিলিগ্রাম। অক্সিজেনের পরিমাণ আড়াই মিলিগ্রামের নিচে নেমে গেলে সেখানে কোন জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার কথা নয়। সেই অনুযায়ী ঢাকার বুঙ্গিগঙ্গা তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে নদী না বলে আবর্জনার বড় ড্রেন বলাই শ্রেয়।
পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট জহির উদ্দিন তালুকদার বলেন, প্রতিমাসে ঢাকার তিন নদীর পানির অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। মে মাসে বুড়িগঙ্গার ৮ স্থানের পানি পরীক্ষা করে কোথাও ১ মিলিগ্রামের ওপরে অক্সিজেনের মাত্রা পাওয়া যায়নি। তুরাগ নদেও এ মাসে ৫টি স্থানের পানির মাত্রা পরীক্ষা করে একই অবস্থা পাওয়া গেছে। শুধু শীতলক্ষ্যা নদীর ঘোড়াশাল এলাকায় অক্সিজেনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৪ মিলিগ্রামের ওপরে। বাকি স্থানে ১ বা এক ভাগের কিছু ওপরে, যা দূষণের মাত্রার সীমা ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস বা পদার্থ বায়ুতে মিশে জীবজগতের স্বাভাবিক বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাকে বায়ু দূষণ বলে। কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি বায়ু দূষণকারী গ্যাস। কলকারখানা অথবা যানবাহন হতে সৃষ্টি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও বায়ু দূষণকে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলে ঘোষণা করেছে।
পরিবেশ দূষণ ও জীবনমানের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রভাব বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রতিবছর একটি বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করেন। ২০১৪ সালের এ গবেষণায় মোট ১৭৮টি দেশের সার্বিক পরিবেশগত পরিস্থিতি ও জীবনমানে তার প্রভাব নিয়ে এবার গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে গ্লোবাল ইনভায়রনমেন্টাল পারফর্মেন্স এ্যান্ড ইনডেক্স। এ গবেষণার ফলাফল অনুযায়ীও সার্বিক জীবনমানের ভিত্তিতে পরিবেশগতভাবে সুরক্ষিত দেশগুলোর তালিকায় ১৭৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৯তম। শুধু বিশুদ্ধ বাতাসের নিরিখে করা পৃথক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৮তম। এ গবেষণার নেতিকবাচক দিক বিচেনায় বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন অবস্থানে রয়েছে দেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপর্যয়ের ঝুঁকি, নদী, খাল-বিল এবং অন্যান্য জলাশয়সহ দূষণ ও দখলের প্রতিযোগিতা এবং শব্দ দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ। ঢাকাসহ সমগ্র দেশ আজ ভয়াবহ বায়ু দূষণের কবলে পড়েছে। সীসাযুক্ত পেট্রোল আমদানি বন্ধ করা, ঢাকা থেকে দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সি উঠিয়ে দেয়ার পরও ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পেছনে পড়ে নেই গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জও। যদিও এর আগে বায়ু দূষণের ক্ষেত্রে শুধু ঢাকার নামই জড়িত ছিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের নাম যুক্ত হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে জানান হয়েছে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বায়ু দূষণের মাত্রাও ঢাকার চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর শহরের চারপাশের ইটভাঁটি, তীব্র যানজট, পুরনো মোটরগাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ধুলা। এসব মিলিয়ে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী পরিবেশ এখন অস্বস্তিকর। ঢাকা থেকে বিতাড়িত দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বেবিট্যাক্সিগুলো অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলাচল করে সৃষ্টি করছে তীব্র বায়ু দূষণ। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শহর এবং তার আশপাশের জনবসতি ও কৃষি জমিতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গড়ে ওঠা ইটভাঁটি। ফলে এসব ইটভাঁটি বায়ু দূষণের ঘনত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বৈধ ও অবৈধ মিলে সারাদেশে কম-বেশি ১০,০০০ ইটভাঁটি রয়েছে। যার বেশিরভাই ঢাকা ও এর আশপাশে অবস্থিত। এখনও এসব ইটভাঁটিতে সেকেলে পদ্ধতির ইট পোড়ানো হচ্ছে। মূল্যবান কাঠ ছাড়াও নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কয়লা আমদানি করা হচ্ছে ভারতের মেঘালয় থেকে। নিম্নমানের এই কয়লা থেকে নির্গত সালফারের পরিমাণ ৭-১০ শতাংশ। যেখানে পরিবেশসম্মত সর্বোচ্চ সীমা হচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ। ইটভাঁটি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন।
এছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা মোটরগাড়ি থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড ঢাকার বাতাসকে করে তুলছে আরও ভারি। বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষেণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ঢাকার বায়ু দূষণের মাত্রা এখন এত বেশি যা সহনীয় মাত্রার থেকে পাঁচগুণ বেশি। এরপরও রয়েছে ধুলা। ঢাকা শহরের ধূলিকণাকে ধূলি বোমা হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বায়ু দূষণজনিত অসুস্থতার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী কাশি, সর্দি, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের প্রদাহ, শ্বাসকষ্ট, সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনাইটিস, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কায়াস্টেসিস, এমফাইসেমা, ক্যান্সার প্রভৃতি। যুক্তরাজ্যের সহায়তা সংস্থা ডিএফআইডির বাংলাদেশের মৃত্যু ও অসুস্থতা নিয়ে ২০০০ সালে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, দেশের মানব মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে বায়ুবাহিত রোগসমূহ।
শুধু বায়ু দূষণ নয়। এই তিন শহরের অন্যতম মেজর সমস্যা হচ্ছে নদী বা পানি দূষণ। সর্বশেষ গবেষণায় বুঙ্গিগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার পানিতে যে পরিমাণ অক্সিজেন পাওয়া গেছে তা কেউ এখন আর পানি বলে স্বীকার করে না। নদীর পাড়ে দাঁড়ালেই দুর্গন্ধযুক্ত পানি গন্ধের টিকা মুশকিল হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬২ বছরের বিষাক্ত পদার্থ চার নদীতে রয়েছে, যা তিনটি শহরের কোল ঘেঁষে প্রবাহিত। ফলে বায়ু দূষণের পাশাপাশি এ নদীগুলো দূষিত পানির কারণে দূষিত শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ। গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর বিষাক্ত পদার্থও বায়ুর সঙ্গে মিশে বায়ুকে দূষিত করছে। ফলে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ ঢাকার নদী দূষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে একমাত্র দেশ যেখানে নদীর দূষণ দখলরোধে আদালতের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তারপরও অবস্থা পাল্টায়নি।
শুধু আদালতের রায় নয়, নদীর অবস্থা বিবেচনায় অনেক আগেই ঢাকার নদীগুলোকে পরিবেশগত বিপর্যস্ত এলাকা (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া-ইসিএ) ঘোষণা করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে। কিন্তু চার নদীকে ইসিএ ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্তু নদীর পরিবেশ উন্নয়নে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। ফলে নদীগুলোকে পরিবেশ বিপর্যস্ত ঘোষণা করেও কোন লাভ হয়নি। নদীর চার পাশে পরিবেশ ধ্বংসী কাজ এখনও অব্যাহত। এ অবস্থা চলতে থাকলে নদীগুলো মরণদশায় পরিণত হবে। ব্যাহত হবে নদীগুলোর পূর্বের অবস্থায় ফিরে নেয়ার কাজ।
২০০৯ সালে অক্টোবর মাসে আদালতের নির্দেশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীকে পরিবেশ সঙ্কটাপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। ১৯৯৫ সালের ১ নং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৫ এর উপধারা(১) এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এবং ১৯৯৭ সালের পরিবেশ আইনের ৩ নং বিধি অনুসারে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিবেশ সঙ্কটাপূর্ণ এলাকার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ৭ ধরনের কার্যাবলী নিষিদ্ধ করা হয়। এসব কাজের মধ্যে ছিল নদীতে সব ধরনের শিকার করা, নদীতে বসবাসকারী জলজপ্রাণী ধরা বা সংগ্রহ করা, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস করা বা ধ্বংসের আশঙ্কা সৃষ্টিকারী সব ধরনের তৎপরতা, ভূমি, পানি, মাটি, বায়ু এবং শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর যে কোন ধরনের কাজ। বাসাবাড়ি, শিল্প কারাখানা ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালী থেকে নিঃসৃত বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নদীতে নির্গমন নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এ নিষিদ্ধ শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। আদালতের রায় বর্তমানে একই অবস্থায় আছে। পরিস্থিতির কোন উন্নতি নেই। ফলে দিন দিন বিশ্বে বাংলাদেশের নাম দূষিত তালিকায় উঠে যাচ্ছে এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment