সুবহানের নির্দেশে পাক সেনারা আমাদের গুলি করে, আমি জ্ঞান হারাই
যুদ্ধাপরাধী বিচার
সাক্ষী ইসরাইলের জবানবন্দী
সাক্ষী ইসরাইলের জবানবন্দী
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৫ম সাক্ষী মোঃ ইসরাইল জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেছেন, ‘সুবহান মাওলানার নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা আমাদেরও গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেদিন বেলা সাড়ে চারটার দিকে যখন জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখি পাশেই আমার চাচাত ভাই কুরবান। তাকে জিজ্ঞেস করি, আমরা কোথায় আছি? সে তখন জানায় আমরা রূপপুর তরিকুল ডাক্তারের বাড়িতে। জবানবন্দী শেষে আজ আসামিপক্ষ সাক্ষীর জেরা করার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী গৌর প্রসাদ রায়ের জেরা শেষ হয়েছে। আজ পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছে।
প্রসিকিউশনের ৫ম সাক্ষী মোঃ ইসরাইল জবানবন্দীতে বলেন, সেখান থেকে গাড়িতে করে তাদের স্থানীয় যুক্তিতলা জামে মসজিদের সামনে নিয়ে আসা হয়। সুবহান মাওলানা এ সময় পাক সেনাদের সঙ্গে ছিল। মসজিদের সামনে সেনা প্রহরায় থাকা অবস্থায় সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী আর্মিরা আরও তিনজনকে ধরে এনে গাড়িতে তোলে। সাক্ষী বলেন, ওই তিনজনই যুক্তিতলা গ্রামের বাসিন্দা। আমি আগে থেকেই তাঁদের চিনতাম। এই তিনজন ছিলেন, জয়নাল ঠিকাদার ওরফে জয়নুদ্দিন, জয়নুদ্দিনের মেয়ের জামাই এবং রুস্তম আলী। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষী এই জবানবন্দী প্রদান করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে সংক্ষিপ্ত জেরা করেন আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোঃ আসাদুল ইসলাম।
সাক্ষী মোঃ ইসরাইল জবানবন্দীতে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকালে অভিযুক্ত সুবহানের নেতৃত্বে পাক সেনারা তাদের গ্রাম ঈশ্বরদীর পাকশী থানার উত্তর বাঘাইরে এসে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করার পাশাপাশি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় গ্রামের লোকজন ভয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মা টুলু বেগম (বর্তমানে মৃত), চাচা তাইজুদ্দিন (পাকিস্তানী আর্মিদের গুলিতে নিহত হন) এর সঙ্গে তিনিও পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মাওলানা সুবহান তাদের ধরে পাক সেনাদের গাড়িতে তুলে দেন।
বেলা বারটার দিকে জামে মসজিদের সামনে থেকে তাঁদের ছয়জনকে যুক্তিতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকে আরও তিনজন আটক ছিল। গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁদের সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করানো হয়। তখন দেখলাম সুবহান মাওলানা পাকিস্তানী আর্মিদের সঙ্গে কী যেন পরামর্শ করছেন। এরই একপর্যায়ে দুইজন পালানোর চেষ্টা করলে সুবহান মাওলানা পিস্তল দিয়ে তাঁদের গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, অন্যজন কিছুদূর দৌড়ে গিয়ে একটি ডোবায় পড়ে যান। তখন পাকিস্তানী দুজন আর্মি গিয়ে তাঁকে ডোবার মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে।
সাক্ষী বলেন, সুবহান মাওলানার নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা আমাদেরও গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেদিন বেলা সাড়ে চারটার দিকে যখন জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখি পাশেই আমার চাচাত ভাই কুরবান। তাকে জিজ্ঞেস করি, আমরা কোথায় আছি? সে তখন জানায় আমরা রূপপুর তরিকুল ডাক্তারের বাড়িতে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালকে ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে সাক্ষী জবানবন্দীতে বলেন, সেদিন আমি তলপেটে আর ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হই। আমার মায়ের পায়েও গুলি লাগে। গুলিতে তাঁর পায়ের রগ ছিঁড়ে যায়। এরপর যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন অনেক কষ্ট করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তাঁকে হাঁটতে হয়েছে। সেদিন সুবহানের নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মির গুলিতে তিনি তাঁর মা এবং রুস্তম আলী বেঁচে গেলেও বাকি সবাই নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে না আনা হলে তাঁদেরও মৃত্যু হতে পারত।
সাক্ষী জানান, ডাক্তার বাড়িতে তিন-চার দিন চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থবোধ করলে পরে চাচাত ভাই কুরবান তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। সাক্ষী জবানবন্দীতে বলেন, মাওলানা সুবহানকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অভিযুক্ত এই সুবহান দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইতে আসতেন। জামায়াতের রাজনীতি করতেন। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরক্ষর এ সাক্ষীর বয়স ছিল ১২ থেকে ১৩ বছর। জবানবন্দী দেয়া শেষ হলে সাক্ষী মোঃ ইসরাইল আসামির কাঠগড়ায় থাকা আব্দুস সুবহানকে শনাক্ত করে তাঁর ফাঁসি দাবি করেন।
সৈয়দ মোঃ কায়সার
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী গৌর প্রসাদ রায়ের জেরা শেষ হয়েছে। আজ ১৩তম সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
প্রসিকিউশনের ৫ম সাক্ষী মোঃ ইসরাইল জবানবন্দীতে বলেন, সেখান থেকে গাড়িতে করে তাদের স্থানীয় যুক্তিতলা জামে মসজিদের সামনে নিয়ে আসা হয়। সুবহান মাওলানা এ সময় পাক সেনাদের সঙ্গে ছিল। মসজিদের সামনে সেনা প্রহরায় থাকা অবস্থায় সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী আর্মিরা আরও তিনজনকে ধরে এনে গাড়িতে তোলে। সাক্ষী বলেন, ওই তিনজনই যুক্তিতলা গ্রামের বাসিন্দা। আমি আগে থেকেই তাঁদের চিনতাম। এই তিনজন ছিলেন, জয়নাল ঠিকাদার ওরফে জয়নুদ্দিন, জয়নুদ্দিনের মেয়ের জামাই এবং রুস্তম আলী। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষী এই জবানবন্দী প্রদান করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। জবানবন্দী শেষে সাক্ষীকে সংক্ষিপ্ত জেরা করেন আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোঃ আসাদুল ইসলাম।
সাক্ষী মোঃ ইসরাইল জবানবন্দীতে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকালে অভিযুক্ত সুবহানের নেতৃত্বে পাক সেনারা তাদের গ্রাম ঈশ্বরদীর পাকশী থানার উত্তর বাঘাইরে এসে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করার পাশাপাশি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় গ্রামের লোকজন ভয়ে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মা টুলু বেগম (বর্তমানে মৃত), চাচা তাইজুদ্দিন (পাকিস্তানী আর্মিদের গুলিতে নিহত হন) এর সঙ্গে তিনিও পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় মাওলানা সুবহান তাদের ধরে পাক সেনাদের গাড়িতে তুলে দেন।
বেলা বারটার দিকে জামে মসজিদের সামনে থেকে তাঁদের ছয়জনকে যুক্তিতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকে আরও তিনজন আটক ছিল। গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁদের সবাইকে এক লাইনে দাঁড় করানো হয়। তখন দেখলাম সুবহান মাওলানা পাকিস্তানী আর্মিদের সঙ্গে কী যেন পরামর্শ করছেন। এরই একপর্যায়ে দুইজন পালানোর চেষ্টা করলে সুবহান মাওলানা পিস্তল দিয়ে তাঁদের গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়, অন্যজন কিছুদূর দৌড়ে গিয়ে একটি ডোবায় পড়ে যান। তখন পাকিস্তানী দুজন আর্মি গিয়ে তাঁকে ডোবার মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে।
সাক্ষী বলেন, সুবহান মাওলানার নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা আমাদেরও গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। সেদিন বেলা সাড়ে চারটার দিকে যখন জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখি পাশেই আমার চাচাত ভাই কুরবান। তাকে জিজ্ঞেস করি, আমরা কোথায় আছি? সে তখন জানায় আমরা রূপপুর তরিকুল ডাক্তারের বাড়িতে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালকে ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে সাক্ষী জবানবন্দীতে বলেন, সেদিন আমি তলপেটে আর ঊরুতে গুলিবিদ্ধ হই। আমার মায়ের পায়েও গুলি লাগে। গুলিতে তাঁর পায়ের রগ ছিঁড়ে যায়। এরপর যতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন অনেক কষ্ট করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তাঁকে হাঁটতে হয়েছে। সেদিন সুবহানের নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মির গুলিতে তিনি তাঁর মা এবং রুস্তম আলী বেঁচে গেলেও বাকি সবাই নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে না আনা হলে তাঁদেরও মৃত্যু হতে পারত।
সাক্ষী জানান, ডাক্তার বাড়িতে তিন-চার দিন চিকিৎসা নেয়ার পর কিছুটা সুস্থবোধ করলে পরে চাচাত ভাই কুরবান তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ায় ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। সাক্ষী জবানবন্দীতে বলেন, মাওলানা সুবহানকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অভিযুক্ত এই সুবহান দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইতে আসতেন। জামায়াতের রাজনীতি করতেন। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিরক্ষর এ সাক্ষীর বয়স ছিল ১২ থেকে ১৩ বছর। জবানবন্দী দেয়া শেষ হলে সাক্ষী মোঃ ইসরাইল আসামির কাঠগড়ায় থাকা আব্দুস সুবহানকে শনাক্ত করে তাঁর ফাঁসি দাবি করেন।
সৈয়দ মোঃ কায়সার
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোঃ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী গৌর প্রসাদ রায়ের জেরা শেষ হয়েছে। আজ ১৩তম সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
No comments:
Post a Comment