জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় শত বছরের প্ল্যান
সহায়তা করছে বুয়েট
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় পানিসম্পদ রক্ষায় এক শ’ বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (ডেল্টা প্ল্যান) তৈরিতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) সহায়তা নেয়া হচ্ছে। কেননা বুয়েট দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর ব-দ্বীপগুলোর ওপর গবেষণা পরিচালনা করছে। এ উপলক্ষে বুধবার অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সেমিনার। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মনসুর রহমান এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্ম প্রধান মফিদুল ইসলাম।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ডেলটা প্ল্যানকে দীর্ঘমেয়াদী ও সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে সরকার বিবেচনা করছে। এ প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য একে ছোট ছোট কম্পোনেন্টে ভাগ করে সরল উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্ল্যানের উদ্দেশ্য অবশ্যই ব-দ্বীপ অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে, যাতে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের জীবনমান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-কে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, কোন সন্দেহ নেই জলবায়ু পরিবর্তন ব-দ্বীপ অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে এসেছে। এ জন্য বৃহত্তর পরিসরে পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ছোট ছোট অনেক পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে প্রক্রিয়াটিতে সমস্ত মন্ত্রণালয় অংশ নিতে পারে। মন্ত্রী এ সময় উপস্থিত নেদারল্যান্ডস প্রতিনিধিদের কাছে ব-দ্বীপ অঞ্চলে বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। ড. শামসুল আলম বলেন, টাকার অঙ্কে এটি ছোট প্রকল্প হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক বড়। কেননা ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিকল্পনা তৈরিতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। বুয়েট যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন ব-দ্বীপগুলো নিয়ে গবেষণা করছে, তাই তাদের জ্ঞানকে এ পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে চাচ্ছি। এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে যেসব তথ্যউপাত্ত পাওয়া যাবে সেগুলোকে কাজে লাগানো হবে ডেল্টা প্ল্যান তৈরিতে।
সেমিনারে বক্তারা বদ্বীপ অঞ্চলকে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ অঞ্চলের জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবিকা, জীবনযাত্রা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মুনছুর রহমান বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ফলে বর্তমানে ৪০ ভাগ পানি নিঃসরণ যে এলাকার নদীগুলো দিয়ে হয়ে থাকে, তা আজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে নদী থেকে পলি নিঃসরণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না। সমগ্র পলি নিঃসরণের ২৬ ভাগ আজ ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ লবণাক্ততা ও জমি ক্ষয় বহুল আকারে সংগঠিত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার কৃষিকাজ বিঘিœত হয়ে খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ পরিকল্পনায় জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, পানিবিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলীদের যেমন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ঠিক তেমনি সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদদেরকেও এ পরিকল্পনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করে বহুমুখী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। জানানো হয়, সমগ্র পৃথিবীতে ব-দ্বীপ অঞ্চলে ৫০ কোটিরও বেশি লোক বসবাস করছে। এদের জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলিস্টিক এ্যাপ্রোচ হিসেবে ডেল্টা প্ল্যানকে প্রণয়ন প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ শীর্ষক এ পরিকলল্পনা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস। এ জন্য ইতোমধ্যেই দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় নেদারল্যান্ডস এ পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে। সরকার সাম্প্রতিক কয়েক দশকে পানিসম্পদ, কৃষি, ভূমি ব্যবহার, মৎস্য ও বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা, নীতি, কর্মসূচী ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, হাওড় মাস্টার প্ল্যান, এগ্রিকালচার মাস্টার প্ল্যান ফর সাউদার্ন রিজিওন এবং জাতীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ পরিকল্পনাগুলো কাক্সিক্ষত হারে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না। একক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বৈততার সৃষ্টি হয়ে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। সে কারণেই ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদী একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তা ছাড়া দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ইস্যুসমূহ যথাযথ বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী এ পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছে পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভূ-প্রতিবেশ খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত হবে। বাংলাদেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যত উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হবে। সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করে করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সরকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা ও মান উন্নয়ন এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার ফলে একই কাঠামোর আওতায় সার্বিক সমন্বিত আকারে সব খাতে এর সুনির্দিষ্ট পলিসি ও প্ল্যান এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রতিফলন ঘটবে। এতে সীমিত সম্পদের মধ্যে কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় কর্মসূচীসমূহ আরও যৌক্তিক উপায়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। একটি বৃহদাকার সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারী, ব্যক্তিখাত, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও এনজিও সবার অর্থায়ন করার সুযোগ থাকবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ থাকবে। ডেল্টা প্ল্যানে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন প্রস্তাব থাকবে যেখানে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন সমান্তরালভাবে চালু থাকবে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রথমে কোন ভুল নয় এমন পন্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে ওই বাস্তবায়নের ফলাফল পরিকল্পনা প্রণয়ন অংশে যুক্ত হবে। বিদ্যমান পরিকল্পনা ও পলিসিসমূহের সঙ্গে কিভাবে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান সামঞ্জস্য রাখবে তার জন্য একটি ডেল্টা কমিশন গঠন করতে হবে এবং ওই কমিশনই সেটি বিবেচনা করবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ডেলটা প্ল্যানকে দীর্ঘমেয়াদী ও সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে সরকার বিবেচনা করছে। এ প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য একে ছোট ছোট কম্পোনেন্টে ভাগ করে সরল উপায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্ল্যানের উদ্দেশ্য অবশ্যই ব-দ্বীপ অঞ্চলের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে, যাতে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের জীবনমান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-কে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে পারে। মন্ত্রী আরও বলেন, কোন সন্দেহ নেই জলবায়ু পরিবর্তন ব-দ্বীপ অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে এসেছে। এ জন্য বৃহত্তর পরিসরে পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য ছোট ছোট অনেক পন্থা উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে প্রক্রিয়াটিতে সমস্ত মন্ত্রণালয় অংশ নিতে পারে। মন্ত্রী এ সময় উপস্থিত নেদারল্যান্ডস প্রতিনিধিদের কাছে ব-দ্বীপ অঞ্চলে বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। ড. শামসুল আলম বলেন, টাকার অঙ্কে এটি ছোট প্রকল্প হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক বড়। কেননা ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিকল্পনা তৈরিতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন। বুয়েট যেহেতু বিশ্বের বিভিন্ন ব-দ্বীপগুলো নিয়ে গবেষণা করছে, তাই তাদের জ্ঞানকে এ পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে চাচ্ছি। এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে যেসব তথ্যউপাত্ত পাওয়া যাবে সেগুলোকে কাজে লাগানো হবে ডেল্টা প্ল্যান তৈরিতে।
সেমিনারে বক্তারা বদ্বীপ অঞ্চলকে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ অঞ্চলের জনগণ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবিকা, জীবনযাত্রা, জনস্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মুনছুর রহমান বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ফলে বর্তমানে ৪০ ভাগ পানি নিঃসরণ যে এলাকার নদীগুলো দিয়ে হয়ে থাকে, তা আজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে নদী থেকে পলি নিঃসরণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে না। সমগ্র পলি নিঃসরণের ২৬ ভাগ আজ ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ অঞ্চলের ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ লবণাক্ততা ও জমি ক্ষয় বহুল আকারে সংগঠিত হচ্ছে। ফলে ওই এলাকার কৃষিকাজ বিঘিœত হয়ে খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ পরিকল্পনায় জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, পানিবিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলীদের যেমন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ঠিক তেমনি সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, কৃষিবিদদেরকেও এ পরিকল্পনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করে বহুমুখী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। জানানো হয়, সমগ্র পৃথিবীতে ব-দ্বীপ অঞ্চলে ৫০ কোটিরও বেশি লোক বসবাস করছে। এদের জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলিস্টিক এ্যাপ্রোচ হিসেবে ডেল্টা প্ল্যানকে প্রণয়ন প্রয়োজন।
সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের পানিসম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ শীর্ষক এ পরিকলল্পনা তৈরিতে সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস। এ জন্য ইতোমধ্যেই দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় নেদারল্যান্ডস এ পরিকল্পনা তৈরির জন্য ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে। সরকার সাম্প্রতিক কয়েক দশকে পানিসম্পদ, কৃষি, ভূমি ব্যবহার, মৎস্য ও বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা, নীতি, কর্মসূচী ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ইন্টিগ্রেটেড কোস্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, হাওড় মাস্টার প্ল্যান, এগ্রিকালচার মাস্টার প্ল্যান ফর সাউদার্ন রিজিওন এবং জাতীয় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ পরিকল্পনাগুলো কাক্সিক্ষত হারে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না। একক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বৈততার সৃষ্টি হয়ে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। সে কারণেই ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদী একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তা ছাড়া দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ইস্যুসমূহ যথাযথ বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী এ পরিকল্পনা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হচ্ছে পানিসম্পদ, ভূমি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভূ-প্রতিবেশ খাতকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত হবে। বাংলাদেশের ব-দ্বীপ ভূমিতে প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের ভবিষ্যত উন্নয়ন প্রশাসন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হবে। সমন্বিত নীতি উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের সম্ভাব্য বাধা চিহ্নিত করে করণীয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। এ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সরকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা ও মান উন্নয়ন এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার ফলে একই কাঠামোর আওতায় সার্বিক সমন্বিত আকারে সব খাতে এর সুনির্দিষ্ট পলিসি ও প্ল্যান এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রতিফলন ঘটবে। এতে সীমিত সম্পদের মধ্যে কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় কর্মসূচীসমূহ আরও যৌক্তিক উপায়ে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। একটি বৃহদাকার সমন্বিত পরিকল্পনায় প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারী, ব্যক্তিখাত, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও এনজিও সবার অর্থায়ন করার সুযোগ থাকবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ থাকবে। ডেল্টা প্ল্যানে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন প্রস্তাব থাকবে যেখানে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন সমান্তরালভাবে চালু থাকবে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রথমে কোন ভুল নয় এমন পন্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে ওই বাস্তবায়নের ফলাফল পরিকল্পনা প্রণয়ন অংশে যুক্ত হবে। বিদ্যমান পরিকল্পনা ও পলিসিসমূহের সঙ্গে কিভাবে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান সামঞ্জস্য রাখবে তার জন্য একটি ডেল্টা কমিশন গঠন করতে হবে এবং ওই কমিশনই সেটি বিবেচনা করবে।
No comments:
Post a Comment