সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের সুকুমার কাতরাচ্ছে হাসপাতালে
মামলা করায় ‘নব্য’ আওয়ামী লীগার মনি কারিগর বাহিনী প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন কালীগঞ্জের জাফরপুর গ্রামের সুকুমার ঘোষ (৭০)। দুই পায়ের গোড়ালি থেকে কোমর পর্যন্ত এবং বাঁ হাতটি সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজে মোড়া। নিজের শক্তিতে সামান্য নড়ার ক্ষমতাও নেই এই বৃদ্ধের। জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগার মনি কারিগর ও তার সহযোগী শেখর, গৌর ও গোবিন্দ বাহিনী মোবাইলে ডেকে নিয়ে এই বুড়ো মানুষটির দুই পায়ের গোড়ালি থেকে উরু পর্যন্ত এবং বাঁ হাত সম্পূর্ণ পিটিয়ে ৭টি অংশে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতালের বেডে গত ৫ দিন ধরে মৃত্যু যন্ত্রণায় দিন কাটছে এই বৃদ্ধের। চিকিৎসকরা বলেছেন বাঁচাতে হলে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল বা ভারতে যেতে হবে চিকিৎসা নিতে। এ ঘটনায় মামলা করায় বিপাকে এই বৃদ্ধের পরিবার। অব্যাহত হুমকির মুখে এক প্রকার বাড়ি ফেরা বন্ধ এই পরিবারের সদস্যদের। জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত কালিগঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম আলী মোড়ল হত্যা মামলার আসামিরা গত ৫ মাসেও ধরা পড়েনি। নিহত মোড়লের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা (৫০) স্বামী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও হত্যা মামলার কোন আসামি ধরা পড়েনি। উপরন্তু সরকার বদল হলে ফের দেখে নেয়া হবে আসামিদের নিত্য হুমকির মুখে আতঙ্কে দিন কাটছে অসহায় স্ত্রী-পুত্রের। পরিবারের নিরাপত্তা ও আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে আফরোজা সুলতানা এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তবে কালীগঞ্জ থানার ওসি গোলাম রহমান শনিবার দুপুরে জনকণ্ঠকে বলেন, মোসলেম হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশ সুপারের মনিটরিং সেলে আলোচনা হয়। আসামি ধরা না পড়লেও তদন্ত করে চার্জশীট দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সুকুমার ঘোষ হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জাফরপুর গ্রামের বৃদ্ধ সুকুমার ঘোষ পেশায় কবিরাজ। সত্যবাদী বলে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি কালীগঞ্জের রশিকানন্দ গৌড়ীয় মঠের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৫ মে সন্ধ্যায় বিশ্বনাথপুর পুজোম-পে হরিনামের জন্য তাকে মোবাইলে ডাকা হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরই সন্ত্রাসী এই বাহিনী তাকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে মৃত ভেবে চলে যায়। সুকুমারের বড় ছেলে সঞ্জয় ঘোষ শনিবার জনকণ্ঠকে বলেন, আসামি ধরা না পড়ায় তারা এখন বিপাকে। হুমকির মুখে তারা বাড়ি থাকতে নিরাপত্তাবোধ করছেন না।
জামায়াত-শিবির প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম আলীকে (৬০) গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টায় মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। কালীগঞ্জের কৃষ্ণনগর গ্রামে জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে এমন খবরে আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের নিয়ে তিনি কৃষ্ণনগরে যান। সেখান থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফিরে আসার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ আফরোজা খাতুনকে বাদী করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা রেকর্ড করে। আফরোজা ২০ জানুয়ারি প্রধাণমন্ত্রীর কাছে দেয়া আবেদনে মিজানুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমানকে হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে অন্যান্য আসামির নাম উল্লেখ করে বিচারের আওতায় নেয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, স্বামী হত্যার সঙ্গে এলাকার অনেক জামায়াত নেতা জড়িত থাকলেও তাদের নাম মামলায় বাদ পড়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পুত্র জাকির হোসেন গত এপ্রিলে বাদী হয়ে সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, আসামিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের শেল্টারে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। এ কারণে তারা শঙ্কিত। নিহতের স্ত্রী জনকণ্ঠকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন সহ স্বামী হত্যাকারীদের বিচারের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
জাফরপুর গ্রামের বৃদ্ধ সুকুমার ঘোষ পেশায় কবিরাজ। সত্যবাদী বলে এলাকায় তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি কালীগঞ্জের রশিকানন্দ গৌড়ীয় মঠের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৫ মে সন্ধ্যায় বিশ্বনাথপুর পুজোম-পে হরিনামের জন্য তাকে মোবাইলে ডাকা হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরই সন্ত্রাসী এই বাহিনী তাকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে মৃত ভেবে চলে যায়। সুকুমারের বড় ছেলে সঞ্জয় ঘোষ শনিবার জনকণ্ঠকে বলেন, আসামি ধরা না পড়ায় তারা এখন বিপাকে। হুমকির মুখে তারা বাড়ি থাকতে নিরাপত্তাবোধ করছেন না।
জামায়াত-শিবির প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম আলীকে (৬০) গত ১৭ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ২টায় মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। কালীগঞ্জের কৃষ্ণনগর গ্রামে জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে এমন খবরে আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের নিয়ে তিনি কৃষ্ণনগরে যান। সেখান থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফিরে আসার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ আফরোজা খাতুনকে বাদী করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা রেকর্ড করে। আফরোজা ২০ জানুয়ারি প্রধাণমন্ত্রীর কাছে দেয়া আবেদনে মিজানুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমানকে হত্যার হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত করে অন্যান্য আসামির নাম উল্লেখ করে বিচারের আওতায় নেয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, স্বামী হত্যার সঙ্গে এলাকার অনেক জামায়াত নেতা জড়িত থাকলেও তাদের নাম মামলায় বাদ পড়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পুত্র জাকির হোসেন গত এপ্রিলে বাদী হয়ে সাতক্ষীরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, আসামিরা আওয়ামী লীগ নেতাদের শেল্টারে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। এ কারণে তারা শঙ্কিত। নিহতের স্ত্রী জনকণ্ঠকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন সহ স্বামী হত্যাকারীদের বিচারের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment