বিদ্রোহের বিস্ফোরণ আলিমুদ্দিনে
সদর দপ্তরে কামান দাগারই উপক্রম৷
বিপর্যস্ত সিপিএমে বিদ্রোহের আঁচ বাড়তে বাড়তে শেষে মুজফ্ফর আহমেদ ভবনের সদর দরজায় গিয়ে পৌঁছল৷ বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্যকান্ত মিশ্র -সহ সিপিএম শীর্ষ নেতাদের কানের কাছে রীতিমতো চোঙা ফুঁকে নেতৃত্বে বদলের দাবি জানালেন দলেরই নেতা-কর্মীদের একাংশ৷ আক্রান্ত কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দলীয় দন্তরের 'ঠান্ডাঘরে বসে থাকা' নেতাদের পদ থেকে টেনে নামানোর আওয়াজ উঠল৷ পার্টি না ভেঙে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা নেতাদের সরাতে খাস আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই 'পরিবর্তনে'র স্লোগান উঠল মঙ্গলবার অপরাহ্নে৷ নিচুতলার কর্মীরা আবার তাঁদের এই বিদ্রোহে পাশে পেয়ে গেলেন রেজ্জাক মোল্লা, প্রসেনজিত্ বসুর মতো আগেই বহিষ্কৃত নেতাদের৷ নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য নেতৃত্ব বদলের দাবিতে এবং তরুণ নেতা শুভনীল চৌধুরীর বহিষ্কারের প্রতিবাদে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির সম্পাদক হাসনাইন ইমামের নেতৃত্বে একদল সিপিএম নেতা-কর্মী-সমর্থক এ দিন মিছিল-পথসভার ডাক দিয়েছিলেন৷ মৌলানা আজাদ কলেজের সামনে সমবেত হয়ে তাঁরা মিছিল করে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সব্জি মোড়ে আসেন৷ মিছিলে পা মেলান রেজ্জাক, প্রসেনজিত্ , শুভনীলরাও৷ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির সাত-আট জন সদস্য ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি শাখা ও লোকাল কমিটির বেশ কয়েক জন সদস্যও এই কর্মসূচিতে সামিল হন৷ মিছিলে দেখা গিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটিশচার্চ কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এসএফআই নেতাদেরও৷ সব্জি মোড়ে মিছিল শেষে শুরু হয় পথসভা৷ হাসনাইন ইমাম বলেন, 'আমরা কোনও বিদ্রোহ করছি না, পার্টি ভাঙতেও চাইছি না৷ আমরা চাইছি, নেতৃত্ব আমাদের মনের কথা শুনুন৷ শুভনীল যে নেতৃত্ব বদলের কথা বলছেন, তা কোনও ব্যক্তির কথা নয়, এটা অনেক কমরেডেরই মনের কথা৷' আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির অন্য সদস্য এহসান আহমেদ বলেন, 'আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নেতাদের দেখা যাচ্ছে না৷ উল্টে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদেরই বহিষ্কার করা হচ্ছে৷ পার্টির কর্মপদ্ধতি ও নেতৃত্বে বদল আনতেই হবে৷' সদ্য বহিষ্কৃত শুভনীল বলেন, 'হাড়োয়ায় কর্মীরা যখন মার খাচ্ছেন, তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মার্কেজ নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন--এটা মেনে নেওয়া যায়? দলের বিপর্যয়ের দায় নেতৃত্বকেই নিতে হবে৷' আর রেজ্জাক তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শিল্পায়ন, জমি অধিগ্রহণ বিতর্কে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, নিরুপম সেনের সমালোচনায় সরব হন৷ বুদ্ধবাবুকে তিনি পরোক্ষে রোমানিয়ার একনায়ক চেসেস্কুর সঙ্গেও তুলনা করেন৷ কখনও আবার 'লাটসাহেব' বা হরিদাস বলেও কটাক্ষ করেন৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা একদা সহকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত এই প্রবীণ নেতার মন্তব্য, 'যারা কোনও দিন শ্রমিক-কৃষকের পাশে দাঁড়ায়নি, তারাই পাটভাঙা ধুতি পরে, গায়ে সেন্ট মেখে নেতা হয়েছে৷ দলে গণতন্ত্র নেই, শুধু কেন্দ্রিকতা রয়েছে৷' তাঁর হুঁশিয়ারি, 'এর পর আলিমুদ্দিনের গেটের সামনে গিয়ে বসব, গেট ধরে নাড়া দেব, ভিতরেও ঢুকব৷' 'বিদ্রোহী 'দের বক্তব্যে ভাবান্তরের লক্ষণ না দেখিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য ফের বহিষ্কারের খড়্গই তুলছেন৷ জেহাদ ঘোষণার 'দায়ে' আলিমুদ্দিন স্ট্রিট-মল্লিকবাজার লোকাল কমিটির সম্পাদক-সহ একাধিক এলসিএম এবং অন্য সদস্যকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মোটামুটি চড়ান্ত হয়েই গিয়েছে৷ দলে গণতন্ত্র না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও মানতে নারাজ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু৷ তাঁর যুক্তি , 'পার্টিতে থাকলে পার্টির ভিতরেই কথা বলতে হয়৷ দলে গণতন্ত্র রয়েছে৷ নিয়ম না মেনে পার্টির বাইরে কথা বলছেন যাঁরা , তাঁদের ক্ষেত্রেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত৷
বিপর্যস্ত সিপিএমে বিদ্রোহের আঁচ বাড়তে বাড়তে শেষে মুজফ্ফর আহমেদ ভবনের সদর দরজায় গিয়ে পৌঁছল৷ বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্যকান্ত মিশ্র -সহ সিপিএম শীর্ষ নেতাদের কানের কাছে রীতিমতো চোঙা ফুঁকে নেতৃত্বে বদলের দাবি জানালেন দলেরই নেতা-কর্মীদের একাংশ৷ আক্রান্ত কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে দলীয় দন্তরের 'ঠান্ডাঘরে বসে থাকা' নেতাদের পদ থেকে টেনে নামানোর আওয়াজ উঠল৷ পার্টি না ভেঙে জগদ্দল পাথরের মতো বসে থাকা নেতাদের সরাতে খাস আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই 'পরিবর্তনে'র স্লোগান উঠল মঙ্গলবার অপরাহ্নে৷ নিচুতলার কর্মীরা আবার তাঁদের এই বিদ্রোহে পাশে পেয়ে গেলেন রেজ্জাক মোল্লা, প্রসেনজিত্ বসুর মতো আগেই বহিষ্কৃত নেতাদের৷ নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য নেতৃত্ব বদলের দাবিতে এবং তরুণ নেতা শুভনীল চৌধুরীর বহিষ্কারের প্রতিবাদে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির সম্পাদক হাসনাইন ইমামের নেতৃত্বে একদল সিপিএম নেতা-কর্মী-সমর্থক এ দিন মিছিল-পথসভার ডাক দিয়েছিলেন৷ মৌলানা আজাদ কলেজের সামনে সমবেত হয়ে তাঁরা মিছিল করে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সব্জি মোড়ে আসেন৷ মিছিলে পা মেলান রেজ্জাক, প্রসেনজিত্ , শুভনীলরাও৷ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির সাত-আট জন সদস্য ছাড়াও কলকাতার আরও কয়েকটি শাখা ও লোকাল কমিটির বেশ কয়েক জন সদস্যও এই কর্মসূচিতে সামিল হন৷ মিছিলে দেখা গিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটিশচার্চ কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এসএফআই নেতাদেরও৷ সব্জি মোড়ে মিছিল শেষে শুরু হয় পথসভা৷ হাসনাইন ইমাম বলেন, 'আমরা কোনও বিদ্রোহ করছি না, পার্টি ভাঙতেও চাইছি না৷ আমরা চাইছি, নেতৃত্ব আমাদের মনের কথা শুনুন৷ শুভনীল যে নেতৃত্ব বদলের কথা বলছেন, তা কোনও ব্যক্তির কথা নয়, এটা অনেক কমরেডেরই মনের কথা৷' আলিমুদ্দিন স্ট্রিট লোকাল কমিটির অন্য সদস্য এহসান আহমেদ বলেন, 'আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নেতাদের দেখা যাচ্ছে না৷ উল্টে যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদেরই বহিষ্কার করা হচ্ছে৷ পার্টির কর্মপদ্ধতি ও নেতৃত্বে বদল আনতেই হবে৷' সদ্য বহিষ্কৃত শুভনীল বলেন, 'হাড়োয়ায় কর্মীরা যখন মার খাচ্ছেন, তখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মার্কেজ নিয়ে ভাষণ দিচ্ছেন--এটা মেনে নেওয়া যায়? দলের বিপর্যয়ের দায় নেতৃত্বকেই নিতে হবে৷' আর রেজ্জাক তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শিল্পায়ন, জমি অধিগ্রহণ বিতর্কে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, নিরুপম সেনের সমালোচনায় সরব হন৷ বুদ্ধবাবুকে তিনি পরোক্ষে রোমানিয়ার একনায়ক চেসেস্কুর সঙ্গেও তুলনা করেন৷ কখনও আবার 'লাটসাহেব' বা হরিদাস বলেও কটাক্ষ করেন৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা একদা সহকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত এই প্রবীণ নেতার মন্তব্য, 'যারা কোনও দিন শ্রমিক-কৃষকের পাশে দাঁড়ায়নি, তারাই পাটভাঙা ধুতি পরে, গায়ে সেন্ট মেখে নেতা হয়েছে৷ দলে গণতন্ত্র নেই, শুধু কেন্দ্রিকতা রয়েছে৷' তাঁর হুঁশিয়ারি, 'এর পর আলিমুদ্দিনের গেটের সামনে গিয়ে বসব, গেট ধরে নাড়া দেব, ভিতরেও ঢুকব৷' 'বিদ্রোহী 'দের বক্তব্যে ভাবান্তরের লক্ষণ না দেখিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য ফের বহিষ্কারের খড়্গই তুলছেন৷ জেহাদ ঘোষণার 'দায়ে' আলিমুদ্দিন স্ট্রিট-মল্লিকবাজার লোকাল কমিটির সম্পাদক-সহ একাধিক এলসিএম এবং অন্য সদস্যকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মোটামুটি চড়ান্ত হয়েই গিয়েছে৷ দলে গণতন্ত্র না থাকার যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও মানতে নারাজ সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু৷ তাঁর যুক্তি , 'পার্টিতে থাকলে পার্টির ভিতরেই কথা বলতে হয়৷ দলে গণতন্ত্র রয়েছে৷ নিয়ম না মেনে পার্টির বাইরে কথা বলছেন যাঁরা , তাঁদের ক্ষেত্রেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/alimuddin-revolts/articleshow/35664338.cms?
No comments:
Post a Comment