ভেঙ্কটেশকে ‘ফি’ মুকুবের সিদ্ধান্ত, বিতর্কে কলকাতা পুরসভা
তাপস প্রামাণিক
আবেদন করার দিনই বেসরকারি নির্মাণ সংস্থাকে মোটা টাকার ফি মকুবের সিদ্ধান্তে ফের বিতর্কে জড়াল কলকাতা পুরসভা৷ পুরসভা সূত্রের খবর, লেক মার্কেট পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণকারী ঐ বেসরকারি সংস্থা থেকে 'পারমিসিভ ফি' না নিয়েই স্টল হস্তান্তরের অনুমতি দিতে চলেছে পুর কর্তৃপক্ষ৷ টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা৷ মলের স্পেস বা জায়গা হস্তান্তর অথবা সাব-লিজের জন্য নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে ফি আদায় করতে চেয়েছিলেন পুর আধিকারিকরা৷ কিন্ত্ত সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ বুধবার সংস্থার ফি মকুবের আর্জি জমা পড়ার পরই মেয়র অফিসারদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংস্থার দাবি মেনে 'পারমিসিভ ফি' ছাড়াই অতি দ্রুত সাব-লিজের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে৷ এ নিয়ে পুরমহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি নির্মাণ সংস্থার ফি মকুবের ব্যাপারে কেন এতটা নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন পুরবোর্ডের কর্তারা? এ ব্যাপারে মেয়র জানান, 'বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জটিলতা দেখা দিচ্ছে৷ ফলে মার্কেট চালু করা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া, আইনে 'পারমিসিভ ফি' সম্পর্কে কিছু বলা নেই৷ সেজন্য অফিসারদের বলেছি, জটিলতা না বাড়িয়ে বিষয়টি তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নিতে৷'
অন্য দিকে, পুর আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, 'ইন্ডিয়ান কনট্র্যাক্ট অ্যাক্ট' অনুযায়ী নাগরিকেরা কোনও পরিষেবা নিলে তাকে ফি দিতে হয়৷ যেমন, বাসে উঠলে টিকিট কাটতে হবে, এমন কথা আইনে বলা নেই৷ কিন্ত্ত বাসে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয়৷ তেমনই, পুরসভা আইনে কোনও বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে বা নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে পুর আইনে সংস্থান না থাকলে সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনই বলবত্ হয়৷ আইনে বলা আছে, সাব-লিজ দিতে হলে পুরসভার অনুমতি মেওয়া বাধ্যতামূলক৷ যে কোনও অনুমতি পুরসভা পয়সার বিনিময়েই দিয়ে থাকে৷ তাই সাব লিজের জন্য পুরসভা 'পারমিসিভ ফি' নিতেই পারে৷
মেয়রের অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, 'পারমিসিভ ফি' মুকুবের আর্জি জানিয়ে বুধবারই মেয়রের কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানায় ওই সংস্থা৷ চিঠিতে তারা জানিয়েছে, লেক মলের স্পেস হস্তান্তর তথা সাব-লিজের জন্য পুরসভা যে 'পারমিসিভ ফি' দাবি করছে, সেটা অযৌক্তিক৷ ২০১০ সালের ৩০ মার্চ পুরসভার সঙ্গে তাঁদের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে এই ফি-র কোনও উল্লেখ নেই৷ কলকাতা পুর আইনেও সাব লিজের জন্য এই ধরনের নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে 'পারমিসিভ ফি' নেওয়ার কোনও বিধান নেই৷ গত ২২ মে পুর আধিকারিদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মল কর্তৃপক্ষ৷ কিন্ত্ত সেখানেও কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি৷ ফলে পুরসভার অনুমতি না মেলায় নির্মাণকারী সংস্থা স্পেস হস্তান্তর করতে পারছে না৷ ২০১৩ সালের আগস্টে মলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও তা পুরোদমে চালু হতে পারছে না৷ তার জেরে সংস্থার সম্মানহানি হচ্ছে৷ এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চিঠিতে মেয়রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মল কর্তৃপক্ষ৷
ওই চিঠি হাতে পেয়েই অফিসারদের সঙ্গে এদিন জরুরি বৈঠকে বসেন মেয়র৷ সেখানে মার্কেট বিভাগের আধিকারিকরা ছাড়াও চিফ মিউনিসিপ্যাল ল'-অফিসার এবং চিফ মিউনিসিপ্যাল অডিটর হাজির ছিলেন৷ যদিও বৈঠকে তাঁরা ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়৷ মেয়রের মনোভাব বুঝতে পেরে সবাই পিছু হটেন৷
পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরা অবশ্য আশঙ্কা করছেন, লেক মল কর্তৃপক্ষকে 'পারমিসিভ ফি' ছাড় দিলে ভবিষ্যতে বাকিরাও একই দাবি তুলতে পারে৷ তাতে আখেরে পুরসভারই ক্ষতি হবে৷ অডিটেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ মার্কেট বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, 'ত্রিফলা বসানোর সময় অফিসারদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সমস্ত কাজ সেরেছিলেন পুরবোর্ডের কর্তারা৷ উপরওয়ালার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বেআইনি কাজের তকমা জুটেছে অফিসারদের৷ তার জেরে একাধিক অফিসারকে শাস্তি পেতে হয়েছে৷ তবে আমরা আর সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি না৷ লিখিত নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনও কাজ করব না৷'
আবেদন করার দিনই বেসরকারি নির্মাণ সংস্থাকে মোটা টাকার ফি মকুবের সিদ্ধান্তে ফের বিতর্কে জড়াল কলকাতা পুরসভা৷ পুরসভা সূত্রের খবর, লেক মার্কেট পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্মাণকারী ঐ বেসরকারি সংস্থা থেকে 'পারমিসিভ ফি' না নিয়েই স্টল হস্তান্তরের অনুমতি দিতে চলেছে পুর কর্তৃপক্ষ৷ টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা৷ মলের স্পেস বা জায়গা হস্তান্তর অথবা সাব-লিজের জন্য নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে ফি আদায় করতে চেয়েছিলেন পুর আধিকারিকরা৷ কিন্ত্ত সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ বুধবার সংস্থার ফি মকুবের আর্জি জমা পড়ার পরই মেয়র অফিসারদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংস্থার দাবি মেনে 'পারমিসিভ ফি' ছাড়াই অতি দ্রুত সাব-লিজের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে৷ এ নিয়ে পুরমহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ প্রশ্ন উঠছে, বেসরকারি নির্মাণ সংস্থার ফি মকুবের ব্যাপারে কেন এতটা নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন পুরবোর্ডের কর্তারা? এ ব্যাপারে মেয়র জানান, 'বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জটিলতা দেখা দিচ্ছে৷ ফলে মার্কেট চালু করা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া, আইনে 'পারমিসিভ ফি' সম্পর্কে কিছু বলা নেই৷ সেজন্য অফিসারদের বলেছি, জটিলতা না বাড়িয়ে বিষয়টি তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নিতে৷'
অন্য দিকে, পুর আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, 'ইন্ডিয়ান কনট্র্যাক্ট অ্যাক্ট' অনুযায়ী নাগরিকেরা কোনও পরিষেবা নিলে তাকে ফি দিতে হয়৷ যেমন, বাসে উঠলে টিকিট কাটতে হবে, এমন কথা আইনে বলা নেই৷ কিন্ত্ত বাসে যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয়৷ তেমনই, পুরসভা আইনে কোনও বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকলে বা নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে পুর আইনে সংস্থান না থাকলে সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনই বলবত্ হয়৷ আইনে বলা আছে, সাব-লিজ দিতে হলে পুরসভার অনুমতি মেওয়া বাধ্যতামূলক৷ যে কোনও অনুমতি পুরসভা পয়সার বিনিময়েই দিয়ে থাকে৷ তাই সাব লিজের জন্য পুরসভা 'পারমিসিভ ফি' নিতেই পারে৷
মেয়রের অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, 'পারমিসিভ ফি' মুকুবের আর্জি জানিয়ে বুধবারই মেয়রের কাছে লিখিত ভাবে আবেদন জানায় ওই সংস্থা৷ চিঠিতে তারা জানিয়েছে, লেক মলের স্পেস হস্তান্তর তথা সাব-লিজের জন্য পুরসভা যে 'পারমিসিভ ফি' দাবি করছে, সেটা অযৌক্তিক৷ ২০১০ সালের ৩০ মার্চ পুরসভার সঙ্গে তাঁদের যে চুক্তি হয়েছিল তাতে এই ফি-র কোনও উল্লেখ নেই৷ কলকাতা পুর আইনেও সাব লিজের জন্য এই ধরনের নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে 'পারমিসিভ ফি' নেওয়ার কোনও বিধান নেই৷ গত ২২ মে পুর আধিকারিদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মল কর্তৃপক্ষ৷ কিন্ত্ত সেখানেও কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি৷ ফলে পুরসভার অনুমতি না মেলায় নির্মাণকারী সংস্থা স্পেস হস্তান্তর করতে পারছে না৷ ২০১৩ সালের আগস্টে মলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও তা পুরোদমে চালু হতে পারছে না৷ তার জেরে সংস্থার সম্মানহানি হচ্ছে৷ এর থেকে পরিত্রাণ পেতে চিঠিতে মেয়রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মল কর্তৃপক্ষ৷
ওই চিঠি হাতে পেয়েই অফিসারদের সঙ্গে এদিন জরুরি বৈঠকে বসেন মেয়র৷ সেখানে মার্কেট বিভাগের আধিকারিকরা ছাড়াও চিফ মিউনিসিপ্যাল ল'-অফিসার এবং চিফ মিউনিসিপ্যাল অডিটর হাজির ছিলেন৷ যদিও বৈঠকে তাঁরা ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়৷ মেয়রের মনোভাব বুঝতে পেরে সবাই পিছু হটেন৷
পুরসভার শীর্ষ আধিকারিকরা অবশ্য আশঙ্কা করছেন, লেক মল কর্তৃপক্ষকে 'পারমিসিভ ফি' ছাড় দিলে ভবিষ্যতে বাকিরাও একই দাবি তুলতে পারে৷ তাতে আখেরে পুরসভারই ক্ষতি হবে৷ অডিটেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ মার্কেট বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, 'ত্রিফলা বসানোর সময় অফিসারদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সমস্ত কাজ সেরেছিলেন পুরবোর্ডের কর্তারা৷ উপরওয়ালার নির্দেশ পালন করতে গিয়ে বেআইনি কাজের তকমা জুটেছে অফিসারদের৷ তার জেরে একাধিক অফিসারকে শাস্তি পেতে হয়েছে৷ তবে আমরা আর সেই ফাঁদে পা দিচ্ছি না৷ লিখিত নির্দেশ ছাড়া আমরা কোনও কাজ করব না৷'
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/KMC-alleged-for-nepotism-regarding-stall-distribution-in-Lake-Mall-Kolkata/articleshow/35689639.cms
No comments:
Post a Comment