স্বপ্ন ছোঁয়ার সোপান
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/planet-campus/articleshow/35666651.cms?
http://eisamay.indiatimes.com/city/kolkata/planet-campus/articleshow/35666651.cms?
এসে গেল 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস'৷ সাফল্যের লক্ষ্যে একলা চলার দিন শেষ৷ স্কুলজীবন পিছনে৷ এ বার কোন কলেজ? কোন বিষয়? রাজ্যেই? না ভিন রাজ্যে? নাকি একেবারে বিদেশেই লম্বা পাড়ি? আজ থেকে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা তামাম ক্যাম্পাসের সুলুক-সন্ধান দেওয়া শুরু হল এই সময়-প্ল্যানেট ক্যাম্পাসে৷ আজ লিখছেন জয় সাহা
দৃশ্য এক- হাজরা মোড়ের সামনে লম্বা লাইন৷ যত দূর চোখ যায়, ফাইল হাতে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়৷ আশুতোষ কলেজে স্নাতকস্তরে ভর্তির ফর্ম দিচ্ছে৷ কোন বিষয়ে স্নাতকের সঙ্গে পাসে কোন কোন বিষয় নেওয়া যাবে, স্বচ্ছ ধারণা নেই অনেকেরই৷ ছাতা আর জলের বোতল হাতে অফিস-কাছারি কামাই করে আসা বাবা-কাকার সঙ্গেই রয়েছেন হেঁশেল ফেলে আসা মা-কাকিমারাও৷ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী পারদের অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই৷ চাঁদিফাটা গরমে ফর্ম নেওয়ার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন অনেক অভিভাবক৷
দৃশ্য দুই- বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা পিয়ালি৷ দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুল থেকে আইএসসিতে মোটামুটি রেজাল্ট করেছে সে৷ বাবা সেন্ট জেভিয়ার্স আর মা প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী৷ তাই মেয়েও যে প্রথাগত শিক্ষার পথেই চলবে, তা প্রায় অবশ্যম্ভাবীই ছিল৷ কিন্ত্ত বেঁকে বসল খোদ পিয়ালি৷ সে টেক্সটাইল ডিজাইন নিয়ে পড়তে চায়৷ মাথায় হাত বাড়ির লোকের৷ এই বিষয় নিয়ে পড়লে ভবিষ্যতে কী হওয়া যায়, কোথায় তা পড়তে হয়--- সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই যে নেই তাঁদের৷ একরকম দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে পিয়ালি ও তাঁর পরিবার৷
দৃশ্য তিন- ভোরবেলা ট্রেন ধরেছে শান্তনু আর তার বাবা৷ বীরভূমের ভালকি গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করা শান্তনু উচ্চমাধ্যমিকে প্রায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছে৷ ইচ্ছে কলকাতার কোনও ভালো কলেজে ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করার৷ তাই ভোর ভোর ট্রেনে চেপে কলকাতা চলে আসা৷ যাতে সারাটা দিন ঘুরে ঘুরে কলেজে কলেজে খোঁজ খবর নিয়ে রাতের লাস্ট ট্রেনে গ্রামে ফেরা যায়৷ কিন্ত্ত এত বড় শহরে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কলেজের কোনটায় ভূগোলে পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, কোনটায় ভর্তির নিয়মকানুন কী, তা একদিনে জেনে নেওয়া এককথায় অসম্ভব৷
এমন সব দৃশ্যের সঙ্গে ওয়াকিবহাল নয়, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতিতে পড়েন বহু মানুষ৷ কারণ বছরের এই সময়টায় স্কুলের ধাপ পেরোয় রাজ্যের কয়েক লক্ষ ছেলে-মেয়ে৷ উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে পা রাখতে তারপরই শুরু হয় ছোটাছুটি৷ কলেজে কলেজে লম্বা লাইন, ইন্টারনেটে বসে কলেজগুলির ওয়েবসাইটের ময়নাতদন্ত করা, পছন্দের বিষয় বেছে নেওয়া থেকে মেধাতালিকা প্রকাশের সময় দুরু দুরু বুকে শয়ে শয়ে নামের ভিড়ে নিজেকে খুঁজে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাই প্রমাণ করে স্কুলের শেষ বড় পরীক্ষা আসলে এই পর্বে পৌঁছনোর একটা মহড়া৷ আসল চ্যালেঞ্জ শুরু এখানেই৷
এ এক অদ্ভুত চক্রব্যূহ৷ সবদিক দেখে নিয়ে, জেনে বুঝে পা না-বাড়ালেই বিপদ৷ যে ১২টা বছর স্কুলে কেটেছে তা হয়তো পড়ার দিশা তৈরি করে দিতে পারে৷ কিন্ত্ত কোন পথে গেলে সেই দিশা হাতেকলমে কাজে আসতে পারে, তা কিন্ত্ত বুঝে নিতে হবে নিজেকেই৷ এই রাস্তাও চলতে হবে তোমাকেই৷ ভাবছ তো, এতটা পথ একলা চলবে কী ভাবে? জানবেই বা কী করে, কোনটা তোমার জন্য ঠিক আর কোনটাই বা বেমানান? এই প্রশ্নগুলি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তো সারাক্ষণ?
নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দৌড়াদৌড়ির দরকার নেই৷ রাতের ঘুমও বাদ দিতে হবে না৷ আজ থেকে বরং তোমাদের চোখ থাকুক 'এই সময়'-এর দ্বিতীয় পাতায় 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস '-এ৷
এই বিভাগে আমরা আজ থেকে প্রতিদিন হাজির হব উচ্চশিক্ষার যাবতীয় হাল-হকিকতের সুলুক সন্ধানে৷ তাতে যেমন থাকবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, থাকবে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামতও৷ শহর -সহ রাজ্য এমনকি দেশ ও বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কী কী বিষয়ে নিয়ে পড়াশোনা করা যায়, সেই সব তথ্য নিয়েও হাজির থাকবে 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস'৷ চেষ্টা করা হবে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক চিত্রটা তুলে ধরার৷ সে ফি-স্ট্রাকচার থেকে স্কলারশিপ, যোগ্যতামান থেকে মোট আসনসংখ্যা--- রোজ সকালে খবরের কাগজে একবার চোখ বোলালেই মিলবে চাহিদামতো উত্তর৷
তবে শুধুমাত্র কতকগুলি রুক্ষ তথ্য আর সংখ্যাতেই আটকে থাকবে না এই আয়োজন৷ প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের মাধ্যমে তোমরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পাবে৷ হাতে গরমে জেনে নিতে পারবে তোমার প্রশ্নের উত্তর৷ সংশয়ের উত্তর দিতে অথবা শহরের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নানা বিষয় নিয়ে সেমিনারে উপস্থিত থাকবেন বিশেষজ্ঞরা৷
আর একটা কথা না-বললেই নয়৷ গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষায় বিষয় নির্বাচনে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে৷ এমন বহু বিষয় নিয়ে এখন পড়াশোনা চলছে যা সার্বিক ভাবে শিক্ষার বনেদি চরিত্রকে অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে৷ মূলস্রোতের বিষয়গুলির পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেগুলি নিয়েও আলোচনা করার৷ যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে পেশাভিত্তিক বিষয়ে নিয়ে পড়ার ঝোঁক৷ এমনকি, প্রথাগত বিষয় যেমন দর্শন বা অর্থনীতি নিয়েও এখন যারা পাঠরত, তারাও কেবল শিক্ষকতা কিংবা গবেষণায় আর আটকে থাকতে চাইছেন না৷ এই প্রবণতার দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চেষ্টা করব ওই ধরনের বিষয়গুলিরও পেশাগত সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করার৷ ওয়েবসাইটে নজর রাখার পাশাপাশি লিখতে পারো চিঠি বা ই-মেল৷ যেখানে তোমাদের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দেবেন স্বক্ষেত্রে অভিজ্ঞরা৷ দেখা হবে... প্ল্যানেট ক্যাম্পাস-এ... বিশদ জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর-http://planetcampus.eisamay.com
ফোকাসে যে যে বিষয়
কলা বিভাগের প্রথাগত বিষয়- যেমন ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, সাংবাদিকতা ও মাস কমিউনিকেশন, তুলনামূলক সাহিত্য, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফর্মেশন সায়েন্স বিজ্ঞান শাখার প্রথাগত বিষয়- যেমন রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, অর্থনীতি, ভূগোল, প্রাণীবিদ্যা, ভূ-তত্ত্ববিদ্যা, অঙ্ক,বায়ো-কেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি। ভিস্যুয়াল আর্টস/ফাইন আর্টস- যেমন পেইন্টিং, স্কাল্পচার, টেক্সটাইল ডিজাইন, ডিজাইনিং উড অ্যান্ড লেদার, সেরামিক পটারি, প্রিন্ট মেকিং, হিস্ট্রি অফ আর্ট।
সিনেমা, ফটোগ্রাফি ও সম্পাদনা। জিও ইনফর্মেটিক্স। কারিগরি শিক্ষা। বিবিএ/বিসিএ। ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হসপিটালিটি। বাণিজ্য। আইন। মেডিক্যাল কোর্স আলোচনাসভা- শহরের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নানা বিষয় নিয়ে আয়োজন করা হবে আলোচনা সভা৷ তাতে স্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন৷ এই আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বিশেষজ্ঞদের থেকে সরাসরি জেনে নিতে পারবে তোমার প্রশ্নের উত্তর।
অ্যাপটিচিউড টেস্ট- বিভিন্ন বিষয়ে তোমাদের অ্যাপটিচিউড কেমন? প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় থাকবে অ্যাপটিচিউড টেস্ট৷ যা থেকে তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে তোমাদের স্কোর।
ক্যাম্পাস থেকে- নিজেদের ক্যাম্পাসের ব্যাপারে 'এই সময়'-এর পাতায় কলম ধরবেন খোদ ছাত্রছাত্রীরাই৷ ক্যাম্পাসের যাবতীয় হালহকিকত জানাবেন সেই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা।
চলো ক্যাম্পাস- ক্যাম্পাস জীবন মানে তো কেবল লেখাপড়া নয়৷ তার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের ফেস্ট-প্রোগ্রাম লেগেই রয়েছে৷ 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস ' তুলে ধরবে সেই সব ছবিও।
কাউন্সেলিং- যে বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা, তাতে রাজি নন মা-বাবা৷ তাদের কথা শুনতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন চৌপাট! আবার নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে গিয়ে পরে চাকরি -বাকরি জুটবে তো? পুরো বিষয়টিই ঘেঁটে ঘ? সাহায্য করতে তৈরি আছেন প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের কাউন্সিলররা৷ চোখ রাখো এই সময়ের পাতায়৷ আর নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে যাও পছন্দের বিষয়ের কাউন্সিলরের সামনে৷ সব মুশকিল আসান করে দেবেন তাঁরাই।
প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় সকলের জন্যই মিলবে উচ্চশিক্ষার হদিশ৷ উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত আপনার কোনও নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকলে তা আমাদের জানান৷ প্রশ্ন ও নাম-পরিচয়ের সঙ্গেই পাঠান আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি৷ ই-মেল করুন এই ঠিকানায়: eisamay@timesgroup.com৷ আমরা বিশেষজ্ঞদের জবাব/পরামর্শ প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় ছাপব। বিশদ জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর-http://planetcampus.eisamay.com
দৃশ্য এক- হাজরা মোড়ের সামনে লম্বা লাইন৷ যত দূর চোখ যায়, ফাইল হাতে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়৷ আশুতোষ কলেজে স্নাতকস্তরে ভর্তির ফর্ম দিচ্ছে৷ কোন বিষয়ে স্নাতকের সঙ্গে পাসে কোন কোন বিষয় নেওয়া যাবে, স্বচ্ছ ধারণা নেই অনেকেরই৷ ছাতা আর জলের বোতল হাতে অফিস-কাছারি কামাই করে আসা বাবা-কাকার সঙ্গেই রয়েছেন হেঁশেল ফেলে আসা মা-কাকিমারাও৷ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী পারদের অত্যাচার সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই৷ চাঁদিফাটা গরমে ফর্ম নেওয়ার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অসুস্থ হয়েও পড়ছেন অনেক অভিভাবক৷
দৃশ্য দুই- বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা পিয়ালি৷ দক্ষিণ কলকাতার একটি স্কুল থেকে আইএসসিতে মোটামুটি রেজাল্ট করেছে সে৷ বাবা সেন্ট জেভিয়ার্স আর মা প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী৷ তাই মেয়েও যে প্রথাগত শিক্ষার পথেই চলবে, তা প্রায় অবশ্যম্ভাবীই ছিল৷ কিন্ত্ত বেঁকে বসল খোদ পিয়ালি৷ সে টেক্সটাইল ডিজাইন নিয়ে পড়তে চায়৷ মাথায় হাত বাড়ির লোকের৷ এই বিষয় নিয়ে পড়লে ভবিষ্যতে কী হওয়া যায়, কোথায় তা পড়তে হয়--- সে সম্পর্কে কোনও ধারণাই যে নেই তাঁদের৷ একরকম দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে পিয়ালি ও তাঁর পরিবার৷
দৃশ্য তিন- ভোরবেলা ট্রেন ধরেছে শান্তনু আর তার বাবা৷ বীরভূমের ভালকি গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করা শান্তনু উচ্চমাধ্যমিকে প্রায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেছে৷ ইচ্ছে কলকাতার কোনও ভালো কলেজে ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করার৷ তাই ভোর ভোর ট্রেনে চেপে কলকাতা চলে আসা৷ যাতে সারাটা দিন ঘুরে ঘুরে কলেজে কলেজে খোঁজ খবর নিয়ে রাতের লাস্ট ট্রেনে গ্রামে ফেরা যায়৷ কিন্ত্ত এত বড় শহরে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কলেজের কোনটায় ভূগোলে পড়ার সুযোগ পাওয়া যাবে, কোনটায় ভর্তির নিয়মকানুন কী, তা একদিনে জেনে নেওয়া এককথায় অসম্ভব৷
এমন সব দৃশ্যের সঙ্গে ওয়াকিবহাল নয়, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ প্রতি বছরই এমন পরিস্থিতিতে পড়েন বহু মানুষ৷ কারণ বছরের এই সময়টায় স্কুলের ধাপ পেরোয় রাজ্যের কয়েক লক্ষ ছেলে-মেয়ে৷ উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে পা রাখতে তারপরই শুরু হয় ছোটাছুটি৷ কলেজে কলেজে লম্বা লাইন, ইন্টারনেটে বসে কলেজগুলির ওয়েবসাইটের ময়নাতদন্ত করা, পছন্দের বিষয় বেছে নেওয়া থেকে মেধাতালিকা প্রকাশের সময় দুরু দুরু বুকে শয়ে শয়ে নামের ভিড়ে নিজেকে খুঁজে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাই প্রমাণ করে স্কুলের শেষ বড় পরীক্ষা আসলে এই পর্বে পৌঁছনোর একটা মহড়া৷ আসল চ্যালেঞ্জ শুরু এখানেই৷
এ এক অদ্ভুত চক্রব্যূহ৷ সবদিক দেখে নিয়ে, জেনে বুঝে পা না-বাড়ালেই বিপদ৷ যে ১২টা বছর স্কুলে কেটেছে তা হয়তো পড়ার দিশা তৈরি করে দিতে পারে৷ কিন্ত্ত কোন পথে গেলে সেই দিশা হাতেকলমে কাজে আসতে পারে, তা কিন্ত্ত বুঝে নিতে হবে নিজেকেই৷ এই রাস্তাও চলতে হবে তোমাকেই৷ ভাবছ তো, এতটা পথ একলা চলবে কী ভাবে? জানবেই বা কী করে, কোনটা তোমার জন্য ঠিক আর কোনটাই বা বেমানান? এই প্রশ্নগুলি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তো সারাক্ষণ?
নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে দৌড়াদৌড়ির দরকার নেই৷ রাতের ঘুমও বাদ দিতে হবে না৷ আজ থেকে বরং তোমাদের চোখ থাকুক 'এই সময়'-এর দ্বিতীয় পাতায় 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস '-এ৷
এই বিভাগে আমরা আজ থেকে প্রতিদিন হাজির হব উচ্চশিক্ষার যাবতীয় হাল-হকিকতের সুলুক সন্ধানে৷ তাতে যেমন থাকবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, থাকবে সেই বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামতও৷ শহর -সহ রাজ্য এমনকি দেশ ও বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কী কী বিষয়ে নিয়ে পড়াশোনা করা যায়, সেই সব তথ্য নিয়েও হাজির থাকবে 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস'৷ চেষ্টা করা হবে উচ্চশিক্ষার সামগ্রিক চিত্রটা তুলে ধরার৷ সে ফি-স্ট্রাকচার থেকে স্কলারশিপ, যোগ্যতামান থেকে মোট আসনসংখ্যা--- রোজ সকালে খবরের কাগজে একবার চোখ বোলালেই মিলবে চাহিদামতো উত্তর৷
তবে শুধুমাত্র কতকগুলি রুক্ষ তথ্য আর সংখ্যাতেই আটকে থাকবে না এই আয়োজন৷ প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের মাধ্যমে তোমরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পাবে৷ হাতে গরমে জেনে নিতে পারবে তোমার প্রশ্নের উত্তর৷ সংশয়ের উত্তর দিতে অথবা শহরের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নানা বিষয় নিয়ে সেমিনারে উপস্থিত থাকবেন বিশেষজ্ঞরা৷
আর একটা কথা না-বললেই নয়৷ গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষায় বিষয় নির্বাচনে নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে৷ এমন বহু বিষয় নিয়ে এখন পড়াশোনা চলছে যা সার্বিক ভাবে শিক্ষার বনেদি চরিত্রকে অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে৷ মূলস্রোতের বিষয়গুলির পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেগুলি নিয়েও আলোচনা করার৷ যত দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে পেশাভিত্তিক বিষয়ে নিয়ে পড়ার ঝোঁক৷ এমনকি, প্রথাগত বিষয় যেমন দর্শন বা অর্থনীতি নিয়েও এখন যারা পাঠরত, তারাও কেবল শিক্ষকতা কিংবা গবেষণায় আর আটকে থাকতে চাইছেন না৷ এই প্রবণতার দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা চেষ্টা করব ওই ধরনের বিষয়গুলিরও পেশাগত সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করার৷ ওয়েবসাইটে নজর রাখার পাশাপাশি লিখতে পারো চিঠি বা ই-মেল৷ যেখানে তোমাদের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দেবেন স্বক্ষেত্রে অভিজ্ঞরা৷ দেখা হবে... প্ল্যানেট ক্যাম্পাস-এ... বিশদ জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর-http://planetcampus.eisamay.com
ফোকাসে যে যে বিষয়
কলা বিভাগের প্রথাগত বিষয়- যেমন ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, সাংবাদিকতা ও মাস কমিউনিকেশন, তুলনামূলক সাহিত্য, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফর্মেশন সায়েন্স বিজ্ঞান শাখার প্রথাগত বিষয়- যেমন রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, অর্থনীতি, ভূগোল, প্রাণীবিদ্যা, ভূ-তত্ত্ববিদ্যা, অঙ্ক,বায়ো-কেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি। ভিস্যুয়াল আর্টস/ফাইন আর্টস- যেমন পেইন্টিং, স্কাল্পচার, টেক্সটাইল ডিজাইন, ডিজাইনিং উড অ্যান্ড লেদার, সেরামিক পটারি, প্রিন্ট মেকিং, হিস্ট্রি অফ আর্ট।
সিনেমা, ফটোগ্রাফি ও সম্পাদনা। জিও ইনফর্মেটিক্স। কারিগরি শিক্ষা। বিবিএ/বিসিএ। ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হসপিটালিটি। বাণিজ্য। আইন। মেডিক্যাল কোর্স আলোচনাসভা- শহরের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে নানা বিষয় নিয়ে আয়োজন করা হবে আলোচনা সভা৷ তাতে স্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন৷ এই আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বিশেষজ্ঞদের থেকে সরাসরি জেনে নিতে পারবে তোমার প্রশ্নের উত্তর।
অ্যাপটিচিউড টেস্ট- বিভিন্ন বিষয়ে তোমাদের অ্যাপটিচিউড কেমন? প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় থাকবে অ্যাপটিচিউড টেস্ট৷ যা থেকে তোমরা নিজেরাই জানতে পারবে তোমাদের স্কোর।
ক্যাম্পাস থেকে- নিজেদের ক্যাম্পাসের ব্যাপারে 'এই সময়'-এর পাতায় কলম ধরবেন খোদ ছাত্রছাত্রীরাই৷ ক্যাম্পাসের যাবতীয় হালহকিকত জানাবেন সেই প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা।
চলো ক্যাম্পাস- ক্যাম্পাস জীবন মানে তো কেবল লেখাপড়া নয়৷ তার সঙ্গে সঙ্গে নানা ধরনের ফেস্ট-প্রোগ্রাম লেগেই রয়েছে৷ 'প্ল্যানেট ক্যাম্পাস ' তুলে ধরবে সেই সব ছবিও।
কাউন্সেলিং- যে বিষয়ে পড়ার ইচ্ছা, তাতে রাজি নন মা-বাবা৷ তাদের কথা শুনতে গিয়ে নিজের স্বপ্ন চৌপাট! আবার নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে গিয়ে পরে চাকরি -বাকরি জুটবে তো? পুরো বিষয়টিই ঘেঁটে ঘ? সাহায্য করতে তৈরি আছেন প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের কাউন্সিলররা৷ চোখ রাখো এই সময়ের পাতায়৷ আর নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে যাও পছন্দের বিষয়ের কাউন্সিলরের সামনে৷ সব মুশকিল আসান করে দেবেন তাঁরাই।
প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় সকলের জন্যই মিলবে উচ্চশিক্ষার হদিশ৷ উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত আপনার কোনও নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকলে তা আমাদের জানান৷ প্রশ্ন ও নাম-পরিচয়ের সঙ্গেই পাঠান আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি৷ ই-মেল করুন এই ঠিকানায়: eisamay@timesgroup.com৷ আমরা বিশেষজ্ঞদের জবাব/পরামর্শ প্ল্যানেট ক্যাম্পাসের পাতায় ছাপব। বিশদ জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক কর-http://planetcampus.eisamay.com
No comments:
Post a Comment