সুবহান লাইনে দাঁড় করিয়ে আমাকে দুই বার গুলি করে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
সাক্ষী রুস্তম আলীর জবানবন্দী
সাক্ষী রুস্তম আলীর জবানবন্দী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষী রুস্তম আলী তাঁর জবানবন্দীতে বলেন, যুক্তিতলা স্কুল মাঠে আমাদের বন্দীদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে সুবহান নিজের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাকে দুইবার গুলি করে। এই গুলির একটি আমার বাঁ হাতে ও অপরটি আমার বুকে বিদ্ধ হয়। এতে আমার বুকের তিনটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এর পর সুবহানের নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা বেয়নেট দিয়ে আমার বাম চোয়ালে আঘাত করে। তখন আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, আমার কোন হুশ-জ্ঞান ছিল না। সাক্ষীর জেরা করার জন্য ১২ মে দিন নির্ধারই করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী মামলায় এটিএম আজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ ও ১২তম সাক্ষী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও মোঃ রফিকুন হাসান নান্নুর জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য ১৮ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করে।
জামায়াতের নেতা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী হয়েছে। জেরার জন্য ১২ মে পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ প্রদান করে। এ সাক্ষীকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। এ সময় আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান।
প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষী রুস্তম আলী বলেন, আমার নাম রুস্তম আলী। পিতা মৃত কালা মিয়া। ঠিকানা- গ্রাম- পাকশী যুক্তিতলা, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা। আমার বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২৪-২৫ বছর। ১৯৭১ সালে পূর্ব থেকে আমি পাকশী বাজারে জয়নউদ্দিনের দোকানে কাজ করতাম। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকাল ৭টায় জয়নউদ্দিন, তার জামাই এবং আমি কিছু বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য সারাঘাটে যাই। বেলা আনুমানিক ১১টা সাড়ে ১১টার দিকে যখন আমরা সারাঘাট থেকে ফিরছিলাম তখন যুক্তিতলা গ্রামে আগুনের শিখা দেখতে পাই এবং গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। এই দৃশ্য দেখে আমরা ভয়ে যুক্তিতলা গ্রামে মইজউদ্দিনের বাড়ির পেছনে একটি বাঁশের ঝাড়ে তিনজনই আত্মগোপন করি। ওই সময় অভিযুক্ত আবদুস সুবহান আমাদের দেখতে পেয়ে পাকিস্তান আর্মি ও বিহারীদের দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে এবং এক পর্যায়ে আটক করে আমাদের যুক্তিতলা জামে মসজিদের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে একটি গাড়িতে আটক অবস্থায় টুলু (ইসরাইলের মা), ইসরাইল ও তার চাচাকে দেখতে পাই। মসজিদের সামনে আর্মিদের গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। সেই গাড়িতে করে আমাদের যুক্তিতলা স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই গাড়িতে মাওলানা সুবহান ছিলেন।
রুস্তম আলী বলেন, গাড়ি থেকে নামানোর পর দেখি পাকিস্তানী আর্মি ও বিহারীরা আরও কয়েকজনকে সেখানে ধরে নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে যুক্তিতলা গ্রামের হারেস উদ্দিন ও ইসমাইলকে চিনতে পারি, অন্য একজনকে চিনতে পারিনি। আমাদের সবাইকে স্কুলের মাঠে লাইন দিয়ে দাঁড় করানো হয়। জয়নউদ্দিনের জামাইয়ের হাতে একটি থ্রি ব্যান্ডের রেডিও ছিল। সুবহান ওই রেডিওটি কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। আমরা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হারিস উদ্দিন ও ইসমাইল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন সুবহান তাঁর হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে ওদের লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিতে ইসমাইল দৌড়ে একটি সাঁকোর কাছে গিয়ে পড়ে যায়। এ অবস্থায় সুবহানের নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মি ও বিহারীরা তাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করে। এর পর সুবহান আবার আমাদের লাইনে দাঁড়াতে বলে। একপর্যায়ে সুবহান নিজে তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাকে দুইবার গুলি করে। এই গুলির একটি আমার বাঁহাতে ও অপরটি আমার বুকে বিদ্ধ হয়। আমার বুকের তিনটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এর পর তার নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা বেয়নেট দিয়ে আমার বাম চোয়ালে আঘাত করে। তখন আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, আমার কোন হুশ-জ্ঞান ছিল না।
এটিএম আজাহারুল ইসলাম
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনপক্ষের ১১ ও ১২তম সাক্ষী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও মোঃ রফিকুন হাসান নান্নুর জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৮ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এ আদেশ প্রদান করে।
মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের ১১তম সাক্ষী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এটিএম আজাহারুল ইসলাম বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর টর্চার সেলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন তাঁদের ধরিয়ে দিতেন এবং রংপুর টাউন হলের টর্চার সেলে সুন্দরী নারীদের পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে তুলে দিতেন।
জামায়াতের নেতা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষীর জবানবন্দী হয়েছে। জেরার জন্য ১২ মে পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশ প্রদান করে। এ সাক্ষীকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। এ সময় আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান।
প্রসিকিউশনের চতুর্থ সাক্ষী রুস্তম আলী বলেন, আমার নাম রুস্তম আলী। পিতা মৃত কালা মিয়া। ঠিকানা- গ্রাম- পাকশী যুক্তিতলা, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনা। আমার বর্তমান বয়স ৬৫ বছর। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল ২৪-২৫ বছর। ১৯৭১ সালে পূর্ব থেকে আমি পাকশী বাজারে জয়নউদ্দিনের দোকানে কাজ করতাম। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকাল ৭টায় জয়নউদ্দিন, তার জামাই এবং আমি কিছু বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য সারাঘাটে যাই। বেলা আনুমানিক ১১টা সাড়ে ১১টার দিকে যখন আমরা সারাঘাট থেকে ফিরছিলাম তখন যুক্তিতলা গ্রামে আগুনের শিখা দেখতে পাই এবং গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই। এই দৃশ্য দেখে আমরা ভয়ে যুক্তিতলা গ্রামে মইজউদ্দিনের বাড়ির পেছনে একটি বাঁশের ঝাড়ে তিনজনই আত্মগোপন করি। ওই সময় অভিযুক্ত আবদুস সুবহান আমাদের দেখতে পেয়ে পাকিস্তান আর্মি ও বিহারীদের দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে এবং এক পর্যায়ে আটক করে আমাদের যুক্তিতলা জামে মসজিদের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে একটি গাড়িতে আটক অবস্থায় টুলু (ইসরাইলের মা), ইসরাইল ও তার চাচাকে দেখতে পাই। মসজিদের সামনে আর্মিদের গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। সেই গাড়িতে করে আমাদের যুক্তিতলা স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই গাড়িতে মাওলানা সুবহান ছিলেন।
রুস্তম আলী বলেন, গাড়ি থেকে নামানোর পর দেখি পাকিস্তানী আর্মি ও বিহারীরা আরও কয়েকজনকে সেখানে ধরে নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে যুক্তিতলা গ্রামের হারেস উদ্দিন ও ইসমাইলকে চিনতে পারি, অন্য একজনকে চিনতে পারিনি। আমাদের সবাইকে স্কুলের মাঠে লাইন দিয়ে দাঁড় করানো হয়। জয়নউদ্দিনের জামাইয়ের হাতে একটি থ্রি ব্যান্ডের রেডিও ছিল। সুবহান ওই রেডিওটি কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। আমরা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হারিস উদ্দিন ও ইসমাইল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন সুবহান তাঁর হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে ওদের লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিতে ইসমাইল দৌড়ে একটি সাঁকোর কাছে গিয়ে পড়ে যায়। এ অবস্থায় সুবহানের নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মি ও বিহারীরা তাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করে। এর পর সুবহান আবার আমাদের লাইনে দাঁড়াতে বলে। একপর্যায়ে সুবহান নিজে তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাকে দুইবার গুলি করে। এই গুলির একটি আমার বাঁহাতে ও অপরটি আমার বুকে বিদ্ধ হয়। আমার বুকের তিনটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এর পর তার নির্দেশে পাকিস্তানী আর্মিরা বেয়নেট দিয়ে আমার বাম চোয়ালে আঘাত করে। তখন আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি, আমার কোন হুশ-জ্ঞান ছিল না।
এটিএম আজাহারুল ইসলাম
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনপক্ষের ১১ ও ১২তম সাক্ষী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ও মোঃ রফিকুন হাসান নান্নুর জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৮ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এ আদেশ প্রদান করে।
মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের ১১তম সাক্ষী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা তার জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এটিএম আজাহারুল ইসলাম বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর টর্চার সেলে নিয়মিত যাতায়াত করতেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন তাঁদের ধরিয়ে দিতেন এবং রংপুর টাউন হলের টর্চার সেলে সুন্দরী নারীদের পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে তুলে দিতেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment