সীমান্তের বদলে ইমিগ্রেশন ঢাকা-কলকাতায় ॥ সময় কমছে মৈত্রী এক্সপ্রেসে
খুলনা-কলকাতা ট্রেন চালুর সুপারিশ ভারতের
তৌহিদুর রহমান ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ জন্য ট্রেনের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ‘দর্শনা-গেদে’ সীমান্তের পরিবর্তে ‘ঢাকা-কলকাতা’য় সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া দর্শনা সীমান্তের মধ্য দিয়ে খুলনা-কলকাতা ট্রেন চালুর সুপারিশ করেছে ভারত। অপরদিকে দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী ট্রেন চলাচলের জন্য আরও তিন বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হবে। পররাষ্ট্র ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহ জহিরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত রেলপথ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে মৈত্রী ট্রেনের সময়সীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এই লক্ষ্যে ট্রেনযাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সীমান্তের পরিবর্তে ঢাকা-কলকাতায় সম্পন্ন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে মৈত্রী ট্রেন এসি করতে হবে। ট্রেন এসি হলে ঢাকা-কলকাতায় ইমিগ্রেশন করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা-কলকাতায় মৈত্রী ট্রেনের সময়সীমা কমানোর জন্য মৈত্রী ট্রেনকে এসি করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। কারণ এসি করা হলে বাইরে থেকে কেউ আর উঠতে পারবে না। তখন ট্রেনযাত্রীরা নিরাপদে থাকবে। ফলে সীমান্তে কোন ইমিগ্রেশন না করে কলকাতায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করা সম্ভব হবে।
ঢাকা-কলকাতা বিমানযাত্রীদের মতোই মৈত্রী ট্রেনের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্ভব। বিমানের যাত্রীদের যেমন ঢাকা থেকে কাস্টম- ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে আবার কাস্টম-ইমিগ্রেশন হয়ে থাকে। এভাবে মৈত্রী ট্রেনের কাস্টম-ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
সূত্র জানায়, মৈত্রী ট্রেনের যাতায়াতের সময়সীমা ১৩ ঘণ্টা। এর মধ্যে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় দর্শনা-গেদে সীমান্তের কাস্টম-ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে থাকেন। উভয় দেশের যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা কমিয়ে আনার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ট্রেন চালু রয়েছে। এসব একাধিক দেশের মধ্যে চলাচল করে থাকে। তবে সীমান্ত এলাকায় এসব ট্রেনের যাত্রীর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয় না। যাত্রীরা ওঠার ও নামার সময় তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রেনের মধ্যেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। সে কারণে ঢাকা-কলকাতার ট্রেনের সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে ট্রেনের সব বগি এসি করতে হবে। পুরো ট্রেনের বগি এসি করা হলেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সীমান্তের পরিবর্তে ঢাকা-কলকাতায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সূত্র জানায়, ঢাকা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর পাশাপাশি কন্টেনার সার্ভিস চালুর বিষয়ে বিবেচনা করছে দুই দেশ। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সে কারণে শুধু ট্রাকে মালামাল আনা নেয়া সীমাবদ্ধ না রেখে রেলপথে কন্টেনারের মাধ্যমে আনা নেয়া করতে চায় উভয় দেশ। তবে কন্টেনার সার্ভিস চালু করতে হলে উভয় দেশের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে প্রচুর অর্থও প্রয়োজন। সে কারণে কন্টেনার সার্ভিস চালু করতে আরও সময় নেবে দুই দেশ।
খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চালুর পরে এই রুটে ট্রেনযাত্রীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে। সেকারণে উভয় দেশ খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচলের জন্য সম্মত হয়। খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল থেকে ট্রেনে কলকাতায় যেতে হলে ঢাকায় আসার প্রয়োজন হয়। বরিশাল ও খুলনা থেকে ঢাকায় এসে ট্রেনে উঠতে হলে যাত্রীদের যেমন অর্থ ব্যয় হয়, একই সঙ্গে সময়েরও অপচয় হয়। এছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক মানুষই ভারতে তাদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ইত্যাদির কারণেই খুব বেশিমাত্রায় ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
মৈত্রী ট্রেনের চুক্তি নবায়ন হচ্ছে
ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী ট্রেন সার্ভিস চালু হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। তখন উভয় দেশের মধ্যে তিন বছর মেয়াদী চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর থেকে আর কোন চুক্তি নবায়ন হয়নি। তবে এখন নতুন করে তিন বছর মেয়াদে আবারও একটি চুক্তি করতে চায় উভয় দেশ। ইতোমধ্যেই এই চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক শাহ জহিরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত রেলপথ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে মৈত্রী ট্রেনের সময়সীমা কমিয়ে আনার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। এই লক্ষ্যে ট্রেনযাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সীমান্তের পরিবর্তে ঢাকা-কলকাতায় সম্পন্ন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে মৈত্রী ট্রেন এসি করতে হবে। ট্রেন এসি হলে ঢাকা-কলকাতায় ইমিগ্রেশন করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা-কলকাতায় মৈত্রী ট্রেনের সময়সীমা কমানোর জন্য মৈত্রী ট্রেনকে এসি করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। কারণ এসি করা হলে বাইরে থেকে কেউ আর উঠতে পারবে না। তখন ট্রেনযাত্রীরা নিরাপদে থাকবে। ফলে সীমান্তে কোন ইমিগ্রেশন না করে কলকাতায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করা সম্ভব হবে।
ঢাকা-কলকাতা বিমানযাত্রীদের মতোই মৈত্রী ট্রেনের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্ভব। বিমানের যাত্রীদের যেমন ঢাকা থেকে কাস্টম- ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে আবার কাস্টম-ইমিগ্রেশন হয়ে থাকে। এভাবে মৈত্রী ট্রেনের কাস্টম-ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
সূত্র জানায়, মৈত্রী ট্রেনের যাতায়াতের সময়সীমা ১৩ ঘণ্টা। এর মধ্যে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় দর্শনা-গেদে সীমান্তের কাস্টম-ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে থাকেন। উভয় দেশের যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা কমিয়ে আনার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ট্রেন চালু রয়েছে। এসব একাধিক দেশের মধ্যে চলাচল করে থাকে। তবে সীমান্ত এলাকায় এসব ট্রেনের যাত্রীর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয় না। যাত্রীরা ওঠার ও নামার সময় তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রেনের মধ্যেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। সে কারণে ঢাকা-কলকাতার ট্রেনের সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ভারত থেকে শর্ত দেয়া হয়েছে ট্রেনের সব বগি এসি করতে হবে। পুরো ট্রেনের বগি এসি করা হলেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সীমান্তের পরিবর্তে ঢাকা-কলকাতায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সূত্র জানায়, ঢাকা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর পাশাপাশি কন্টেনার সার্ভিস চালুর বিষয়ে বিবেচনা করছে দুই দেশ। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে। সে কারণে শুধু ট্রাকে মালামাল আনা নেয়া সীমাবদ্ধ না রেখে রেলপথে কন্টেনারের মাধ্যমে আনা নেয়া করতে চায় উভয় দেশ। তবে কন্টেনার সার্ভিস চালু করতে হলে উভয় দেশের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে প্রচুর অর্থও প্রয়োজন। সে কারণে কন্টেনার সার্ভিস চালু করতে আরও সময় নেবে দুই দেশ।
খুলনা-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস ঢাকা-কলকাতা ট্রেন চালুর পরে এই রুটে ট্রেনযাত্রীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে। সেকারণে উভয় দেশ খুলনা-কলকাতা ট্রেন চলাচলের জন্য সম্মত হয়। খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল থেকে ট্রেনে কলকাতায় যেতে হলে ঢাকায় আসার প্রয়োজন হয়। বরিশাল ও খুলনা থেকে ঢাকায় এসে ট্রেনে উঠতে হলে যাত্রীদের যেমন অর্থ ব্যয় হয়, একই সঙ্গে সময়েরও অপচয় হয়। এছাড়া খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক মানুষই ভারতে তাদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ইত্যাদির কারণেই খুব বেশিমাত্রায় ভারতে যাতায়াত করে থাকেন। এসব বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ খুলনা থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
মৈত্রী ট্রেনের চুক্তি নবায়ন হচ্ছে
ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী ট্রেন সার্ভিস চালু হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। তখন উভয় দেশের মধ্যে তিন বছর মেয়াদী চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০১১ সালে। এরপর থেকে আর কোন চুক্তি নবায়ন হয়নি। তবে এখন নতুন করে তিন বছর মেয়াদে আবারও একটি চুক্তি করতে চায় উভয় দেশ। ইতোমধ্যেই এই চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment