Wednesday, May 7, 2014

পুরস্কার ও আলোচনা- বাংলা একাডেমির রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন

পুরস্কার ও আলোচনা- বাংলা একাডেমির রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন
সংস্কৃতি সংবাদ
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আলোচনাসভা, রবীন্দ্র-পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন করেছে বাংলা একাডেমি। বুধবার বিকেলে একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ‘ঘরে বাইরে ভালোবাসার রাজনীতি ও রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মাসুদুজ্জামান। বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। প্রাবন্ধিক অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান তাঁর প্রবন্ধে উপস্থাপন করেন, রবীন্দ্রনাথের ভাবনাকে যদি আমরা বিবেচনায় আনি, তাহলে কিভাবে তিনি পশ্চিমী আধিপত্যবাদী ভুবনীকরণের বিরুদ্ধে মতাদর্শিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তার পরিচয় পাওয়া যাবে। সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া- যা আসলে পশ্চিমী আধুনিকতারই বিষয়- এসবের ওপর নির্ভর করে ভারত এবং এশিয়ার পক্ষ থেকে তিনি বিকল্প আধুনিকতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রাবন্ধিক আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন গণজীবন বা পাবলিক লাইফ ব্যক্তিজীবন বা প্রাইভেট লাইফ থেকে আলাদা নয়। এভাবেই বিকল্প আধুনিকতার সন্ধান করেছেন রবীন্দ্রনাথ। ব্যক্তিজীবনে যেমন প্রেমের ইতিহাসের ব্যবহার ঘটবে, তেমনি গণজীবনেও এই প্রেমকে প্রসারিত করে দিতে হবে। প্রেমের এই রাজনৈতিক ডিসকোর্সের আধুনিক প্রবক্তা ভাবুকশ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ। ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসের সূত্রে এই সত্য আরও গভীরভাবে প্রমাণিত হয়। অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিকতা-এককেন্দ্রিক বিশ্বায়ন-উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিসর তৈরি করেছেন। প্রকৃতি ও সমাজকে কেন্দ্র করে আমাদের নতুন রাষ্ট্রভাবনার ভাবকল্প উপহার দিয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদকে যেমন তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন তেমনি জাতীয়তাবাদের উদগ্ররূপ সম্পর্কে দিয়েছেন সচেতনতার দীক্ষা। সব মানুষের জন্য সমানুভূতির প্রবক্তা রবীন্দ্রনাথ উদ্দেশ্য ও উপায় উভয়কে সমান গুরুত্বে অধিষ্ঠান দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ও জনজীবন রবীন্দ্রনাথকে দিয়েছে নতুন জন্ম। পূর্ববঙ্গে অবস্থানের সূত্রে তিনি যেমন প্রান্তীয়-নিম্নবর্গের জনজীবনে আলো ফেলেছেন তেমনি এই মাটিলগ্ন স্বাদেশিকতাই তাঁকে বিশ্বজাতিক মানবে রূপান্তর করেছে। স্বাগত ভাষণে শামসুজ্জামান খান বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার বৃত্ত ছাপিয়ে আজ পৃথিবীর নানা প্রান্তে গভীর আলোচনার বিষয়। তাই শুধু সাহিত্যের কোণ থেকে নয়; জগত ও জীবনের বিচিত্রবিধ অনুষঙ্গে তাঁকে অবলোকন ও অন্বেষণ আমাদের দিতে পারে মুক্তিপথের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা। সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসসহ রবীন্দ্রসাহিত্যের নানা অংশে প্রেম ও রাজনীতি বিষয়ে যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় তা রবীন্দ্রগবেষক ও রবীন্দ্রনাথের পাঠকের জন্য বিশেষভাবে অনুসন্ধেয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১৪ প্রদান করা হয়। রবীন্দ্রসাহিত্য গবেষণা ও চর্চায় অবদানের জন্য কবি মনজুরে মওলা এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার ও প্রসারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১৪ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রপুরস্কার ২০১৪ প্রাপ্ত মনজুরে মওলার হাতে পুষ্পস্তবক, সনদ, ক্রেস্ট ও (পুরস্কারের অর্থমূল্য পঞ্চাশ হাজার) টাকা তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। পুরস্কারপ্রাপ্তির পর কবি ও রবীন্দ্রগবেষক মনজুরে মওলা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বাংলা একাডেমি প্রদত্ত রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্তির মুহূর্তটি আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে কূপম-ূকতার অসুস্থ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রবীন্দ্রনাথকে তাঁর যথার্থ মূল্যে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরী। অনুষ্ঠানে জানানো হয় শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা দেশের বাইরে থাকায় পরবর্তীতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হবে। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন নিপু এবং রানা ঠাকুর। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী সাদী মহম্মদ, চঞ্চল খান, নন্দিতা ইয়াসমিন, মিলিয়া আলী এবং স্বপ্নীল সজীব। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), আবু কামাল (বেহালা), সুনীল কুমার সরকার (কি-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী সংসদ
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী সংসদ আয়োজিত দুদিনব্যাপী রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব শেষ হলো। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী অনুপ ভট্টাচার্য, নাহার জামিল, দোদোল আহমেদ, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, নাঈমা আলী, মহাদেব ঘোষ, ফারহাত হোসেন, বুলবুল ইসলাম, আব্দুল ওয়াদুদ, ইফফাত আরা দেওয়ানসহ প্রায় ২৮ শিল্পী। অনুষ্ঠানে একক গান ছাড়াও তিনটি সম্মেলক গান পরিবেশিত হয়।

বাংলাদেশ টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীদের সম্মাননা প্রদান ও আলোচনার মধ্য দিয়ে বুধবার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন শিল্পী সংস্থা। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম আমানুল্লাহ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের মহাপরিচালক শামীম চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপমহাপরিচালক বাহার উদ্দিন খেলন। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার সভাপতি খায়রুল আলম সবুজ। সম্মাননাপ্রাপ্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা হলেন- আব্দুল্লাহ আল ফারুক, শারফুজ্জামান, রাশিদুল হোসেন, সুবল দত্ত, নিরঞ্জন অধিকারী, রুমু খান পরিতোষ সাহা প্রসেনজিৎ বসু, তরুণ কুমার মহলানবিশ, শিব শংকর রায়, আবু নওশের, কামাল উদ্দিন, জয়ন্তী ভূঁইয়া, মৃণাল ভট্টাচার্য, মনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম সরকার, সুব্রত বড়ুয়া, মহসীন রেজা, মৌলানা ওবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, মঞ্জুরী নিয়োগী।
আব্দুল আলীম ললিতকলা একাডেমির নববর্ষ উদ্যাপন

আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২১ উদ্যাপন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন আব্দুল আলীম ললিতকলা একাডেমি। বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জাহেদ হাসান মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কেরামত আলী দেওয়ান। আলোচনায় অংশ নেন মুকুল চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহে আলম মুরাদ, আব্দুল হক সবুজ, নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অধ্যক্ষ ইশবাল খান চৌধুরী। আলোচনা শেষে সংগঠনের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

No comments:

Post a Comment