নেতাদের ‘শিক্ষা’ দিতে আজ শহরবাসীর অস্ত্র নোটা
কমলেশ চৌধুরী
'না'৷ ভোট বয়কট নয়৷ প্রার্থী বয়কট৷
আজ, সোমবার শেষ দফার 'শহুরে' ভোটে চর্চায় ফিরছে 'না-ভোট'৷ 'নোটা-- নান অফ দ্য অ্যাবাভ' যেখানে কোথাও হাতিয়ার, তো কোথাও ব্যতিক্রমী স্টেটমেন্ট৷
যৌনকর্মী, মজদুর, বাড়িওয়ালা, উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের সংগঠন ইতিমধ্যেই 'না-ভোট' দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে৷ ভোটের আগের দিন ফেসবুক-টুইটারে স্টেটাস মেসেজেও ইভিএমের শেষ বোতামে আঙুল ছোঁয়ানোর ইঙ্গিত৷ যাদের অধিকাংশই প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নয়তো আইটি সেক্টরের কর্মী৷
শ্রমিক স্বীকৃতি-সহ তিন দাবি নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দুয়ারে গিয়েছিলেন যৌনকর্মীরা৷ কিন্ত্ত কোনও দলই ইস্তাহারে তাঁদের দাবির কথা উল্লেখ করেনি৷ যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে তাই জানিয়েছেন, 'আমরা সমস্ত প্রার্থীর কাছে দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম৷ ব্যক্তিগত ভাবে অনেকে দাবি মানার আগ্রহ দেখালেও, দলগত ভাবে সব পার্টিই আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে৷ সেই কারণে আমাদের ৫২টি শাখা কমিটির সদস্যরা ঠিক করেছেন, এ বার কোনও দলকেই ভোট দেবেন না যৌনকর্মীরা৷' দুর্বারের হিসেব বলছে, শুধু সোনাগাছিতেই যৌনকর্মী-বাবু-সন্তান মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার৷ এর সঙ্গে যোগ হবে হাড়কাটা গলি, খিদিরপুর, ওয়াটগঞ্জ, চেতলা, লখার মাঠের আরও কয়েক হাজার ভোটার৷ যৌনকর্মী ভোটার রয়েছেন বসিরহাট, শান্তিপুর, ব্যারাকপুরের তালপুকুরেও৷
যৌনকর্মী-সন্তানদের সংগঠন 'কোমল গান্ধার' পল্লির অলি-গলিতে নাটক মঞ্চস্থ করে বলেছে, কেন শ্রমিক স্বীকৃতি চাই, কেন-ই বা নোটা৷ মজদুর ক্রান্তি পরিষদ আবার শুধু নিজেদের সংগঠনের মধ্যেই প্রচার সীমাবদ্ধ রাখেনি৷ রাস্তায় বেরোলেই চোখে পড়ছে এমকেপি-র পোস্টার-- এ বার শাসকশ্রেণির সমস্ত দলকে প্রত্যাখ্যান করুন৷ পরিষদের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক অজয় বক্সি বলেন, 'ভোটের সময় দলগুলি শ্রমিকদের হয়ে কথা বলতে আসে৷ কিন্ত্ত এরা মালিকশ্রেণির মদতপুষ্ট৷ তাই আমরা নোটার কথা প্রচার করছি৷ নেতাদের তো একটা শাস্তি দেওয়া জরুরি!' অজয়বাবু জানাচ্ছেন, তাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার৷ গলা চড়া করতেই আমজনতার কাছে আবেদন রেখেছে এই শ্রমিক সংগঠন৷
নোটা-র হয়ে গলা চড়িয়েছে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি অফ হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও৷ বাড়িওয়ালাদের সংগঠনের সম্পাদক সুকুমার রক্ষিতের বক্তব্য, 'রেন্ট কন্ট্রোলে বাড়িওয়ালাদের ২৫০ কোটি টাকা ভাড়া পড়ে আছে৷ বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ আজও বাস্তবসম্মত করা হল না৷ রেন্ট কন্ট্রোলে চরম দুর্নীতিও চলছে৷' এসবের প্রতিবাদে শুধু আজ নয়, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনেও 'না-ভোট' দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অ্যাসোসিয়েশন৷ তিলজলায় ফ্লাইওভারের জন্য উচ্ছেদ হওয়া প্রায় চারশো পরিবারও আজ নোটা-র পথে৷
তা হলে কি শুধু ভোট কাটাকাটি নয়, নোটা-ও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে?
মানতে নারাজ ভোট-বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী৷ তাঁর কথায়, 'প্রথমত, সংগঠনগুলি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নোটার কথা বলছে৷ কিন্ত্ত কত জন ব্যক্তি হিসেবে নোটার বোতাম টিপবেন, তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত শহুরে ভোটারদের একটা অংশের মধ্যে রাজনৈতিক অনীতা রয়েছে৷ এদের অনেকে নোটায় ভোট দেবেন, যাদের কাছে এটা কিছুটা ব্যতিক্রমী স্টেটমেন্ট৷ হয়তো দক্ষিণ কলকাতাতেই না-ভোট পড়বে সবচেয়ে বেশি৷ কিন্ত্ত সংখ্যাটা বিশাল বড় কিছু হবে না৷'
'না'৷ ভোট বয়কট নয়৷ প্রার্থী বয়কট৷
আজ, সোমবার শেষ দফার 'শহুরে' ভোটে চর্চায় ফিরছে 'না-ভোট'৷ 'নোটা-- নান অফ দ্য অ্যাবাভ' যেখানে কোথাও হাতিয়ার, তো কোথাও ব্যতিক্রমী স্টেটমেন্ট৷
যৌনকর্মী, মজদুর, বাড়িওয়ালা, উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের সংগঠন ইতিমধ্যেই 'না-ভোট' দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে৷ ভোটের আগের দিন ফেসবুক-টুইটারে স্টেটাস মেসেজেও ইভিএমের শেষ বোতামে আঙুল ছোঁয়ানোর ইঙ্গিত৷ যাদের অধিকাংশই প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া নয়তো আইটি সেক্টরের কর্মী৷
শ্রমিক স্বীকৃতি-সহ তিন দাবি নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দুয়ারে গিয়েছিলেন যৌনকর্মীরা৷ কিন্ত্ত কোনও দলই ইস্তাহারে তাঁদের দাবির কথা উল্লেখ করেনি৷ যৌনকর্মীদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সচিব ভারতী দে তাই জানিয়েছেন, 'আমরা সমস্ত প্রার্থীর কাছে দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম৷ ব্যক্তিগত ভাবে অনেকে দাবি মানার আগ্রহ দেখালেও, দলগত ভাবে সব পার্টিই আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে৷ সেই কারণে আমাদের ৫২টি শাখা কমিটির সদস্যরা ঠিক করেছেন, এ বার কোনও দলকেই ভোট দেবেন না যৌনকর্মীরা৷' দুর্বারের হিসেব বলছে, শুধু সোনাগাছিতেই যৌনকর্মী-বাবু-সন্তান মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার৷ এর সঙ্গে যোগ হবে হাড়কাটা গলি, খিদিরপুর, ওয়াটগঞ্জ, চেতলা, লখার মাঠের আরও কয়েক হাজার ভোটার৷ যৌনকর্মী ভোটার রয়েছেন বসিরহাট, শান্তিপুর, ব্যারাকপুরের তালপুকুরেও৷
যৌনকর্মী-সন্তানদের সংগঠন 'কোমল গান্ধার' পল্লির অলি-গলিতে নাটক মঞ্চস্থ করে বলেছে, কেন শ্রমিক স্বীকৃতি চাই, কেন-ই বা নোটা৷ মজদুর ক্রান্তি পরিষদ আবার শুধু নিজেদের সংগঠনের মধ্যেই প্রচার সীমাবদ্ধ রাখেনি৷ রাস্তায় বেরোলেই চোখে পড়ছে এমকেপি-র পোস্টার-- এ বার শাসকশ্রেণির সমস্ত দলকে প্রত্যাখ্যান করুন৷ পরিষদের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক অজয় বক্সি বলেন, 'ভোটের সময় দলগুলি শ্রমিকদের হয়ে কথা বলতে আসে৷ কিন্ত্ত এরা মালিকশ্রেণির মদতপুষ্ট৷ তাই আমরা নোটার কথা প্রচার করছি৷ নেতাদের তো একটা শাস্তি দেওয়া জরুরি!' অজয়বাবু জানাচ্ছেন, তাদের সদস্যসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার৷ গলা চড়া করতেই আমজনতার কাছে আবেদন রেখেছে এই শ্রমিক সংগঠন৷
নোটা-র হয়ে গলা চড়িয়েছে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি অফ হাউজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও৷ বাড়িওয়ালাদের সংগঠনের সম্পাদক সুকুমার রক্ষিতের বক্তব্য, 'রেন্ট কন্ট্রোলে বাড়িওয়ালাদের ২৫০ কোটি টাকা ভাড়া পড়ে আছে৷ বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ আজও বাস্তবসম্মত করা হল না৷ রেন্ট কন্ট্রোলে চরম দুর্নীতিও চলছে৷' এসবের প্রতিবাদে শুধু আজ নয়, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনেও 'না-ভোট' দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অ্যাসোসিয়েশন৷ তিলজলায় ফ্লাইওভারের জন্য উচ্ছেদ হওয়া প্রায় চারশো পরিবারও আজ নোটা-র পথে৷
তা হলে কি শুধু ভোট কাটাকাটি নয়, নোটা-ও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে?
মানতে নারাজ ভোট-বিশেষজ্ঞ বিশ্বনাথ চক্রবর্তী৷ তাঁর কথায়, 'প্রথমত, সংগঠনগুলি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নোটার কথা বলছে৷ কিন্ত্ত কত জন ব্যক্তি হিসেবে নোটার বোতাম টিপবেন, তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত শহুরে ভোটারদের একটা অংশের মধ্যে রাজনৈতিক অনীতা রয়েছে৷ এদের অনেকে নোটায় ভোট দেবেন, যাদের কাছে এটা কিছুটা ব্যতিক্রমী স্টেটমেন্ট৷ হয়তো দক্ষিণ কলকাতাতেই না-ভোট পড়বে সবচেয়ে বেশি৷ কিন্ত্ত সংখ্যাটা বিশাল বড় কিছু হবে না৷'
http://eisamay.indiatimes.com/election-news/nota-election-2014/articleshow/35008972.cms?
No comments:
Post a Comment