Thursday, May 8, 2014

নারায়ণগঞ্জের ৪ ওসি, ৪০ এসআই, ৩৯ এএসআই ॥ ব্যাপক রদবদল ০ হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির তদন্ত শুরু ০ সাত খুনের ঘটনায় নারীসহ আটক ৩ জন তিন দিনের রিমান্ডে ০ ছেলে-জামাতা জড়িত অভিযোগে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ০ প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার ॥ এসপি

নারায়ণগঞ্জের ৪ ওসি, ৪০ এসআই, ৩৯ এএসআই ॥ ব্যাপক রদবদল
০ হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির তদন্ত শুরু
০ সাত খুনের ঘটনায় নারীসহ আটক ৩ জন তিন দিনের রিমান্ডে
০ ছেলে-জামাতা জড়িত অভিযোগে মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
০ প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার ॥ এসপি
রুমন রেজা, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দুই থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি, ওসি (তদন্ত) এবং ৪০ এসআই ও ৩৯ এএসআইকে ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বদলি করা হয়েছে। সাত খুনের ঘটনায় নূর হোসেনের সহযোগীর স্ত্রীসহ ৩ জনকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা নারায়ণগঞ্জে আসেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্ত কমিটি প্রধান বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যাকে প্রয়োজন তার সঙ্গেই কথা বলব। আইনজীবী সমিতির গণঅনশন কর্মসূচীতে ড. কামাল বলেছেন, ৭ খুনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেগে উঠেছে। এবার জাগবে বাংলাদেশ। এই কর্মসূচীতে আইনজীবীরা ঘোষণা দিয়েছে, র‌্যাব কর্মকর্তাসহ জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে ঘটনার ৭ দিন পর চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালককে হত্যার ঘটনায় জামাতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। চন্দন সরকার ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের বাড়িতে গেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। ছেলে ও জামাতা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।

নরসিংদী থেকে আটক তিনজন তিন দিনের রিমান্ডে
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে ৭ হত্যার ঘটনায় নূর হোসেনের সহযোগীর স্ত্রীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ড. মহিদ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টি জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- নূর হোসেনের সহযোগী শাহাজাহানের স্ত্রী মোমেনা বেগম, শ্যালক টিপু ও দেহরক্ষী মিন্টু। তদন্তের স্বার্থে যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে যে কাউকে আটক করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, সাত খুন তদন্তে যাকেই দরকার মনে হবে তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতার ও আটকের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে অনেকে গ্রেফতার হবে। এই মামলায় আমাদের যথেষ্ট অগ্রগতি আছে। তবে শেষ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।’ এর আগে এ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নূর হোসেনের বাড়ি থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. মহিদ বলেন, ‘একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকা-ে রহস্য সাধারণ কোন হত্যাকা-ের মতো এত তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ পরিকল্পিত হত্যাকা-ের পর যাতে তদন্তে কোন সূত্র না পাওয়া যায় সেই পরিকল্পনাও হত্যাকারীরা করেন।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই এসব হত্যাকা-ে সময় দরকার।’
সাত খুন ঘটনায় র‌্যাব ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মহিদ বলেন, ‘তদন্তের দুটি অংশ থাকে একটি দৃশ্যমান, যাতে খুব কম তথ্যই আপনাদের দিতে পারি। আরেকটি অংশ হচ্ছে অদৃশ্য, যা তদন্তের স্বার্থে সব কিছু প্রকাশ করা যায় না। প্রকাশ করা হলে তদন্ত ব্যাহত হয়। তবে সামনের দিনে আপনারা দেখতে পারবেন কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কারণ কাউকেই গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ করব না।’ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা বদল সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মামুনুর রশিদ ম-ল এর আগে নরসিংদীর লোকমান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। মূলত ওই তদন্ত আমিই করেছিলাম। মামুনুর রশিদ সেটা কম্পাইল করেছিলেন। সে সময় তিনি আমার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই তাঁকে নারায়ণগঞ্জে বদলি করে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই মামলাও আমিই তদন্ত করব। সঙ্গে তাঁর সহযোগিতা নেব। তাই তাঁকে জেলা ডিবির ওসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।’
পুলিশ সুপারের অপহরণের স্থান ও লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় অপহরণের স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শান্তিবাগ এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে (৭ জনের লাশ উদ্ধারের স্থান) পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ ঘটনাস্থল, স্পিডবোটে চড়ে ঘুরে দেখেন।
চন্দন সরকার হত্যায় জামাতার মামলা দায়ের
নারায়ণগঞ্জে অপহরণের পর নির্মম হত্যাকা-ের শিকার সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার হত্যার ঘটনায় পৃথক একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার রাতে চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তবে ওই মামলায় কোন আসামির নাম বা সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
ফতুল্লায় মডেল থানার এসআই আসমা জানান, বুধবার রাতে চন্দন সরকারের জামাতা ডা. বিজয় কুমার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় তাদের চন্দন সরকারকে সম্ভাব্য কোথা থেকে অপহরণ করা হয়েছে তার উল্লেখ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জে ৪ ওসিসহ ৮৩ কর্মকর্তা বদলি
৭ হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের ৪ ওসিকে বদলি করা হয়েছে। এঁরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিনকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে, ফতুল্লা থানার ওসি আক্তার হোসেনকে মুন্সীগঞ্জে বদলি করে তাঁর স্থলে নরসিংদীর আসাদুজ্জামান খানকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ওসি মাহাবুবুর রহমান ও ওসি (তদন্ত) আব্দুল আউয়াল বরিশাল রেঞ্জে এবং ডিবির অফিসে মামুনুর রশিদকে দায়িত্ব দেয়া হয়ছে। নবাগত ওসি মামুনুর রশিদকে আলোচিত ৭ হত্যার মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। এছাড়া ৪০ এসআই ও ৩৯ এএসআইকে ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সেভেন মার্ডারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এ বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মনোজ কান্তি বড়াল, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ নুরুল ইসলামকে বদলি করা হয়। ফিরিয়ে নেয়া হয় র‌্যাব-১১-এর সিও লে. কর্নেল তারিক সাঈদসহ, মেজর এমএ রানা, মেজর আরিফ। নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান টাঙ্গাইলের ডিসি মোঃ আনিছুর রহমান মিয়া। এসপি হিসেবে যোগ দেন নরসিংদীর এসপি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জে
কাউন্সিলর নজরুল, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ হত্যা মামলার ঘটনায় র‌্যাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শন করেন।
বিকেল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কিছুক্ষণ বসেন। পরে তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় (অপহরণের স্থান) এবং শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়ার শান্তিনগর এলাকায় (লাশ উদ্ধারের স্থান) পরিদর্শন করেন।
পরে তদন্ত কমিটি প্রধান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, আদালতের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি সেটি খুবই স্পর্শকাতর। বুধবার তদন্ত কমিটি গঠনের পর বৃহস্পতিবার সকালে আমরা ঠিক করি, কিভাবে কাজ করব? সেই সভা করার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে যাওয়া জরুরী। র‌্যাব বা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কিনা জানতে চেয়ে তিনি বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন আমরা তার সঙ্গে কথা বলব। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১৫ মে’র মধ্যে তাঁরা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

না’গঞ্জের ঘটনা দেশবাসীকে ঝাঁকুনি দিয়েছে ॥ ড. কামাল
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের চেয়ারম্যান ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেগে উঠেছে, এবার বাংলাদেশ জাগবে। এ হত্যা মানুষকে ঝাঁকুনি দিয়েছে, হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। বিবেকের ক্রন্দনে লোনা হয়েছে জল। এ হত্যার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ালে গুম, হত্যা ও অপহরণ মহামারিতে পরিণত হবে। আইনজীবী চন্দন সরকারের হত্যার দোষীদের বিচারের দাবিতে আজ সকল আইনজীবী এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন। কে কোন্ দলের সেটা এখন কারও কাছে বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে বিচার। বেঁচে থাকা ও বাঁচার নিরাপত্তা দেয়া যেমন সংবিধানে লেখা আছে। সংবিধানে এও লেখা আছে যে রাষ্ট্র কিভাবে এই মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করবে। তাই ৭ মার্ডারের ঘটনায় এর প্রতিবাদে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে সে জাগরণ সারাদেশে ৫৫ হাজার আইনজীবীদের কাছে পৌঁছে দিতে আগামী ১৪ এপ্রিল সুপ্রীমকোর্ট বার ভবনে দেশের সকল আইনজীবীকে ডেকেছি। বৃহত্তর এ আইনজীবী সভায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আলোচনা করব কিভাবে ৭ মার্ডার মামলা নিয়ে তদন্ত, পরিচালনা বিচার কার্য, কী শাস্তি চাই, কী ধরনের তদন্ত দরকার এ নিয়ে আমরা খোলামেলা আলোচনা করব। বিচারপতিদের কাছে যাব তাঁদের কাছ থেকে কী আদেশ বা মতামত নেয়া যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতপাড়ার বার ভবনের সামনে জেলা আইনজীবী সমিতির পূর্ব নির্ধারিত প্রতীকী অনশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে প্রবীণ এ আইনজীবী নেতা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ অন্যদের জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
ড. কামাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রসঙ্গে বলেন, বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে সমালোচনা করতে আসিনি। তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারও কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট নিয়ে মানুষ হত্যা করবেÑএটা আমরা আশা করি না। সচেতন থাকবেন যেন আমরা আপনাদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা চলবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী। তারা কোন ব্যক্তির জন্য কাজ করবে না।
তিনি বলেন, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে তদন্ত কমিটি হয়েছে, বিচার হয়নি। যে যত উচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হোক না কেন দোষী হলে তার বিচার করতে হবে। যতদিন এর সঠিক বিচার বা তদন্তে গাফিলতি ধরা পড়বে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে। সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল বলেন, আজকে একটি জিনিস ভাল লাগছে আইনজীবিরা আজ একজনও অমুক ফোরাম তমুক ফোরামে নেই। সহকর্মীর বিচার চাইতে তাঁরা সব মতভেদ ভুলে দল, মত ভুলে এক কাতারে আন্দোলনে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে আওয়াজ তুলছে।
ড. কামাল বলেন, স্বাধীন দেশে গুম-হত্যা-অপহরণ থেকে মুক্তি পেতে হলে ১৬ কোটি মানুষকে সংবিধান অনুযায়ী আইনের মাধ্যমে শাসিত হতে হবে। সংবিধানে মানুষের মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ আছে। যারা এভাবে মারা গেছে তারা সেই সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে জানমালের নিরাপত্তায় মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিচার ভিক্ষা চাওয়ার বিষয় নয়। এটা আমাদের নৈতিক অধিকার। অনেক সময় আমরা গুমের ভয়ে চুপ করে থাকতাম। কিন্তু এখন আর চুপ করে থাকব না। চন্দন সরকার জীবন দিয়ে আমাদের জাগ্রত করে গেছেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। গণঅনশন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান মাসুম, আনিসুর রহমান দিপু, আওলাদ হোসেন, হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ।
আইনজীবিরা ঘোষণা দেন, র‌্যাবের কর্মকর্তাসহ জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।

মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার
নারায়ণগঞ্জে ৭ হত্যার ঘটনায় ছেলে ও জামাতা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তাঁরা এ দাবি জানান। এ সময় তাঁরা আরও বলেন, র‌্যাবের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাত খুনের অভিযোগ থাকার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মতবিনিময়সভায় গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নারায়ণগঞ্জের আহ্বায়ক তরিকুল সুজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শুভ্রাংসু চক্রবর্তী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশারেফা মিশু প্রমুখ।
পরে বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান, বজলুর রশিদ ফিরোজ, সিপিবির সেক্রেটারি সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁরাও ঘটনার সঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তাসহ যারা জড়িত তাদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে বিচার দাবি করেন।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment