তেঁতুলিয়া নদীতীরের সেই চন্দ্রদ্বীপ- আজও দাঁড়িয়ে কাছারিবাড়ি
ইতিহাসের সাক্ষী
কামরুজ্জমান বাচ্চু ॥ কালের সাক্ষী হয়ে আছে বাউফলের কাছারি বাড়ি। প্রায় দুই শ’ বছর পূর্বে জমিদার মহেন্দ্র রায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরী এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এ বাড়িটি উপজেলা ভূমি অফিস হিসেবে পরিচিত।
জনশ্রুতি আছে, এক সময় বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ নামের একটি রাজ্য গড়ে ওঠে। আর সেই রাজ্যের রাজধানী ছিল তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া। ওই সময় ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণা রঞ্জন রায় সপরিবারে বাণিজ্য করতে এ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসেন। তিনি স্বাচ্ছন্দে দীর্ঘদিন এখানে বাণিজ্য করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দু’ছেলে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় মিলে এখানে বাণিজ্য শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা দুইভাই এ রাজ্যে বিপুলসংখ্যক জমি ক্রয় করে, জমিদারিত্ব লাভ করেন। আর এ জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা নিজ এলাকা থেকে কিছুসংখ্যক লোক এখানে নিয়ে আসেন। প্রজাদের কাছ থেকে তাঁরা খাজনা আাদায় করতেন। আর এ খাজনা আদায়ের জন্য এলাকায় বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয় কাছারি ঘর। প্রজারা নিজ নিজ এলাকার কাছারি ঘরে গিয়ে এ খাজনা দিয়ে আসতেন। এ কাছারি ঘরগুলোর মূল কার্যক্রম পরিচালিত হতো মহেন্দ্র রায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর এ বাড়ি থেকেই। তাই এক সময় এ বাড়িটির নামও হয়ে যায় কাছারি বাড়ি। বাউফল বাজারের দক্ষিণ পাশে এ জমিদার বাড়ি বা কাছারি বাড়ি অবস্থিত। বর্তমানে এ বাড়িটি বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস এবং বাউফল ইউনিয়নের তহসিল অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাউফল ইউনিয়ন তহসিল অফিস থেকে এখনও খাজনা নেয়া হয়। ওই ইউনিয়নের লোকজন এ অফিসে এসে খাজনা দিয়ে যান। সেই জমিদারিত্ব না থাকলেও জমিদারদের সেই খাজনা প্রথা এ বাড়িতে এখনও বহাল রয়েছে। বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির ওপর এ বাড়িটি অবস্থিত। ভূমি অফিসের অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারি এ স্টেটের পুরাতন দালানে পরিচালিত হচ্চে। নানা শৈল্পিক কারুকার্যে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ছোট সাইজের ইট আর সুরকি ব্যবহার করে এ বাড়িতে নির্মাণ করা হয় দুটি দালান। এর একটি দালান হচ্ছে দক্ষিণ পাশে। আর অপর বাড়িটি হচ্ছে পশ্চিম পাশে। দালান দুটির সামনে দুটি করে ৬টি জোড়া গম্মুজ রয়েছে। দক্ষিণ পাশের দালানের সামনে স্থাপিত হয়েছে দুটি হাতির মাথা। এ দালানটির ভেতরে রয়েছে ৪টি রুম। দালানটি বর্তমানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমির) বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর পশ্চিম পাশের দালানের রয়েছে ৫টি কক্ষ। এ দালান দুটি সামনে খোলা যায়গায় নির্মাণ করা হয় টিনের ৮ চালা উঁচু নাটঘর। এ নাটঘরে যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন ধরনের নাটক হতো। বাড়ির সামনে বসে জমিদার তার পরিবারের লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন। এ জমিদার বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে চারপাশে রয়েছে উঁচু দেয়াল। রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ির উত্তরপাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। এ পুকুরের পানি প্রজারা কেউ ব্যবহার করত না। শুধু জমিদার বাড়িরর লোকজন ব্যবহার করতেন।
কথিত আছে, ১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফল থানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় এ জমিদারি ছেড়ে চলে যান। এর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ বাড়িটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
জনশ্রুতি আছে, এক সময় বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে চন্দ্রদ্বীপ নামের একটি রাজ্য গড়ে ওঠে। আর সেই রাজ্যের রাজধানী ছিল তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া। ওই সময় ফরিদপুর জেলার সদরপুর বাইশরশি থেকে দক্ষিণা রঞ্জন রায় সপরিবারে বাণিজ্য করতে এ চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে আসেন। তিনি স্বাচ্ছন্দে দীর্ঘদিন এখানে বাণিজ্য করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দু’ছেলে মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় মিলে এখানে বাণিজ্য শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা দুইভাই এ রাজ্যে বিপুলসংখ্যক জমি ক্রয় করে, জমিদারিত্ব লাভ করেন। আর এ জমিদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাঁরা নিজ এলাকা থেকে কিছুসংখ্যক লোক এখানে নিয়ে আসেন। প্রজাদের কাছ থেকে তাঁরা খাজনা আাদায় করতেন। আর এ খাজনা আদায়ের জন্য এলাকায় বিশেষভাবে নির্মাণ করা হয় কাছারি ঘর। প্রজারা নিজ নিজ এলাকার কাছারি ঘরে গিয়ে এ খাজনা দিয়ে আসতেন। এ কাছারি ঘরগুলোর মূল কার্যক্রম পরিচালিত হতো মহেন্দ্র রায় চৌধুরী ও রাজেন্দ্র রায় চৌধুরীর এ বাড়ি থেকেই। তাই এক সময় এ বাড়িটির নামও হয়ে যায় কাছারি বাড়ি। বাউফল বাজারের দক্ষিণ পাশে এ জমিদার বাড়ি বা কাছারি বাড়ি অবস্থিত। বর্তমানে এ বাড়িটি বাউফল উপজেলা ভূমি অফিস এবং বাউফল ইউনিয়নের তহসিল অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাউফল ইউনিয়ন তহসিল অফিস থেকে এখনও খাজনা নেয়া হয়। ওই ইউনিয়নের লোকজন এ অফিসে এসে খাজনা দিয়ে যান। সেই জমিদারিত্ব না থাকলেও জমিদারদের সেই খাজনা প্রথা এ বাড়িতে এখনও বহাল রয়েছে। বাউফল মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের জে এল নং ৮৭ দাগ নং ১১২০ ও ১১২১ তে ১১.৯৭ একর জমির ওপর এ বাড়িটি অবস্থিত। ভূমি অফিসের অধিকাংশ অফিস ঘরই জমিদারি এ স্টেটের পুরাতন দালানে পরিচালিত হচ্চে। নানা শৈল্পিক কারুকার্যে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। ছোট সাইজের ইট আর সুরকি ব্যবহার করে এ বাড়িতে নির্মাণ করা হয় দুটি দালান। এর একটি দালান হচ্ছে দক্ষিণ পাশে। আর অপর বাড়িটি হচ্ছে পশ্চিম পাশে। দালান দুটির সামনে দুটি করে ৬টি জোড়া গম্মুজ রয়েছে। দক্ষিণ পাশের দালানের সামনে স্থাপিত হয়েছে দুটি হাতির মাথা। এ দালানটির ভেতরে রয়েছে ৪টি রুম। দালানটি বর্তমানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমির) বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর পশ্চিম পাশের দালানের রয়েছে ৫টি কক্ষ। এ দালান দুটি সামনে খোলা যায়গায় নির্মাণ করা হয় টিনের ৮ চালা উঁচু নাটঘর। এ নাটঘরে যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন ধরনের নাটক হতো। বাড়ির সামনে বসে জমিদার তার পরিবারের লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেতন। এ জমিদার বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে চারপাশে রয়েছে উঁচু দেয়াল। রয়েছে ২টি পুকুর। জমিদার বাড়ির উত্তরপাশে পুকুরটি পানি ছিল রিজার্ভ। এ পুকুরের পানি প্রজারা কেউ ব্যবহার করত না। শুধু জমিদার বাড়িরর লোকজন ব্যবহার করতেন।
কথিত আছে, ১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা গেজেটে পটুয়াখালী মহকুমাধীন বাউফল থানা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জমিদার মহেন্দ্র রায় ও রাজেন্দ্র রায় এ জমিদারি ছেড়ে চলে যান। এর পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ বাড়িটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
No comments:
Post a Comment