মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়ার কৃতিত্ব
জিয়াউর রহমান বাঙালিদের মধ্যে প্রথম যিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্বকে নাকচ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ৩ মার্চ এসেম্বলী অধিবেশন স্থগিত করার পর থেকেই দেশের সর্ব স্তরের জনগণ স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে এক গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করে। এই গণ-অভ্যুত্থানকে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রাখার সব ধরনের রাজনৈতিক অপচেষ্টা, শলা-পরামর্শ চলেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মীমাংসার ঐ অপচেষ্টা ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে পণ্ড হয়েছিল।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা দেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বিলি-উত্তোলন করে। সর্বস্তরের জনতা এই পতাকা বাড়ি-অফিস সর্বত্র উত্তোলন করে নিজেদের পাকিস্তানি পরিচয় বজায় রাখতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। বেসামরিক অফিসার এবং সামরিক অফিসাররা স্বাধীনতার ঘোষণার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ করেন। এ অবস্থায় পেসিডেন্ট ইয়াহিয়া স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান দমনের জন্য ২৬ মার্চ বাংলাদেশে সামরিক আইন কড়াকড়িভাবে জারি করেন। বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা হয়। বাঙালি সৈনিকরা সর্বত্র অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকার করে। চট্টগ্রামে মেজর জিয়া ২৬ মার্চ বিদ্রোহ করেন এবং ড্রামে দাঁড়িয়ে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। পরের দিন ২৭ মার্চ কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন,' আমি, মেজর জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চীফ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।'
মেজর জিয়ার নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান দাবি স্বাধীনতার লক্ষ্যে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ফল; কারণ নয়। জনগণের স্বাধীনতার লক্ষ্যে গণ-অভ্যুত্থানের ব্যাপকতার ফল হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবিদ্রোহ; যার একটি হয়েছিল চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার নেতৃত্বে । তিনি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাড়িত হয়ে সামরিক শাসক হবার লক্ষ্যে এ ঘোষণা প্রদান করলে, পরে তিনি শেখ মুজিবের পক্ষে তাঁর দ্বিতীয় ঘোষণাটি দিতেন না বা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে সেক্টর কমান্ডার বা জেড-ফোর্সের দায়িত্বও তিনি পালন করতেন না।
মেজর জিয়ার ঘোষণার কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে- এমন দাবি যেমন ঠিক নয়, তেমন ঠিক নয় ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্ব নাকচ করে তাঁর নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমে দাবি উত্থাপন করার ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করা। এই অস্বীকার করার কাজ যাঁরা করছেন তাঁদের উচিত শেখ মুজিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ৭২ সালের কাউন্সিলে আলোচিত এবং অনুমোদিত তাজউদ্দীন আহমেদ রচিত সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে মেজর জিয়ার ঘোষণা সম্পর্কে মূল্যায়নটি পাঠ করা!
"আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগ্রামে রত মেজর জিয়াউর রহমান বেতার মারফত বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন এবং বাংলাদেশে গণহত্যা রোধ করতে সারা পৃথিবীর সাহায্য কামনা করেন।'' [আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদের রিপোর্ট : দৈনিক বাংলা, ৯ এপ্রিল ১৯৭২]
আমরা আগেই বলেছি, মেজর জিয়াই প্রথম বাঙালি যিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্বকে নাকচ করে নিজেকে রাষ্ট্র-প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনে আমলা, বিচারকরা আগেই একত্রিত হয়েছিল। এই আন্দোলনে ক্রমান্বয়ে বাঙালি সৈনিকরাও একত্রিত হয়েছিল। মেজর জিয়ার নিজেকে রাষ্ট্র-প্রধানের ঘোষণা আন্দোলনকে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে রেখে রাজনৈতিক মীমাংসাকে হাস্যকর, উদ্ভট এবং অসম্ভব করে তুলেছিল।
স্বাধীনতার লক্ষ্যে ছাত্র-জনগণ-আমলা-বিচারক-সৈনিকসহ সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী জনতার মজবুত ঐক্যের পটভূমিতে রাজনৈতিক মীমাংসায় যুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মার্কিন-চীনের সাথে গাঁটছড়ায় আবদ্ধ মহাপরাক্রমশালী বলে পরিচয়দানকারী পাকিস্তানের সামরিক জান্তার গোলায় জীবন দানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে স্বাধীনতাকামী জনতার সাথে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অংশ ১০ এপ্রিল সরকার গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে আসীন হন।
চালাক নন্দলালরা বলতেই পারেন, “ঢিল ছুড়ে ট্যাঙ্ক ধ্বংসের চেষ্টা পাগলামী। এক টুকরা স্বাধীনতার পতাকা দিয়ে বোমারু বিমান ধ্বংস করা পাগলামী। জেনারেলদের নাকচ এবং বাতিল করে মেজর-ক্যাপ্টেনদের রাষ্ট্র-প্রধানের দাবি করাও পাগলামী।” এ সব সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ‘পাগলদে’রই কাজ। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ‘পাগলামীতে’ই দেশ স্বাধীন হয়েছে, অতি ধুরন্ধর বুদ্ধিমানদের পাকিস্তানের শাসক হবার সব হিসাব-নিকাশ পণ্ড করে! ৩০/৫/০৯
জিয়াউর রহমান বাঙালিদের মধ্যে প্রথম যিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্বকে নাকচ করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ৩ মার্চ এসেম্বলী অধিবেশন স্থগিত করার পর থেকেই দেশের সর্ব স্তরের জনগণ স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে এক গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত করে। এই গণ-অভ্যুত্থানকে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রাখার সব ধরনের রাজনৈতিক অপচেষ্টা, শলা-পরামর্শ চলেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মীমাংসার ঐ অপচেষ্টা ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে পণ্ড হয়েছিল।
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সারা দেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বিলি-উত্তোলন করে। সর্বস্তরের জনতা এই পতাকা বাড়ি-অফিস সর্বত্র উত্তোলন করে নিজেদের পাকিস্তানি পরিচয় বজায় রাখতে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। বেসামরিক অফিসার এবং সামরিক অফিসাররা স্বাধীনতার ঘোষণার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বাঙালি সৈনিকরা বিদ্রোহ করেন। এ অবস্থায় পেসিডেন্ট ইয়াহিয়া স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান দমনের জন্য ২৬ মার্চ বাংলাদেশে সামরিক আইন কড়াকড়িভাবে জারি করেন। বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা হয়। বাঙালি সৈনিকরা সর্বত্র অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকার করে। চট্টগ্রামে মেজর জিয়া ২৬ মার্চ বিদ্রোহ করেন এবং ড্রামে দাঁড়িয়ে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। পরের দিন ২৭ মার্চ কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন,' আমি, মেজর জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের প্রভিশনাল প্রেসিডেন্ট ও লিবারেশন আর্মি চীফ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।'
মেজর জিয়ার নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান দাবি স্বাধীনতার লক্ষ্যে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ফল; কারণ নয়। জনগণের স্বাধীনতার লক্ষ্যে গণ-অভ্যুত্থানের ব্যাপকতার ফল হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবিদ্রোহ; যার একটি হয়েছিল চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার নেতৃত্বে । তিনি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাড়িত হয়ে সামরিক শাসক হবার লক্ষ্যে এ ঘোষণা প্রদান করলে, পরে তিনি শেখ মুজিবের পক্ষে তাঁর দ্বিতীয় ঘোষণাটি দিতেন না বা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে সেক্টর কমান্ডার বা জেড-ফোর্সের দায়িত্বও তিনি পালন করতেন না।
মেজর জিয়ার ঘোষণার কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে- এমন দাবি যেমন ঠিক নয়, তেমন ঠিক নয় ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্ব নাকচ করে তাঁর নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমে দাবি উত্থাপন করার ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করা। এই অস্বীকার করার কাজ যাঁরা করছেন তাঁদের উচিত শেখ মুজিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ৭২ সালের কাউন্সিলে আলোচিত এবং অনুমোদিত তাজউদ্দীন আহমেদ রচিত সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে মেজর জিয়ার ঘোষণা সম্পর্কে মূল্যায়নটি পাঠ করা!
"আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংগ্রামে রত মেজর জিয়াউর রহমান বেতার মারফত বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন এবং বাংলাদেশে গণহত্যা রোধ করতে সারা পৃথিবীর সাহায্য কামনা করেন।'' [আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদের রিপোর্ট : দৈনিক বাংলা, ৯ এপ্রিল ১৯৭২]
আমরা আগেই বলেছি, মেজর জিয়াই প্রথম বাঙালি যিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রাষ্ট্রপতিত্বকে নাকচ করে নিজেকে রাষ্ট্র-প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন। ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনে আমলা, বিচারকরা আগেই একত্রিত হয়েছিল। এই আন্দোলনে ক্রমান্বয়ে বাঙালি সৈনিকরাও একত্রিত হয়েছিল। মেজর জিয়ার নিজেকে রাষ্ট্র-প্রধানের ঘোষণা আন্দোলনকে পাকিস্তানি কাঠামোর মধ্যে রেখে রাজনৈতিক মীমাংসাকে হাস্যকর, উদ্ভট এবং অসম্ভব করে তুলেছিল।
স্বাধীনতার লক্ষ্যে ছাত্র-জনগণ-আমলা-বিচারক-সৈনিকসহ সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী জনতার মজবুত ঐক্যের পটভূমিতে রাজনৈতিক মীমাংসায় যুক্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মার্কিন-চীনের সাথে গাঁটছড়ায় আবদ্ধ মহাপরাক্রমশালী বলে পরিচয়দানকারী পাকিস্তানের সামরিক জান্তার গোলায় জীবন দানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে স্বাধীনতাকামী জনতার সাথে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই অংশ ১০ এপ্রিল সরকার গঠন করে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে আসীন হন।
চালাক নন্দলালরা বলতেই পারেন, “ঢিল ছুড়ে ট্যাঙ্ক ধ্বংসের চেষ্টা পাগলামী। এক টুকরা স্বাধীনতার পতাকা দিয়ে বোমারু বিমান ধ্বংস করা পাগলামী। জেনারেলদের নাকচ এবং বাতিল করে মেজর-ক্যাপ্টেনদের রাষ্ট্র-প্রধানের দাবি করাও পাগলামী।” এ সব সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ‘পাগলদে’রই কাজ। সাড়ে সাত কোটি মানুষের ‘পাগলামীতে’ই দেশ স্বাধীন হয়েছে, অতি ধুরন্ধর বুদ্ধিমানদের পাকিস্তানের শাসক হবার সব হিসাব-নিকাশ পণ্ড করে! ৩০/৫/০৯
No comments:
Post a Comment