অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুখেন্দু আচার্য: সিউড়ি ও কল্যাণী, ২ মে– আমানতকারীদের ক্রমাগত চাপ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যম্ত আত্মঘাতী হলেন চিটফান্ড সংস্হার এক মালিক ও এক এজেন্ট৷ বীরভূমের সদাইপুর থানার বরিহাট গ্রামে শুক্রবার ভোররাতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন এজেন্ট বৈদ্যনাথ মিত্র (৪৯)৷ অন্যদিকে, কল্যাণীর চাকদা থানার ঈশ্বরীপুর গ্রামে বুধবার রাতে আত্মঘাতী হন জহিউল হক মণ্ডল৷ তিনি একটি চিটফান্ড সংস্হার মালিক ছিলেন৷ শুক্রবার ভোররাতে বরিহাট গ্রামে নিজের মাটির বাড়ির বৈঠকখানা-লাগোয়া পুকুরপাড়ে একটি গাছের ডালে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখা যায় বৈদ্যনাথকে৷ তিনি ছিলেন বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প লাগোয়া ভুরকুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সি পি এম প্রধান শিখা সাহা মিত্রের স্বামী৷ পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ‘সম্বন্ধ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ নামে একটি চিটফান্ডের এজেন্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন বৈদ্যনাথ৷ বছরখানেক আগে চিটফান্ড সংস্হাটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়৷ এর পর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় সংস্হার ম্যানেজিং ডিরেক্টর৷ স্হানীয় আমানতকারীরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন বৈদ্যনাথকে৷ পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে আত্মীয়স্বজনদের কাছে ঋণ নিয়ে কিছু আমানতকারীকে টাকা ফেরত দেন৷ অবশ্য সবাইকে দিতে পারেননি৷ বাকি আমানতকারীদের ক্রমাগত চাপ সহ্য করতে না পেরেই শেষ পর্যম্ত তাঁর স্বামী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলেন বলে অভিযোগ মৃতের স্ত্রী শিখার৷ এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে জহিউল ঘুম থেকে উঠছেন না দেখে ঘরের দরজা ভেঙে তাঁকে ঝুলম্ত অবস্হায় দেখতে পান বাড়ির লোকেরা৷ তিনি ‘ডিল’ নামে একটি চিটফান্ড চালাতেন৷ কল্যাণী থেকে শুরু করে নদীয়ার বিভিন্ন জায়গায় এই চিটফান্ডের অফিস ছিল৷ জেলার বহু মানুষ সেখানে আমানত করেছিলেন বলে প্রশাসনের কর্তারা জানতে পেরেছেন৷ আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের জন্য এই সংস্হার ছয় কর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন৷ এরপর দিন দুয়েক আগে ঠিক হয় ১ মে আমানতকারীদের কিছু টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে৷ সেই মতো ৩০ এপ্রিল রাতে বাড়ি ফিরে স্বাভাবিক ভাবেই খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়েন জহিউল৷ সকালে বাড়ির সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও জহিউল দরজা না খোলায় সন্দেহ হয়৷ পুলিস জানতে পেরেছে এই সংস্হা চালাতেন ৬ জন৷ বাকি ৫ জনের ব্যাপারে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷

|
No comments:
Post a Comment