Saturday, May 3, 2014

গলাচিপায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি ॥ ৭ লাশ উদ্ধার, বহু নিখোঁজ

গলাচিপায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি ॥ ৭ লাশ উদ্ধার, বহু নিখোঁজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, গলাচিপা, ৩ মে ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া নদীতে প্রায় এক শ’ যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের মধ্যে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭-১৮ জন যাত্রী সাঁতরে ও ঢেউয়ের স্রোতে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে কলাগাছিয়া লঞ্চঘাট থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে পূর্ব কলাগাছিয়া গ্রামসংলগ্ন নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে এমএল শাথিল নামে এ লঞ্চটি গভীর পানিতে ডুবে যায়। ঘটনার পর থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন। নদীর দু’ পাড়ে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজন ও উৎসুক কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছে।
লঞ্চের উদ্ধার হওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি বেলা দেড়টার দিকে গলাচিপা টারমিনাল থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে লঞ্চটি সকাল ৯টায় রাঙ্গাবালী থেকে রওনা হয়। গলাচিপা টারমিনাল ছেড়ে যাওয়ার পরে এবং দুর্ঘটনায় পড়ার আগে বেশ কিছু যাত্রী বিভিন্ন ঘাটে ওঠানামা করে। এরপরেও লঞ্চটিতে প্রায় এক শ’ যাত্রী ছিল। ঘটনার কিছু আগে হঠাৎ করেই আকাশে চারদিকে মেঘ কালো হয়ে আসে। এ সময় যাত্রীরা লঞ্চের সারেংকে লঞ্চটিকে তীরে ভেড়ানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু লঞ্চের সারেং সে অনুরোধ উপেক্ষা করেন এবং লঞ্চটিকে মাঝ নদীতে নিয়ে যান। এরপরই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়াবহ তা-ব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, উত্তর-পশ্চিম কোণের তীব্র ঝড় শুরু হলে সারেং লঞ্চটিকে পশ্চিমমুখী করার চেষ্টা করেন। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় আহাজারি। বাঁচার জন্য যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ঝড়ের তা-ব ও নদীর উত্তাল ঢেউয়ে কয়েক মুহূর্তে লঞ্চটি বাঁ দিকে কাত হয়ে যাত্রীদের নিয়ে ডুবে যায়। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে কালবৈশাখী ঝড়ের তা-ব। এক পর্যায়ে ঝড় থেমে গেলে নদীর দু’ তীরের আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ উদ্ধার তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। গ্রামবাসী নৌকা ও ট্রলার নিয়ে ৭-৮ জন যাত্রীকে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করেন। এ ছাড়া আরও ১০-১২ জন যাত্রী সাঁতার দিয়ে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হন। গ্রামবাসী অন্তত তিন-চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে নদীর তলদেশে লঞ্চটিকে শনাক্ত করে। শনিবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রামবাসী নদীতে ডুব দিয়ে লঞ্চের ভেতরে আটকে পড়া ৭ জনের লাশ উদ্ধার করে। এর মধ্যে ৬ জনই মহিলা যাত্রী। তিনজন যাত্রীর লাশ স্বজনরা শনাক্ত করেছে। নিহত যাত্রীরা হচ্ছেন গলাচিপা উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবীর সহকারী সিদ্দিকুর রহমানের গর্ভবতী মেয়ে রুনিয়া বেগম, রাঙ্গাবালীর ১৯ নম্বর গ্রামের কুদ্দুস হাওলাদারের স্ত্রী লুৎফা বেগম, সেনের হাওলা গ্রামের মনোয়ারা বেগম।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, এখনও ৫০-৬০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন নিহত প্রতিটি লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি মোঃ শাহজাহান খানের মালিকানাধীন এই লঞ্চটি মাসতিনেক আগেও পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে ডুবে গিয়েছিল। এর আগে ২০০৪ সালে তার মালিকানাধীন এমএল প্রিন্স অব পটুয়াখালী নামে অপর একটি লঞ্চ বুড়াগৌরাঙ্গ নদে ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শতাধিক যাত্রী মারা গিয়েছিল।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment