Saturday, May 10, 2014

আমাদের নিরাপত্তা নেই কেন, আতঙ্কের বারাসতে সাংসদকে সরাসরি প্রশ্ন মহিলার

আমাদের নিরাপত্তা নেই কেন, আতঙ্কের বারাসতে সাংসদকে সরাসরি প্রশ্ন মহিলার

ধীমান রক্ষিত : বারাসত, ৯ই মে— পুলিস নয়, এমনকি সাংসদের কাছেও নালিশ জানাতে ভয় পাচ্ছেন বারাসতবাসী। বাড়ির মেয়েকে কটূক্তি করলে অভিযোগ জানাতে যাওয়ার আগে দশবার ভাবছেন তাঁরা। পার্ক স্ট্রিটের মহিলার ধর্ষণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষদস্তিদার। নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার পেছনে মহিলাদের পোশাককে দায়ী করেছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। আর, পুলিস অপরাধীদের পালে হাওয়া দিয়ে অভিযোগকারী পরিবারকে মিটমাট করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। 

এই শাসকদলের উপর ভরসা না রেখে অবস্থার পরিত্রাণ পেতে পুরানো দিন ফিরে পেতে চাইছে আজকের আতঙ্কনগরী বারাসত।

পরিবর্তনের রাজত্বে ধর্ষণ, খুন, শ্লীলতাহানি, ইভ টিজিং বা মহিলাদের উদ্দেশে কটূক্তি, রাহাজানিতে শীর্ষে থাকা বারাসত এখন আতঙ্কনগরীতে পরিণত হয়েছে। একথা স্বীকার না করলেও বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলী ঘোষদস্তিদারের মূল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বৃত্তরাজের দাপাদাপি। প্রচারে বেরিয়ে নিরাপত্তার এই ইস্যুগুলি যখনই সামনে আসছে অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তৃণমূলের প্রার্থীকে। যেমন পড়তে হয়েছিল, কদম্বগাছিতে প্রচার করতে বেরিয়ে। এই এলাকায় রোড শো করার সময় এক মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের নিরাপত্তা নেই কেন? মহিলার ঐ প্রশ্ন শুনে রে রে করে তেড়ে গেছিল তৃণমূলের কর্মীরা। ওই মহিলার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া দূরের কথা, ‘সি পি এম—এর লোক’ বলে তির্যক মন্তব্য এসেছিল কাকলী ঘোষদস্তিদারের মুখ থেকে। পরে জানা যায়, একটি বেসরকারী সংস্থার কাজ করেন ওই মহিলা। সি পি আই (এম)-এর সঙ্গে আদৌ তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। 

পার্ক স্ট্রিটের মহিলা ধর্ষিতা হয়নি বলে মন্তব্য করেছিলেন কাকলী ঘোষদস্তিদার। বলেছিলেন, পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা আদপে ধর্ষণের ঘটনাই নয়। এটা এক মহিলা ও তাঁর খদ্দেরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি। আবার খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি যখন বারাসতের রোজনামচা হয়ে উঠেছে, তখন সেই ঘটনা আড়াল করতে বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর কদর্য ভাষায় বলেছিলেন, এর জন্য মূলত মহিলারাই দায়ী। মেয়েদের স্কার্টের সাইজ, পোশাকের মাপ পুরুষকে আকৃষ্ট করে। পুরুষদের মনোরঞ্জন করার জন্য মহিলারা এ ধরনের পোশাক পরে। ঘটনাকে গুলিয়ে দিতে এবং অপরাধীদের আড়াল করতে যেভাবে সাজানো ঘটনার তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তাঁর দলের বিধায়ক, সাংসদরাও সেই পরম্পরা বজায় রেখে চলেন। ফলে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো বারাসতেও অপরাধীরা আজ বেপরোয়া। 

দুর্বৃত্তরাজের বেপরোয়া বারাসত আজ স্বস্তি চাইছে। এই নারকীয় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই সেই আগের দিন ফিরে পেতে চাইছেন হৃদয়পুরের অশীতিপর বৃদ্ধ কমল সাধুখাঁ। বললেন, বারাসত এখন দুষ্কৃতীদের জায়গা হয়ে গেছে। যে যা পাচ্ছে, তাই করছে। রাস্তাঘাটে মহিলাদের টিটকারি করছে, পিছু ধাওয়া করছে, বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। আগে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিসের অভিযোগ করা যেত, ব্যবস্থা নিতেও দেখেছি। এখন অপরাধীদের সঙ্গে বোঝাপড়ার উপদেশ দেয় পুলিস। কমল সাধুখাঁর কথার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় যখন দেখা যায়, সন্ধ্যার পর অনেকেই দূরে মেয়েদের পড়তে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। কলেজে, স্কুলে পর্যন্ত পরিবারের বড়রা পৌঁছে দিয়ে আসছেন কিশোরী মেয়েদের। দমবন্ধ করা পরিবেশে রয়েছেন গোটা বারাসতের বাসিন্দারা। 

আইনশৃঙ্খলার ভয়ঙ্কর অবনতির পাশাপাশি দমদম থেকে বারাসাত পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ বন্ধের কথা তুলে প্রচার করছেন বামফ্রন্টের প্রার্থী মোর্তাজা হোসেন। দমদম থেকে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের ঘোষণা করা সত্ত্বেও আজও পর্যন্ত সেকাজে অগ্রগতি দেখা যায়নি। বারাসতবাসী জানতে চান, মমতা ব্যানার্জির পর রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তারপর মুকুল রায়। পরপর তিনজন তৃণমূলের সাংসদ রেলমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন মেট্রোর কাজ এগোলো না? অথচ ঢাকঢোল পিটিয়ে তিন বছর আগে মেট্রোর কাজ হচ্ছে বলে বারাসতের বিভিন্ন জায়গায় ‘‘ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস’’-এর টিনের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল, আজ সেই ব্যারিকেড কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মেট্রো সম্প্রসারণ ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তৃণমূলের কাছে সদুত্তর না থাকায় এখন সন্ত্রাসকেই হাতিয়ার করে ভোট বৈতরণী পার হতে চাইছেন প্রার্থী কাকলী ঘোষদস্তিদার। পঞ্চায়েত নির্বাচনে বারাসতের একাধিক জায়গায় যেভাবে ভোট লুট হয়েছে, তা লোকসভায় যে সম্ভব নয় তা বুঝতে পারছে তৃণমূলের প্রার্থী। তাই দু’দিন আগে দত্তপুকুর,কদম্বগাছী, হৃদয়পুর, শাসনের দাগী দুষ্কৃতীদের নিয়ে গোপন মিটিং করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, বামফ্রন্টও তৈরি ভোট লুঠের প্রতিরোধ গড়তে। তারই এক ঝলক চিত্র দেখা গেল শুক্রবার মোর্তাজা হোসেনের সমর্থনে রোড শো’তে।
- See more at: http://ganashakti.com/bengali/breaking_news_details.php?newsid=1808#sthash.1r4x61T6.dpuf

No comments:

Post a Comment