প্রথমেই কড়া মোদী
গৌতম হোড়
নয়াদিল্লি: বৈঠক শেষে প্রায় ২৫ সেকেন্ডের করমর্দন৷ এক জনের মুখে চওড়া হাসি, আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ৷ অন্য জন কিন্তু কিছুটা আড়ষ্টই৷
নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফের চেহারার তফাতই বলে দিচ্ছিল, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের নজিরবিহীন কূটনীতি যতই সদর্থক বার্তা বয়ে আনুক, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নন ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী৷ বৈঠকের সারাংশও তেমনটাই বলছে৷ সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস না করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তাই এ দিন দিয়েছেন মোদী৷
পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মোদী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দু'দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রথম ও প্রধান শর্ত হল, ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে৷ দু'দেশের মধ্যে বিশ্বাস অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হবে এটাই৷ অর্থাত্, নওয়াজ শরিফ যদি সত্যিই সম্পর্কের উন্নতি চান, তা হলে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে৷ এ ভাবেই বলটা পুরোপুরি শরিফের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন মোদী৷ রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে মিনিট পঁয়তাল্লিশের বৈঠকে শরিফকে মোদী সাফ জানিয়েছেন, অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের ভূমি থেকে কোনও সন্ত্রাসবাদীকে ভারতবিরোধী কাজ করতে দেওয়া হবে না৷ সেই প্রতিশ্রুতি তাদের এ বার পালন করতে হবে৷ আর মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হানার অভিযুক্তদের বিচার পাকিস্তানে চলছে৷ সেই বিচারও যেন দ্রুত শেষ হয়৷ বৈঠকের পর বিদেশ সচিব সুজাতা সিং বলেছেন, 'আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই৷ কিন্ত্ত এই ধরনের সম্পর্কের জন্য সন্ত্রাস ও হিংসা বন্ধ হওয়া দরকার৷ সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা বৈঠকে ভাল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷'
কিন্ত্ত এই বৈঠক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রাপ্তির ভাগও যে কম নয়, তা বোঝা গিয়েছে যখন বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে শরিফ ঘোষণা করেন, অত্যন্ত সদর্থক বৈঠক হয়েছে, তিনি খুশি৷ বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে৷ এর পর বিদেশ সচিব পর্যায়ের আলোচনা হবে৷ দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে এটা নিঃসন্দেহে একটা পাওনা৷
মোদী এ দিন আফগানিস্তানের হেরাটে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গও তুলেছেন৷ তিনি শরিফকে সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত নয়৷ যদিও আফগানিস্তানের এই আক্রমণ তালিবানিরা চালিয়েছিল৷ কিন্ত্ত ভারতের বরাবরের বক্তব্য হল, তালিবানিদের পাকিস্তান সাহায্য করে৷ সে জন্যই শরিফের কাছে এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মোদী৷ দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান বা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া মনোভাব নিয়েছেন মোদী৷
শরিফ এ দিন মোদীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ সেই আমন্ত্রণ মোদী গ্রহণও করেছেন৷ তবে বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, কবে সেই সফর হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি৷ অর্থাত্, আগামী দিনে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের মনোভাব দেখার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মোদী৷ তবে দু'পক্ষই বলছে, আলোচনা চালু থাকাটা একটা বড় পদক্ষেপ৷ ভারত ছাড়ার আগে শরিফও বলেছেন, 'আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, দুই দেশের বিদেশ সচিবরা আলোচনায় বসবেন৷ আজ যে মনোভাব নিয়ে বৈঠক হয়েছে, সেই একই মনোভাবকে সঙ্গী করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে৷' মোদীর সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর শরিফও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'দু'দেশের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করার জন্য আমার সরকার প্রস্ত্তত৷ আমি চাই দু'দেশের মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস রয়েছে, তা দূর হোক৷ মোদীকে আমি বলেছি, আমি কী ভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷ আমি সেখান থেকে শুরু করতে চাই৷'
শরিফ নিজের দিক থেকে বারবার করে বন্ধুত্বের সঙ্কেত দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বোঝাতে চাইছেন, তিনি এখন সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য কতটা আগ্রহী৷ সে জন্যই তিনি মোদীকে বলেছেন, দু'দেশেই এখন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আছে৷ তাই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এটা সুবর্ণ সুযোগ৷ কিন্ত্ত ভারতের কাছে মুশকিল হল, পাকিস্তানে ক্ষমতার দু'টি বৃত্ত আছে৷ নির্বাচিত সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী একটা বৃত্ত৷ অন্য বৃত্তে আছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই৷ গতবার বাজপেয়ী-শরিফের উদ্যোগে দিল্লি-লাহোর বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল৷ কিন্ত্ত সেই বাস-কূটনীতির কিছুদিনের মধ্যেই পাক সেনা কার্গিল অভিযান করে৷ তারপর দু'দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়৷ এ বারও পাকিস্তানের কট্টরপন্থীরা শরিফের ভারত সফরের বিরোধিতা করছিল৷ সেনাবাহিনীর কর্তারাও যে এই সফর নিয়ে খুব উত্সাহী ছিলেন, এমন নয়৷ তা সত্ত্বেও শরিফ এসেছেন ও বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷
শরিফ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই-সহ সার্কের অন্য রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মোদী৷ এর মধ্যে মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও কারজাইয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ৷ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকেও মোদী সাফ জানিয়েছেন, তামিল মত্স্যজীবীদের সমস্যার সমাধান করতেই হবে৷ তাছাড়া শ্রীলঙ্কা যেন তামিলদের উন্নয়নের জন্য ১৩ দফা কর্মসূচির রূপায়ণ করে৷ তামিলদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করার জন্য তিনি যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন, এই অনুরোধও মোদী করেছেন৷ কারজাইয়ের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে মোদীর৷ আফগান প্রেসিডেন্ট যেভাবে হেরাটে ভারতীয় দূতাবাসে হানার মোকাবিলায় উদ্যোগী হয়েছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মোদী৷
নওয়াজ শরিফ থেকে শুরু করে সকলেই মোদীকে তাঁদের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ মোদীও তা গ্রহণ করেছেন৷ ফলে অদূর ভবিষ্যতে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশে সফরে যেতে পারেন মোদী৷ তবে তার আগে রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের শর্তগুলো স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন মোদী৷
নয়াদিল্লি: বৈঠক শেষে প্রায় ২৫ সেকেন্ডের করমর্দন৷ এক জনের মুখে চওড়া হাসি, আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ৷ অন্য জন কিন্তু কিছুটা আড়ষ্টই৷
নরেন্দ্র মোদী ও নওয়াজ শরিফের চেহারার তফাতই বলে দিচ্ছিল, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের নজিরবিহীন কূটনীতি যতই সদর্থক বার্তা বয়ে আনুক, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নন ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী৷ বৈঠকের সারাংশও তেমনটাই বলছে৷ সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস না করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তাই এ দিন দিয়েছেন মোদী৷
পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মোদী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দু'দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রথম ও প্রধান শর্ত হল, ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করা বন্ধ করতে হবে৷ দু'দেশের মধ্যে বিশ্বাস অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হবে এটাই৷ অর্থাত্, নওয়াজ শরিফ যদি সত্যিই সম্পর্কের উন্নতি চান, তা হলে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে৷ এ ভাবেই বলটা পুরোপুরি শরিফের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন মোদী৷ রাজধানীর হায়দরাবাদ হাউসে মিনিট পঁয়তাল্লিশের বৈঠকে শরিফকে মোদী সাফ জানিয়েছেন, অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাদের ভূমি থেকে কোনও সন্ত্রাসবাদীকে ভারতবিরোধী কাজ করতে দেওয়া হবে না৷ সেই প্রতিশ্রুতি তাদের এ বার পালন করতে হবে৷ আর মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হানার অভিযুক্তদের বিচার পাকিস্তানে চলছে৷ সেই বিচারও যেন দ্রুত শেষ হয়৷ বৈঠকের পর বিদেশ সচিব সুজাতা সিং বলেছেন, 'আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই৷ কিন্ত্ত এই ধরনের সম্পর্কের জন্য সন্ত্রাস ও হিংসা বন্ধ হওয়া দরকার৷ সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা বৈঠকে ভাল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷'
কিন্ত্ত এই বৈঠক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রাপ্তির ভাগও যে কম নয়, তা বোঝা গিয়েছে যখন বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে শরিফ ঘোষণা করেন, অত্যন্ত সদর্থক বৈঠক হয়েছে, তিনি খুশি৷ বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে৷ এর পর বিদেশ সচিব পর্যায়ের আলোচনা হবে৷ দুই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে এটা নিঃসন্দেহে একটা পাওনা৷
মোদী এ দিন আফগানিস্তানের হেরাটে ভারতীয় দূতাবাসের ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গও তুলেছেন৷ তিনি শরিফকে সাফ জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটা উচিত নয়৷ যদিও আফগানিস্তানের এই আক্রমণ তালিবানিরা চালিয়েছিল৷ কিন্ত্ত ভারতের বরাবরের বক্তব্য হল, তালিবানিদের পাকিস্তান সাহায্য করে৷ সে জন্যই শরিফের কাছে এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মোদী৷ দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান বা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া মনোভাব নিয়েছেন মোদী৷
শরিফ এ দিন মোদীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ সেই আমন্ত্রণ মোদী গ্রহণও করেছেন৷ তবে বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, কবে সেই সফর হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি৷ অর্থাত্, আগামী দিনে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের মনোভাব দেখার পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মোদী৷ তবে দু'পক্ষই বলছে, আলোচনা চালু থাকাটা একটা বড় পদক্ষেপ৷ ভারত ছাড়ার আগে শরিফও বলেছেন, 'আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, দুই দেশের বিদেশ সচিবরা আলোচনায় বসবেন৷ আজ যে মনোভাব নিয়ে বৈঠক হয়েছে, সেই একই মনোভাবকে সঙ্গী করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে৷' মোদীর সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর শরিফও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'দু'দেশের সব বিষয় নিয়েই আলোচনা করার জন্য আমার সরকার প্রস্ত্তত৷ আমি চাই দু'দেশের মানুষের মধ্যে যে অবিশ্বাস রয়েছে, তা দূর হোক৷ মোদীকে আমি বলেছি, আমি কী ভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷ আমি সেখান থেকে শুরু করতে চাই৷'
শরিফ নিজের দিক থেকে বারবার করে বন্ধুত্বের সঙ্কেত দেওয়ার চেষ্টা করছেন, বোঝাতে চাইছেন, তিনি এখন সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য কতটা আগ্রহী৷ সে জন্যই তিনি মোদীকে বলেছেন, দু'দেশেই এখন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার আছে৷ তাই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এটা সুবর্ণ সুযোগ৷ কিন্ত্ত ভারতের কাছে মুশকিল হল, পাকিস্তানে ক্ষমতার দু'টি বৃত্ত আছে৷ নির্বাচিত সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী একটা বৃত্ত৷ অন্য বৃত্তে আছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই৷ গতবার বাজপেয়ী-শরিফের উদ্যোগে দিল্লি-লাহোর বাস পরিষেবা চালু হয়েছিল৷ কিন্ত্ত সেই বাস-কূটনীতির কিছুদিনের মধ্যেই পাক সেনা কার্গিল অভিযান করে৷ তারপর দু'দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়৷ এ বারও পাকিস্তানের কট্টরপন্থীরা শরিফের ভারত সফরের বিরোধিতা করছিল৷ সেনাবাহিনীর কর্তারাও যে এই সফর নিয়ে খুব উত্সাহী ছিলেন, এমন নয়৷ তা সত্ত্বেও শরিফ এসেছেন ও বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন৷
শরিফ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই-সহ সার্কের অন্য রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মোদী৷ এর মধ্যে মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও কারজাইয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ৷ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকেও মোদী সাফ জানিয়েছেন, তামিল মত্স্যজীবীদের সমস্যার সমাধান করতেই হবে৷ তাছাড়া শ্রীলঙ্কা যেন তামিলদের উন্নয়নের জন্য ১৩ দফা কর্মসূচির রূপায়ণ করে৷ তামিলদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করার জন্য তিনি যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন, এই অনুরোধও মোদী করেছেন৷ কারজাইয়ের সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে মোদীর৷ আফগান প্রেসিডেন্ট যেভাবে হেরাটে ভারতীয় দূতাবাসে হানার মোকাবিলায় উদ্যোগী হয়েছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মোদী৷
নওয়াজ শরিফ থেকে শুরু করে সকলেই মোদীকে তাঁদের দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ মোদীও তা গ্রহণ করেছেন৷ ফলে অদূর ভবিষ্যতে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশে সফরে যেতে পারেন মোদী৷ তবে তার আগে রাষ্ট্রপ্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের শর্তগুলো স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন মোদী৷
http://eisamay.indiatimes.com/nation/modi-and-nawaz-sharif-meeting/articleshow/35656606.cms?
No comments:
Post a Comment